সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর,২২ মে: সুন্দরবনের তুলো চাষে রোগ-পোকার উপদ্রব পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার জয়নগর ২ নং ব্লকের যৌথিয়া অঞ্চলে চাষিদের মাঠ প্রদর্শন করেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন উপকূলবর্তী লবণাক্ত জমিতে ধান পরবর্তী ফসল হিসেবে তুলো চাষ একটি বিশেষ স্থান পেয়েছে। কৃষি দপ্তরের আর্থিক অনুমোদনে ও নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরিচালনায় এই জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রবি ও গ্রীষ্ম মরসুমে তুলো চাষ হচ্ছে। জয়নগর ২ নং ব্লকের বাইশহাটা পঞ্চায়েতের যৌথিয়া অঞ্চলে প্রায় ২০০ জন চাষি ৬০০ বিঘা জমিতে তুলো চাষ করেছেন। বর্তমানে গাছে বোল (তুলোর ফল) এসেছে।
মাঠ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন— ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় সমন্বিত কীট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (কলকাতা) উপনির্দেশক ড. পাবেল মজুমদার, রাজ্য কৃষি দপ্তরের যুগ্ম কৃষি অধিকর্তা (প্ল্যান্ট প্রোটেকশন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল) অভিজিৎ ঘোষ, জয়নগর ২ নং ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা দেবাশিষ সাহু, নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের শস্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. প্রবীর কুমার গরাই, শস্য বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. সোমনাথ সরদার ও কেন্দ্রের বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. চন্দন কুমার মন্ডল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে পোকার আক্রমণে তুলো চাষিরা নাজেহাল হন, সেখানে সুন্দরবন সংলগ্ন এই অঞ্চলে তুলো চাষে রোগ-পোকার উপদ্রব প্রায় নেই বললেই চলে। এর প্রধান কারণ এখানকার তুলো চাষের মরসুম। রবি-গ্রীষ্ম মরসুমে তুলো চাষ হওয়ায় তুলোর অন্যতম প্রধান শত্রু আমেরিকান বোলওয়ার্মের অনুকূল আবহাওয়া আসার আগেই তুলোর গুটি তোলা হয়ে যায়। তবে এখানে তুলোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে সবুজ শোষক পোকা। বিশেষজ্ঞরা মাঠ পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, সবুজ শোষক পোকা উপস্থিত থাকলেও তা অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমার মধ্যে থাকায় এবং বর্তমানে ফসল তোলার সময় হয়ে আসায় নতুন করে কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন নেই।








