BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

আগে কে, দেশ নাকি রাজনীতি?

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১১:১২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১১:১২

খান বাহাদুর সেখ

আরও পড়ুন:

গত এগারো বছরে নরেন্দ্র মোদী, যোগী আদিত্যনাথ, অমিত শাহ, হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বা বকলমে মুসলিম বিদ্বেষী রাজনীতির ফলে বর্তমান সময়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ভারতে সনাতন হিন্দুধর্মের নিজস্ব ধর্মীয় আচার, সংস্কৃতি, সভ্যতার গরিমা ছেড়ে একশ্রেণির উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী অন্ধভক্ত সনাতন হিন্দুধর্ম ও মুসলিম বিদ্বেষকে প্রায় সমার্থক করে ফেলেছে। উক্ত লাইনটি শুনতে অপ্রিয় লাগলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ইহা অনেকাংশেই সত্য। বিজেপি আরএসএসের মনুবাদী মতাদর্শ ভিত্তিক মুসলিম, খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও দলিত বিদ্বেষ নির্ভর নব্য হিন্দুধর্ম এবং হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া সন্ত্রাসকে বছরের পর বছর ভোটের মাধ্যমে সমর্থন করছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ, যার মধ্যে লেখাপড়া জানা তথাকথিত যুক্তিবাদী এবং বড় বড় ডিগ্রিধারী উচ্চ শিক্ষিতদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি আজকাল খুব একটা অবাক করে না।

আরও পড়ুন:

বিজেপির আইটি সেল ও তাদের পোষ্য গদি মিডিয়ায় লাগাতার আরএসএসের মনঃপূত মুসলিম বিরোধী একের পর এক মিথ্যা মনগড়া এজেন্ডা বা ন্যারেটিভের প্রচার চলতেই থাকে। একটা ন্যারেটিভ শেষ হয় তো, আর একটা ন্যারেটিভ শুরু। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রথমবার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর লোকসভার প্রথম অধিবেশন থেকেই শুরু হয়েছিল তিন তালাক ন্যারেটিভ দিয়ে (যেন স্বাধীন ভারতে একমাত্র তিন তালাক প্রথাই সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল!) তারপর মিউট্যান্ট বা পরিবর্তনশীল জেহাদ থেকে সিএএ, এনআরসি, ইউসিসি থেকে ওয়াকফ সংশোধনী আইন হয়ে আজকের দিনে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এসআইআর বা ‘স্যার’ আইন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যেনতেন প্রকারে বিজেপির মূল টার্গেট কিন্তু এদেশের ২০-২২ কোটি মুসলিম, যারা আদিবাসী এবং দলিতদের চেয়েও সার্বিকভাবে পিছিয়ে আছে বা পিছিয়ে রাখা হয়েছে। ভাবলে আবাক হতে হয় যে, ১৪৬ কোটির দেশে পরপর দু’বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ২০-২২ কোটি ভারতীয় মুসলিমের (দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যাগুরু) কোন প্রতিনিধি ইচ্ছে করেই রাখেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরও নিয়মিত ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ এর ‘মন কী বাত’ শোনান ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ভারতের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:

নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিজেপি আইটি সেল ও গদি মিডিয়ার সৌজন্যে ভারতবর্ষে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি শব্দ হল ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জিহাদ’। আরবি ‘জিহাদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে আত্মিকভাবে লড়াই সংগ্রাম করে নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখা। এবং সর্বোপরি সব রকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিবাদ করা। সর্বপ্রথম জিহাদ হল নিজের মনের কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমান ভারতে জিহাদের যে কত রূপ, তা গদি মিডিয়া না থাকলে হয়ত এজন্মে জিহাদ সম্পর্কে অজানাই থেকে যেত! লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ, পপুলেশন জিহাদ, ভোট জিহাদ, আর্থিক জিহাদ, করোনা জিহাদ, ইউপিএসসি জিহাদ, কর্মসংস্থান জিহাদ, বন্যা জিহাদ, খাদ্য জিহাদ, দৃষ্টি জিহাদ, মেহেন্দি জিহাদ এবং জিহাদের ডিকশনারিতে শেষতম সংযোজন হল শরবত জিহাদ! হয়ত আসছে দিনে (আচ্ছে দিন নয় কিন্তু) গদি মিডিয়ায় জিহাদের এমন রূপ বেরোবে যে, বাপের জন্মে কোন মুসলিম কেন অমুসলিমরাও কল্পনা করতে পারবে না! স্বাধীনতার পর থেকে গত ৬০ বছরে ৮০ শতাংশ হিন্দু প্রধান দেশে ‘হিন্দু খাতরে মে হ্যায়’ কোনদিন শোনা যায়নি। কিন্তু তিন তিনবার হিন্দু হৃদয় সম্রাট প্রধানমন্ত্রী সহ দেশের একশো শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে হিন্দু আসীন থাকার পরেও ‘হিন্দু খাতরে মে হ্যায়!’ এর থেকে হাস্যকর আর কী হতে পারে! এই ন্যারেটিভ প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দুদের বেশিরভাগের মন-মননে ঢোকাতে সফল হয়েছে গদি মিডিয়া। গেল দশকে বিজেপি আরএসএসের উগ্র সমর্থকদের মুখে জয় শ্রীরাম ধ্বনির অপব্যবহার শুনলে নিশ্চিতভাবে ভগবান রামও হয়ত আজকের দিনে অখুশিই হতেন।

আরও পড়ুন:

গত দশ বছর ধরে কখনো জিহাদের নামে, কখনো রামের নামে, কখনো গরুর নামে কিংবা হিজাবের নামে সাধারণ ভারতীয় মুসলিমদের রাস্তা ঘাটে অযথা হেনস্থা, মারধর থেকে, খুনখারাবি (মব লিঞ্চিং) আজকাল দেশে খুবই সাধারণ মামুলি ব্যাপার। পুলিশ নিরাপত্তায় আইনি ডেসিবেল অমান্য করা কানফাটা শব্দে ডিজে বাজিয়ে মন্দির ছেড়ে কেবল মসজিদের সামনে নাচ, গান, গালাগালি, কটূক্তি থেকে জয় শ্রীরাম বলতে বলতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মসজিদের ছাদে উঠে উগ্র হিন্দুত্ববাদী আস্ফালন তো নতুন ভারতের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তারপর গেরুয়া বাহিনীর একপেশে উস্কানিতে দাঙ্গা হাঙ্গামা, পাথরবাজি, সরকারি জমির অবৈধ দখলদারিত্বের নামে যোগীবাবার ‘বুলডোজার জাস্টিস’ তো আছেই। সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিচারের আগেই কেবল সন্দেহের বশে মুসলিমদের ‘অবৈধ’ (?) ঘরবাড়ি, বস্তি, দোকান, মসজিদ-মাদ্রাসা বুলডোজার চালিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া নতুন ভারতে গর্বের ব্যাপার। আইন কানুন চুলোয় যাক; মুসলমানদের নাম-নিশানা মিটিয়ে দিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগী-দাওয়াই বলে অন্ধভক্তের দল খুশির ইমোজি দেয়!

আরও পড়ুন:

২০১৪-র লোকসভা ভোটে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে ছিল, বছরে ২ কোটি চাকরি, বিদেশ থেকে কালাধন ফিরিয়ে এনে প্রত্যেক ভারতীয়র একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া, চাষির আয় দ্বিগুণ করা, ১০০টা স্মার্ট সিটি বানানো, দেশজুড়ে বুলেট ট্রেন চালু করা, পেট্রোলের দাম কমিয়ে ৩৫ টাকা করা, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, ৫ ট্রিলিয়ন জিডিপি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, সিএএ-এনআরসি করে ভারতীয় মুসলিমদেরকে তাড়ানোর হাজারো গালভরা প্রতিশ্রুতি ১১ বছর পর আজ ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। অস্বাভাবিক বেকারত্ব, দুর্বল জিডিপি, নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণ সহ নিজেদের সর্বৈব প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই বিজেপি, আরএসএস ও গদি মিডিয়া মিলে গত ১১-১২ বছরে অন্ধ মুসলিম বিদ্বেষ বিষ ছড়িয়ে চলেছে।

আরও পড়ুন:

দেশে যত সমস্যা আছে তার জিম্মেদার যেন তেন প্রকারে মুসলিমদের ঘাড়ে চাপিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়া বরাবরই বিজেপির কাছে সবচেয়ে সহজলভ্য মেরুকরণ পন্থা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মেরুকরণ রাজনীতি করেই বিজেপি একের পর এক ভোটে জয় হাসিল করেছে। যদিও সর্বশেষ ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বিজেপি ইন্ডিয়া জোটের কাছে জোরালো ধাক্কা খেয়েছে। বিজেপির ভোট চুরি নিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তথ্য প্রমাণ-সহ দলিল পেশ এবং দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, জিডিপি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান বাঁচানোর ইতিবাচক কথা বলা রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে, যা আগামী দিনে দেশকে আশার আলো দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder