BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

অসীম সরকারের মিথ্যাচার বনাম প্রকৃত তথ্য

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২২ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৮
নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম 'হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস'। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।

এম আমিনুল আম্বিয়া

আরও পড়ুন:

নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম ‘হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস’। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি বলেছেন, কুরআনে লেখা আছে, হে মুসলমানেরা! কাফেরদের (অমুসলমান) যেখানেই পাবে হত্যা করবে, বন্দী করবে এবং নির্মমভাবে অত্যাচার করবে! এরপর তিনি দাবি করেন, ওনার কাছে যে কুরআন আছে, সেটি তাজ কোম্পানির কুরআন। গো-মাংস ভক্ষণ না করলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। মোটামুটি অসীম সরকারের বক্তব্য এমনটাই শোনা গেছে।
এবার আসুন, তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে একটু আলোচনা করি। কুরআন সংকলনের ইতিহাস যারা জানেন, তারা অবগত আছেন, কুরআন কোন বই বা পুস্তক আকারে অবতীর্ণ হয়নি, প্রয়োজন অনুসারে জিবরীল ফেরেশতার মাধ্যমে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে ঐশীবাণী আকারে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। নবী (সা.)-এর সাহাবা বা সাথীরা সেই কথাগুলিকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করতেন। কেউ চামড়ায় লিখে রাখতেন, কেউ পাথরে খোদাই করে রাখতেন, কেউ মুখস্ত করে নিতেন।
বদর যুদ্ধের সময়ে পাণ্ডুলিপি বা কপি আকারে পৃথিবীতে কোথাও কুরআন ছিল না। তখনও সম্পূর্ণ কুরআন নাযিল হয়নি। দ্বিতীয় হিজরীতে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু কুরআন তারপরও আট বছর ধরে পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় সমগ্র কুরআন একত্রিত করে কপি আকারে সংরক্ষিত হয়নি। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে প্রথম সমস্ত লেখাকে সংগ্রহ করে কপি আকারে তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে চতুর্থ খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর সময় প্রথম কপিকে সামনে রেখে আরো অনেকগুলো কপি তৈরি করা হয়। অতএব বোঝা গেল বদরের যুদ্ধে কুরআনের কপি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।
যে কপির কোন অস্তিত্বই যখন ছিল না, সেটা পুড়ে যাওয়ার প্রশ্ন বতুলতা মাত্র। এরপর তিনি পি.কে হিট্টির নামে দাবি করেছেন, তার ইতিহাসে নাকি লেখা আছে ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! ইসলামের ইতিহাস এবং আরবের ইতিহাস চর্চাকারী প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তি পি.কে হিট্টির অর্থাৎ ফিলিপ.কে. হিট্টির লেখা বই History of the Arabs পড়েছেন। ওই বই পড়ে আজও পর্যন্ত অসীম সরকারের মতো এমন দাবি কেউ কস্মিনকালেও করেননি। বইটি ইন্টারনেটে সার্চ করলে যে কোন ব্যক্তি নিজেও পড়ে দেখতে পারেন, সেখানে এমন কোন কথা লেখা নেই। যে ব্যক্তি পি.কে হিট্টির নামটা পর্যন্ত ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারেন না, তার লেখা বইয়ের নামটাও জানেন না, তিনি এমন একটা কাল্পনিক দাবি করেছেন, যে দাবির পক্ষে ইসলামের কোন শত্রুর বই থেকেও কোনো উদ্ধৃতি তিনি দিতে পারবেন না। ইসলামের শত্রু সালমান রুশদি স্যাটানিক ভার্সেস লিখে এমন এক ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল; কিন্তু তিনিও সমগ্র কুরআন সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারেননি। স্যাটানিক ভার্সেসেও এমন কথা লেখা নেই।
এরপর অসীমবাবু দাবি করেছেন, তাঁর কাছে যে তাজ কোম্পানির কুরআন আছে, গরু না খেলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। তাহলে তার বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি, তিনি গরু খেয়েই ওই কুরআন সংগ্রহ করেছেন! তিনি নিজেকে গো-মাংস ভক্ষণকারী হিসেবে প্রমাণ দিলেন। তার কথা শুনে যে গো-মাতার ভক্তরা তাকে নিয়ে লাফাচ্ছে, তাদের তো এটা ভাবা দরকার ছিল, যে ব্যক্তি গো-মাতাকে ভক্ষণ করে, সেই ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করা যায় কিনা? যাহোক, এবারে আমি কুরআন সম্পর্কে তাঁর যে মূল অভিযোগ, সে বিষয়ে আলোকপাত করব।
তিনি একটি পোস্টে কুরআনের একটি পাতার ছবি দিয়ে তার বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে, কুরআনে লেখা আছে, কাফেরদের যেখানে পাবে, সেখানেই হত্যা করো, বন্দী করো ইত্যাদি। তার ভক্তেরা এতে খুবই খুশি হলেও তিনি যে আসলে বড় মূর্খ, সেটা তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন। কারণ, তিনি কুরআনের যে আয়াতের অনুবাদের ছবি দিয়েছেন, সেটি কুরআনের সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াত। অথচ তিনি যদি সত্যিকার পড়াশোনা জানতেন, তাহলে নিশ্চয়ই পাঁচ নম্বর আয়াতের আগে-পরে ৪ এবং ৬ নম্বর আয়াত তাঁর চোখে পড়ত। তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন কুরআন অমুসলিমদের হত্যা করতে বলছে না; বরং তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:


কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াত নিয়ে ইসলাম বিরোধীদের প্রোপাগান্ডা যুগ যুগ ধরে ধরে জারি রয়েছে এবং আজও চলেছে, কিন্তু সত্যের অনুসারীরা সঠিকটা জানতে পারার পরে অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সত্য প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন, এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। যেমন কানপুরের অধিবাসী স্বামী লক্ষ্মী শংকরাচার্য। তাঁর পিতা-মাতা দু’জনেই নামজাদা অধ্যাপক ছিলেন, তিনি নিজেও শিক্ষিত, প্রথম জীবনে প্রচণ্ড ইসলাম-বিরোধী ছিলেন। কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াতকে অবলম্বন করে তিনি ইসলাম-বিরোধী বই লিখে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদী ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িতও করেছিলেন। তাঁর সেই বই হিন্দুত্ববাদীরা ব্যাপক আকারে প্রচার করেছিল। কিন্তু এই আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা জানার পরে তিনি নতুন বই লিখেছিলেন, যে বইটার নাম ইসলাম সন্ত্রাসবাদী ধর্ম নয় বরং একটি আদর্শ (ইসলাম আতঙ্ক নেহি, আদর্শ হ্যায়)। এই বইটি ভারতবর্ষ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে বহু ভাষায় অনুবাদ ও প্রচার হয়েছে। আগ্রহী পাঠকেরা গুগল থেকেও পড়তে পারেন। সূরা তাওবা-র তিনটি আয়াতের অনুবাদ পড়লে বুঝতে পারবেন, কাদেরকে কোন প্রেক্ষিতে হত্যা করতে বলা হয়েছে, এবং এর মধ্যে মানবিকতার কেমন নজির স্থাপন করা হয়েছে।
মনে রাখতে হবে, কুরআনের কোন আয়াত বা সূরা প্রেক্ষাপট ছাড়া অবতীর্ণ হয়নি, প্রতিটি সূরা বা আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার নেপথ্যে প্রেক্ষাপট রয়েছে। তেমনি সূরা তওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ারও একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট রয়েছে, সেটি আগে জানা দরকার। মক্কার মুশরিকদের সঙ্গে মুসলিমদের এক ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল, ইসলামের ইতিহাসে যেটাকে ‘হুদাইবিয়ার সন্ধি’ বলা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না, কোন পক্ষের সহযোগী পক্ষকেও কেউ আক্রমণ করবে না। কিন্তু দেখা গেল, এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কিছুকাল পর থেকেই মক্কার মুশরিকরা চুক্তির শর্তগুলি লংঘন করতে শুরু করল, তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল, মুসলিমদেরকে হত্যা করতে লাগল। এই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হল। প্রথম আয়াতেই ঘোষণা দেওয়া হল, যারা চুক্তিভঙ্গ করেছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হল। কিন্তু এও বলা হল যে, যারা চুক্তিতে অটল আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুক্তির পূর্ণ সম্মান বজায় রাখা হবে। যারা চুক্তি না মেনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে চুক্তি অনুযায়ী শান্তির পথে ফিরে আসার জন্য চার মাস সময় দেওয়া হবে। এই চার মাস সময় পাওয়ার পরেও যদি তারা শান্তির পথে ফিরে না আসে, ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে, হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে, তাহলে চুক্তি ভঙ্গকারীদেরকে যেখানে পাবে, তাদের ষড়যন্ত্রের বিনিময়ে সেখানেই তাদেরকে বন্দী ও হত্যা করবে।
এরপর ৬ নম্বর আয়াতে মানবিকতার চূড়ান্ত নজির স্থাপন করে বলা হল, এই সমস্ত ষড়যন্ত্রীরা এত বড় অপরাধ করার পরেও যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও। শুধু আশ্রয় নয়; এরপরে তাদের প্রতি আরো দরদ দেখিয়ে বলা হল, যারা আশ্রয় চায়, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবিকতার নজির আর কোথাও পাওয়া যাবে কি? আধুনিক পৃথিবীতে প্রমাণিত অপরাধীদেরকে যুদ্ধ অপরাধের কারণে কখনোই ক্ষমা করা হয় না, আশ্রয় চাইলেও তাদেরকে হত্যা করা হয়। অথচ ইসলামের উদারতার শিক্ষা এটাই যে, যুদ্ধাপরাধীরাও যদি আশ্রয় চায়, তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। অথচ এই আয়াতকে পাশ কাটিয়ে দুই আয়াতের মাঝখানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইসলাম সম্পর্কে যেভাবে এত বড় মিথ্যাচার করা হল, তা কল্পনাও করা যায় না!
কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপরে, তিনি কুরআনের নির্দেশ সবথেকে বেশি বুঝেছিলেন এবং সেই নির্দেশ তিনি কার্যকর করে দেখিয়েছিলেন। ইসলামের ইতিহাসের পাঠক মাত্রই জানেন, কাফেরদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ভঙ্গ হওয়ার পরে নবীজি যখন মক্কা বিজয় করলেন, সে সময় তিনি মক্কায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কাউকে হত্যা করতে বলেননি। অমুসলিমদের হত্যা করা যদি কুরআনের বিধান হয়, তাহলে মক্কা বিজয়ের পরে একজন অমুসলিমও সেখানে বেঁচে থাকার কথা নয়। আসলে কুরআন বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিশেষ সময়ে শুধুমাত্র যারা যুদ্ধ অপরাধী ছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদেরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।
কুরআন তো মানব হত্যাকে সবথেকে বড় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে। সূরা মায়েদা-র ৩২ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, ”একজন মানুষকে যে ব্যক্তি হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল!” এই আয়াতে মানুষের জীবনের কতটা মূল্য কুরআন দিয়েছে, সেটা ভেবে অবাক হতে হয়। সেই কুরআন কখনো নির্বিচারে মানুষ হত্যার কথা বলতে পারে না। সেই কুরআনের সবথেকে বড় অনুসারী নবীজি (সা.) সারা জীবন সেটা প্রমাণ করে গেছেন। কুরআনের সূরা মুমতাহিনা-র ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে। কোন অমুসলিমের উপরে ইসলাম জবরদস্তি করাকে হারাম করে দিয়েছে, সূরা বাকারা-র ২৫৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, সূরা তাওবা সাধারণ পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া কোন সূরা নয়, বরং এটি একটি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া সূরা, যে সূরার মধ্যে সন্ধি বা চুক্তি ভঙ্গকারী, ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের সম্পর্কে কেমন নীতি গ্রহণ করা হবে, সেটাই বর্ণনা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াতে শুধুমাত্র সেই সমস্ত মুশরিকদেরকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যারা শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করেছিল, যারা নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করছিল, এবং যারা শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক কোন আইনে এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের হত্যা করা কখনোই অবৈধ হতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, সেটা বর্তমানেও বিভিন্ন দেশে প্রত্যক্ষ করছি। যুদ্ধাপরাধীদেরকে অনেক ক্ষেত্রে বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে কিংবা বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে! অথচ কুরআন যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কত মানবিক আচরণ করতে বলেছে! যে, তারা যদি আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে তাদের আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এই মানবিক কথাগুলো অসীম সরকার দেখতে পেল না! তার মনে কুরআনের প্রতি কতখানি বিদ্বেষ রয়েছে, সেটা বোঝা যায় তার কথায়। যখন সে বলে, এই কুরআনের ওপরে সে প্রস্রাব করতে চায়! এবং কুরআনকে সে পুড়িয়ে দিতে চায়! আসলে অসীম সরকার মতুয়াদের সমর্থন হারিয়ে ইসলামবিরোধী হিন্দুদের সমর্থন লাভের আশায় কুরআনের বিরুদ্ধে এখন প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে।
কুরআনের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত আজকের নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই ইসলাম বিরোধীরা এটা করে চলেছে। কিন্তু সেই চক্রান্তের ফল অনেক ক্ষেত্রে উল্টো হয়েছে। চক্রান্তকারীরা নিজেদের চক্রান্তের কাছে পরাজিত হয়ে শেষে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এমনই একজন ছিলেন কানাডার ডঃ গ্যারি মিলার। তিনি কুরআনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার জন্য কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন। শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, কুরআনের মধ্যে ভুল খুঁজে না পেয়ে শেষে আমি ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হলাম। অসীম সরকার যদি কুরআনের আলো নাও পায়, তবু তার এই বিতর্কের ফলে বহু মানুষ কুরআনের আলো লাভ করবে আশা করা যায়। এর ফলে অনেকেই কুরআন পড়ার চেষ্টা করবে, কুরআনের বক্তব্য জানবে এবং বুঝবে। আখেরে কুরআনের প্রচার আরো বাড়বে এবং মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পেরে কুরআন-মুখী হবে বলে আমি আশাবাদী।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder