দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!”
নতুন পয়গাম, বানারহাট: নিজেদের কর্তব্য পালনে দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ স্কোয়াডের বনকর্মীরা। জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় নিয়মিত টহলদারি থেকে শুরু করে হাতির হানায় আহত বা মৃত্যুর ঘটনা, কিংবা চিতা বাঘের আতঙ্ক যেকোনো খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচ্ছেন তারা। বানারহাট ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত বনকর্মীদের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কখনও বিক্ষোভ, কখনও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, আবার কখনও মারধরের ঘটনাও ঘটছে। তারপরও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের দায়িত্ব পালন থেকে সরে আসছেন না তারা। সম্প্রতি গয়েরকাটা চা বাগানের ১১ নম্বর সেকশনে বনদপ্তরের পাতানো খাঁচায় একটি পূর্ণবয়স্ক চিতা বাঘ ধরা পড়ে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বিন্নাগুড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা। সেই সময় সকাল থেকে কিছু না খেয়েই উদ্ধারকাজে নেমেছিলেন তারা। ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই চলছিল তাদের দায়িত্ব পালন।
সেই দৃশ্যই তুলে ধরেছে বনকর্মীদের কর্তব্যনিষ্ঠা ও তৎপরতার বাস্তব ছবি। এই প্রসঙ্গে বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ স্কোয়াডের রেঞ্জ অফিসার হিমাদ্রি দেবনাথ বলেন, বনকর্মীরা সর্বদা তৎপর রয়েছেন। কোথাও হাতি লোকালয়ে ঢোকার খবর পেলেই দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছেন, আবার কোথাও চিতা বাঘের হানায় আহত বা মৃত্যুর খবর পেলেও বৃষ্টি-বন্যা উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষ আমাদের পাশে থাকলে আমরা আরও উৎসাহ পাই। বনকর্মীরা দিনরাত পাহারা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বন্যপ্রাণীর হাত থেকে নিরাপদ রাখছেন। মানুষ যখন রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন, তখন বন কর্মীরা পাহারা দিচ্ছেন। তারপরও কিছু উত্তেজিত মানুষের হাতে আমাদের কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, গালিগালাজের শিকার হচ্ছেন।” বনদপ্তরের কর্মীদের এই নিরলস পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আবেদনও জানান তিনি।








