তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার
নতুন পয়গাম, বানারহাট: জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ব্লকের বানারহাট থানার অন্তর্গত আংরাভাষা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ধুমপাড়া গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ কৃষি সরঞ্জাম একটি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে মজুত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সময়মতো বিষয়টি নজরে না এলে ওই সামগ্রী পাচার হয়ে যেতে পারত।
অভিযোগ, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে স্বীকৃতি সংঘের অধীনে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যবহারের জন্য আনা উইডার, ধান ঝাড়াই মেশিন, সার, মাছের খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম সংঘ ভবনে রাখার কথা থাকলেও সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ধুমপাড়ার একটি বাড়িতে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় বিজেপি নেতা নিরঞ্জন সরকারের দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বাজারমূল্য ১০ লক্ষ টাকারও বেশি। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি হঠাৎ সামনে না এলে সামগ্রীগুলি অন্যত্র সরিয়ে ফেলা বা পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর একাংশের সদস্যরাও সংঘ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সদস্যদের না জানিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংঘের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাড়ির মালিক তথা তৃণমূল নেত্রী সবিতা রায়। তাঁর দাবি, সংঘ ভবনে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং অতীতে চুরির ঘটনার কারণে সংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িকভাবে ওই সরঞ্জামগুলি তাঁর ঘরে রাখা হয়েছিল। এগুলি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই রাখা হয়েছিল, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয় বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সম্পত্তি ও সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদনও জানানো হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত সত্য কী, তা প্রশাসনিক তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা।








