প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয়
নতুন পয়গাম, এস রোজলিন, কলকাতা: মা-বাবারা দেখা যায়, কখনো কখনো বাচ্চাদের খাবারের বিষয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কোনো বাচ্চা খুব বেশি বা অস্বাভাবিক খাবার খাচ্ছে, আবার কোন কোন বাচ্চা দেখা যায় একেবারেই খেতে চাইছে না। এরকম সিমটম দেখা দিলে ২টো হরমোন টেস্ট করাতে হয় — Leptin এবং Ghrelin.
Leptin: শরীরে যে ফ্যাট আছে, সেই ফ্যাট সেল থেকে বের হওয়া একটা হরমোন, যার নাম লেপটিন। এই হরমোন ব্রেনকে বার্তা পাঠায় এবং শরীরে ও ব্রেনে কতটা শক্তি জমা আছে এবং কখন খাওয়া বন্ধ করতে হবে, এই খবরটা ব্রেনে পাঠায়। এটা সরাসরি ব্রেনের হাইপোথ্যালামাসকে বার্তা পাঠায়। কাজ: এর প্রধান কাজ হল ক্ষুধা কমানো, শরীরে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা, মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করা, খাবার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা। নরমাল রেঞ্জ: পুরুষদের .৫ থেকে ১৩ NG/ml এবং মহিলাদের: .৫ থেকে ১৫ NG/ml. তবে এর নরমাল রেঞ্জ শরীরের ফ্যাট বা চর্বির উপর নির্ভর করে। যার শরীরে যত চর্বি বেশি বা কম, তার ক্ষেত্রে লেপটিনের একটু হেরফের হবে। লেপটিন বাড়লে দিন দিন মোটা হয়ে যাবে, মেটাবলিক সমস্যা আসবে। আবার কমলে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগবে, ওজন কমে যাবে, শক্তির ঘাটতি হবে, দুর্বলতা দেখা দেবে।
Ghrelin: এর উৎপত্তিস্থল স্টমাকের ওয়ালে, বিশেষ করে স্টমাকের উপরের ফান্ডাস অঞ্চলে। তবে স্মল ইন্টেস্টাইন প্যাংক্রিয়াস, পিটুইটারিতেও অল্প অল্প পাওয়া যায়। নরমাল রেঞ্জ: ৫০০ থেকে ১০০০ PG/ml. কাজ: ক্ষুধা বাড়ানো। ব্রেনের হাইপোথ্যালামাসকে সংকেত পাঠায়, ফলে ক্ষুধা অনুভব করে। খালি পেটে এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ভর্তি পেটে এর মাত্রা কমে। খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের শক্তি বাড়ায়। এটি পিটুইটারিকে গ্রোথ হরমোন নিঃসরণ করতে সংকেত দেয়। শরীরের সমস্ত শক্তি আসে খাদ্যের মাধ্যমে। বাড়লে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। এবং কমলে ক্ষুধা কমে যায়, ৫০০-র নিচে নেমে গেলে বুঝবেন, এর জন্যই খাচ্ছে না। হরমোন কম আছে বলে হাইপোথ্যালামাসকে সংকেত দিতে পারছে না। শরীরের ঠান্ডা-গরম লাগছে — এই অনুভব হাইপোথ্যালামাস করায়। হাইপোথ্যালামাস ঘুম অনুভব করায়।
দুটো হরমোন নিয়ন্ত্রণের উপায়: পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন। প্রোটিন বা ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া। এই সমস্ত বিষয় মেনে চললে তবেই মিলবে বাচ্চার সমস্যার সমাধান।








