BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান…

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ১০:৪৫ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ১০:৪৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিচ্ছেদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন। অনেক নেতা দল ছেড়েছেন। আবার অনেকেই সময়ের প্রয়োজনে পুরনো রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফিরে গিয়েছেন। সেই কারণেই মাঝে মাঝে একটি প্রশ্ন জনপরিসরে ফিরে আসে। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও কংগ্রেসে ফিরতে চান, তাহলে কংগ্রেস কি তাঁকে গ্রহণ করবে? প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ভারতীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তিত চরিত্র। লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক দলের বিবর্তনের ইতিহাস। লুকিয়ে আছে ক্ষমতা ও আদর্শের জটিল সম্পর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসে। দীর্ঘ সময় তিনি কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে তিনি নতুন দল গঠন করেন। সেই দল পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। আজ তৃণমূল কংগ্রেস শুধু একটি আঞ্চলিক দল নয়; এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নকে শুধু ব্যক্তি মমতার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এখানে একটি বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। কারণ, তিনি আর কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া কোনও সাধারণ নেতা নন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের প্রধান মুখ। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দল পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় ছিল। ফলে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দলীয় ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণও বিবেচনায় নিতে হবে।

আরও পড়ুন:

ভারতের রাজনীতিতে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ জন্মগত অধিকার নয়। আবার কোনও রাজনৈতিক দলও কাউকে গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। রাজনৈতিক দল একটি সংগঠন। তার নিজস্ব কাঠামো রয়েছে। নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে কংগ্রেসে তাঁকে নিতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কংগ্রেস কখনও তাঁকে নেবে না — এমন দাবিও বাস্তবসম্মত নয়। সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। এখানে কংগ্রেসের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ছিল প্রধান শক্তি। কিন্তু গত কয়েক দশকে সেই অবস্থান অনেকখানি দুর্বল হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির উত্থান ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গও তার ব্যতিক্রম নয়। এক সময়ের শক্তিশালী কংগ্রেস আজ রাজ্যে সীমিত প্রভাব নিয়ে রাজনীতি করছে। ফলে কোনও সম্ভাব্য পুনর্মিলনের প্রশ্নে দলকে ভাবতে হবে তার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থের কথা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের বাস্তবতাও উপেক্ষা করা যায় না। রাজ্যের বহু কংগ্রেস নেতা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম করে এসেছেন। বহু নির্বাচনে দুই দল পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মীদের স্মৃতিতে সেই সংঘাত এখনও জীবন্ত। ফলে হঠাৎ কোনও বড় ধরনের সমঝোতা বা সংযুক্তির পরিবেশ পরিস্থিতি দেখা দিলে তা সংগঠনের ভেতরে নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে কর্মীদের মনোভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আজ দেশের রাজনীতিতে দুটি প্রবণতা একসঙ্গে দেখা যায়। একদিকে জাতীয় দলগুলির প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা। অন্যদিকে, আঞ্চলিক দলগুলির শক্তিশালী উপস্থিতি। বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে জোট রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাও ক্রমশ বেড়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন আর কেবল শত্রুতা কিংবা বন্ধুত্বের সরল সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন:

এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির কথাও আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন বিরোধী দল বহুবার এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করেছে। গণতন্ত্রে এটি স্বাভাবিক। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের আদর্শ বজায় রেখেও নির্দিষ্ট ইস্যুতে সহযোগিতা করতে পারে। সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল এই নমনীয়তা। তাই কোনও নেতা বা দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা মানেই আদর্শিক আত্মসমর্পণ নয়। আবার সমঝোতা না হওয়াও গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে রাজনৈতিক দলগুলির সামনে একটি বড় প্রশ্ন থাকে। সেটি হল আদর্শ ও বাস্তবতার ভারসাম্য। ভোটের অঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সিদ্ধান্ত যদি স্বল্পমেয়াদে লাভজনক হয়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে তা দলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বহু দিক বিবেচনা করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা এবং সাংগঠনিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আজ বহু মানুষের কাছে এক স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা ও বাধ্যবাধকতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় কংগ্রেস ছিল প্রধান শক্তি। পরে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। এই পরিবর্তন দেখায়, রাজনীতিতে কোনও অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। পুরনো সমীকরণ ভেঙেও যায়। তাই রাজনীতিকে বলা হয়, সম্ভাবনাময় শিল্প। অতএব, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক নয়।

আরও পড়ুন:

তবে গণতন্ত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যক্তি নয়; প্রতিষ্ঠান। কোনও নেতা যত জনপ্রিয়ই হোন না কেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় কাঠামো এবং সাংগঠনিক ঐকমত্য গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল শক্তি। সেই কারণে কোনও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আবেগের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আলোকে দেখা উচিত। আজকের ভারতে রাজনীতির সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি সংকট, সামাজিক সম্প্রীতি। এই প্রশ্নগুলি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মানুষ মূলত সমাধান চায়। তারা চায় উন্নত শাসন, চায় জবাবদিহি, চায় স্বচ্ছতা। দলবদল কিংবা জোটের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কখনও জনজীবনের মৌলিক সমস্যার বিকল্প হতে পারে না। এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নকে রাজনৈতিক কৌতূহলের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। এটি আসলে ভারতীয় রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্রে কোনও সম্পর্ক স্থায়ী নয়, কোনও দূরত্বও স্থায়ী নয়। পরিবর্তনই রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, প্রশ্নটি আজ বাস্তবের চেয়ে বেশি তাত্ত্বিক। কারণ, এমন কোনও পরিস্থিতি বর্তমানে দৃশ্যমান নয়, যেখানে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে সামনে আসতে পারে। তবু প্রশ্নটির গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এর মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক দলগুলির চরিত্র বুঝতে পারি। বুঝতে পারি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালী। বুঝতে পারি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক। আর সেই বোঝাপড়াই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে মূল্যবান দলিল হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder