BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন?

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৫:৪২ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০
ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই মামলা নানা পর্যায় পেরিয়ে অবশেষে শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর প্রত্যাশা ছিল, এবার অন্তত একটি চূড়ান্ত রায় মিলবে। অথচ সেই রায় এখনও অধরা। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণ কী? কোথায় আইনি জটিলতা? পক্ষে ও বিপক্ষে কোন যুক্তিগুলি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে? এবং এই অনিশ্চয়তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে — এ প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই আজ এই আলোচনা।
ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মচারীর বেতনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত থেকে ন্যূনতম সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ‘সমান কাজের জন্য সমান বেতন’ এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার এই ভাতার নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যখন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্দিষ্ট হারে ডিএ পাচ্ছেন, তখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই বৈষম্য থেকেই মামলার সূত্রপাত, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে এক জটিল সাংবিধানিক ও আর্থিক বিতর্কে।
এই মামলার প্রধান আইনি প্রশ্নটি খুব সরল দেখালেও তার অন্তর্গত স্তরগুলি অত্যন্ত জটিল। রাজ্যের যুক্তি হল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সমান ডিএ দিতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নয়। রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব কাঠামো ও দায়বদ্ধতা কেন্দ্রের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অতএব কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য হারের তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অপরদিকে কর্মচারী পক্ষের যুক্তি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি দিল্লি ও কলকাতার জন্য আলাদা হয় না, বাজারের আগুনে পুড়তে হয় সবাইকেই। একই দেশে বসবাস করে একই মুদ্রাস্ফীতির চাপ সহ্য করে যদি এক শ্রেণি পূর্ণ ডিএ পায়, তবে অন্য শ্রেণিকে বঞ্চিত করার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আদালতকে দাঁড় করাতে হয়েছে নিজেকে। কারণ, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাইয়ের মামলা নয়; বরং এর প্রত্যক্ষ আর্থিক প্রভাব রাজ্যের কোষাগারের উপর বিপুল। আদালতের একটিমাত্র নির্দেশে রাজ্য সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত দায় নিতে হতে পারে — এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিচারব্যবস্থার ইতিহাস বলছে, যে সব মামলার রায়ের সঙ্গে বৃহৎ আর্থিক দায় জড়িয়ে থাকে, সেখানে আদালত স্বাভাবিকভাবেই অধিক সতর্ক হয়। তড়িঘড়ি রায় দেওয়ার বদলে প্রতিটি যুক্তি, প্রতিটি নজির, প্রতিটি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, এই মামলার নজিরমূলক চরিত্র। ডিএ সংক্রান্ত এই রায় ভবিষ্যতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। যদি আদালত কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য ডিএ-র সামঞ্জস্য বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করে, তবে বহু রাজ্য একই দাবির মুখে পড়বে। ফলে এটি কার্যত একটি জাতীয় স্তরের নীতি নির্ধারণের প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে। বিচারপতিরা ভালভাবেই জানেন, এই রায়ের প্রতিটি বাক্য ভবিষ্যতে অসংখ্য মামলায় উদ্ধৃত হবে।
শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় সংরক্ষিত থাকার অর্থ এই নয় যে, বিচারকরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। বাস্তবে এই সময়টাই বিচার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন ও শ্রমসাধ্য পর্যায়। একাধিক বিচারপতির বেঞ্চ হলে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা ও নোট থাকে। কখনও কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ও সংখ্যালঘু মতের খসড়া তৈরি হয়। এই মতপার্থক্য মেটাতে সময় লাগে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়গুলি বিশদে পর্যালোচনা করে দেখতে হয়, কোন নজির এখানে প্রযোজ্য, কোনটি নয়।
এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম আইনি জটিলতা রয়েছে। ডিএ কি মৌলিক অধিকার, নাকি এটি সম্পূর্ণরূপে নীতিগত সিদ্ধান্ত? যদি আদালত একে নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে মেনে নেয়, তবে সরকারের বিবেচনাধিকার অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার যদি আদালত মনে করে, ডিএ বঞ্চনা জীবনযাত্রার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে, তবে হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী। এই দুই ব্যাখ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আদালতকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হচ্ছে।
রায় বিলম্বিত হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক বাস্তবতাও রয়েছে। আদালতের উপর মামলার চাপ, বিচারপতির স্বল্পতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার একসঙ্গে শুনানি — সব মিলিয়ে বিচারব্যবস্থার সময়সূচি অত্যন্ত ঘন। তবে এই যুক্তি যতই বাস্তব হোক, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ কর্মচারীদের কাছে তা সান্ত্বনা দিতে পারে না। তাঁদের কাছে প্রতিটি মাস মানে আরও কিছু আর্থিক ক্ষতি, আরও কিছু অনিশ্চয়তা।
এই দীর্ঘসূত্রিতা রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যখন একটি মামলা শুনানি শেষ হওয়ার পরেও মাসের পর মাস রায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ জন্মায়, কোথাও কি অদৃশ্য চাপ কাজ করছে? যদিও এই ধারণার পক্ষে সরাসরি প্রমাণ নেই, তবু গণতন্ত্রে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
সমাধানের পথ একাধিক। প্রথমত, বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে সংরক্ষিত রায় দীর্ঘদিন ঝুলে না থাকে। দ্বিতীয়ত, সরকার ও কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী কোনও সমাধান খোঁজা যেতে পারে, যাতে চূড়ান্ত রায়ের আগেই কিছুটা স্বস্তি মেলে। তৃতীয়ত, ডিএ নির্ধারণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও স্থায়ী সূত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল থাকবে না।
ডিএ মামলার রায় কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না; এটি হবে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের ঘোষণা। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত জানিয়ে দেবে, মূল্যবৃদ্ধির যুগে শ্রমের মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই রায়ের প্রতীক্ষা শুধু আদালতের করিডোরে নয়, প্রতিটি কর্মচারীর রান্নাঘরে, প্রতিটি পরিবারের মাসিক বাজেটে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যত দেরিই হোক, প্রত্যাশা একটাই — রায় হবে যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত। কারণ, বিচার দেরিতে হলেও তা যেন অস্বীকারে পরিণত না হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder