BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন?

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৫:৪২ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০
ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই মামলা নানা পর্যায় পেরিয়ে অবশেষে শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর প্রত্যাশা ছিল, এবার অন্তত একটি চূড়ান্ত রায় মিলবে। অথচ সেই রায় এখনও অধরা। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণ কী? কোথায় আইনি জটিলতা? পক্ষে ও বিপক্ষে কোন যুক্তিগুলি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে? এবং এই অনিশ্চয়তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে — এ প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই আজ এই আলোচনা।
ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মচারীর বেতনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত থেকে ন্যূনতম সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ‘সমান কাজের জন্য সমান বেতন’ এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার এই ভাতার নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যখন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্দিষ্ট হারে ডিএ পাচ্ছেন, তখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই বৈষম্য থেকেই মামলার সূত্রপাত, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে এক জটিল সাংবিধানিক ও আর্থিক বিতর্কে।
এই মামলার প্রধান আইনি প্রশ্নটি খুব সরল দেখালেও তার অন্তর্গত স্তরগুলি অত্যন্ত জটিল। রাজ্যের যুক্তি হল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সমান ডিএ দিতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নয়। রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব কাঠামো ও দায়বদ্ধতা কেন্দ্রের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অতএব কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য হারের তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অপরদিকে কর্মচারী পক্ষের যুক্তি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি দিল্লি ও কলকাতার জন্য আলাদা হয় না, বাজারের আগুনে পুড়তে হয় সবাইকেই। একই দেশে বসবাস করে একই মুদ্রাস্ফীতির চাপ সহ্য করে যদি এক শ্রেণি পূর্ণ ডিএ পায়, তবে অন্য শ্রেণিকে বঞ্চিত করার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আদালতকে দাঁড় করাতে হয়েছে নিজেকে। কারণ, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাইয়ের মামলা নয়; বরং এর প্রত্যক্ষ আর্থিক প্রভাব রাজ্যের কোষাগারের উপর বিপুল। আদালতের একটিমাত্র নির্দেশে রাজ্য সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত দায় নিতে হতে পারে — এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিচারব্যবস্থার ইতিহাস বলছে, যে সব মামলার রায়ের সঙ্গে বৃহৎ আর্থিক দায় জড়িয়ে থাকে, সেখানে আদালত স্বাভাবিকভাবেই অধিক সতর্ক হয়। তড়িঘড়ি রায় দেওয়ার বদলে প্রতিটি যুক্তি, প্রতিটি নজির, প্রতিটি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, এই মামলার নজিরমূলক চরিত্র। ডিএ সংক্রান্ত এই রায় ভবিষ্যতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। যদি আদালত কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য ডিএ-র সামঞ্জস্য বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করে, তবে বহু রাজ্য একই দাবির মুখে পড়বে। ফলে এটি কার্যত একটি জাতীয় স্তরের নীতি নির্ধারণের প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে। বিচারপতিরা ভালভাবেই জানেন, এই রায়ের প্রতিটি বাক্য ভবিষ্যতে অসংখ্য মামলায় উদ্ধৃত হবে।
শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় সংরক্ষিত থাকার অর্থ এই নয় যে, বিচারকরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। বাস্তবে এই সময়টাই বিচার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন ও শ্রমসাধ্য পর্যায়। একাধিক বিচারপতির বেঞ্চ হলে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা ও নোট থাকে। কখনও কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ও সংখ্যালঘু মতের খসড়া তৈরি হয়। এই মতপার্থক্য মেটাতে সময় লাগে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়গুলি বিশদে পর্যালোচনা করে দেখতে হয়, কোন নজির এখানে প্রযোজ্য, কোনটি নয়।
এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম আইনি জটিলতা রয়েছে। ডিএ কি মৌলিক অধিকার, নাকি এটি সম্পূর্ণরূপে নীতিগত সিদ্ধান্ত? যদি আদালত একে নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে মেনে নেয়, তবে সরকারের বিবেচনাধিকার অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার যদি আদালত মনে করে, ডিএ বঞ্চনা জীবনযাত্রার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে, তবে হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী। এই দুই ব্যাখ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আদালতকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হচ্ছে।
রায় বিলম্বিত হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক বাস্তবতাও রয়েছে। আদালতের উপর মামলার চাপ, বিচারপতির স্বল্পতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার একসঙ্গে শুনানি — সব মিলিয়ে বিচারব্যবস্থার সময়সূচি অত্যন্ত ঘন। তবে এই যুক্তি যতই বাস্তব হোক, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ কর্মচারীদের কাছে তা সান্ত্বনা দিতে পারে না। তাঁদের কাছে প্রতিটি মাস মানে আরও কিছু আর্থিক ক্ষতি, আরও কিছু অনিশ্চয়তা।
এই দীর্ঘসূত্রিতা রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যখন একটি মামলা শুনানি শেষ হওয়ার পরেও মাসের পর মাস রায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ জন্মায়, কোথাও কি অদৃশ্য চাপ কাজ করছে? যদিও এই ধারণার পক্ষে সরাসরি প্রমাণ নেই, তবু গণতন্ত্রে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
সমাধানের পথ একাধিক। প্রথমত, বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে সংরক্ষিত রায় দীর্ঘদিন ঝুলে না থাকে। দ্বিতীয়ত, সরকার ও কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী কোনও সমাধান খোঁজা যেতে পারে, যাতে চূড়ান্ত রায়ের আগেই কিছুটা স্বস্তি মেলে। তৃতীয়ত, ডিএ নির্ধারণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও স্থায়ী সূত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল থাকবে না।
ডিএ মামলার রায় কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না; এটি হবে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের ঘোষণা। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত জানিয়ে দেবে, মূল্যবৃদ্ধির যুগে শ্রমের মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই রায়ের প্রতীক্ষা শুধু আদালতের করিডোরে নয়, প্রতিটি কর্মচারীর রান্নাঘরে, প্রতিটি পরিবারের মাসিক বাজেটে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যত দেরিই হোক, প্রত্যাশা একটাই — রায় হবে যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত। কারণ, বিচার দেরিতে হলেও তা যেন অস্বীকারে পরিণত না হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder