BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়?

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ১১:১৬ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬, রাত ১০:০৪
এ নিয়ে অনেক গল্প, অনেক লোককথা, অনেক মিথ ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। তবে সাধারণত তিনটি মুখ্য ব্যাপারে আলোচনা হয় সর্বত্র। অনেকে মনে করেন ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস হিসেবে প্রথম ঘোষণা করেন পোপ প্রথম জুলিয়াস।

সৈয়দ রেজাউল করিম: ভালবাসার আবার দিন কী? ভালবাসা কি সময়-ক্ষণের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে? তাহলে ১৪ই ফেব্রুয়ারির এই নির্দিষ্ট দিনটি কেন ভালবাসা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে? কী কারণ আছে তার পিছনে?
এ নিয়ে অনেক গল্প, অনেক লোককথা, অনেক মিথ ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। তবে সাধারণত তিনটি মুখ্য ব্যাপারে আলোচনা হয় সর্বত্র। অনেকে মনে করেন ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস হিসেবে প্রথম ঘোষণা করেন পোপ প্রথম জুলিয়াস।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন তিনি হঠাৎ ঘোষণা করতে গেলেন এই বিশেষ দিনটি? কে ছিলেন সেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস, যার নামে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ঘোষণা করে ছিলেন তাঁর নাম? সে কথা জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে বেশ কয়েক শতক।
সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন একজন ক্রিশ্চিয়ান পাদরি এবং ধর্ম প্রচারক। তিনি ছিলেন একজন সদালাপী সম্ভ্রান্ত ঘরের মহিলা। শিশুদের প্রতি তার ভালবাসা ছিল অগাধ, অকৃত্রিম। শিশুরাও তাকে প্রাণের অধিক ভালবাসত। শুধু তাই নয়, সেবা ও চিকিৎসায় তার হাত-যশ ছিল খুব। এর জন্য খুব নাম-ডাক ছিল তাঁর।
সে সময় রোমের সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে না চিনলেও তার যশের কথা কানে পৌঁছেছিল। এরকম এক মহিলা তার দরবারে স্থান পেলে তাঁর মর্যাদা যে অনেক বেড়ে যাবে, একথা অবগত ছিলেন তিনি। তবে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্সের এই খ্রিস্টধর্ম প্রচার তিনি ভাল চোখে দেখেননি। কারণ, রোমবাসীর মতো তিনিও দেব-দেবীতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসকে তাদের ধর্ম গ্রহণ করার জন্য আবেদন করলেন।
ক্রিশ্চিয়ান ধর্মের প্রতি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস এতটাই নিমজ্জিত ছিলেন, এতটাই অনুরক্ত ছিলেন যে, তিনি এক কথায় প্রত্যাখ্যান করলেন রাজার প্রস্তাব। সম্ভ্রমের সাথে ফিরিয়ে দিলেন তাঁর আবেদন, তাঁর অনুরোধ।

আরও পড়ুন:

এতে খুব চটে গেলেন সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস। হিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি তাকে ধরে আনলেন। রেখে দিলেন কারাগারে, যদি তার সুমতি হয়।
সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের মনে ভরা ছিল গভীর স্নেহ ভালবাসা। ফুলের মতো ছিল তার সৌরভ। কিছুদিনের মধ্যেই তার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ছুটে আসত তাকে দেখতে। কিন্তু তারা তাকে দেখতে পেত না। বাইরে দেখা দেওয়ারও হুকুম ছিল না তাঁর। কারার অন্তরালে থাকতে হত তাঁকে। তাতে কিছু যেত আসত না শিশু-কিশোরদের। তারা তাদের ভালবাসার কথা জানিয়ে চিঠি লিখত। সেই চিঠি জানালা দিয়ে ফেলে দিত জেলের ভিতরে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস তাদের সব চিঠিগুলো পড়তেন। তাদের প্রতি গভীর ভালবাসায় আপ্লুত হতেন। চিঠিতে পাঠিয়ে দিতেন তাঁর বার্তা।
কথিত আছে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের সঙ্গে জেলরের এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। উপলক্ষ ছিল তাঁর মেয়ে, যে ছিল জন্মান্ধ। মেয়েটি প্রায় প্রতিদিন যেত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের কাছে। তাঁর সাথে প্রাণ খুলে কথা বলত। তাঁর দেওয়া ওষুধ খেত। তাঁর আন্তরিক সেবা, শুশ্রুষা এবং ঐশ্বরিক ক্ষমতার বলে একদিন সুস্থ হয়ে উঠল মেয়েটি। তার অন্ধত্ব গেল ঘুচে। এই খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। তাই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের সান্নিধ্য পাবার আশায় তাঁকে এক পলক দেখার বাসনায় আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা আসতে থাকল কারাগার প্রাঙ্গণে।
এ সংবাদ রাজা দ্বিতীয় ক্লাডিয়াসের কানে গেল। তিনি খুব ক্রুদ্ধ হলেন। সাথে সাথে তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেন। দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। তাই তাঁর ভালবাসার কথা মনে রেখে ওই দিনটি পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস হিসেবে।
দ্বিতীয় কাহিনিতে জড়িয়ে আছে আর এক ‘ভ্যালেন্টাইন’ এর কথা। খ্রিস্টীয় ইতিহাসে যার সন্ধান পাওয়া যায়। এটাও রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের রাজত্ব কালের ঘটনা, যা ঘটেছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে।
রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস ছিলেন সাম্রাজ্যবাদী, রক্তলোলুপ, বিধ্বংসী রাজা। প্রজা বাৎসল্যে খুব অখ্যাতি ছিল তাঁর। একসময় রাজ্য জয় করতে গিয়ে প্রচুর সৈন্য ক্ষয় হয় তার সেনা বাহিনীতে। সেই শূন্যস্থান পূরণে সেনাবাহিনী থেকে আবেদন নিবেদন করা হয় ভর্তির জন্য। কিন্তু সৈন্যবাহিনীতে যোগ দিতে কেউ এগিয়ে এল না। বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে ছিল তীব্র অনীহা। ফলে প্রবল সৈন্য সংকট দেখা দিল।
সম্রাট ক্লডিয়াস তাতে দমবার পাত্র নন। এই সমস্যা সমাধানে তিনি এক নয়া পন্থা বার করলেন। আরোপিত হল নিষেধাজ্ঞা। সৈন্যবাহিনীতে যোগ না দিয়ে বিয়ে করতে পারবে না কোন যুবক। দেশজুড়ে জারি হল সেই ফরমান।
সম্রাটের সেই ফরমানে উত্তাল হল দেশের যুব সম্প্রদায়। কিন্তু বিদ্রোহ করার মতো শক্তি ছিল না তাদের। সম্রাটের রোষে পড়লে মৃত্যু যে অনিবার্য, একথা বুঝতে পেরেছিল তারা। ফলে বিবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেসময়। এর প্রথম প্রতিবাদ করেন এক ধর্ম যাজক। অত্যন্ত নীরব ও নিঃশব্দে তিনি বিবাহ করেন সেইন্ট মারিসাসকে। পরে বহু যুবক-যুবতীকে বিয়ে দিলেন তাঁর গীর্জায়। যজমানি করলেন তিনি নিজে। তাঁর নাম ছিল সেন্ট ভ্যালেন্টাইন।
এ সংবাদ গিয়ে পৌঁছল রাজা ক্লডিয়াসের কাছে। রাগে, হিংসায় চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠল তাঁর। সাথে সাথে হুকুম করলেন, ধরে আনো ভ্যালেন্টাইনকে। তাঁর আদেশ শুনে দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ল সৈন্যদল। অবশেষে ২৭০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সৈন্যবাহিনীর হাতে ধরা পড়ল সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। সৈন্যরা তাকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে হাজির করল সম্রাটের কাছে। সাথে সাথে সম্রাট তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। তাঁর মৃত্যুর কথা স্মরণ রেখে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস।

আরও পড়ুন:

ভ্যালেন্টাইনস ডে-র তৃতীয় কাহিনীটির উৎসস্থল সেই রোম। কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই রোমানদের মধ্যে চলে আসছিল দুটি প্রথা। একটি হল প্রেম ও বিবাহ বিষয়ক, অপরটি হল সন্তান বিষয়ক। এর জন্য তারা প্রতি বছর ১৪ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘উৎসব’ হিসেবে পালন করত।
১৫ ফেব্রুয়ারি রোমানরা পালন করত সন্তান বিষয়ক উৎসব। সেই উৎসবে তরুণ যুবক-যুবতীরা প্রায় অর্ধনগ্ন হয়ে ছোটাছুটি করত। যুবকদের হাতে থাকতে চাবুক। তারা সেই চাবুক দিয়ে তাদের নববিবাহিত বধূকে পেটাত। তাদের ধারণা ছিল এতে যুবতীদের সন্তান ধারণের পথ প্রশস্ত হবে। রোম শহরের দেবতা লুপার কাশও সন্তুষ্ট হবে। তিনি তাদের সমস্ত বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করবেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি রোমানরা পালন করত প্রেম ও বিয়ে বিষয়ক উৎসব। তাদের মধ্যে একটা মিথ প্রচলিত ছিল যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি পক্ষীরা তাদের সঙ্গী নির্বাচন করে। সেই মিথে বিশ্বাস করে যুবক-যুবতীরাও তাদের সঙ্গী নির্বাচনের দিন স্থির করে ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন শহর ও গ্রামের যুবকেরা তাদের প্রিয় যুবতীদের নামে পত্র লিখে একটা বাক্সে বা পাত্রে রেখে দিত। সেগুলো লটারির মতো ঘেঁটে দেওয়া হত। অতঃপর প্রত্যেক যুবক একটা করে পত্র তুলে নিত এবং সবার সামনে সেটা খোলা হত। সেই পত্রে যে যুবতীর নাম লেখা থাকত, তার প্রেমে এক বছর মগ্ন থাকত সেই যুবক। তাদের মধ্যে পত্র আদান-প্রদান হত।

আরও পড়ুন:

১৭০০ সালের দিকে ইংরেজ মহিলারাও তাদের জন্য পুরুষকে পছন্দ করত একটু অন্যভাবে। তারা তাদের পরিচিত মানুষের নাম কাগজে লিখে কাদা মাখিয়ে জলে ছুড়ে দিত। কাদা ধুয়ে গেলে কাগজটা জলের উপর ভেসে উঠত। যার নাম প্রথমে ভেসে উঠত, তাকে বিবেচিত করা হত প্রকৃত প্রেমিক হিসেবে।
৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রচলিত দু’দিনের এই উৎসব বন্ধ হয়ে এক দিনের উৎসবে পরিণত হয়। রোমের এই উৎসব খুব একটা সুখকর ছিল না সমাজে। প্রচলিত সেই রীতিনীতি সমূলে উৎপাটন করার ক্ষমতা ছিল না খ্রিস্টানদের। তারা এই রীতি-নীতিকে নতুন আঙ্গিক দিয়ে ঘোষণা করল, ছোট-বড়, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যে কেউ তাদের ভালবাসার কথা লিখতে পারে, তবে সেই সব পত্র সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামে পাঠাতে হবে।
সেই অনুসারে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে। ধীরে ধীরে সর্বস্তরের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ে। গ্রিটিংস কার্ড, ফুল, চকোলেট এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী ভালবাসার মানুষকে পাঠিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। এখন তো হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে এই কাজ সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder