বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত
নতুন পয়গাম: বর্ধমান বাবুরবাগ সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে প্রতিবছরের মতো এবারও পালিত হল নজরুল জন্ম দিবস। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান রাজ কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. তারকনাথ শেঠ, গুসকরা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ স্বপন দাঁ, হাট গোবিন্দপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ রঞ্জিত ব্যানার্জি। ড. তারকনাথ শেঠ নজরুলের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু সাহিত্যিক নন; তারা বাঙালির আত্মপরিচয়, বাঙালির মানবিকতা, বাঙালির স্বাধীন চেতনা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রধান নির্মাতা। এই সভায় নজরুলের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁর কাছে ধর্মের সংকীর্ণতা ছিল না। শ্যাম ও শ্যামার রূপ তিনি একান্তে অনুভব করেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সম্প্রীতির প্রতীক, ঐতিহ্যের প্রতীক। আমাদের বাংলা ও বাঙালির অন্যতম সত্তা, রবীন্দ্রনাথের মতোই সময় ও কাল চেতনার ঊর্ধ্বে। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি নিয়াজুল হক, আনসার সাহেব, সমাজকর্মী জানে আলম, শিক্ষক গৌতম খান, ডাক্তার সুমন্ত রায়, ডাক্তার হবিবুল্লা, চিত্রশিল্পী জয়ন্ত প্রমুখ ব্যক্তিত্ব।
প্রবীণ সাংবাদিক কানাইলাল বিশ্বাস বলেন, “আজকের সমাজে মানুষের চেতনার অবক্ষয় রোধ করতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য এবং দর্শনের পুনঃপাঠ অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, “এই দুই মহামানবের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজের বেহুঁশ মানুষকে হুঁশে ফেরানো যায়।” বৃক্ষপ্রেমী ও এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক বিশ্বনাথ দাস জানান, রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল উভয়েই ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী। সেই প্রকৃতি-প্রেম ছড়িয়ে আছে এই বিদ্যালয়ের চারিদিকে। বৃক্ষ রোপণের মধ্য দিয়ে তিনি সারা জীবন সেই প্রকৃতি প্রেমের সাধনা করেছেন।”
ড. রমজান আলি বলেন, “মে মাস বাঙালির কাছে খুব গর্বের। এই মাসের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথের জন্ম, আর শেষদিকে কাজী নজরুল ইসলামের। এই মাসেরই ঊনিশে মে আসামের শিলচরে বাংলা ভাষা আন্দোলন। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য মহান। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, এই সময় বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে গরমের ছুটি থাকে। তাই শিক্ষক মহাশয়রা সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এই সমস্ত বাঙালির আদর্শ এবং ঐতিহ্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তুলে ধরতে পারেন না। নতুন রাজ্য সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, অন্তত এই সমস্ত মহৎ বাঙালিদের জন্মদিনগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হোক।” সাহিত্যিক শ্রী জয়দীপ স্বরচিত কবিতা ‘এক পক্ষকাল’ আবৃত্তি করেন। কবিতায় তিনি রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল পর্যন্ত এই সময় পর্বকে বাঙালির ভাষা সাহিত্য আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার পথিক হিসেবে তুলে ধরেন। সংগীত পরিবেশন করেন মীরাদি।








