BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

এসআইআর হলে কি আচ্ছে দিন আসবে?

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৩৯ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৩৯

খান বাহাদুর সেখ

আরও পড়ুন:

এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে খুব হইচই চলছে। যেসব প্রোপাগান্ডা চলছে, তা মূলত রাজনীতি বা ভোটের স্বার্থে। সাধারণ মানুষের ঘুম উবে যাচ্ছে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ এবং অজানা আতঙ্কে। প্রশ্ন হল, বিজেপি বাদে বাকি সব দল কেন এনিয়ে চেঁচামেচি করছে? বিজেপির কেন মাথাব্যথা বা হেলদোল নেই? এসআইআর হলে কি দেশে আচ্ছে দিন আসবে? সবকা সাথ সবকা বিকাশ হবে? নাকি দেশ সোনায় সোহাগা হয়ে যাবে?

আরও পড়ুন:

প্রতি বছরই ভোটার তালিকার সংশোধন হয়, নতুন কিছু নাম ঢোকে, কিছু নাম বাদ যায়। সেটা হল রুটিন ভোটার তালিকা সংশোধন। আর এসআইআর মানে হল বিশদভাবে বা নিবিড় সংশোধন, খুঁটিয়ে দেখা, ত্রুটিমুক্ত করা। এটা ২০০২ সালেও হয়েছে। তখন এ নিয়ে এত হইচই হয়নি। কিন্তু এবার হচ্ছে। হইচই শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, সারা দেশেই হচ্ছে। কারণ, বিষয়টাকে নিয়ে ভোটের মুখে রাজ্যগুলো রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বাজার গরম করতে চাইছে। ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী উভয় পক্ষেরই এতে ফায়দা।

আরও পড়ুন:

এসআইআর নিয়ে এত বেশি হইচই হওয়ার কারণ, এবার নির্বাচন কমিশন অন্যভাবে কাজটা করার কথা বলছে। আগে এসআইআর হত চালু ভোটার তালিকা নিয়ে। সেখানে যাদের নাম আছে, দেখা হত তাঁরা জীবিত আছে কিনা ও সত্যি সত্যিই উল্লেখিত ঠিকানায় আছে কি না। যদি ভোটার তালিকায় উল্লেখিত ঠিকানায় সে বসবাস করে থাকে বা জীবিত থাকে, তার নাম নতুন ভোটার তালিকাতেও থাকত। এই পদ্ধতি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত ছিল। কারণ, যার নাম একবার ভোটার তালিকায় আছে, সে তো কোনও না কোনো নথিপত্র, প্রমাণপত্র দিয়েই তালিকায় নাম তুলেছে। ভোটার তালিকায় নাম আছে, অথচ সেই ব্যক্তি সেখানে থাকে না, কর্মসূত্রে অন্য কোথাও থাকে, অথবা কারও দুই জায়গায় নাম আছে, সে বাদ যেত নতুন তালিকা থেকে। এইভাবে পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালে ২৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। কোনও হইচই হয়নি। এখন এত বেশি হট্টগোল করা হচ্ছে, কারণ সামনে বিধানসভা নির্বাচন।

আরও পড়ুন:

২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেই সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনে বলেছিল, ১৯৮৭ সালের পর যারা এদেশে জন্মেছে তারা সরাসরি দেশের নাগরিক নয়। তাঁদের প্রমাণ করতে হবে যে তাঁদের মা বাবা, কেউ একজন এদেশের নাগরিক ছিল। এখন নির্বাচন কমিশন বলছে, ১৯৮৪ সাল বা তার পরে যারা জন্মেছেন, তাঁরা ভোটার কিনা তা সন্দেহজনক, তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে তাঁদের বাবা মা ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গের কোথাও ভোটার ছিল। এটা কার্যত ২০০৩ সালের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রমাণের চেষ্টা।

আরও পড়ুন:

এনআরসি বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স হচ্ছে ঘুরিয়ে। বিজেপি সরকার আসামে এনআরসি করে সেখানে নাগরিকত্ব খোঁজার চেষ্টা করেছিল, সেখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে এনআরসি শুরু করার আগে কাজ শুরু হয়েছিল আগে ভোটার তালিকা নিয়ে। বিজেপি’র ইচ্ছা ছিল সারা দেশে এনআরসি করা, করতে পারেনি। এখন নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে সেই কাজে নেমেছে। এক নাম একাধিক জায়গায়, বাদ যাবে?

আরও পড়ুন:

 

পশ্চিমবঙ্গে যখন প্রথম এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে, তখন ভোটার ছিল ৪ কোটি ৯৬ লক্ষ, ২০১১ সালে তা হয় ৫ কোটি ৬২ লক্ষে। গত ১৪ বছরে তা বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ৭ কোটি ৬৩ লক্ষ। যদি ধরে নিই যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতোই ভোটার সংখ্যাও চক্রবৃদ্ধির হারেই বাড়বে, তাতে অঙ্ক কষে দেখানো যায়, ২০০২ সালকে ভিত্তি করে ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার সংখ্যা হওয়া উচিত ৬ কোটি ৮২ লক্ষ। তালিকায় সংখ্যা তার চেয়ে ৮১ লক্ষ বেশি। এরা কারা? আসলে এই এত ভোট বাড়ার কারণ, অনেক মৃতদের নাম এখনও আছে, কেউ অন্য জায়গায় চলে গেলে দু’জায়গাতেই নাম আছে, এসব বাদ দেওয়া হয়নি। ভোটের সময় এসব ভোটগুলি গায়ের জোরে দিয়ে আসছে বিভিন্ন দল, যার যেখানে ক্ষমতা বা দাপট আছে।

আরও পড়ুন:

ভোটার বৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি’র ঘৃণ্য প্রচার:

আরও পড়ুন:

বিজেপি বলছে, বাড়তি ভোটাররা সব বাংলাদেশের মুসলমান অনুপ্রবেশকারী। এটা বলে বিজেপি কিছু মুসলমানের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চায়। এতে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো গেল, আর তৃণমূলের অপকর্মকেও আড়াল করা গেল। ঘৃণা বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করতে চায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে। সেই অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র দৈনিক জাগরণ পত্রিকা আয়োজিত এক আলোচনাসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দেশে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে এবং তা বাড়ার কারণ – অনুপ্রবেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ তাবড় তাবড় বিজেপি নেতা এতদিন মুসলিম পুরুষের চারটি বিয়ে ও গাদা গাদা বাচ্চা মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ানোর কথা বলে এসেছেন। কিন্তু অমিত শাহ সেদিন বলেছেন, বেশি বাচ্চা হওয়ার জন্য মুসলিমদের জনসংখ্যা বাড়ছে তা নয়, তা আসলে বাড়ছে অনুপ্রবেশের জন্য। তার বক্তব্য, মুসলিমদের সংখ্যা “পশ্চিমবঙ্গে অনেকগুলি জেলায় এখন ৪০ শতাংশ অতিক্রম করেছে, বর্ডার সংলগ্ন জেলাগুলিতে ৭০ শতাংশ হয়ে গেছে”।

আরও পড়ুন:

অমিত শাহর এই তথ্য ডাহা মিথ্যে। মোদির আমলে দীর্ঘদিন জনগণনা হয়নি বলে অমিত শাহ যা খুশি বলছেন। বাংলাদেশের সাথে বর্ডারে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯টি জেলা, তার মধ্যে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে ৬৭ শতাংশ মুসলিম ছিল, তারপরে মালদায় ৫১ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৫০ শতাংশ, আর ৬টি জেলাতে ৩০ শতাংশের কম। মুর্শিদাবাদ ছাড়া আর কোনও জেলার ক্ষেত্রেই বর্তমানে মুসলিম শতাংশ ৭০ শতাংশ হওয়া অসম্ভব। সীমান্তবর্তী ছাড়া অন্য জেলাগুলির মধ্যে একমাত্র বীরভূমে মুসলিমদের হার ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, আর কোন জেলার ক্ষেত্রে তা হতে পারে না। বীরভূমে ২০১১ সালে ৩৭ শতাংশ ছিল, অন্য জেলাগুলিতে ৩০ শতাংশের নিচে।

আরও পড়ুন:

মুসলিম অনুপ্রবেশের তত্ত্ব কতটা সঠিক:

আরও পড়ুন:

 

২০০১ থেকে ২০১১, সারা দেশে মুসলিমদের শতাংশ বেড়েছে ২৪.৬, অমিত শাহ সেটা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা ২১.৮। অনুপ্রবেশে তো পশ্চিমবঙ্গে এই শতাংশ বাড়ার কথা, তা হয়নি তো। অমিত শাহর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুপ্রবেশে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বেশি ভোটার বাড়ার কথা। কিন্তু শুধু সেখানে তা বাড়েনি। ওই দেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার অভাবে, হিন্দুরা এদেশে আসতে পারেন, বাস্তবে এসেছেন। কিন্তু ব্যাপকভাবে মুসলমানের বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসার সম্ভাবনা কম। কারণ, ভারতের অর্থনীতির এমন কোনও উজ্জ্বল অবস্থা নয় যে, দলে দলে জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ বাংলাদেশ থেকে আসবেন।

আরও পড়ুন:

এসআইআর-এ বাদ পড়ার আশঙ্কা:

আরও পড়ুন:

 

মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়া হবে বলে বিজেপি প্রচার করছে, এটা আসলে বুমেরাং হতে পারে। উদাহরণ আসাম। আসামে এনআরসি করে ১৯ লক্ষ ধরা পড়ল। যারা কাগজ দেখাতে পারল না, তার মধ্যে মুসলমান ৫ লক্ষ বা ২৬ শতাংশ। তাহলে বাকি ৭৪ শতাংশ কারা? তাদের অধিকাংশই হিন্দু। অল্প কিছু বৌদ্ধ ছিল। আসামে জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশ মুসলমান।

আরও পড়ুন:

 

আসলে গরিব মানুষ, অশিক্ষিতি বা অল্পশিক্ষিত (হিন্দু, মুসলমান উভয়েই), তফসিলি জাতি, আদিবাসী, যারা ঠিকমতো কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে পারে না, তারাই পারবে না পুরানো কাগজ দেখাতে। তাঁদের নামই বাদ যাবে। বিহারে এসআইআর-এ ঠিকমতো কাগজ দেখাতে পারেনি বলে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেছে। এদের মধ্যে কতজন অনুপ্রবেশকারী? নির্বাচন কমিশন বা সরকার বলতে পারেনি।

আরও পড়ুন:

বিজেপি’র আসল উদ্দেশ্য কী:

আরও পড়ুন:

 

বিজেপি জানে, দলে দলে মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে এদেশে ঢুকে পড়েনি। কিন্তু অনেক হিন্দু ঢুকেছে, এটা সত্যি। কিন্তু তবুও বিজেপি মুখে কেবলই মুসলমানদের বিরুদ্ধে বলছে, বলবে। আসামের এনআরসি’র মতো পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এ যদি আসলে হিন্দুদের নাম বেশি বাদ পড়ে, তাতেও বিজেপি’র কিছু যায় আসে না। বিজেপি’র আসল উদ্দেশ্য হল, এক তীব্র ঘৃণা বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করা। হিন্দু-মুসলিম যত বিভাজন হবে, তত বিজেপি’র লাভ। তৃণমূলেরও তাতে লাভ। ওরা দু’জনেই হিন্দু ও মুসলমানের পারস্পরিক ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করতে চায়। এত দুর্নীতি, এত বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এত বেশি… এসব ভুলে গিয়ে মানুষ হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে মেতে থাকুক, এতেই এই দুই দলের সুবিধা। দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রয়োজন নেই, এনআরসি, এসআইআর, ইউসিসি, সিএএ এরকম ইস্যু দিয়েই ভোট বাক্স ভরে যাচ্ছে, যাবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder