BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

সংবিধান সম্পর্কে কিছু সাধারণ কথা

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, রাত ৯:৪৪ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, রাত ৯:৪৪

মজিবুর রহমান

আরও পড়ুন:

সংবিধান (কনস্টিটিউশন) হল একটি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানের সমষ্টি। সকল ফৌজদারি অথবা দেওয়ানী আইনকে সংবিধানের অনুসারী হতে হয়। কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংস্থা বা সংগঠনের নিয়মাবলী সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে না। কোনো জাত বা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুশাসনও দেশের সংবিধানের পরিপন্থী হওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সুলিখিত ও সুনির্দিষ্ট সংবিধান গ্রন্থ থাকলেও ব্রিটেন, ইসরাইল ও নিউজিল্যান্ডের মতো কিছু দেশে কোনো একক সম্পূর্ণ সংবিধান নেই। এই দেশগুলোর শাসনব্যবস্থা বিভিন্ন আইন, আদালতের রায় ও প্রচলিত রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন:

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলি ১৯৪৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এবং এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তিন ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড পেথিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এভি আলেকজান্ডারকে নিয়ে গঠিত ক্যাবিনেট মিশন ১৯৪৬ সালের ২৪ মার্চ ভারতে আসে। ক্যাবিনেট মিশন ভারতের সংবিধান রচনা করার জন্য একটি সংবিধানসভা বা গণপরিষদ (কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) গঠনের প্রস্তাব করে। সংবিধানসভার মোট সদস্য সংখ্যা ঠিক হয় ৩৮৯। এর মধ্যে প্রাদেশিক আইনসভা থেকে ২৯৬ জন ও দেশীয় বা করদ রাজ্য (প্রিন্সলি স্টেট) থেকে ৯৩ জন। জুলাই-আগস্ট মাসে গণপরিষদ গঠন সম্পন্ন হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট দেশভাগ ও স্বাধীনতার পর ভারতে গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯৯; প্রাদেশিক প্রতিনিধি ২২৯ ও দেশীয় প্রতিনিধি ৭০জন।
১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর গণপরিষদের প্রবীণতম সদস্য সচ্চিদানন্দ সিনহার (১৮৭১-১৯৫০) সভাপতিত্বে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ১১ ডিসেম্বর স্থায়ী সভাপতি বা রাষ্ট্রপতি (প্রেসিডেন্ট) নির্বাচিত হন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (১৮৮৪-১৯৬৩)। সাংবিধানিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন বি.এন রাউ (১৮৮৭-১৯৫৩)। ১৩ ডিসেম্বর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু (১৮৮৯-১৯৬৪) ‘উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব’ (অবজেক্টিভ রেজোল্যুশন) পেশ করেন। ১৯৪৭ সালের ২২ জানুয়ারি প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয় এবং পরবর্তীতে সংবিধানের প্রস্তাবনা (প্রিয়েম্বল) হিসেবে যুক্ত হয়। প্রস্তাবনা হল বৃহৎ সংবিধানের একটি সংক্ষিপ্তসার।

আরও পড়ুন:


১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভের দিন থেকে সংবিধানসভা ভারতের সংসদ (পার্লামেন্ট) হিসেবেও কাজ করতে শুরু করে। সংসদের কাজ পরিচালনা করার জন্য জি.ভি মবলঙ্কর স্পিকার নির্বাচিত হন।
সংবিধান প্রণয়নের বিভিন্ন কাজ পরিচালনার জন্য গণপরিষদ ২২টি কমিটি গঠন করে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল খসড়া প্রণয়ন (ড্রাফটিং) কমিটি, যা গঠন করা হয় ১৯৪৭ সালের ২৯ আগস্ট। সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি হন ভারত সরকারের তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. বি.আর আম্বেদকর (১৮৯১-১৯৫৬)। কমিটির বাকি ছয়জন ছিলেন কে.এম মুন্সি, বি.এল মিটার, ডি.পি খৈতান, এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গার, আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার ও মোহাম্মদ সাদুল্লাহ। খসড়া কমিটি প্রতিবেদন পেশ করে ১৯৪৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। খসড়া প্রতিবেদনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বহু সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত এবং বেশ কিছু গৃহীত হয়। শেষমেশ, ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে ৩৯৫টি ধারা (আর্টিকেল), ৮টি তফসিল ও ২২টি অংশ (পার্ট) সংবলিত সংবিধান চূড়ান্ত করা হয় এবং তাতে স্বাক্ষর করেন সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ। গণপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা স্বাক্ষর করেন ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি। সংবিধান পুরোপুরি কার্যকর হয় ১৯৫০ এর ২৬ জানুয়ারি থেকে। ১৯৫১ সাল থেকে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র হিসেবে উদযাপন করা হয়। কিন্তু ১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত পরাধীন ভারতে ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হত। ২০১৫ সাল থেকে ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস বা জাতীয় আইন দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।
সংবিধানের প্রস্তাবনায় ২৬.১১.১৯৪৯ তারিখটির উল্লেখ রয়েছে- “আমরা ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করছি এবং তার নাগরিকদের জন্য: সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধার সমতা সৃষ্টি এবং তাদের সকলের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে তুলে ব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুনিশ্চিত করার জন্য গণপরিষদ আজ ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর এই সংবিধান গ্রহণ ও বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুটি ১৯৭৬ সালে সংযোজন করা হয়েছে।
ভারতের সংবিধানের মূল কপি লেখা হয় ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায়। ইংরেজি কপির ক্যালিগ্রাফার ছিলেন প্রেমবিহারী নারায়ণ রায়জাদা। হিন্দি ক্যালিগ্রাফি করেন বসন্ত কুমার বৈদ্য। প্রস্তাবনা পৃষ্ঠার নকশা তৈরি করেন বিহার রাম মনোহর সিনহা এবং জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভ অঙ্কন করেন দীননাথ ভার্গব। সংবিধানের প্রতিটি অংশের প্রারম্ভে একটি করে চিত্রকর্ম রয়েছে। এগুলো সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে চিত্রিত করে। চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: মহেঞ্জোদারোর স্নানাগার, বৈদিক যুগের গুরুকুল ব্যবস্থা, রামায়ণ ও মহাভারতের দৃশ্য, গৌতম বুদ্ধ, ভগবান মহাবীর, সম্রাট অশোক, গুপ্ত আমলের শিল্প, বিক্রমাদিত্যের রাজসভা, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজা ভরত, নটরাজের মূর্তি, ভাগীরথের তপস্যা, আকবরের দরবার, ছত্রপতি শিবাজী ও গুরু গোবিন্দ সিং, রানী লক্ষ্মী বাঈ ও টিপু সুলতান, মহাত্মা গান্ধীর ডাণ্ডি অভিযান, নোয়াখালীতে গান্ধীজি, আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, হিমালয়ের দৃশ্য, থর মরুভূমির দৃশ্য, ভারত মহাসাগরের দৃশ্য। চিত্রগুলো কল্পনা ও সম্পাদনা করেন নন্দলাল বসু ও তাঁর সহযোগী শিল্পীবৃন্দ।
সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান তিন স্তম্ভ — আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে একটি ভারসাম্যযুক্ত এক্তিয়ার বণ্টন করে দিয়েছে। সাধারণত সেটা সবাই মেনে চলে। সংবিধানে দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ, সম্প্রদায় ও ভাষাভাষী মানুষের প্রতি মোটামুটিভাবে সমান দৃষ্টি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হয়নি। আমাদের দেশের সুবৃহৎ সংবিধানে রাষ্ট্রীয় জীবনের খুঁটিনাটি প্রায় সব বিষয়েই আলোকপাত করা হয়েছে।
যেখানে বৈচিত্র্য যত বেশি, সেখানে সমস্যা ও জটিলতাও তত বেশি। এব্যাপারে গোটা বিশ্বে আমাদের দেশের কোনো জুড়ি নেই। সংবিধান হল দেশের সর্বোচ্চ আইন। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গুরুত্বপূর্ণ আইন তথা সংবিধান পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। সংবিধানে সেই সংস্থান রাখা রয়েছে। সংবিধানের ৮০ শতাংশ ধারা সাধারণ আইন পাসের পদ্ধতিতে সংশোধন করা যায়। কিন্তু ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ১০৬ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আমাদের দেশে সংবিধান সংশোধনের প্রবণতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। ১৭৮৯ সালে প্রবর্তনের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে মাত্র ২৭ বার।

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি ভারতের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের কর্মকাণ্ডে একটা গুরুতর অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার মতো ইতিবাচক গুণাবলী অপসৃত হতে দেখা যাচ্ছে। বহুত্ববাদের বদলে একত্ববাদ বা সর্বগ্রাসীবাদের উত্থান ঘটছে। গণতন্ত্রের অঙ্গনে একনায়কতন্ত্র পুষ্ট হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিপক্ষ হিসেবে সাম্প্রদায়িকতা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সংবিধানের ফাঁকফোকর ব্যবহার করেই সংবিধান বিরোধী কাজ করা হচ্ছে। আসলে সরকার আর সাধারণ মানুষের সদিচ্ছা ছাড়া সংবিধানের স্পিরিটকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:

(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder