BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া ইসরাইল টিকতে পারবে?

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:২১ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:২১

রামজি বারৌদ

আরও পড়ুন:

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা ও পাশবিকতা এবং তাতে আমেরিকা-সহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো কীভাবে সমর্থন দিয়ে চলেছে, সে বিষয়ে ক্ষুরধার বিশ্লেষণ করেছেন ‘প্যালেস্টাইন ক্রনিক্যাল’-এর সম্পাদক রামজি বারৌদ।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি গণহত্যা এবং তা থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধ দুটি ভয়াবহ সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথমত, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অবজ্ঞা করছে। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমাদের সহায়তা সমর্থন ছাড়া ইসরাইল একা টিকে থাকতে সক্ষম নয়।
এই দুটি বিষয় আলাদা মনে হলেও বাস্তবে একটি অন্যটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কারণ, যারা সামরিক, রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে ইসরাইলকে টিকিয়ে রেখেছে, তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মধ্যপ্রাচ্য আর বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না। টানা সাড়ে সাত দশক ধরে ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে আছে মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কঠিন বাস্তবতা হল ইসরাইল যদি গাজা থেকে সরে যায় এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত ও গণহত্যার শিকার গাজা উপত্যকা যদি স্থিতিশীল হওয়ার অবকাশ পায়, তাহলেই পার্থক্য প্রকাশ্যে আসবে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি নৃশংসতায় প্রায় ৬০ হাজার গাজাবাসী তথা ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিশু এবং অন্তত ২৮ হাজার নারী রয়েছেন। গাজার নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
‘যার শক্তি, সেই সঠিক ও ন্যায্য’ — আগামীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ থেকে এই ঘৃণ্য নীতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সামনে এখন সময় এসেছে, তারা যেন সদর্থক ভূমিকা নেয়। তারা যেন নিজেদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ও জনগণকে সাহায্য করে এবং নিশ্চিত করে যে, ইসরাইল আর তাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারবে না।
ইসরাইল বহু বছর ধরেই একদল সমর্থকের আনুকূল্য ও সাহায্য নিয়ে চলছে। পশ্চিমারা ইসরালকে সর্বাত্মক সাহায্য দেওয়াকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক স্বার্থরক্ষার ঘাঁটি হিসেবে দেখে থাকে।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার রক্ষায় বিশ্ব এগিয়ে এলে হয়ত কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
ইসরাইলের দৃষ্টিতে এই দাবি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, এমনকি চিন্তার বাইরে। বোঝা যায়, তাদের এই নীতি তাদের ঔপনিবেশিক অবস্থানের কারণেই। কেন?
প্রখ্যাত গবেষক প্যাট্রিক উলফ বলেছিলেন, ‘আক্রমণ কেবল কোনো ঘটনা নয়, এটি একটি কাঠামো।’ এই গভীর বক্তব্যটি বুঝিয়ে দেয়, ১৯৪৮ সালের নাকবা বা ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইসরাইলের সব যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কাঠামোর অংশ। তাদের এসবের পিছনে মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।
তাই ৭ অক্টোবরের পর ইসরাইলের আচরণকে শুধু প্রতিশোধ বলেই মনে করা ভুল, বরং এর পিছনে সুস্পষ্ট কৌশল ছিল। গাজার রোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড দেখে আমরা হয়ত প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারিনি। কারণ, গাজায় প্রতিদিনের নৃশংসতা থেকে ইসরাইল আনন্দ নিচ্ছে এবং নিজেদেরকে শক্তিশালী বলে দাবি করছে এবং সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধকে জাহির করছে।
তবে ইসরাইল নিজেই তাদের আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছে। দেশটির উগ্রবাদী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বলেছিলেন, ‘আমরা গাজাকে জনশূন্য দ্বীপে পরিণত করব।’ নেতানিয়াহুর এই উম্মত্ত বক্তব্য ইসরাইলের ঔপনিবেশিক কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যতক্ষণ না এটিকে থামানো যায়, ততক্ষণ তার থেকে মুক্তি নেই। কিন্তু কে বা কারা ইসরাইলকে থামাবে? অর্থাৎ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?
গাজায় প্রায় ২১ মাসের অসহনীয় গণহত্যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এক কঠিন সত্য। সেটা হল ইসরাইল হচ্ছে আসলে একটা ‘সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র’ (যে দেশ অন্য কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত)। ইসরাইল এমন এক রাষ্ট্র, যে নিজে যুদ্ধ করতে পারে না, নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি নিজ দেশের অর্থনীতি চালাতেও পারে না। ইসরাইলও ঠিক তেমনই। মার্কিন বা পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া সে কোনো কিছু করতে পারে না, কোনো কিছু চালাতে পারে না। গাজায় নৃশংস হামলা শুরুর আগে কিছু ইসরাইলি নেতা মাঝে মধ্যে বলতেন, ‘ইসরাইল স্বাধীন দেশ। এই দেশ মার্কিন পতাকার আরেকটি তারকা নয়।’ এখন অবশ্য সেসব কণ্ঠ বা এমন কথাবার্তা একরকম থেমে গেছে। বরং এই রাষ্ট্রকে এসব কথা বলার পরিবর্তে এখন কেবল মার্কিন সহায়তার জন্য অনুনয়-বিনয় করতে শোনা যাচ্ছে।
২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ‘মার্কিন ও ইসরাইলি জনগণের সম্পর্ক রক্ত-মাংসের মতো গভীর। আমরা অভিন্ন মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ। ধর্মীয় বিশ্বাসে খ্রিস্টান হলেও আমরা যায়নবাদী।’
বাইডেনের এই তথাকথিত ‘অভিন্ন মূল্যবোধ’ যে গণহত্যাকে সমর্থন করে, সে বিষয়ে প্রশ্ন না তুলেই বাইডেন আসলে স্বীকার করেছিলেন, ইসরাইল-আমেরিকা সম্পর্ক কেবল রাজনীতির বিষয় নয়; বরং গভীর আদর্শিক ও কৌশলগত বন্ধন।
পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য নেতাও ইসরাইল সম্পর্কে অন্ধভাবে একই কথা বিশ্বাস করেন এবং একই কথা বলে থাকেন। তবে গাজায় ইসরাইলের চলমান এই নৃশংস গণহত্যা বহু দেশকে, বিশেষ করে কিছু পশ্চিমা ও বেশিরভাগ অ-পশ্চিমা দেশকে সাহসের সঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করেছে।
নেতানিয়াহু ও তাঁর চরমপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো এতটা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়নি। স্পেন, ইতালি, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার মতো দেশ প্রমাণ করেছে, পশ্চিমা ‘বন্ধন’ চিরকাল অটুট থাকবে না। তাদের সমর্থন ইসরাইলের প্রতি একচেটিয়া বা নিরঙ্কুশ নয়। কিন্তু কেন কিছু দেশ ইসরাইলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস করছে, আবার কিছু দেশ শত অন্যায় সত্ত্বেও চুপ থাকছে?
পশ্চিমাদের সঙ্গে ইসরাইলের এই মধুচন্দ্রিমা ভেঙে দেওয়া এখন জরুরি। এটি শুধু ন্যায়ের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নয়; বরং ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। ফিলিস্তিনিরা বরাবরের মতো সাহসের সঙ্গে দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা এবং একইসঙ্গে কট্টর যায়নবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই করছে। এই অবস্থায় যারা আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিতে বিশ্বাস রাখে, তাদের দায়িত্ব হল, সেইসব দেশের সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো, যারা আজও ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তাকে টিকিয়ে রাখছে।
ইউরোপের দেশ স্পেন-সহ কিছু দেশের সরকার যা করছে, তা কয়েক বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ স্পষ্ট বলছেন, ২০০০ সাল থেকে চালু ইইউ-ইসরাইল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করতে হবে। কারণ, গাজার ‘গণহত্যা পরিস্থিতি’ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্পেনের মতো আরও কিছু দেশ একইভাবে নির্ভীক ও আপসহীন অবস্থান নিলে অন্তত ইসরাইলের পশ্চিমা অর্থ ও অস্ত্র পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যেসব অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তারা গাজায় বর্বরতা চালাচ্ছে।
এই সময়ে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব হল, সেই সাহসী কণ্ঠগুলোর পাশে দাঁড়ানো। শুধু ইসরাইল নয়; বরং যারা এই বসতি-উপনিবেশিক কাঠামোকে বজায় রাখতে সাহায্য করছে, তাদের সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder