বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক
নতুন পয়গাম: বৃষ্টিতে স্নান করেননি, এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। কিন্তু বৃষ্টিতে ভেজা শুধু আনন্দের বিষয় নয়; এর অনেক উপকারিতাও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের মন-মেজাজ পরিবর্তনের সংযোগ রয়েছে। বৃষ্টি বাতাস থেকে ক্ষতিকারক উপাদান সরিয়ে দেয় ও ঘ্রাণ স্মৃতিশক্তি প্রখর করে। বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরাটোনিন হরমোন ক্ষরণ হয়। এতে কিছুটা হলেও দূর হয় মানসিক অবসাদ। এছাড়া বৃষ্টির সময় পরিবেশে যে ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে, তাকে বলা হয় পেট্রিকোর। এটি মানুষকে আরও চনমনে করে তুলতে সহায়তা করে।বৃষ্টিতে প্রাকৃতিকভাবে অ্যালকালাইন থাকে, যা চুলের ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এটি চুলের গোড়া থেকে ময়লা ও খুশকি দূর করে। তাই নিয়মিত বৃষ্টিতে ভিজলে রুক্ষ চুল অনেক বেশি স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয় ও চকচকে হয়।
আকাশ থেকে ঝরে পরা বৃষ্টির জল খুব হালকা এবং অ্যালকালাইন পিএইচ সমৃদ্ধ। বৃষ্টির জলে কিছু অণুজীব থাকে, যারা তাদের বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিটামিন বি-১২ তৈরি করে। বৃষ্টির জল পান করলে শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। এটি রক্তের পিএইচ লেভেলকে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে। ফলে অ্যাসিডিটির মাত্রা কমে যায় এবং রোগের প্রকোপ কমে। বৃষ্টির আরেকটি অন্যতম কার্যকারিতা হল, কানের সমস্যা দূর করা। কানের ব্যথা ও ইনফেকশন দূর করতে বৃষ্টি উপকারী। তবে মাত্রাতিরিক্ত ভিজলে আবার ঠান্ডা লেগে হীতে বিপরীত হতে পারে।
বৃষ্টির ফোঁটা যখন একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় বা কোনো তলে আঘাত করে ভেঙে যায়, তখন নেগেটিভ আয়ন তৈরি হয়। এগুলো মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং আলফা ওয়েভ বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের আনন্দিত ও শিথিল বোধ করতে সাহায্য করে। বৃষ্টির পর মাটি থেকে যে সোঁদা গন্ধ বের হয়, তাকে বলা হয় পেট্রিকোর। বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাচীনকালে পেট্রিকোর মানেই ছিল সুপেয় পানির প্রাচুর্য, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের নিরাপদ ও শান্ত বোধ করাত।








