BREAKING:
আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ?

নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী)

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, সকাল ১১:৩৫ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২৬, সকাল ১১:৪০

আলিমুজ্জমান: সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা সুবা’র শাসনভার হাতে পান। নবাব আলীবর্দী খান প্রয়াত হন ৮০ বছর বয়সে ১৯৫৬ সালের ১২ এপ্রিল। আলীবর্দীর তিন কন্যার মধ্যে সিরাজ-মাতা আমেনা বেগম ছিলেন সবার ছোট। সিরাজ ছিলেন আলীবর্দীর খুবই আদরের নাতি। মৃত্যুর আগে আলীবর্দী, সিরাজকে কিছু উপদেশ দেন। বলেন, ‘তুমি দুশমনদের দমন করবে এবং বন্ধুদের রাজ্যের বড় পদে বসাবে। তোমার সকল শক্তি দিয়ে প্রজাদের উপকার করবে। ঐক্যের জন্য সবসময় কাজ করে যাবে।’ মাতামহ আলীবর্দীর উপদেশ তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চেয়েছিলেন। আর সে কারণেই মাত্র এক বছর চৌদ্দ দিন রাজত্ব করার পর তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। এক সংকটময় প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে নবাব  সিরাজউদ্দৌলার সমগ্র শাসনকাল। বাংলায় ক্ষমতা দখল নিয়ে আত্মীয় স্বজনের মধ্যে কলহ চলছিল তিনি মসনদে বসার আগে থেকেই। বিষয়টি সিরাজ ভালভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন। তবে এটা তাঁর কাছে নতুন কিছু ছিল না। নবাব হয়ে সিরাজকে একের পর এক দুশমনদের দমন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। তাছাড়া বর্গী হামলার সময় থেকে সিরাজ নবাব আলীবর্দীর সঙ্গে থেকে সাহায্য করায়, সিরাজের দেশ চালানো বিষয়ে যেমন কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তেমনি আলীবর্দীর কাছে ভবিষ্যৎ নবাব হিসেবে নিজের যোগ্যতাও প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। এদিকে বাংলায় তখন শুরু হয়েছে ইংরেজ বণিকদের অশুভ পাঁয়তারা। ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথ ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি সনদ দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। ১৬০৮ সালে কোম্পানির দূত ক্যাপ্টেন উইলিয়ম হকিন্স মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন। সে সময় কোম্পানির জন্য তিনি তেমন সুবিধা করতে পারেননি। কারণ, ভারতে তখন পর্তুগিজ বণিকদের বেশ প্রভাব প্রতিপত্তি এবং তাঁদের বিরোধিতাও ছিল ইংরেজদের বিষয়ে। এসব সত্ত্বেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম বাণিজ্য কুঠি তৈরির অনুমতি পেয়ে যায় সুরাটে।

আরও পড়ুন:

সেকালে ভারতে ব্যবসা করার জন্য বিদেশি বণিকদের চার ধরনের অনুমতি দেওয়া হত, এগুলো হচ্ছে — ফরমান, হুসব-উল-হুকুম, নিশান ও পরোয়ানা। ফরমান দেওয়ার অধিকার ছিল বাদশাহের। প্রধানমন্ত্রী দিতেন হুসব-উল-হুকুম। প্রাদেশিক শাসন কর্তারা দিতেন পরোয়ানা। ১৬৫০ সালে মোগল সম্রাট শাহজাহানের কাছ থেকে ফরমান আদায় করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৬৫১ সালে হুগলিতে ইংরেজ বণিকরা বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি তৈরি করে। এরপর তারা কয়েকটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে উড়িষ্যার বালেশ্বর ও হরিপুরে এবং বাংলার মেদিনীপুরের কাছে পিপলিতে। ১৭১৭ সালে বাদশাহ ফররুখ শিয়রের কাছ থেকে কোম্পানি একখানা ফরমান আদায়ের ফলে বাংলায় তারা অবাধ বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করতে সমর্থ হয়। ধীরে ধীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এভাবে তাদের অধিকার বাড়াতে থাকে। সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে বসার পর ইংরেজদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাড়তে থাকে। নবাব লক্ষ্য করছিলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা তাদেরকে দেয়া সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করছে। ফলে ওই বছরের মে মাসে তিনি প্রথম কাশিমবাজার কুঠি আক্রমণ করেন। এর ফলে সেখানে অবস্থানরত ইংরেজরা ঘেরাও হয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে কুঠির কর্মকর্তা উইলিয়াম ওয়াটস নবাবের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে বাধ্য হন। তার আগে নবাবের কাছে খবর ছিল, কলকাতায় ইংরেজরা দুর্গের আয়তন বাড়িয়ে যাচ্ছে ও সমরাস্ত্র মজুদ করে চলেছে। অপরদিকে, ঢাকার দেওয়ান রাজা রাজবল্লভ রাজকোষের প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন; নবাব আলীবর্দীর জীবনের শেষ দিকে। এজন্য তাঁকে মুর্শিদাবাদে আটকও করা হয়। চতুর রাজবল্লভ বিষয়টি আগে থেকে আঁচ করতে পেরে সমস্ত টাকা-পয়সা ধনরত্ন-সহ ছেলে কৃষ্ণ দাসকে কলকাতা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজদের আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেন। মসনদে বসে সিরাজউদ্দৌলা, কৃষ্ণ দাসকে ফিরিয়ে দেবার আদেশ দিলেও তারা অগ্রাহ্য করে। এসব কারণেই নবাবের কলকাতা আক্রমণ করা। ইংরেজরা নবাব বাহিনীকে বাধাদানে অসমর্থ হয়। রজার ড্রেক তাঁর পরিষদের সদস্য ও অন্যান্যদের নিয়ে দুর্গ থেকে পালিয়ে জাহাজে নিকটবর্তী ফলতায় আশ্রয় নেন। ২০ জুন ১৭৫৬, নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করে নেন। কুক লিখেছেন, কলকাতা জয়ের পর নবাব ইংরেজদের ওপর কোনরূপ অত্যাচার করেননি। ঐতিহাসিকরা বলেন, কলকাতা পতনের পর যদি উমিচাঁদ, নবকিষেণ, জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ, মানিক চাঁদ প্রমুখ ড্রেক ও তাঁর লোকদের সাহায্য না করতেন, তা হলে ইংরেজদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া উপায় ছিল না।

আরও পড়ুন:

ফৌজদার মানিক চাঁদের ওপর কলকাতার ভার অর্পণ করে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুর্শিদাবাদ প্রত্যাবর্তন করেন। এরপরে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শওকাত জঙ্গকে দমনের উদ্দেশ্যে পূর্ণিয়া যাত্রা করেন। ১০ অক্টোবর ১৭৫৬ সালে এক যুদ্ধে নবাব তাঁকে পরাস্ত ও নিহত করেন মিনহারী নামক এক স্থানে। ১৯৫৬ সালের এপ্রিলে ক্ষমতা লাভের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৯৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশি বিপর্যয়ের দিন পর্যন্ত এই চৌদ্দ মাসে একদিনও শান্তিতে ঘুমাবার সময় পাননি। ঘরে-বাইরে একের পর এক ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে যেতে হয়েছে। মাদ্রাজে রবার্ট ক্লাইভের কাছে মানিক চাঁদের মাধ্যমে কলকাতা হাতছাড়া হওয়ার খবর পৌঁছালে ১৭ ডিসেম্বর ১৭৫৬, ক্লাইভ সহজেই কলকাতা পুনরুদ্ধার করে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সুরক্ষিত করেন। মানিক চাঁদ ক্লাইভের বন্ধু হিসেবে তার আশ্রয়ে থেকে যান। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ড. কে.এম. মহসীন সাপ্তাহিক পলাশী ‘পত্রিকায়’ নওয়াব কোম্পানি ও পলাশীর যুদ্ধ’ (২৪ জুলাই ১৯৯২) প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘যুবক সিরাজউদ্দৌলা’র যোগ্যতা দক্ষতায় তাঁর (নবাব আলীবর্দীর) আস্থা ছিল বলেই তাকে উত্তরাধিকার মনোনীত করেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের শত্রুর মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন, সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নবাব সিরাজউদ্দৌলার কার্যকলাপে কোনো দুর্বলতার পরিচয় পাওয়া যায় না।’ পলাশি যুদ্ধের কিছুদিন আগে ১৭৫৭ সালের ৫ জুন কলকাতায় মসনদ লোভী মীরজাফরের সঙ্গে কোম্পানির একটি গোপন পাকা চুক্তি সম্পাদিত হয়, তাতে উপস্থিত হয়েছিলেন, কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস, অন্যতম সেনানায়ক ইয়ার লতিফ, জগৎ শেঠ, আমির চাঁদ প্রমুখ। ঘসেটি বেগম মীরজাফরকে অর্থ জোগানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ওয়াটস এই ষড়যন্ত্র সভার কথা ক্লাইভকে জানালেন। নবাব হিসেবে মীরজাফরের নাম মনোনীত করেন ক্লাইভ। কলকাতা ছাড়াও মুর্শিদাবাদে জগৎ শেঠের বাড়িতে গোপন সভা হয়। এই সময় নবাব মুর্শিদাবাদে ছিলেন না। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও রাজা রাজবল্লভ ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। ষড়যন্ত্র যে হয়েছিল, সে সম্পর্কে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জীবনীকার রাজীবলোচন লিখেছেন, ‘হিন্দু জমিদার ও প্রধানগণ সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন:

ইংরেজদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়ে যাবার পর রবার্ট ক্লাইভ ১৩ জুন কলকাতা থেকে পলাশিতে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে যান, রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে পলাশি ১৫ ক্রোশ দক্ষিণে অবস্থিত। ক্লাইভের সঙ্গে ছিল ২৫০ জন ইউরোপীয় সৈন্য, ৫০ জন নাবিক, ১০০ জন আধা-ইউরোপীয় সৈন্য, আটটি কামান, ১৫০ জন গোলন্দাজ এবং ২১০০ জন সিপাহী। অপরদিকে নবাবের ছিল ৩৫ হাজার পদাতিক সৈন্য ও ১৫ হাজার অশ্বারোহীর মধ্যে ৪৫ হাজার সৈন্য ছিল সেনাপতি মীরজাফরের অধীনস্থ। সেদিনে সত‌্যিকার কোন যুদ্ধ ছিল না; ছিল বিরাট বিপর্যয় এবং ইতিহাসের কলঙ্ক! সিরাজউদ্দৌলা যাদের বিশ্বাস ও নির্ভরতা চেয়েছিলেন, তারাই ইংরেজদের হাতে কুচক্রে লিপ্ত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায়। মীরজাফর যদি সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে থাকতেন, তাহলে পলাশীর পরাজয় ঘটত না। দেশদ্রোহিতা, ক্ষমতার লোভ এবং অর্থগৃন্ধ্রতা বা অর্থলিপ্সা মীরজাফরকে উন্মাদ করে তুলেছিল। তাই একটি যুদ্ধের সেনাপতি হয়েও তার সৈন্যদেরকে ইংরেজদের আক্রমণের মুখে নিশ্চল করে রেখেছিল। এ অপরাধের ক্ষমা নেই! কী ঘটেছিল যুদ্ধক্ষেত্রে! যুদ্ধ করে চলেছেন মীরমদন। মীরজাফর, ইয়ার লতিফ, রায় দুর্লভ যেন ছবির মতো দাঁড়িয়ে। কী করছেন তারা। মুতাখ্ রীনের ভাষায়, ‘ওহা খড়ে তামাসা দেখ রহে থে।’ পলাশি বিপর্যয়ের পরের ঘটনা সম্পর্কে নিখি‌লনাথ রায় লিখেছেন, বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্রকারীগণের কৌশলে যখন পলাশি রণক্ষেত্রে পরাজিত হইয়া যুদ্ধস্থল হইতে পলায়ন করে সিরাজ মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হইলেন, তখন তাঁহার  সে চিত্র মনে হইলে করুণায় সে হৃদয় অভিষিক্ত হইয়া ওঠে। তিনি যাহার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন, সে-ই তাঁহার প্রতি বিমুখ হয়।…’কালবিলম্ব না করে সিরাজউদ্দৌলা, স্ত্রী, কন্যা ও বিশ্বস্ত ভৃত্য গোলাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সাধের হীরাঝি‌ল পিছনে ফেলে স্থলপথে ভগবানগোলা পৌঁছে সেখান থেকে নৌকাযোগে পাড়ি দেন পদ্মা ও মহানন্দার মধ্য দিয়ে পাটনার উদ্দেশে। সিরাজের আশা ছিল, সেখানে পৌঁছতে পারলে ফরাসি সেনাপতি মসিয়ে জীন ল’ ও পাটনার নায়েব নাযিম রামনায়ণের সহায়তায় সৈন্য সংগ্রহপূর্বক বাংলা পুনরুদ্ধার করবেন। কিন্তু হায়! ভাগ্য তাঁকে সে সুযোগ দেয়নি। পাটনা পৌঁছানোর পূর্বে রাজমহলে মীরজাফরের চরদের হাতে ধরা পড়েন ভাগ্যহত সিরাজউদ্দৌলা। অত্যন্ত গোপনে এবং প্রচন্ড অসম্মানজনক ভাবে তাঁকে মুর্শিদাবাদে এনে জাফরাগঞ্জ রাজপ্রাসাদের এক নিভৃত কক্ষে রাখা হয়। অবশেষে ২ জুন গভীর রাত্রে মীরজাফর-পুত্র মীরণের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ অতি নিষ্ঠুরতার সঙ্গে সিরাজকে হত্যা করে।

আরও পড়ুন:

নবাবকে হত্যা করার পর হাতির পিঠে চড়িয়ে নগর প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সম্পর্কে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ‘সিরাজউদ্দৌলা’ গ্রন্হে মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়েছেন, ‘মুর্শিদাবাদের নর-নারী এই রাজহত্যার আক্ষরিক সংবাদে হাহাকার করিয়া উঠিল। তাহাদিগের আকুল আর্তনাদ মুসলমানেরা উচ্চ অবরোধ বেষ্টিত বেগম মহলে প্রবিষ্ট ও সিরাজ জননী আমিনা বেগমের কর্ণগোচর হইল। বিদ্রোহী দল তখন বিজয়োৎসবে উন্মত্ত হইয়া সিরাজের ক্ষত-বিক্ষত দেহ হস্তীপৃষ্ঠে সংস্থাপিত করিয়া নগর প্রদক্ষিণে বাহির হইয়াছিল। রাজপথ লোকে লোকারণ্য হইয়া গেল। সিরাজ জননী হাহাকার করিতে করিতে লজ্জা, ভয় বিসর্জন দিয়া রাজপথে আসিয়া ধূলিবিলুণ্ঠিত হইয়া পড়িলেন। তাহাকে দেখিয়া শববাহক হস্তী সহসা রাজপথে বসিয়া পড়িল। স্নেহময়ী জননী সন্তানের মাংসপিণ্ড বুকে ধরিয়া মূর্ছান্বিত হইয়া পড়িলেন। মীরজাফরের অনুচর কদম হোসেন তখন নানারূপে তাড়না করিয়া সিরাজ-জননী আমিনা বেগমকে পুনরায় অন্তঃপুরে কারারুদ্ধ করিয়া সিরাজের শবদেহ সমাধিস্থ করিবার জন্য ভাগীরথীর পশ্চিম তীরবর্তী আলীবর্দীর সমাধি মন্দিরে উপনীত করিল।’

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder