ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
নতুন পয়গাম, হরিশচন্দ্রপুর: পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে মালদহের হরিশচন্দ্রপুর- ২ ব্লকের জালালপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জাগরণী মঞ্চের আয়োজন করে জালালপুর কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (JCA)। দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে শিশু থেকে প্রবীণ সকল বয়সের মানুষ অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। জানা গিয়েছে, JCA এর উদ্যোগে চারটি ভাগে ভাগ করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের জন্য ছিল ইংরেজি ছড়া ও Balls & Baskets Game। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা Math Magic এবং হাত না দিয়ে কপালে রাখা বিস্কুট খাওয়ার মজার খেলায় মেতে ওঠে।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য ছিল Speech In English প্রতিযোগিতা। বিষয় ছিল ‘Importance of Salah’ ও ‘Responsibility to your Parents’। পাশাপাশি শ্রুতি লিখনও অনুষ্ঠিত হয়। সর্বসাধারণের জন্য আয়োজিত হয় IQ Test, জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতা আবৃত্তি, ইসলামিক গজল, কেরাত প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতা বিশেষ নজর কেড়েছে। বাল্যবিবাহের পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ভিন্ন মাত্রা যোগ করে । কেরাত প্রতিযোগিতা হয় সূরা আল-ফুরকানের 61-68 নং আয়াত, সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ও সূরা আদ-দুহা থেকে।
বিশেষ প্রতিযোগিতা হিসেবে সকলের জন্য ছিল কুইজ প্রতিযোগিতা। এছাড়া ৩৫বছরের ঊর্ধ্বে পুরুষদের জন্য বাস্কেট বল ও মহিলাদের জন্য সুঁচ-সুতো অর্থাৎ সুঁচের মধ্যে সুতো পরানো খেলার আয়োজন করা হয়। খেলাগুলি দেখতে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানির পাশাপাশি জাগরণী মঞ্চ থেকে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় জাগরণী মঞ্চে বিশিষ্টজনদের বক্তব্য ও ‘Health & Blood Donation’ বিষয়ক টক-শো অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা রক্তদানের গুরুত্ব ও সুস্থ জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা করেন। ঈদের দিনে এই ধরনের সামাজিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের করণীয়’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এলাকার বিশিষ্টজন মোজাহেদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে JCA এর সম্পাদক জানান, “ঈদের আনন্দকে সবার মধ্যে ভাগ করে নিতে এবং নতুন প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি ও ইসলামিক মূল্যবোধের সাথে পরিচয় করাতেই আমাদের এই আয়োজন। বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নিয়ে বিতর্কের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোই উদ্দেশ্য।” স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে গ্রাম উৎসবে মেতে ছিল। বাচ্চাদের ইংরেজি বলা, কেরাত শুনে মন ভরে গেল।” অনুষ্ঠানে জালালপুর ও আশপাশের গ্রাম থেকেও মানুষের সমাগম হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাত ১০টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।








