BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হাফিজ শিরাজি: দুই সভ্যতার কাব্যিক সংলাপ

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৪:০৮ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৪:২৩
বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কিছু কবি আছেন, যাঁদের কণ্ঠস্বর ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মানব-আত্মার গভীরে পৌঁছে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর হাফিজ শিরাজি সেই বিরল শ্রেণির দুই প্রতিনিধি। একজন ঊনবিংশ-বিংশ শতকের বঙ্গদেশের কবি, অন্যজন চতুর্দশ শতকের পারস্যের সুফি সাধক -- তবু প্রেম, সৌন্দর্য, বিশ্ববিধাতা ও মানবজীবন সম্পর্কে তাঁদের কাব্যিক অনুসন্ধানে আশ্চর্য মিল লক্ষ্য করা যায়।

রফিক আনোয়ার:বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কিছু কবি আছেন, যাঁদের কণ্ঠস্বর ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মানব-আত্মার গভীরে পৌঁছে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর হাফিজ শিরাজি সেই বিরল শ্রেণির দুই প্রতিনিধি। একজন ঊনবিংশ-বিংশ শতকের বঙ্গদেশের কবি, অন্যজন চতুর্দশ শতকের পারস্যের সুফি সাধক — তবু প্রেম, সৌন্দর্য, বিশ্ববিধাতা ও মানবজীবন সম্পর্কে তাঁদের কাব্যিক অনুসন্ধানে আশ্চর্য মিল লক্ষ্য করা যায়।
হাফিজ শিরাজি (১৩১৫–১৩৯০) জন্মেছিলেন পারস্যের শিরাজ নগরে। তাঁর গজল-সমূহ পারস্য সাহিত্যকে শুধু সমৃদ্ধই করেনি; বরং সুফি দর্শনের এক গভীর কাব্যিক রূপ পেশ করে। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) ঔপনিবেশিক ভারতের প্রেক্ষাপটে বেড়ে উঠেও পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মধ্যে এক সেতুবন্ধন গড়ে তোলেন।
দুই কবিই নিজ নিজ সভ্যতার কেন্দ্রে অবস্থান করেও ছিলেন বিশ্বমানবের। তাঁদের সাহিত্য কোনো সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদে আবদ্ধ নয়; বরং মানবাত্মার মুক্তির দিকেই তাঁদের দৃষ্টি নিবদ্ধ।
প্রেম মানবিক, আবার একইসঙ্গে আধ্যাত্মিকও বটে! হাফিজের কবিতায় প্রেম এক বহুমাত্রিক সত্তা। বাহ্যত তা প্রেয়সীর প্রতি আকর্ষণ মনে হলেও, সুফি পাঠে সেই প্রেম আসলে স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণ। অনন্য নির্মাণ ও সৃজন-চিত্রকল্পে হাফিজ ইন্দ্রিয় ও আধ্যাত্মিকতার ভেদরেখা ভেঙে দেন।
রবীন্দ্রনাথের প্রেমভাবনাও দ্বৈত — মানবপ্রেম ও ঈশ্বরপ্রেমের এক গভীর মেলবন্ধন। গীতাঞ্জলি-তে তিনি লিখেছেন, ঈশ্বর মানুষের মধ্যেই প্রকাশিত।
‘তুমি আছো সকলের সঙ্গে, সকলের মাঝে’ — এই উপলব্ধি রবীন্দ্রনাথকে হাফিজের খুব কাছে এনে দেয়। হাফিজের বিধাতা কোনো কঠোর বিধানদাতা নন; তিনি প্রেমিক, বন্ধু, কখনো রহস্যময় প্রিয়া। ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে হাফিজ ছিলেন স্পষ্টতই বিদ্রোহী।
রবীন্দ্রনাথও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে চেয়েছেন। তাঁর ব্রহ্মবোধ মানবিক, উদার আর নৈতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। উভয়ের কাছেই বিশ্ববিধাতা মানে মুক্তি — ভয়ের নয়, আনন্দের।
রবীন্দ্রনাথের কবিতায় প্রকৃতি এক জীবন্ত সত্তা — আকাশ, নদী, ঋতু মানুষের অনুভূতির প্রতিধ্বনি হয়ে ওঠে। হাফিজের কবিতায়ও গোলাপ, বসন্ত, মদিরা, বাগান — সবই প্রতীক, যা পার্থিব সৌন্দর্যের আড়ালে এক চিরন্তন সত্যের ইঙ্গিত দেয়।
দু’জনেই সৌন্দর্যকে সত্যের পথ হিসেবে দেখেছেন। ভাষা ও কাব্যরীতির ক্ষেত্রে হাফিজের গজল সংক্ষিপ্ত, ঘন, প্রতীকধর্মী। এক একটি শের যেন বহুস্তর বিশিষ্ট অর্থের ভাণ্ডার। রবীন্দ্রনাথের কবিতা তুলনামূলক বিস্তৃত, সংগীতধর্মী ও ভাবপ্রবণ। তবু উভয়ের ভাষাতেই রয়েছে এক ধরনের স্বাভাবিকতা, যা পাঠককে সহজেই টেনে রাখে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হাফিজ শিরাজি — দুই আলাদা সময়, দুই আলাদা ভাষা, দুই আলাদা ধর্মীয় পরিসর। তবু তাঁদের কবিতা প্রমাণ করে, মানবসত্তার প্রশ্নগুলো চিরন্তন। প্রেম, ঈশ্বর, সৌন্দর্য ও মুক্তির সন্ধান — এই বিষয়গুলোতে তাঁরা যেন একে অপরের সঙ্গে নীরব সংলাপে লিপ্ত। এই সংলাপই বিশ্বসাহিত্যের আসল শক্তি, যেখানে ভিন্নতা মিলনের পথে বাধা নয়; বরং গভীরতার উৎস।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রাতে ঘুমোবার সময় হাফিজের দিওয়ান বা কবিতাগুচ্ছ পড়তেন। আর তাঁর মাথার বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন। তাই তাঁকে ‘হাফিজের হাফিজ’ বলা হত। রবি ঠাকুর নিজেও সেকথা বলেছেন। এমনকি ১৯৩২’তে ইরান সফরকালে রবীন্দ্রনাথ শিরাজ নগরীতে হাফিজের মাজারে হাজিরাও দেন। তদানীন্তন ইরানের শাসক রেজা শাহের আমন্ত্রণে রবি ঠাকুরের ওই সফর। ১৯৩২’র ১১ এপ্রিল নিজের বউমা প্রতিমা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে বিমানযাত্রা করেন। ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দর শহর ‘বুশেহর’ পৌঁছন। তারপর ১৬ এপ্রিল পৌঁছে যান হাফিজের শহর শিরাজে। সেখানে তিনি ফার্সির দুই কালজয়ী কবি সাদি ও হাফিজের মাজারে হাজিরা দেন। ভল্টেয়ারের (যাঁকে সাদি নামে ডাকা হত) মতো রবি ঠাকুরও সাদি-হাফিজের ভক্ত ছিলেন। বিশেষ করে হাফিজের সঙ্গে তিনি একরকম আত্মীয়তার সম্পর্কও অনুভব করতেন। অনেকের মনেই ধারণা জন্মে, রবি ঠাকুরের ওই অনুভূতি হয়ত তাঁর লালন-পালনের জেরেই।
রবি ঠাকুরের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচিতি ছিল ‘হাফিজের অনুরাগী’ হিসেবে। তিনি তাঁর বাল্যকালের সাঁঝবেলাগুলির স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেছিলেন: ‘আমি আমার মাঝরাত পর্যন্ত কাটিয়ে দিতাম স্তবগান আর হাফিজের কবিতা আবৃত্তিতে।’ হাফিজের প্রতি এই অনুরাগের স্রোত-ধারাই তাঁর ছেলে রবি ঠাকুরের মধ্যেও বয়ে যায়। ইরান সফরকালে ইস্ফাহান শহরে এক অনুষ্ঠানে রবি ঠাকুর বলেন: ‘হাফিজের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে বাবার মাধ্যমেই। বাবা আমাকে প্রায়ই হাফিজের কবিতা শোনাতেন। তা শুনে আমার মনে হত, কবিতাগুলি যেন দূর থেকে আমায় ডাক দিচ্ছে। কবি (হাফিজ) কিন্তু আমার কাছেই।’ (They seemed to me like a greeting from a faraway poet who was yet near to me)। ব্রিটিশ লাইব্রেরি’র ‘Untold Lives Blog’-তে প্রথম প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, রবি ঠাকুরের সঙ্গে হাফিজের সম্পর্ক ছিল কবিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে। হাফিজের মাজারে হাজিরা দেওয়ার সময় রবি ঠাকুর চোখ বন্ধ করে একাকী সমাধির সামনে বসে চারণ কবিতা বলতে থাকেন: ‘এক স্পষ্ট অনুভূতি আজ আমায় পেয়ে বসেছে। যেন বহু শতাব্দীর পথ পেরিয়ে, জন্ম-মৃত্যুর বহু পরিসরসীমা পারাপার করে… এই আরেক পথিক… হাফিজের সঙ্গে তার মেলবন্ধনের খোঁজ পেয়েছে।’ (I had the distinct feeling that after a lapse of many centuries, across the span of many births and deaths … another wayfarer … had found his bond with Hafez)। এই কথাগুলি রবি ঠাকুর নিজেই লেখেন পরবর্তী কালে। ওই বছরই জুন মাসের শুরুর দিকে সফর শেষে কলকাতা যাত্রার আগে রবি ঠাকুর হাফিজের স্মরণে একটি স্তুতি-কবিতা রচনা করেন। তিনি লেখেন: “Iran, all the roses in thy garden / and all their lover birds / have acclaimed the birthday / of the poet of a far-away shore / and mingled their voices in a pair of rejoicing.… And in return I bind this wreath of my verse / on thy forehead, and I cry: Victory to Iran!”
(“ইরান! তোমার বাগিচাতে আজি হাজির হরেক গোলাপ; / জমিয়েছে ভিড় গোলাপ-প্রেমী পাখিদের দল সব; / কণ্ঠে তাদের সাগরতীরের কবিকে স্বাগত-রব; / জয়গান-সুরে সুর মিলিয়ে একাকার আজ সব…… /… প্রতিদানে রাখি মোর কবিতার গোলাপগুঞ্চা খানি; / তব ললাটের ‘পরে; আর হাঁকাই- হোক ইরান জয়ী।”
(আমি কবিগুরুর ওই কবিতাটি অনেক খুঁজেও পাইনি। তাই ইংরেজি ট্রান্সলেশনকে সামনে রেখে একটু কবিতাচ্ছলে লাইনগুলোকে তুলে ধরার অতি-দুর্বল এক প্রয়াস চালিয়েছি মাত্র। ভুল-ত্রুটি মাফ করবেন)।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder