গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য!
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: জলপাইগুড়ি জেলার গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে একসঙ্গে ছয়জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্কুল চলাকালীন আচমকা কয়েকজন ছাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণ এবং পরে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়ায় বিদ্যালয় চত্বর থেকে গোটা এলাকায়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিনও ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে এসে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেয়। ক্লাস চলাকালীন কয়েকজন ছাত্রী প্রথমে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। কখনও তারা অকারণে হাসছিল, আবার কখনও হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ছিল। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজন মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতার অভিযোগ জানায়।
পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেন। মোট ছয়জন ছাত্রীকে টোটোযোগে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সকলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় এবং হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এরই মধ্যে এলাকায় ‘ভূতের আতঙ্ক’ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ছাত্রীরা যে ধরনের আচরণ করছিল, তা স্বাভাবিক ছিল না। আর সেই থেকেই লোকমুখে ‘ভূতে ধরেছে’ বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
অসুস্থ ছাত্রী মধুমিতা রায় জানায়, “ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ শরীর খারাপ লাগতে শুরু করে। এরপর দেখি আরও কয়েকজনেরও একই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। কী কারণে এমন হলো, তা বুঝতে পারিনি।” বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঙ্গীতা মণ্ডল বলেন, “ক্লাস চলাকালীন কয়েকজন ছাত্রী আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গুজবে কান না দিয়ে সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি।”
তবে চিকিৎসক কিংবা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত অসুস্থতার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় আতঙ্ক বা গুজব ছড়ানোর পরিবর্তে চিকিৎসাগত কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একসঙ্গে একাধিক ছাত্রীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে এখন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা। যদিও ‘ভূতের আতঙ্ক’ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে, তবুও এখনও পর্যন্ত তার কোনও বৈজ্ঞানিক বা সরকারি ভিত্তি পাওয়া যায়নি।








