BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান ও তার পরিণতি

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৩ | আপডেট: ৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৩

মজিবুর রহমান

আরও পড়ুন:

বিশ্বের মানচিত্রে ভারতের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো হল ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা এই দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শেষোক্ত তিনটি দেশে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটেছে এবং সরকারের কেষ্ট-বিষ্টুরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সিংহল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হয় ১৯৪৮ সালে এবং ১৯৭২ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা নামে পরিচিত হয়। ২ কোটি ২০ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কার দুটি প্রধান ভাষিক জনগোষ্ঠী হল সিংহলি ও তামিল। এই দুই ভাষার মানুষ দেশটির জনসংখ্যার ৭০ ও ২৫ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সিংহলীদের একাধিপত্য ও তামিলদের বঞ্চনা শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অশান্তির অন্যতম প্রধান উৎস। তামিলদের অধিকার দাবি-দাওয়া পৃথক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়। ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ যায়। ২০১৯ সালে সংসদ নির্বাচনে বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এসএলপিপি। কিন্তু শাসকদল ও সরকারে পরিবারতন্ত্র ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে রক্তের সম্পর্কে ভাই। এছাড়াও তাঁদের পরিবারের আরও অন্তত পাঁচ জন মন্ত্রী ছিলেন। রাজাপাকসেদের পারিবারিক শাসনে শ্রীলঙ্কার সার্বিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রীর তীব্র অভাব দেখা দেয়। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় দেশের ছাত্র-যুবরা রাজাপাকসে পরিবারকে উৎখাত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা, কারফিউ জারি ও সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২০২২-এর মার্চে শুরু হওয়া গণআন্দোলন জুলাইয়ে চরম পরিণতি লাভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয় দখল করে নেয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে ও রাষ্ট্রপতি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁদের ঘনিষ্ঠ বা পক্ষীয় লোকেরাই আরও দু-বছর সরকার পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজাপাকসে পরিবার তথা এসএলপিপি-র প্রভাবমুক্ত জেভিপি সরকার গঠিত হয়। বামপন্থী রাষ্ট্রপতি অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে ও প্রধানমন্ত্রী হরিণী অমরাসুরিয়ার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভাল।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ তথা বঙ্গ বিভাজনের সময় বাংলার মাটি রক্ত-রঞ্জিত হয়। পাকিস্তান গঠনের অব্যবহিত পরেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববঙ্গে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ইতিহাস রচিত হয়। বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জনের পথ ধরেই বাঙালিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তান তোলপাড় হতে থাকে। ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের আগস্টে সেনাকর্তাদের হাতে সপরিবারে খুন হন। সামরিক শাসক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক অভ্যুত্থানেরই বলি হন ১৯৮১ সালের ৩০ মে। ১৯৮৩-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন অপর সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তারপর থেকে প্রধানমন্ত্রী হন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অথবা মুজিবুর রহমানের কন্যা আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বয়কট করে। আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেয়। ২০২৫ সালের ৫ জুন বাংলাদেশের হাইকোর্ট সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের পক্ষে রায় দেয়। ছাত্র সমাজের একাংশ এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। হাসিনা সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সুপ্রিম কোর্ট ১০ জুলাই হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় এবং ৭ই আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে। ছাত্র আন্দোলনে বিরক্ত হয়ে ১৪ই জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা সংরক্ষণ পাবে না তো কি রাজাকারদের বংশধররা পাবে?” তাঁর এই মন্তব্য অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দেয়। ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সেই মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণ অভ্যুত্থানের পথে পরিচালিত করে। ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ নির্ধারণ করে। ২৩ জুলাই সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
সংরক্ষণ হ্রাস করা হলেও আন্দোলন স্তিমিত হয়নি। কারফিউ জারি করে, সেনা নামিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিধ্বংসী আন্দোলনে কমবেশি দুশো ছাত্র, সাধারণ মানুষ-সহ কয়েকজন পুলিশ নিহত হন। প্রচুর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও যানবাহনের ক্ষতিসাধন হয়। কয়েদিরা জেল থেকে পালিয়ে যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকার সংবিধান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার সাধনের কাজ করছে। ১৭.৫ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ মুসলমান আর ৯৮ শতাংশ বাংলাভাষী।

আরও পড়ুন:

নেপাল রাষ্ট্র গঠিত হয় ১৭৬০-এর দশকে। শাসনব্যবস্থা ছিল রাজতান্ত্রিক। ১৯৯০ সাল থেকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জোরদার সহিংস আন্দোলন শুরু হয়। ২০০১ সালের ১ জুন কাঠমাণ্ডুর নারায়ণহিতি রাজপ্রাসাদে ক্রাউন প্রিন্স দীপেন্দ্র গুলি চালিয়ে রাজ পরিবারের নয় সদস্যকে হত্যার পাশাপাশি নিজেও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করেন। এর পর নেপালে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ২০০৮ সালে নেপালের সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে এবং দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পথে নেপালকে ধারাবাহিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নয়জন ব্যক্তির নেতৃত্বে ১৪ বার সরকার গঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে কে.পি শর্মা ওলি তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। সরকারের সঙ্গে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। ৮ সেপ্টেম্বর এক সমাবেশে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কে.পি শর্মা ওলি পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী-সহ অন্যান্য মন্ত্রীদের বাসভবন, সংসদ ভবন বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে যায়। ১০ সেপ্টেম্বর দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে ৮১ শতাংশ হিন্দু। বাকিদের বেশিরভাগই বৌদ্ধ। অর্থনীতি মূলত পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল। নেপালের অধিকাংশ যুব শক্তি ভারত-সহ অন্যান্য দেশে শ্রমিকের কাজ করে দিন গুজরান করেন।
জনসংখ্যা, ভাষিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংখ্যার নিরিখে ভারতের অবস্থা পূর্বোক্ত দেশগুলোর থেকে অনেকটাই আলাদা। ভারতের জনজীবনে যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা উপরোক্ত দেশগুলোতে নেই। ভারতীয় সমাজ অনেকগুলো স্তর নিয়ে গঠিত। অর্থনৈতিক কাঠামোও বহুস্তরীয়। রাজনৈতিক দলের সংখ্যা অজস্র। কোনো বিশেষ আর্থ-সামাজিক অথবা রাজনৈতিক ঘটনা দেশের সব মানুষকে সমানভাবে আন্দোলিত করে না। এদেশে ‘যত মত তত পথ’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবন ও জগতকে দেখা হয়। সরকার কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে মানুষের অভাব নেই। সমর্থন বা বিরোধিতা কখনও একপেশে হয় না। সরকারি পলিসি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিটিং, মিছিল, পথ অবরোধ, অনশন, ধর্মঘট ইত্যাদি কর্মসূচি পালনের বিস্তৃত পরিসর রয়েছে। এজন্য ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হওয়ার সুযোগ কম। সরকার পরিবর্তনের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। আইনসভা, বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ সংবিধান নির্ধারিত গণ্ডিকে মান্যতা দিয়ে চলে। কিছু সমালোচনা থাকলেও ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী। বিগত আট দশকে ভারতের কোনো সরকার বা শাসকের বিরুদ্ধে সামরিক কিংবা গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। আজও জাতীয় অথবা আঞ্চলিক স্তরে ‘দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া’ গিয়া সরকারকে উৎখাত করার জন্য অভ্যুত্থান ঘটানোর মানসিকতা তৈরি হয়েছে বলে মনে হয় না।

আরও পড়ুন:

ভারতে ছাত্র সমাজ সাধারণত ক্যাম্পাস রাজনীতির মধ্যেই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখে। কোনো গণআন্দোলনে তাদেরকে গণহারে অংশগ্রহণ অথবা নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়নি। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে লাগামছাড়া দুর্নীতি, স্বজনপোষণ কিংবা রেকর্ড বেকারত্ব নিয়ে কোনো স্মরণীয় লড়াইয়ের জন্ম দিতে পারেনি। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যুগে ভারতের জনগণ শিক্ষিত-অশিক্ষিত, সৎ-দুর্নীতিগ্ৰস্ত, আদর্শবাদী-সুবিধাবাদী, সাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার দলের প্রতি অনুগত-দলবদলু প্রভৃতি পরস্পর বিপরীতমুখী চরিত্রের রাজনীতিকদের মধ্যে সেভাবে বাছবিচার করে না, প্রায় সকলকেই সমদৃষ্টিতে দেখে। কাজেই শাসকের কোনো গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত বা দুষ্কর্ম সহ্য করতে না পেরে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে অথবা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অপশাসনের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা খুবই কম। অশিষ্ট ভাষায় বললে, এখানে ”পাবলিকের মার কেওড়াতলা পার” হবে না।
তাই শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ অথবা নেপালের ঘটনায় উচ্ছ্বসিত হওয়ার খুব কারণ আছে বলে মনে হয় না। ছাত্র-তরুণ ও যুবদের মধ্যে আবেগ বেশি থাকলেও অভিজ্ঞতা কম। তারা উত্তেজিত হয়ে ভাঙতে পারলেও সংযম বজায় রেখে গড়তে জানে না। রাষ্ট্র পরিচালনার মতো পরিপক্কতা তাদের নেই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন হতেই পারে, কিন্তু সরকার পরিবর্তন ভোটের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি আকস্মিক আন্দোলনে বহু মানুষের মৃত্যু ও প্রচুর সম্পত্তি ধ্বংস করাটা যৌক্তিক নয়।
(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder