BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

SIR বিষয়ক নানা প্রশ্নের উত্তর

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:৩৪ | আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:৩৪

আবীর লাল

আরও পড়ুন:

ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল শক্তি তার জনগণ, আর জনগণের ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটে ভোটের মাধ্যমে। তাই ভোটার তালিকা যে এদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রাণভোমরা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার এই তালিকা যাতে সঠিক থাকে, মৃত ব্যক্তির নাম মুছে যায়, অনুপ্রবেশকারীরা বাদ পড়ে, নতুন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা যুক্ত হয় — এই লক্ষ্যেই প্রতি বছর রুটিন মাফিক ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি আসাম বাদে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালু হয়েছে এসআইআর নামক এক নতুন প্রক্রিয়া। এই উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ — সব মিলিয়ে দেশজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, এসআইআর-এর আড়ালে কি লুকিয়ে আছে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি?

আরও পড়ুন:

ভোটার তালিকার রুটিন সংশোধন, আর এসআইআর-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটা কোথায়? রুটিন সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্লক বা বুথ পর্যায়ে কর্মকর্তারা গিয়ে অফিসিয়াল ডেটা যাচাই করেন, নতুন ১৮ বছরোর্ধ্ব নাগরিক যুক্ত হচ্ছেন কি না, মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম মুছে ফেলা দরকার কি-না, কিংবা ঠিকানা পরিবর্তন বা ত্রুটি সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি না। অন্যদিকে এসআইআর-এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও অফিসিয়াল ডেটা ব্যবহার করা হয়; আধার, প্যান, ভোটার কার্ড, এমনকি রেশন কার্ডের ডেটা পর্যন্ত মিলিয়ে দেখা হয়; ভোটার তালিকার সঙ্গে সরকারি তথ্যে গরমিল আছে কিনা খুঁজে বের করা হয়; সন্দেহজনক ভোটারদের পুনঃযাচাই করা হয়, প্রয়োজনে প্রমাণপত্র চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন:

এটি মূলত তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া, যা উন্নত দেশগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার রোল মেনটেইন প্রোগ্রাম চলছে বহু বছর ধরে, যেখানে অঙ্গরাজ্যগুলি ভোটারদের মৃত্যুর রেকর্ড, স্থানান্তর রেকর্ড মিলিয়ে ভোটার তালিকা আপডেট রাখে। ব্রিটেনে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর ভোটারদের ঠিকানা যাচাই করে। অস্ট্রেলিয়ার কন্টিনিউয়াস রোল আপডেট পদ্ধতিও এসআইআর-এর মতোই এক ধরনের ডেটা-লিঙ্কড রিভিউ প্রক্রিয়া। তবে ভারতের প্রেক্ষাপটে এসআইআর রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। কারণ, এখানে জাতিগত, ধর্মীয় ও অভিবাসন প্রশ্ন না চাইতেও যুক্ত হয়ে যায়। দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল, কোটি কোটি টাকা খরচ করে এসআইআর হচ্ছে, কিন্তু ফল কী? বিহারের উদাহরণ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। জানা গেছে, সেখানে এসআইআর করে মাত্র ৩ জন রোহিঙ্গা ও ৭৬ জন অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হয়েছে। এই সংখ্যাটি তুচ্ছ মনে হলেও খরচ হয়েছে বহু কোটি টাকা।
প্রশ্ন উঠছে, মাত্র ৮০ জনের জন্য এমন ব্যয়বহুল অভিযান কি যুক্তিসঙ্গত?

আরও পড়ুন:

এ প্রশ্নের উত্তর একরৈখিক নয়। একদিকে বলা যায়, গণতন্ত্রের শুদ্ধতা রক্ষায় এমন ব্যয় অবশ্যই যৌক্তিক। যেমন নিরাপত্তা বা সেনা বাজেটে হয়; এখানেও বিশুদ্ধ নির্বাচন প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। একটিও ভুয়ো ভোট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা যুক্তি দিচ্ছেন; যখন দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই, তখন এমন বিশাল প্রশাসনিক অভিযান শুধু রাজনৈতিক প্রদর্শন হিসেবেই ধরা যেতে পারে। সত্যিটা সম্ভবত মাঝামাঝি কোথাও। কারণ, আধুনিক গণতন্ত্রে তথ্যনির্ভর যাচাই অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর কার্যকারিতা, বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন:

তাহলে এসআইআর কি সত্যিই ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধির উদ্দেশ্যে, না-কি রাজনৈতিক কৌশল?

আরও পড়ুন:

কেন্দ্র সরকারের দাবি, এসআইআর-এর লক্ষ্য শুধু মৃত, স্থানান্তরিত বা ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। কিন্তু বিরোধী পক্ষ বলছে, এটি আসলে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে নির্বাচনী হিসাব মেলানোর একটি হাতিয়ার। আধার লিংকের মাধ্যমে ভুয়ো নাম বাদ দিলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিলে দেশের নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে। আবার এসআইআর চালুর সময়কাল অবশ্যই সন্দেহজনক। কারণ, এটি চালু হচ্ছে ১২টি রাজ্যের নির্বাচনের প্রাক্কালে। ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নামে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা নির্দিষ্ট অঞ্চলকে টার্গেট করা হচ্ছে। পুনঃযাচাই প্রক্রিয়ায় দরিদ্র, অশিক্ষিত বা দলিল-নথি বিহীন নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা বেশি। তাছাড়া এদেশে নাগরিকত্ব ও নথিপত্রের প্রশ্ন খুবই জটিল। তাই এসআইআর প্রক্রিয়া যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক, গ্রাউন্ড পর্যায়ে সেটি যে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হবে না, সেকথা হলফ করে বলা যায় না। এসআইআর নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেছে, ”কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে? এবং ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় নাগরিককে ‘সন্দেহভাজন ভোটার’ঘোষণা করা হচ্ছে?” কোর্টের নির্দেশে কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছে, কিন্তু বিতর্ক প্রশমিত হয়নি।

আরও পড়ুন:

বিরোধীরা অভিযোগ করছে, কমিশন এখন বিজেপির ‘বি-টিম’এ পরিণত হয়েছে। এই অভিযোগ কতটা যুক্তিসঙ্গত?

আরও পড়ুন:

সরাসরি বলা যায় ভারতের নির্বাচন কমিশন সংবিধানগতভাবে স্বাধীন বা স্বশাসিত। কিন্তু বাস্তবে সরকার-নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনারদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় আছে। অতীতে কংগ্রেস আমলেও একই অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপিও এ বিষয়ে নীরব। কারণ, এসআইআর তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার রোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই শাসকদলের পক্ষে এসআইআর বিরোধিতা করা বিড়ম্বনাকর। তবে এও ঠিক যে, আদালত ও নাগরিক সমাজের চাপেই কমিশনকে স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন করতে হয়েছে। যেমন তথ্য যাচাইয়ের জন্য নাগরিককে নোটিশ ও উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে, ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কোনো নাগরিককে একতরফা ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন:

দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অভিযোগ, ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বিজেপি প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ভোটার তালিকা বদলাচ্ছে, লক্ষ লক্ষ ভোট চুরি করে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সাথে বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগও এনেছেন রাহুল। তাদের দাবি, এসআইআর বা তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

নির্বাচন কমিশন অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রাহুল গান্ধীর কাছ থেকেই প্রমাণ বা ক্ষমা প্রার্থনার দাবি করেছে। কিন্তু বিজেপির সাংসদ একই অভিযোগ নিয়ে এলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নির্বাচন কমিশন নেননি। কমিশনের এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন:

এবার আসা যাক পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে। ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নীরবে এসআইআর হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার প্রায় ২৫ বছর পর আজ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বহুগুণে বদলে গেছে। দেশে এখন বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে রয়েছে এবং সেই সঙ্গে সংখ্যালঘু, দলিত, তপশিলী, আদিবাসী ও নিম্নবর্ণের প্রতি সমাজের নানা অংশে অবিশ্বাস ও বিদ্বেষ বহুগুণ বেড়েছে। বিজেপি নেতাদের ঘৃণামূলক ভাষণ, এনআরসি ও সিএএ-এর মতো উদ্যোগগুলোর ফলে সংখ্যালঘুদের মনে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি এক গভীর আশঙ্কা জন্ম নিয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া সেই ভয়কে যেন বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। বিরোধী দলগুলো যদিও দাবি করছে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে এক ধরনের সেটিং রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, এসআইআর একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এটি দেশের আইনি কাঠামোর অংশ, তাই একে বন্ধ করার ক্ষমতা কোনো রাজ্য সরকারের নেই। রাজ্য সরকার ভোটব্যাংক রক্ষার্থে বার বার বলছে, এই প্রক্রিয়া তারা হতে দেবে না। কিন্তু সচেতন নাগরিকরা জানেন, সংবিধান অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া অবশ্যম্ভাবী। সবচেয়ে বিস্ময়কর হল, রাজ্য সরকারই আবার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৯০ হাজার বিএলও নিয়োগে সহযোগিতা করেছে। তাই বলা যায়, কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয়পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার্থে এসআইআর নিয়ে রাজনীতি করছে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে সচেতন হতে হবে। নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রমাণপত্র; যেমন- ভোটার কার্ড, আধার, বার্থ সার্টিফিকেট ইত্যাদি ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি। কারণ, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না, যদি সেই নাগরিক নিজের পরিচয় ও তথ্যের প্রতি সচেতন থাকে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder