BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

বিহার নির্বাচন: বাম গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষরা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২

খগেন্দ্রনাথ অধিকারী

আরও পড়ুন:

বিহার বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচন এদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের উপর এক বড় আঘাত। তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই অনিবার্য ছিল। কারণ, ইতিহাস আমাদেরকে এটাই চিরকাল শিক্ষা দেয় যে, ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী এবং গণতন্ত্রী মানুষরা নিজেদের মধ্যে ছোটখাটে মতভেদ মিটিয়ে না নিতে পারলে তার মাশুল সাধারণ মানুষকে দিতে হয়। উদাহরণ হিসাবে বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের ইউরোপের কথা ধরা যাক। এই সময়কালে পুঁজিবাদী অর্থনীতি ভীষণ সংকটে পড়ে। শুরু হয় বিশ্বজুড়ে মন্দা। বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি পর্বতপ্রমাণ আকার নেয়। উদার গণতন্ত্রী ব্যবস্থায় অর্থাৎ বুর্জোয়া সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রবল ধস নামে। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও ইউরোপে একমত হতে পারল না।

আরও পড়ুন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি সংকট মোচনে একমত হতে পারেনি। তবে সে দেশের গণতন্ত্রী দলের নেতা প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট খুব কড়া পদক্ষেপ নেন। বৃহৎ পুঁজিপতিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে তিনি “New Deal” কর্মসূচি নেন শ্রমজীবী মানুষকে কিছু সুরাহা দেবার জন্য। কিন্তু এখানেও চরম দ্বন্দ্ব হয়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করে আমেরিকার অভিজাত শ্রেণি এই কর্মসূচি রূপায়ণে অন্তরায় সৃষ্টি করে। নাছোড় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট জাতির উদ্দেশ্যে বেতার ভাষণ দিয়ে প্রবল জনমত গড়ে তোলেন তাঁর উক্ত কর্মসূচির সমর্থনে। ধনীরা পিছিয়ে যায় জনমতের চাপে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইউরোপের অবস্থা ছিল ভিন্ন। কী পূর্ব ইউরোপ, কী পশ্চিম ইউরোপ, বুর্জোয়া গণতন্ত্রীরা ছিল পরস্পর বিরোধী অবস্থানে অনড়। কমিউনিস্টরাও পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করে সময়োচিত উদ্যোগ নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে বামপন্থী ও উদার গণতন্ত্রীদের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে কোন বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বামপন্থী তথা কমিউনিস্টদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে জার্মানি-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসী শক্তির জয়জয়কার ঘটে। ১৯৩৩ সালের জার্মানিতে সংসদীয় নির্বাচনে ঠিক এই কারণে নাৎসীরা একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে জোর জবরদস্তি করে হিটলার ক্ষমতায় যান নাৎসীদের পতাকা উড়িয়ে।

আরও পড়ুন:

আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক অনুরূপ ঘটনাই ঘটেছে। ভারতবর্ষ এক বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। এদেশ অশোক, আকবর, হর্ষবর্ধন, দারাশিকো, শেরশাহ, চৈতন্য, হুশেন শাহ, সিরাজউদ্দৌলা, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের দেশ। এদেশ বহু ধর্মের, বহু জাতের, বহু ভাষাভাষী মানুষের দেশ। Unity in diversity বা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই হল এদেশের সংস্কৃতির মূলমন্ত্র। কবি অতুলপ্রসাদ সেনের কথায়–
“নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান,
বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।”
এটাই আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরম্পরা। কিন্তু এহেন একটি দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্র জাতপাতের রাজনীতি সমগ্র জাতীয় জীবনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। ধর্ম-বর্ণের দোহাই দিয়ে আজ এদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতির বেসাতি চলছে রমরমিয়ে ।

আরও পড়ুন:

মধ্যযুগে দু-একজন চিন্তাবিদ বা শাসক যেমন মনু, জিয়াউদ্দিন বারণী, শিবাজী প্রমুখ ধর্ম ও রাজনীতিকে একাকার করেছিলেন বটে। কিন্তু আকবর, দারাশিকো, শেরশাহ, লক্ষ্মণ সেন, হুশেন শাহরা উদার ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণে শাসন করেছেন। এঁরা কেউই জাতপাত বা ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেননি।

আরও পড়ুন:

আধুনিক যুগে জ্যোতিরাও ফুলে, সাবিত্রী বাঈ ফুলে, ফতেমা শেখরা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্বে জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে সবার জন্য সমান অধিকারের দাবিতে লড়াই করেছেন। কোন রকম ধর্ম-বর্ণভিত্তিক বিশেষ সুবিধাকে তারা গুরুত্ব দেননি। অথচ বিংশ শতাব্দীতে এসে জিন্না, আম্বেদকর, জনসংঘ (অধুনা সংঘ পরিবার) জাতপাতভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়েছেন। গান্ধীজী, সীমান্তগান্ধী খান আব্দুল গফফর খান, ভি.ভি গিরি, ড. রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উদার গণতন্ত্রী এবং সোমনাথ লাহিড়ী, পি. সি. যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে প্রমুখ কমিউনিস্ট নেতা দ্ব্যর্থহীনভাবে এদের ধর্মকেন্দ্রিক ও বর্ণকেন্দ্রিক অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার পৌনে আশি বছর পরেও আজ আমরা লক্ষ্য করছি, প্রাক-স্বাধীনতার সময়েও আমাদের দেশে জাতপাত ও ধর্মান্ধতার যে রাজনীতি বিরাজ করছিল, সেই একই জিনিস ফিরে এসেছে। জাতের নামে বজ্জাতি, ধর্মের নামে অধর্মের প্লাবন বইছে। সেই প্রবাহেই সম্পন্ন হয়েছে বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত এনডিএ জোট ব্যাপক গরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতায় ফিরেছে। এতে ওই রাজ্য তথা গোটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষরা খুবই হতাশ। কারণ, অনেকেরই আশা ছিল সাম্প্রদায়িক বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বিহারে এবার পরাজিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ- (১) মহাজোটের শরির দলগুলির মধ্যে খেয়োখেয়ি, (২) বিরোধী জোটে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস ও সহনশীলতার অভাব, (৩)শরিক দলগুলির তরফে সুবিধাবাদী নীতি গ্রহণ, (৪) সরকারের অর্থনৈতিক উপঢৌকনের প্রভাব, (৫) জাতপাত ও ধর্মের জটিল অংক, (৬) বাম ও গণতন্ত্রীদের দেউলিয়াপনা, (৭) ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের গয়ংগচ্ছ মনোভাব, (৮) SIR-এর বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:

বলাবাহুল্য যে মহাজোট হয়েছে, কিন্তু শরিকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বহু আসনে লড়েছে। সিপিআইকে দেওয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে এবং সেখানে আবার সিপিআই, সিপিএম, সিপিআই (এমএল) মুখে বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথা বললেও বামেরাই বামফ্রন্টের শরিক দল সিপিআই প্রার্থীকে হারাতে অকমিউনিস্ট দলের প্রার্থীকে মদত করেছে প্রকাশ্যে। আর তেজস্বী যাবদেব দল তো তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে সব বুদ্ধি বিবেচনা হারিয়ে ভুল বকে গেছে। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর দল? সেও কম যায় না, কম যায়নি বিহারে। যেমন হাঁড়ি তেমনি সরা। সে তো ক্ষমতার মোহে বাস্তব ভুলে মত্ত হাতির মতো যা খুশি তাই করেছে, যা খুশি তাই বলেছে। জনগণ, এসব ভালভাবে নেয়নি। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ সচেতন মানুষরা।

আরও পড়ুন:

বিহার এক সময় সিপিআই-এর দুর্গ ছিল শ্রেণি সংগ্রামের পথ ধরে সুনীল মুখার্জী, জগন্নাথ সরকার, টিকারাম মাঝি প্রমুখের নেতৃত্বে। সেই বিহার থেকে এই পার্টির বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শ্রেণি সংগ্রামের পথ ছেড়ে গরীব মানুষের ঐক্যনাশা জাতপাতের রাজনীতির সঙ্গে আপসের পথ নেওয়ায় এই নির্বাচনে শূন্য হয়ে গেছে তারা বিহারে। কমিউনিস্টদের কী চিন্তার দৈন্য! এরা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী, পি.সি যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে, জেড.এ আহমেদ, এম ফারুকীদের জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে ও শ্রেণি রাজনীতির পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কথা জানেন না।

আরও পড়ুন:

বম্বেতে ১৯৪৬ এবং ১৯৫২ সালের নির্বাচনে, বিদর্ভে ১৯৫৩ সালের নির্বাচনে আম্বেদকরের পরাজয়ের পিছনে কমিউনিস্টদের কী ভূমিকা ছিল, লোকসভা ও রাজ্যসভায় অধ্যাপক হীরেণ মুখার্জী, রেণু চক্রবর্তী, কংসারী হালদার, ভূপেশ গুপ্ত প্রমুখ কমিউনিস্ট সাংসদ, কিংবা জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে ভি.ভি গিরি, রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদরা আম্বেদকরকে তাঁর জাতপাত কেন্দ্রিক সংরক্ষণ নীতির জন্য, কিংবা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আজাদ আইনমন্ত্রী আম্বেদকরকে তাঁর ঐ রাজনীতির জন্য তাঁকে কীভাবে দেখতেন, কিংবা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক বিষয়ে আম্বেদকরের অনৈতিহাসিক মন্তব্যের জন্য (হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক আম্বেদকরের মতে সোনার পাথর বাটি) গোটা জাতীয় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি তথা দলমত নির্বিশেষে এদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা আম্বেদকরকে কোন চোখে দেখেন, সেই পাঠ তাঁদের নেই।

আরও পড়ুন:

এককথায়, মনসা মঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর মন থেকে নয়, দায়ে পড়ে বাম হাত দিয়ে মনসাকে ফুল দিয়েছিল। বিহারের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা ভালেবেসে নয়, কংগ্রেস-কমিউনিস্ট ও আরজেডি-র কীর্তিকলাপ দেখে নেতিবাচক ভোট দিয়েছে বিজেপি-নীতীশ কুমারের জোটকে। এইসব ধর্মনিরপেক্ষ বাম ও গণতান্ত্রিক মানুষরা চেয়ে আছেন জাতীয় কংগ্রেসের দিকে, যে জাতীয় কংগ্রেস গান্ধীজী থেকে শুরু করে সীমান্তগান্ধী, জহরলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ, রাধাকৃষ্ণান, জাকীর হোসেন, ভি.ভি গিরি, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখের নেতৃত্বে কিংবা কমিউনিস্টদের দিকে, যাঁরা ডাঙ্গে থেকে শুরু করে লাহিড়ী, যোশী, রাজেশ্বর রাও, সুধাকর রেড্ডি, নাম্বুদ্রিপাদ, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, চারু মজুমদার, কানু সান্যালদের নেতৃত্বে ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং শ্রেণি সংগ্রামের রাজপথে অটল থেকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার বহুত্ববাদী চরিত্রকে অক্ষুণ্ণ রাখতে অনন্য অবদান রেখেছিলেন, তাঁদের দিকে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় যে, অদূর ভবিষ্যতে এই মানুষদের মুখে হাসি ফুটবেই ফুটবে।

আরও পড়ুন:

(লেখক: কলকাতা সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder