BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

তপন সিংহ: মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ চলচ্চিত্র পরিচালক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১১ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১১

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন:

(পোস্ট এডিটোরিয়াল)

আরও পড়ুন:

তপন সিংহ: মানুষ-সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ পরিচালক

আরও পড়ুন:

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন:

(পোস্ট এডিটোরিয়াল)

আরও পড়ুন:

তপন সিংহ: মানুষ-সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ পরিচালক

আরও পড়ুন:

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder