BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

স্বাধীনতা সংগ্রামী আবুল হাশিম এক বিস্মৃত জননেতার জীবন-সংগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮

পাশারুল আলম
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনেক নেতার নাম সোনার অক্ষরে লেখা আছে, কিন্তু কিছু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের অবদান প্রায়শই ছায়ায় থেকে যায়। আবুল হাশিম এমনই একজন অসাধারণ রাজনৈতিক চিন্তক ও সংগ্রামী, যিনি অবিভক্ত বাংলার মুসলিম রাজনীতিকে প্রগতিশীল দিকনির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গণমানুষের অধিকারের জন্য নিরলস লড়াই করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অটল অবস্থান, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের স্বপ্নের এক অসাধারণ উদাহরণ। আজকের বিভাজনমুখী রাজনীতির যুগে আবুল হাশিমের চিন্তাধারা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, সত্যিকারের মুক্তি আসবে শুধুমাত্র সহাবস্থান ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের জন্ম ১৯০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বর্ধমান জেলার কাশিয়াড়া গ্রামে। তাঁর পিতা আবুল কাসেম (১৮৭২-১৯৩৬) ছিলেন বর্ধমানের একজন প্রখ্যাত সমাজসেবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও আবুল হাশিমের মনে শৈশব থেকেই মানবতাবাদ, সমতা ও ন্যায়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ জন্মায়। তিনি বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল থেকে ১৯২২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন, তারপর বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে ১৯২৮ সালে স্নাতক হন। ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি নিয়ে বর্ধমান জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ছাত্রজীবনে তিনি সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন, যা তাঁকে ভবিষ্যতের এক প্রখর চিন্তাবিদ হিসেবে গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ:

আরও পড়ুন:

পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে ১৯৩৬ সালে আবুল হাশিম বাংলা আইনসভায় বর্ধমান থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং দ্রুত উন্নতি করেন। ১৯৩৮ সালে এলাহাবাদে এবং ১৯৪০ সালে লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বর্ধমান মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি শক্তিশালী হয়। ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে তিনি বাংলা প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ পর্যন্ত এই পদে থাকেন। তাঁর নেতৃত্বে লীগ একটি গণভিত্তিক দলে পরিণত হয়, যেখানে তিনি মিলিয়নেরও বেশি সদস্য সংগ্রহ করেন। তাঁর রাজনীতি ছিল সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে — তিনি মুসলমান সমাজকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র না করে। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে লীগের সাফল্যে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম | কালবেলা

দেশভাগের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের শুরুতে যখন উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আগুন জ্বলছিল, তখন আবুল হাশিম ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল’ বা অবিভক্ত স্বাধীন বাংলার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। শরৎচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মিলে তিনি একটি অ-সাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও স্বতন্ত্র বাংলা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মতে, বাংলার শক্তি নিহিত রয়েছে হিন্দু-মুসলমানের সহাবস্থানে। তিনি ‘বাঙ্গালিস্তান’ ধারণা প্রচার করেন, যা একটি জাতীয়তাবাদী বাংলা রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিল। কিন্তু কংগ্রেসের সংশয়, মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনমনীয়তা এবং ব্রিটিশ কূটনীতির কারণে এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। দেশভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:

দেশ ভাগোত্তর জীবন; নতুন সংগ্রাম:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭-এর দেশভাগের পর আবুল হাশিম প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, কিন্তু ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে যান এবং ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক চরিত্র, পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক দমন তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি হতাশ হয়ে ১৯৫২ সালে তিনি ‘খিলাফত-ই-রব্বানী পার্টি’ গঠন করেন, যা ইসলামী রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি এর সভাপতি ছিলেন। তাঁর রাজনীতি ছিল ইসলামী সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট — শ্রেণিহীন সমাজ, শোষণমুক্তি এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের উপর জোর দিতেন।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম

চিন্তক ও লেখক আবুল হাশিম:
আবুল হাশিম শুধু রাজনীতিবিদ নন, একজন গভীর দার্শনিক ও লেখক ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ থেকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করে এবং ১৯৫০-এর দশকে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। তবু তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপ অব্যাহত থাকে। ১৯৬০ সালে তিনি ইসলামিক অ্যাকাডেমির প্রথম পরিচালক নিযুক্ত হন। তাঁর রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘The creed of Islam’, ‘In retrospect’, ‘Let us go to war’ এবং ‘As I see It’ — এই রচনাগুলিতে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা, শ্রেণিভিত্তিক শোষণের নিন্দা, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং মানবমুক্তির দাবি উঠে এসেছে। তাঁর চিন্তাধারা ছিল ডি-কোলোনিয়ালিজম বা ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে।

আরও পড়ুন:

ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ; ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র করার বিরোধী; মুসলিম লীগের নেতা, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার সমালোচক; পাকিস্তানের সমর্থক, কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের কড়া বিরোধী। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সম্প্রীতি। তাঁর আদর্শ ছিল সাম্য, ন্যায় ও মানবিকতা।

আরও পড়ুন:

শেষ জীবন ও প্রয়াণ:

আরও পড়ুন:

দীর্ঘ সংগ্রাম, দাঙ্গার বিভীষিকা এবং রাষ্ট্রীয় চাপ তাঁর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। অন্ধত্ব সত্ত্বেও তিনি সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু শেষদিকে জনজীবন থেকে সরে আসেন। ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি প্রয়াত হন। জীবদ্দশায় তিনি যথাযথ স্বীকৃতি পাননি, কিন্তু তাঁর ত্যাগ আজও অনুপ্রেরণা।
পরিশেষে বলা যায়, আজকের বাংলাদেশ ও ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবুল হাশিমকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক বাংলা, যেখানে বিভাজন নয়, সহাবস্থানই মূলমন্ত্র। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্যিকারের নেতৃত্ব ক্ষমতার জন্য নয়, জনস্বার্থের জন্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর চিন্তাধারা অনুসরণ করে এক বৈষম্যহীন আদর্শ ও সুসংহত সমাজ গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা নিতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder