BREAKING:
রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান

জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১:০৩ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১:০৫

নবিউল ইসলাম: গণতন্ত্রে একজন মানুষের ভূমিকা কতখানি? একজন সৎ, আদর্শবাদী এবং জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তি কি একাই সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন, নাকি সেই পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও সংগঠন অপরিহার্য? পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ, মানুষের মধ্যে আজও এমন নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, যিনি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের কথা বলবেন, সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াবেন এবং ক্ষমতার কেন্দ্রকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবেন। বর্তমান বিশ্বে যে ক’জন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স তাঁদের অন্যতম। এখন ৮৩ বছর বয়স। ছাত্র-জীবনে কার্ল মার্কসের দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন। আমেরিকায় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ বলে কোনপ্রকার কমিউনিস্ট সংগঠন তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু মার্কসীয় দর্শনকে মন থেকে সরিয়ে রাখতেও পারেননি। শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে, নাগরিকদের সমানাধিকারে পক্ষে, যেকোন ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। বার্নি স্যান্ডার্স নিজেকে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ বলে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। নিজে ধর্মে ইহুদী, ফিলিস্তিনের পক্ষে মিছিলে হাঁটেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আমেরিকার বিশাল অংশের মানুষের কাছে তাঁর কাজের জন্য জনপ্রিয় হয়ে আছেন।

আরও পড়ুন:

বার্নি স্যান্ডার্স প্রমাণ করেছেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের স্বার্থে ধারাবাহিকভাবে লড়াই করলে এবং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করলে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেও একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে পারেন। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর জীবন আরেকটি সত্যও সামনে আনে — ব্যক্তি যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয়। বার্নি স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি ছিল তাঁর ধারাবাহিকতা। তিনি ক্ষমতা অর্জনের জন্য আদর্শ বদলাননি; বরং আদর্শের কারণেই মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার অধিকার, শ্রমিকের মর্যাদা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি কয়েক দশক ধরে একই অবস্থানে থেকেছেন। ফলে তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, একটি রাজনৈতিক ধারণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে তাকালে দেখা যায়, এখানে বহু জনপ্রিয় নেতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে উঠে এসেছেন। জ্যোতি বসু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের রাজনৈতিক শক্তির পেছনে ছিল সংগঠিত দলীয় কাঠামো। ব্যক্তি নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই নেতৃত্বকে কার্যকর করার জন্য দল ছিল অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে একটি আকর্ষণীয় প্রশ্ন উঠে আসে। পশ্চিমবঙ্গে কি এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন বা আছেন, যাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের মতো এক ধরনের নৈতিক ও জনমুখী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হতে পারতেন? এই আলোচনায় তিনটি নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য — জহর সরকার, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস ড. নজরুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন:

জহর সরকার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ভূমিকা এবং বিভিন্ন নীতিগত প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থানের কারণে একটি স্বতন্ত্র জনপরিচিতি গড়ে তুলেছেন। প্রশাসনের ভেতর থেকে রাষ্ট্রের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি জনজীবনের নানা বিষয়ে নির্ভীক মতামত প্রকাশ করেছেন। ফলে তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যাঁকে অনেকে বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস ড. নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সম্ভাবনা দেখা যায়। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সমাজ-রাজনীতি নিয়ে তাঁর লেখালেখি এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন প্রশ্নে সক্রিয় অবস্থান তাঁকে একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রশাসনের বাস্তব চিত্র দেখেছেন, আবার একজন লেখক ও চিন্তাবিদ হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাকে জনপরিসরে তুলে ধরেছেন। ফলে তিনি কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন; বরং জনজীবনের নানা প্রশ্নে হস্তক্ষেপকারী একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন। অন্যদিকে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা গড়ে উঠেছে মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কারণে। বিচারপতি হিসেবে বিভিন্ন আলোচিত মামলায় তাঁর ভূমিকা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে। অনেকের কাছে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। জনপ্রিয়তা কি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমার্থক? উত্তর হল — না। বার্নি স্যান্ডার্সের শক্তি ছিল কেবল ব্যক্তিগত সততা নয়; তাঁর শক্তি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করা। তাঁর পেছনে ছিল সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠী, শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র আন্দোলন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি। পশ্চিমবঙ্গে জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম বা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় — প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে সম্মানিত এবং প্রভাবশালী হতে পারেন, কিন্তু তাঁদের কেউই এখনও একটি বৃহৎ, সুসংগঠিত ও দীর্ঘস্থায়ী গণআন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেননি। এখানেই রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব সামনে আসে। অনেকেই মনে করেন, একজন সৎ মানুষ রাজনীতিতে এলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। একজন ব্যক্তি হয়ত কয়েকশো বা কয়েক হাজার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প বা সামাজিক নিরাপত্তার মতো বৃহৎ প্রশ্নে কাজ করতে গেলে প্রশাসনিক ক্ষমতা দরকার। আর সেই ক্ষমতার প্রধান পথ রাজনৈতিক দল।

আরও পড়ুন:

প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ই.ই. শ্যাটসনাইডার মনে করেন, “আধুনিক গণতন্ত্রকে রাজনৈতিক দল ছাড়া কল্পনা করা যায় না।”কারণ, দলই জনগণের দাবি ও রাষ্ট্রক্ষমতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। দল ছাড়া ব্যক্তির ভাবনা প্রায়শই ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবেই থেকে যায়; দল সেই ভাবনাকে নীতিতে, কর্মসূচিতে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রূপান্তরিত করে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বৈশিষ্ট্য হল, এখানে সংগঠনের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে খাদ্য আন্দোলন, নকশালবাড়ি, বামপন্থী উত্থান কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের বিকাশ — সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সংগঠন ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়নি। তাই জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম বা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা যদি জনস্বার্থভিত্তিক একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার নেতৃত্ব দিতে চাইতেন, তাহলে তাঁদেরও শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, সংগঠন এবং গণভিত্তি গড়ে তুলতে হত। শুধু ব্যক্তিগত সততা বা জনপ্রিয়তা দিয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, ব্যক্তি গুরুত্বহীন। ইতিহাস দেখায়, বড় পরিবর্তন প্রায়শই একজন মানুষের স্বপ্ন, সাহস এবং উদ্যোগ থেকেই শুরু হয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে সংগঠন। ব্যক্তি দিকনির্দেশনা দেন, দল সেই দিকনির্দেশনাকে সামাজিক শক্তিতে পরিণত করে। আজকের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই দলনিরপেক্ষ, নৈতিক এবং জনমুখী নেতৃত্বের সন্ধান করেন। জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম বা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের ঘিরে আগ্রহের কারণও সেখানেই। তাঁরা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থেকে উঠে আসা কণ্ঠস্বর হিসেবে অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্রের বাস্তবতা হল, শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্য কাজ করতে হলে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজন হয়। কারণ, রাজনীতি কেবল বক্তব্য বা জনপ্রিয়তার বিষয় নয়; এটি নীতি প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা এবং সামাজিক সম্পদের বণ্টনের প্রশ্নও। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে একজন ‘বার্নি স্যান্ডার্স’তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু তিনি কোনো একক ব্যক্তির জাদুতে তৈরি হবেন না। তাঁর প্রয়োজন হবে সুস্পষ্ট আদর্শ, দীর্ঘ সামাজিক সংগ্রাম, জনআন্দোলনের ভিত্তি এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠন। জহর সরকার, ড. নজরুল ইসলাম কিংবা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় — প্রত্যেকের মধ্যেই সেই সম্ভাবনার কিছু উপাদান দেখা যেতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনা আর বাস্তবতার মধ্যে যে সেতু রয়েছে, তার নাম সংগঠন। গণতন্ত্রে ব্যক্তি এবং দল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং পরিপূরক। ব্যক্তি স্বপ্ন দেখান, দল সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়। আর জনগণই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করেন কোন স্বপ্ন তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder