ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়িঃ ফুটপাত, নিকাশি নালা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে ধূপগুড়ি পৌরসভা। এদিন পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নোটিস প্রদান করা হয়েছে। নোটিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফুটপাত, নিকাশি নালা, রাস্তার অংশ বা সরকারি জমি দখল করে তৈরি করা অস্থায়ী ও স্থায়ী কাঠামো স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বহু ব্যবসায়ী ফুটপাতের উপর পণ্যসামগ্রী রেখে কিংবা দোকানের ছাউনি রাস্তার দিকে বাড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এছাড়াও একাধিক জায়গায় নিকাশি নালার উপর নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
এর আগেই ধূপগুড়ি পৌরসভার তরফে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন এবং শপিং মলকে নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এবার অভিযান আরও বিস্তৃত করে রাস্তা, ফুটপাত এবং সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা দোকান ও ব্যবসায়িক কাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, পিডব্লিউডি, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের অধীন বিভিন্ন সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যার ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সাংবাদিক বৈঠকে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানান, মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাত কোনওভাবেই দখল করা যাবে না এবং এই বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরই ধূপগুড়ি পৌরসভা, পিডব্লিউডি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের আধিকারিকরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় নোটিস বিলির কাজ শুরু করেছেন। নোটিসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ দখল সরিয়ে না নিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পৌরসভার এই পদক্ষেপকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, অন্যদিকে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, জনস্বার্থ এবং শহরের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।








