BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

সংবিধান সম্পর্কে কিছু সাধারণ কথা

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, রাত ৯:৪৪ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, রাত ৯:৪৪

মজিবুর রহমান

আরও পড়ুন:

সংবিধান (কনস্টিটিউশন) হল একটি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানের সমষ্টি। সকল ফৌজদারি অথবা দেওয়ানী আইনকে সংবিধানের অনুসারী হতে হয়। কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংস্থা বা সংগঠনের নিয়মাবলী সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে না। কোনো জাত বা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুশাসনও দেশের সংবিধানের পরিপন্থী হওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সুলিখিত ও সুনির্দিষ্ট সংবিধান গ্রন্থ থাকলেও ব্রিটেন, ইসরাইল ও নিউজিল্যান্ডের মতো কিছু দেশে কোনো একক সম্পূর্ণ সংবিধান নেই। এই দেশগুলোর শাসনব্যবস্থা বিভিন্ন আইন, আদালতের রায় ও প্রচলিত রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন:

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলি ১৯৪৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এবং এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তিন ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড পেথিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এভি আলেকজান্ডারকে নিয়ে গঠিত ক্যাবিনেট মিশন ১৯৪৬ সালের ২৪ মার্চ ভারতে আসে। ক্যাবিনেট মিশন ভারতের সংবিধান রচনা করার জন্য একটি সংবিধানসভা বা গণপরিষদ (কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) গঠনের প্রস্তাব করে। সংবিধানসভার মোট সদস্য সংখ্যা ঠিক হয় ৩৮৯। এর মধ্যে প্রাদেশিক আইনসভা থেকে ২৯৬ জন ও দেশীয় বা করদ রাজ্য (প্রিন্সলি স্টেট) থেকে ৯৩ জন। জুলাই-আগস্ট মাসে গণপরিষদ গঠন সম্পন্ন হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট দেশভাগ ও স্বাধীনতার পর ভারতে গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯৯; প্রাদেশিক প্রতিনিধি ২২৯ ও দেশীয় প্রতিনিধি ৭০জন।
১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর গণপরিষদের প্রবীণতম সদস্য সচ্চিদানন্দ সিনহার (১৮৭১-১৯৫০) সভাপতিত্বে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ১১ ডিসেম্বর স্থায়ী সভাপতি বা রাষ্ট্রপতি (প্রেসিডেন্ট) নির্বাচিত হন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (১৮৮৪-১৯৬৩)। সাংবিধানিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন বি.এন রাউ (১৮৮৭-১৯৫৩)। ১৩ ডিসেম্বর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু (১৮৮৯-১৯৬৪) ‘উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব’ (অবজেক্টিভ রেজোল্যুশন) পেশ করেন। ১৯৪৭ সালের ২২ জানুয়ারি প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয় এবং পরবর্তীতে সংবিধানের প্রস্তাবনা (প্রিয়েম্বল) হিসেবে যুক্ত হয়। প্রস্তাবনা হল বৃহৎ সংবিধানের একটি সংক্ষিপ্তসার।

আরও পড়ুন:


১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভের দিন থেকে সংবিধানসভা ভারতের সংসদ (পার্লামেন্ট) হিসেবেও কাজ করতে শুরু করে। সংসদের কাজ পরিচালনা করার জন্য জি.ভি মবলঙ্কর স্পিকার নির্বাচিত হন।
সংবিধান প্রণয়নের বিভিন্ন কাজ পরিচালনার জন্য গণপরিষদ ২২টি কমিটি গঠন করে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল খসড়া প্রণয়ন (ড্রাফটিং) কমিটি, যা গঠন করা হয় ১৯৪৭ সালের ২৯ আগস্ট। সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি হন ভারত সরকারের তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. বি.আর আম্বেদকর (১৮৯১-১৯৫৬)। কমিটির বাকি ছয়জন ছিলেন কে.এম মুন্সি, বি.এল মিটার, ডি.পি খৈতান, এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গার, আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার ও মোহাম্মদ সাদুল্লাহ। খসড়া কমিটি প্রতিবেদন পেশ করে ১৯৪৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। খসড়া প্রতিবেদনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বহু সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত এবং বেশ কিছু গৃহীত হয়। শেষমেশ, ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে ৩৯৫টি ধারা (আর্টিকেল), ৮টি তফসিল ও ২২টি অংশ (পার্ট) সংবলিত সংবিধান চূড়ান্ত করা হয় এবং তাতে স্বাক্ষর করেন সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ। গণপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা স্বাক্ষর করেন ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি। সংবিধান পুরোপুরি কার্যকর হয় ১৯৫০ এর ২৬ জানুয়ারি থেকে। ১৯৫১ সাল থেকে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র হিসেবে উদযাপন করা হয়। কিন্তু ১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত পরাধীন ভারতে ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হত। ২০১৫ সাল থেকে ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস বা জাতীয় আইন দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।
সংবিধানের প্রস্তাবনায় ২৬.১১.১৯৪৯ তারিখটির উল্লেখ রয়েছে- “আমরা ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করছি এবং তার নাগরিকদের জন্য: সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধার সমতা সৃষ্টি এবং তাদের সকলের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে তুলে ব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুনিশ্চিত করার জন্য গণপরিষদ আজ ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর এই সংবিধান গ্রহণ ও বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুটি ১৯৭৬ সালে সংযোজন করা হয়েছে।
ভারতের সংবিধানের মূল কপি লেখা হয় ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায়। ইংরেজি কপির ক্যালিগ্রাফার ছিলেন প্রেমবিহারী নারায়ণ রায়জাদা। হিন্দি ক্যালিগ্রাফি করেন বসন্ত কুমার বৈদ্য। প্রস্তাবনা পৃষ্ঠার নকশা তৈরি করেন বিহার রাম মনোহর সিনহা এবং জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভ অঙ্কন করেন দীননাথ ভার্গব। সংবিধানের প্রতিটি অংশের প্রারম্ভে একটি করে চিত্রকর্ম রয়েছে। এগুলো সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে চিত্রিত করে। চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: মহেঞ্জোদারোর স্নানাগার, বৈদিক যুগের গুরুকুল ব্যবস্থা, রামায়ণ ও মহাভারতের দৃশ্য, গৌতম বুদ্ধ, ভগবান মহাবীর, সম্রাট অশোক, গুপ্ত আমলের শিল্প, বিক্রমাদিত্যের রাজসভা, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজা ভরত, নটরাজের মূর্তি, ভাগীরথের তপস্যা, আকবরের দরবার, ছত্রপতি শিবাজী ও গুরু গোবিন্দ সিং, রানী লক্ষ্মী বাঈ ও টিপু সুলতান, মহাত্মা গান্ধীর ডাণ্ডি অভিযান, নোয়াখালীতে গান্ধীজি, আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, হিমালয়ের দৃশ্য, থর মরুভূমির দৃশ্য, ভারত মহাসাগরের দৃশ্য। চিত্রগুলো কল্পনা ও সম্পাদনা করেন নন্দলাল বসু ও তাঁর সহযোগী শিল্পীবৃন্দ।
সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান তিন স্তম্ভ — আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে একটি ভারসাম্যযুক্ত এক্তিয়ার বণ্টন করে দিয়েছে। সাধারণত সেটা সবাই মেনে চলে। সংবিধানে দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ, সম্প্রদায় ও ভাষাভাষী মানুষের প্রতি মোটামুটিভাবে সমান দৃষ্টি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হয়নি। আমাদের দেশের সুবৃহৎ সংবিধানে রাষ্ট্রীয় জীবনের খুঁটিনাটি প্রায় সব বিষয়েই আলোকপাত করা হয়েছে।
যেখানে বৈচিত্র্য যত বেশি, সেখানে সমস্যা ও জটিলতাও তত বেশি। এব্যাপারে গোটা বিশ্বে আমাদের দেশের কোনো জুড়ি নেই। সংবিধান হল দেশের সর্বোচ্চ আইন। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গুরুত্বপূর্ণ আইন তথা সংবিধান পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। সংবিধানে সেই সংস্থান রাখা রয়েছে। সংবিধানের ৮০ শতাংশ ধারা সাধারণ আইন পাসের পদ্ধতিতে সংশোধন করা যায়। কিন্তু ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ১০৬ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আমাদের দেশে সংবিধান সংশোধনের প্রবণতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। ১৭৮৯ সালে প্রবর্তনের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে মাত্র ২৭ বার।

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি ভারতের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের কর্মকাণ্ডে একটা গুরুতর অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার মতো ইতিবাচক গুণাবলী অপসৃত হতে দেখা যাচ্ছে। বহুত্ববাদের বদলে একত্ববাদ বা সর্বগ্রাসীবাদের উত্থান ঘটছে। গণতন্ত্রের অঙ্গনে একনায়কতন্ত্র পুষ্ট হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিপক্ষ হিসেবে সাম্প্রদায়িকতা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সংবিধানের ফাঁকফোকর ব্যবহার করেই সংবিধান বিরোধী কাজ করা হচ্ছে। আসলে সরকার আর সাধারণ মানুষের সদিচ্ছা ছাড়া সংবিধানের স্পিরিটকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:

(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder