BREAKING:
রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান

প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৪২ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৪৩

মজিবুর রহমান: সাংবিধানিকভাবে ভারতবর্ষ হল একটি ‘রাজ্যসমূহের সংঘ’ বা ‘ইউনিয়ন অফ স্টেটস’। এই মুহূর্তে ভারতে রাজ্য (স্টেট) ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের (ইউনিয়ন টেরিটোরি) সংখ্যা যথাক্রমে ২৮ এবং ৮। ভারতের সর্বত্র যথোচিত মর্যাদায় ১৫ আগস্ট (১৯৪৭) স্বাধীনতা দিবস, ২৬ নভেম্বর (১৯৪৯) সংবিধান দিবস ও ২৬ জানুয়ারি (১৯৫০) সাধারণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করা হয়। কিন্তু রাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠা দিবস অথবা ভারতে অন্তর্ভুক্তি দিবস উদযাপনের বিশেষ রেওয়াজ নেই। হঠাৎ করেই ২০২৩ সালে ২০ জুন রাজ্যপাল সি.ভি আনন্দ বোস রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের আয়োজন করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন এবং ওই বছরই ২৩ আগস্ট বিধানসভায় পয়লা বৈশাখ ‘বাংলা দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব পাস করা হয়। সেই মতো ২০২৪ ও ‘২৫ সালে সীমিত পরিসরে ‘বাংলা দিবস’ পালন করা হয়। ২০২৬-এ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবগঠিত রাজ্য সরকার বৃহৎ আকারে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই আবহে বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম ফিরে দেখা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলি ১৯৪৬ সালের ১৫ই মার্চ হাউস অব কমন্সে ভারতের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে এক বিবৃতি দেন। ওই মাসেই তিনজন ব্রিটিশ মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত ‘ক্যাবিনেট মিশন’ দিল্লি আসে। স্বাধীন ভারতের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। একটি প্রস্তাবে ভারতকে অবিভক্ত রেখে একটি যুক্তরাষ্ট্র বা ফেডারেশন গঠনের কথা বলা হয়। কেন্দ্রের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়। প্রদেশগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। হিন্দু-প্রধান প্রদেশগুলো নিয়ে ‘ক’ ব্লক; মুসলিম অধ্যুষিত পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে ‘খ’ ব্লক এবং বাংলা ও আসামকে নিয়ে ‘গ’ ব্লক গঠন করা হয়। জুন মাসে গৃহীত এই প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সহমত হয়। কিন্তু জুলাই মাসে মুসলিম লীগ প্রস্তাবটি সমর্থনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। ১৬ আগস্ট তারা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্ৰাম দিবস’ কর্মসূচি পালন করে। একাধিক জায়গায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা লাগে। সংঘটিত হয় ‘গ্ৰেট ক্যালকাটা কিলিং’। মুসলিম লীগ সেপ্টেম্বরে গঠিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যোগদান করতে অসম্মত হয় (পরে অক্টোবরে যোগ দেয়)। মুসলিম লীগের সদস্যরা সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে গঠিত গণপরিষদের অধিবেশনেও অংশগ্রহণ করেননি। আসলে তখন তাদের ভাবনায় ১৯৪০ সালে লাহোরে গৃহীত ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসবের জন্য মুসলিম লীগের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অ্যাটলি সাহেব দায়িত্বশীল ভারতবাসীর হাতে ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই ক্ষমতা অর্পণ করার কথা ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলার গভর্নর স্যার ফ্রেডরিক জন ব্যারোজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলার হিন্দু-প্রধান অঞ্চল নিয়ে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করে তাকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ১৯ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ”ভারত যদি অবিভক্তও থাকে তাহলে সেই অবস্থাতেও বাংলাকে ভাগ করতে হবে।” ৫–৬ এপ্রিল তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সম্মেলনে বঙ্গদেশে হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৩ মে তিনি সোদপুর আশ্রমে গান্ধীজির সঙ্গে দেখা করে সার্বভৌম বাংলা গঠনের ব্যাপারে তাঁর তীব্র আপত্তির কথা জানিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বিচার করে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বাংলা ভাগ করে হিন্দু-প্রধান অঞ্চলসমূহ ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলিম লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অবশ্য অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানে পেতে আগ্ৰহী ছিল। তবে শরৎচন্দ্র বসু ও কিরণ শঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের একটি ক্ষুদ্র অংশ এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি বৃহৎ অংশ অবিভক্ত স্বাধীন বঙ্গদেশ গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যান। মর্নিং নিউজ, দৈনিক আজাদ, আনন্দবাজার পত্রিকা, অমৃতবাজার পত্রিকা প্রভৃতি সংবাদপত্র বাংলা ভাগের পক্ষে অবস্থান গ্ৰহণ করে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২ জুন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় অখণ্ড সার্বভৌম বাংলার পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ভারত এবং সেই সঙ্গে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। ৪ জুন ঘোষণা করা হয়, ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। পুরো পরিকল্পনাটি ‘মাউন্টব্যাটেন রোয়েদাদ’ নামে পরিচিত হয়। তবে এই পরিকল্পনায় বাংলাকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে না হলেও অবিভক্ত প্রদেশ হিসেবে থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলার প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যরা হিন্দু ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত হবেন। প্রথমে অবিভক্ত বিধানসভার অধিবেশন বসে বাংলা অখণ্ড থাকবে কিনা এবং অখণ্ড থাকলে ভারতে, নাকি পাকিস্তানে যোগদান করবে, তা স্থির করতে বলা হয়। পরে বিভাজিত এলাকার সদস্যরা পৃথকভাবে বসে ঠিক করবেন, তাঁরা বাংলা ভাগকে সমর্থন করছেন কিনা এবং করলে কোন্ দেশের অংশ হবেন। কোনো একটি অংশ ভাগের অনুকূলে মত প্রকাশ করলে বাংলাকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত দু-ভাগে ভাগ করা হবে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার জন্য বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার বিশেষ অধিবেশন বসে। প্রথমে যৌথ অধিবেশনে বাংলাকে অবিভক্ত রাখার এবং অবিভক্ত বাংলার পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে ১২৬–৯০ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা স্বতন্ত্র অধিবেশনে মিলিত হয়ে ৫৮–২১ ভোটে বাংলা ভাগের এবং ভারতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিরা আরেকটি স্বতন্ত্র অধিবেশনে মিলিত হয়ে ১০৬–৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেন এবং বাংলা ভাগ অনিবার্য হলে পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করেন। বাংলা ভাগের বিপক্ষে দু-বার বেশি ভোট পড়লেও পূর্বোক্ত রোয়েদাদের শর্তানুযায়ী বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব জয়যুক্ত হয়। পূর্ববঙ্গ যায় পাকিস্তানে, আর পশ্চিমবঙ্গ থাকে ভারতে। আয়তনে ও লোকসংখ্যায় পূর্ববঙ্গ বড় ছিল। প্রাদেশিক আইনসভায় পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধির সংখ্যাও বেশি ছিল। অবিভক্ত বাংলার আইনসভার মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ২৫০। কয়েকটি প্রধান দলের সদস্য সংখ্যা ছিল এরূপ: মুসলিম লীগ ১১৪, কংগ্রেস ৮৬, কমিউনিস্ট পার্টি ৩, কৃষক প্রজা পার্টি ৩, হিন্দু মহাসভা ১ (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি)। বলাবাহুল্য, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সদস্যরা বাংলা ভাগের যথাক্রমে পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট দেন। কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট দেন। দ্বিখণ্ডিত বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য সংখ্যা হয় ৯০। প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে ৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে ১১ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

আরও পড়ুন:

রেডক্লিফ কমিশন ভারত-পাকিস্তানের যে সীমানা নির্ধারণ করে তাতে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা হিসেবে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও দিনাজপুর ১৪-১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ স্বাধীনতার দিন পূর্ববঙ্গ তথা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ প্রান্ত উত্তর প্রান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জল-সংকটে কলকাতা বন্দর বিপন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই গুরুতর সমস্যা সমাধানের জন্য তৎপরতা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট নদীয়া, হিন্দু প্রধান খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ, মালদার ১৫টি থানার মধ্যে ১০টি থানা এবং অবিভক্ত দিনাজপুরের বালুরঘাট, হিলি, গঙ্গারামপুর ও রায়গঞ্জ পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯ আগস্ট এই অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন:

যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মুসলিম লীগ ভারত ভাগের দাবি তুলেছিল, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা বাংলা ভাগ চেয়েছিল। ১৯০৫ সালে যে বঙ্গভঙ্গ হয়, তা রদ করার জন্য বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও হিন্দু সমাজ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু মুসলিম লীগ ও মুসলিম সমাজ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ আটকাতে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ ও মুসলিম সমাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও হিন্দু সমাজ বাংলা ভাগের পক্ষে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। সাম্প্রদায়িক বিভেদের কারণেই এসব হয়েছে। অবিভক্ত বাংলার জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ ছিল মুসলমান। তারাই বঙ্গ রাজনীতিতে শাসকের ভূমিকায় ছিল। তারা সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চেয়েছিল। কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা চেয়েছিল, বাংলার একটা অংশে যাতে হিন্দুরা শাসকের ভূমিকায় থাকতে পারে, তা সুনিশ্চিত করতে। এছাড়াও তাদের আশঙ্কা ছিল, বাংলা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলে পরে পাকিস্তানের সঙ্গে মিশে যাবে।

আরও পড়ুন:

১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় স্মরণ করা হয় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীর লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে। ভারত ভাগের জন্য যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এর সঙ্গে মিশে থাকে বৈদেশিক শাসন থেকে স্বদেশী শাসনে ভারতের ফিরে আসার আনন্দ ও গৌরব। জাত-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীকে আহ্বান জানান হয়, ভারতের সমস্ত ভাল-মন্দের শরিক হতে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০ জুনকে ওই আলোকেই দেখতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder