BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ?

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:২০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:২০

ড. মানাজাত আলী বিশ্বাস

আরও পড়ুন:

ইসলামের আলোকে মসজিদ নির্মাণ: ইসলাম ধর্মে যে সকল কাজকে অত্যন্ত সম্মানজনক বলে গণ্য করা হয়, তার মধ্যে একটি হল মসজিদ নির্মাণ। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টির নিয়তে) উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন” (সহীহ বুখারি)। ইসলাম ধর্মের সমগ্র কর্মকাণ্ডই মসজিদকেন্দ্রিক। হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে রাষ্ট্রীয় পরামর্শসভা পরিচালিত হত মসজিদ থেকেই। মসজিদে সালাত আদায়ের পাশাপাশি থাকত পড়াশোনার ব্যবস্থা। বর্তমানে ইউরোপে মসজিদকেন্দ্রিক কমিউনিটি সেন্টারগুলি অনেক সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মসজিদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মসজিদের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যিক। কিন্তু এই অত্যন্ত সাধারণ বিষয়টিকে নিয়ে এত কথা বলার দরকার কেন পড়ছে? এর উত্তর পেতে আমাদেরকে চোখ রাখতে হবে মুর্শিদাবাদের দিকে।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবির। নতুন করে বাবরি মসজিদ মুর্শিদাবাদে নির্মাণ করা ঠিক না ভুল, এটাকে সমর্থন করা উচিত না পরিত্যাগ করা উচিত, এটা ধর্মীয় অধিকার নাকি বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিতবাহী — এসব নিয়ে জোর চর্চা চলছে। যেহেতু বিধায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, এটি সরকারি টাকায় হচ্ছে না, তাই ব্যক্তিগতভাবে এই মসজিদের নির্মাণ নিয়ে সরাসরি নিষেধ করার জায়গা নেই। আইনত একজন নাগরিক তার ধর্ম পালন করার জন্য ধর্মস্থান নির্মাণ করতে পারেন ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন। এতটুকু পর্যন্ত ব্যাপারটা খুবই সাদামাটা। কিন্তু এই ঘটনার অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর বিষয়, যেটি সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে সকলেরই নজরে থাকা আবশ্যক।

আরও পড়ুন:

Tension in Bengal as suspended TMC MLA to lay foundation stone of Babri  Masjid in Murshidabad - India News | The Financial Express
২০২২ সালের ২ আগস্ট মুর্শিদাবাদ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিলেন, যাতে মুর্শিদাবাদ-মালদা ও এই সংলগ্ন অঞ্চলকে একটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়। বিধায়কের দাবি ছিল, এই অঞ্চল দিয়ে নাকি প্রচুর অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এসে চলেছে। তাই রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করা দরকার। অর্থাৎ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়ে গেলে এই এলাকা সেন্ট্রাল ফোর্সের অধীনে চলে আসবে। তখন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। বিধায়কের বক্তব্যের আসল উদ্দেশ্য কী, তা যে কোন সচেতন মানুষ বুঝতে পারবেন।
বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষের দাবিকে আরো বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই নিশিকান্ত দুবে মিডিয়াকে জানালেন, “I demand that Malda, Murshidabad, Araria, Kishanganj, Katihar and the Santhal Parganas region be declared as a Union Territory and the National Register of Citizens (NRC) be implemented there,” সোজা বাংলায় বললে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং বিহারের আরারিয়া, কাটিহার ও কিষানগঞ্জ, সাঁওতাল পরগনা এই অঞ্চলগুলিকে একত্রিত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হোক। এর মধ্যে প্রথম পাঁচটি এলাকাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। অর্থাৎ বিজেপির টার্গেট বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই অঞ্চলকে কেন্দ্রশাসিত করে নিতে পারলে এখানে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা সংকুচিত হবে। রাজনীতি থেকে শুরু করে সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হবে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দ্বারা। তাতে মানুষের অধিকার সংকুচিত হবে। সুতরাং এই অঞ্চল নিয়ে বিজেপির নিজস্ব পরিকল্পনা আছে এবং সেটা অবশ্যই এই অঞ্চলের মুসলিম সমাজের পক্ষে কোনভাবেই ভাল হবে না, সেটা একটা শিশুও বোঝে।

আরও পড়ুন:

এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ন্যাশনাল মিডিয়াতেও হইচই ফেলে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিদ্বেষপন্থীদের অপর মহল থেকে ‘মাথা কাটার’ ঘোষণা এসে গেছে। উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। আগামীতে হয়ত পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। অথচ মসজিদ তৈরি নিয়ে এমনটি হওয়া কীভাবে কাম্য হতে পারে? মসজিদ তৈরি হবে একমাত্র আল্লাহর এবাদতের জন্য, শিক্ষা প্রসারের জন্য, সমাজে ঐক্যবদ্ধতা তৈরির জন্য, ন্যায়ের আদর্শকে প্রসারিত করার জন্য। কোন জায়গায় যদি নামাজী থাকা সত্ত্বেও সেখানে মসজিদে স্থান সংকুলান না হয়, তাহলে অবশ্যই মসজিদের সম্প্রসারণ করা দরকার। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে নতুন মসজিদ তৈরি করা যেতে পারে, এটাও একেবারেই যথাযথ। কিন্তু ঠিক ‘বাবরি মসজিদ’ নাম দিয়েই এবং ৬ ডিসেম্বরেই শিলান্যাস করতে হলে, সেই মসজিদ তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তো উঠবেই। এ তো সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষতা তৈরি বা রেষারেষি। একে সত্যিই কি জাস্টিফাই করা যায়?
শিক্ষণীয় উদাহরণ: কিছু বছর আগে হাওড়া জেলার নিবড়ায় তাবলীগ জামাতের ইজতেমা হয়েছিল। সেখানে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। কালক্রমে সেটি নিবড়া মার্কাজ মসজিদ হিসেবে পরিচিত হয়। সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি অন্যতম বৃহৎ মসজিদ এটা। অথচ কখনো দেখা যায়নি, এটা নিয়ে কোন বিরাট প্রচার বা হইহুল্লোড়ের পথে উদ্যোক্তারা গেছেন।

আরও পড়ুন:

মসজিদে জিরার ও কুরআনের শিক্ষা:

আরও পড়ুন:

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় আবু আমির নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্য মুসলিমদের বিরোধিতা শুরু করে। বদর এবং ওহুদের ময়দানে সক্রিয়ভাবে মুসলিম নিধনের কাজে যুক্ত হয়। এতকিছুর পরেও যখন আস্তে আস্তে ইসলামের বাণী সমগ্র আরবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল, তখন ক্ষিপ্ত হয়ে আবু আমির শেষ পর্যন্ত রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের সাহায্য প্রার্থনা করে। রোমান সম্রাট সামরিক সাহায্য দিতে সম্মত হন। ইতিমধ্যে আবু আমির নিজের গোত্রে খবর পাঠায় যে, অতি শীঘ্রই আমি এক বিরাট রোমান সেনাদল নিয়ে আসছি মুসলিমদের ধূলিসাৎ করে দেব। তাই তোমরা আমার জন্য একটি গোপন স্থান নির্মাণ কর এবং সেখানে যাতে থাকা যায়, তার ব্যবস্থা কর। সেই সময় কিছু মুনাফিক, যারা মুখে ইসলামের কথা বলত, কিন্তু বাস্তবে ইসলামের শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল, তারা একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যেন কোনভাবেই কেউ সন্দেহ না করে। অর্থাৎ এই মসজিদের ভিত্তি তাকওয়া বা আল্লাহ-ভীরুতা ছিল না; বরং এই মসজিদ তৈরি হয়েছিল জাগতিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে। ইতিমধ্যে তবুকের যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মসজিদ তৈরির উদ্যোক্তারা হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে এসে তাকে এই মসজিদে নামায পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। উদ্দেশ্য ছিল, যদি নবী (সা.) এই মসজিদে নামায পড়েন, তাহলে এই মসজিদ একপ্রকার স্বীকৃতি লাভ করবে। তবে স্রষ্টা সবকিছুই দেখছিলেন উপর থেকে। নবী (সা.) চলে গেলেন তাবুকের প্রাঙ্গণে। যখন তিনি ফিরে আসছিলেন, তখন আর মাত্র এক অথবা দুই দিনের পথ বাকি ছিল। এমন সময় স্রষ্টার তরফ থেকে ওহী (ঐশী বাণী) নাযিল বা অবতীর্ণ হল। আসলে স্রষ্টা নিজেও চাননি এমন মসজিদে তার প্রিয় রাসূল নামায পড়ুন, যে মসজিদ আদতে তার উপাসনার লক্ষ্যে নির্মিতই হয়নি। অবতীর্ণ হল সূরা তাওবা-র ১০৭ ও ১০৮ নম্বর আয়াত: “আর যারা মসজিদ তৈরী করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরী আর মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, আর যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের নিমিত্তে, তারা অবশ্য অবশ্যই শপথ করবে যে, আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ব্যতীত নয়। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তুমি ওর ভিতরে কক্ষনো দাঁড়াবে না। প্রথম দিন থেকেই যে মাসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত, তোমার দাঁড়ানোর জন্য সেটাই অধিক উপযুক্ত, সেখানে এমন সব লোক আছে, যারা পবিত্রতা লাভ করতে ভালবাসে, আর আল্লাহ পবিত্রতা লাভকারীদের ভালবাসেন।” এইভাবে সেই মসজিদে নামায আদায় করা থেকে নবী (সা.)-কে বিরত রাখেন স্বয়ং মহা প্রতিপালক আল্লাহ।

আরও পড়ুন:

সংবাদে প্রকাশ ইতিমধ্যে অপরপক্ষ বহরমপুরে রাম মন্দির তৈরীর ঘোষণাও দিয়েছে। অর্থাৎ তারাও চাইছে এটা নিয়ে একটা বড় রেষারেষি অথবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমরা চাই, দক্ষিণপন্থীদের কু-চক্রান্ত ব্যর্থ হোক। সমগ্র বিষয়টি পড়ে-বুঝে যেটা ন্যায়, যেটা সত্য, তার পক্ষ নিন। কোনরকম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির পথ পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। নিঃসন্দেহে স্রষ্টা আমাদের অন্তরের প্রত্যেকটি খেয়াল সম্পর্কে অবগত।
(সভাপতি: প্রগ্রেসিভেন্টেলেকচুয়াল অফ বেঙ্গল)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder