BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

এসআইআর হলে কি আচ্ছে দিন আসবে?

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৩৯ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৩৯

খান বাহাদুর সেখ

আরও পড়ুন:

এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে খুব হইচই চলছে। যেসব প্রোপাগান্ডা চলছে, তা মূলত রাজনীতি বা ভোটের স্বার্থে। সাধারণ মানুষের ঘুম উবে যাচ্ছে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ এবং অজানা আতঙ্কে। প্রশ্ন হল, বিজেপি বাদে বাকি সব দল কেন এনিয়ে চেঁচামেচি করছে? বিজেপির কেন মাথাব্যথা বা হেলদোল নেই? এসআইআর হলে কি দেশে আচ্ছে দিন আসবে? সবকা সাথ সবকা বিকাশ হবে? নাকি দেশ সোনায় সোহাগা হয়ে যাবে?

আরও পড়ুন:

প্রতি বছরই ভোটার তালিকার সংশোধন হয়, নতুন কিছু নাম ঢোকে, কিছু নাম বাদ যায়। সেটা হল রুটিন ভোটার তালিকা সংশোধন। আর এসআইআর মানে হল বিশদভাবে বা নিবিড় সংশোধন, খুঁটিয়ে দেখা, ত্রুটিমুক্ত করা। এটা ২০০২ সালেও হয়েছে। তখন এ নিয়ে এত হইচই হয়নি। কিন্তু এবার হচ্ছে। হইচই শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, সারা দেশেই হচ্ছে। কারণ, বিষয়টাকে নিয়ে ভোটের মুখে রাজ্যগুলো রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বাজার গরম করতে চাইছে। ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী উভয় পক্ষেরই এতে ফায়দা।

আরও পড়ুন:

এসআইআর নিয়ে এত বেশি হইচই হওয়ার কারণ, এবার নির্বাচন কমিশন অন্যভাবে কাজটা করার কথা বলছে। আগে এসআইআর হত চালু ভোটার তালিকা নিয়ে। সেখানে যাদের নাম আছে, দেখা হত তাঁরা জীবিত আছে কিনা ও সত্যি সত্যিই উল্লেখিত ঠিকানায় আছে কি না। যদি ভোটার তালিকায় উল্লেখিত ঠিকানায় সে বসবাস করে থাকে বা জীবিত থাকে, তার নাম নতুন ভোটার তালিকাতেও থাকত। এই পদ্ধতি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত ছিল। কারণ, যার নাম একবার ভোটার তালিকায় আছে, সে তো কোনও না কোনো নথিপত্র, প্রমাণপত্র দিয়েই তালিকায় নাম তুলেছে। ভোটার তালিকায় নাম আছে, অথচ সেই ব্যক্তি সেখানে থাকে না, কর্মসূত্রে অন্য কোথাও থাকে, অথবা কারও দুই জায়গায় নাম আছে, সে বাদ যেত নতুন তালিকা থেকে। এইভাবে পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালে ২৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। কোনও হইচই হয়নি। এখন এত বেশি হট্টগোল করা হচ্ছে, কারণ সামনে বিধানসভা নির্বাচন।

আরও পড়ুন:

২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেই সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনে বলেছিল, ১৯৮৭ সালের পর যারা এদেশে জন্মেছে তারা সরাসরি দেশের নাগরিক নয়। তাঁদের প্রমাণ করতে হবে যে তাঁদের মা বাবা, কেউ একজন এদেশের নাগরিক ছিল। এখন নির্বাচন কমিশন বলছে, ১৯৮৪ সাল বা তার পরে যারা জন্মেছেন, তাঁরা ভোটার কিনা তা সন্দেহজনক, তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে তাঁদের বাবা মা ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গের কোথাও ভোটার ছিল। এটা কার্যত ২০০৩ সালের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রমাণের চেষ্টা।

আরও পড়ুন:

এনআরসি বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স হচ্ছে ঘুরিয়ে। বিজেপি সরকার আসামে এনআরসি করে সেখানে নাগরিকত্ব খোঁজার চেষ্টা করেছিল, সেখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে এনআরসি শুরু করার আগে কাজ শুরু হয়েছিল আগে ভোটার তালিকা নিয়ে। বিজেপি’র ইচ্ছা ছিল সারা দেশে এনআরসি করা, করতে পারেনি। এখন নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে সেই কাজে নেমেছে। এক নাম একাধিক জায়গায়, বাদ যাবে?

আরও পড়ুন:

 

পশ্চিমবঙ্গে যখন প্রথম এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে, তখন ভোটার ছিল ৪ কোটি ৯৬ লক্ষ, ২০১১ সালে তা হয় ৫ কোটি ৬২ লক্ষে। গত ১৪ বছরে তা বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ৭ কোটি ৬৩ লক্ষ। যদি ধরে নিই যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতোই ভোটার সংখ্যাও চক্রবৃদ্ধির হারেই বাড়বে, তাতে অঙ্ক কষে দেখানো যায়, ২০০২ সালকে ভিত্তি করে ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার সংখ্যা হওয়া উচিত ৬ কোটি ৮২ লক্ষ। তালিকায় সংখ্যা তার চেয়ে ৮১ লক্ষ বেশি। এরা কারা? আসলে এই এত ভোট বাড়ার কারণ, অনেক মৃতদের নাম এখনও আছে, কেউ অন্য জায়গায় চলে গেলে দু’জায়গাতেই নাম আছে, এসব বাদ দেওয়া হয়নি। ভোটের সময় এসব ভোটগুলি গায়ের জোরে দিয়ে আসছে বিভিন্ন দল, যার যেখানে ক্ষমতা বা দাপট আছে।

আরও পড়ুন:

ভোটার বৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি’র ঘৃণ্য প্রচার:

আরও পড়ুন:

বিজেপি বলছে, বাড়তি ভোটাররা সব বাংলাদেশের মুসলমান অনুপ্রবেশকারী। এটা বলে বিজেপি কিছু মুসলমানের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চায়। এতে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো গেল, আর তৃণমূলের অপকর্মকেও আড়াল করা গেল। ঘৃণা বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করতে চায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে। সেই অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র দৈনিক জাগরণ পত্রিকা আয়োজিত এক আলোচনাসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দেশে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে এবং তা বাড়ার কারণ – অনুপ্রবেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ তাবড় তাবড় বিজেপি নেতা এতদিন মুসলিম পুরুষের চারটি বিয়ে ও গাদা গাদা বাচ্চা মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ানোর কথা বলে এসেছেন। কিন্তু অমিত শাহ সেদিন বলেছেন, বেশি বাচ্চা হওয়ার জন্য মুসলিমদের জনসংখ্যা বাড়ছে তা নয়, তা আসলে বাড়ছে অনুপ্রবেশের জন্য। তার বক্তব্য, মুসলিমদের সংখ্যা “পশ্চিমবঙ্গে অনেকগুলি জেলায় এখন ৪০ শতাংশ অতিক্রম করেছে, বর্ডার সংলগ্ন জেলাগুলিতে ৭০ শতাংশ হয়ে গেছে”।

আরও পড়ুন:

অমিত শাহর এই তথ্য ডাহা মিথ্যে। মোদির আমলে দীর্ঘদিন জনগণনা হয়নি বলে অমিত শাহ যা খুশি বলছেন। বাংলাদেশের সাথে বর্ডারে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯টি জেলা, তার মধ্যে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে ৬৭ শতাংশ মুসলিম ছিল, তারপরে মালদায় ৫১ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৫০ শতাংশ, আর ৬টি জেলাতে ৩০ শতাংশের কম। মুর্শিদাবাদ ছাড়া আর কোনও জেলার ক্ষেত্রেই বর্তমানে মুসলিম শতাংশ ৭০ শতাংশ হওয়া অসম্ভব। সীমান্তবর্তী ছাড়া অন্য জেলাগুলির মধ্যে একমাত্র বীরভূমে মুসলিমদের হার ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, আর কোন জেলার ক্ষেত্রে তা হতে পারে না। বীরভূমে ২০১১ সালে ৩৭ শতাংশ ছিল, অন্য জেলাগুলিতে ৩০ শতাংশের নিচে।

আরও পড়ুন:

মুসলিম অনুপ্রবেশের তত্ত্ব কতটা সঠিক:

আরও পড়ুন:

 

২০০১ থেকে ২০১১, সারা দেশে মুসলিমদের শতাংশ বেড়েছে ২৪.৬, অমিত শাহ সেটা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা ২১.৮। অনুপ্রবেশে তো পশ্চিমবঙ্গে এই শতাংশ বাড়ার কথা, তা হয়নি তো। অমিত শাহর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুপ্রবেশে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বেশি ভোটার বাড়ার কথা। কিন্তু শুধু সেখানে তা বাড়েনি। ওই দেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার অভাবে, হিন্দুরা এদেশে আসতে পারেন, বাস্তবে এসেছেন। কিন্তু ব্যাপকভাবে মুসলমানের বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসার সম্ভাবনা কম। কারণ, ভারতের অর্থনীতির এমন কোনও উজ্জ্বল অবস্থা নয় যে, দলে দলে জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ বাংলাদেশ থেকে আসবেন।

আরও পড়ুন:

এসআইআর-এ বাদ পড়ার আশঙ্কা:

আরও পড়ুন:

 

মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়া হবে বলে বিজেপি প্রচার করছে, এটা আসলে বুমেরাং হতে পারে। উদাহরণ আসাম। আসামে এনআরসি করে ১৯ লক্ষ ধরা পড়ল। যারা কাগজ দেখাতে পারল না, তার মধ্যে মুসলমান ৫ লক্ষ বা ২৬ শতাংশ। তাহলে বাকি ৭৪ শতাংশ কারা? তাদের অধিকাংশই হিন্দু। অল্প কিছু বৌদ্ধ ছিল। আসামে জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশ মুসলমান।

আরও পড়ুন:

 

আসলে গরিব মানুষ, অশিক্ষিতি বা অল্পশিক্ষিত (হিন্দু, মুসলমান উভয়েই), তফসিলি জাতি, আদিবাসী, যারা ঠিকমতো কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে পারে না, তারাই পারবে না পুরানো কাগজ দেখাতে। তাঁদের নামই বাদ যাবে। বিহারে এসআইআর-এ ঠিকমতো কাগজ দেখাতে পারেনি বলে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেছে। এদের মধ্যে কতজন অনুপ্রবেশকারী? নির্বাচন কমিশন বা সরকার বলতে পারেনি।

আরও পড়ুন:

বিজেপি’র আসল উদ্দেশ্য কী:

আরও পড়ুন:

 

বিজেপি জানে, দলে দলে মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে এদেশে ঢুকে পড়েনি। কিন্তু অনেক হিন্দু ঢুকেছে, এটা সত্যি। কিন্তু তবুও বিজেপি মুখে কেবলই মুসলমানদের বিরুদ্ধে বলছে, বলবে। আসামের এনআরসি’র মতো পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এ যদি আসলে হিন্দুদের নাম বেশি বাদ পড়ে, তাতেও বিজেপি’র কিছু যায় আসে না। বিজেপি’র আসল উদ্দেশ্য হল, এক তীব্র ঘৃণা বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করা। হিন্দু-মুসলিম যত বিভাজন হবে, তত বিজেপি’র লাভ। তৃণমূলেরও তাতে লাভ। ওরা দু’জনেই হিন্দু ও মুসলমানের পারস্পরিক ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করতে চায়। এত দুর্নীতি, এত বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এত বেশি… এসব ভুলে গিয়ে মানুষ হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে মেতে থাকুক, এতেই এই দুই দলের সুবিধা। দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রয়োজন নেই, এনআরসি, এসআইআর, ইউসিসি, সিএএ এরকম ইস্যু দিয়েই ভোট বাক্স ভরে যাচ্ছে, যাবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder