তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ
নতুন পয়গাম, কৃষ্ণনগর, ১৭ মে: তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান সরজিৎ বিশ্বাস। শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ, রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসারও অভিযোগ উঠেছিল। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সরজিতের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পুলিশকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল জমানায় দীর্ঘ দিন পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্ব সামলানো সরজিৎবাবু বর্তমানে কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষের পদে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দিগনগরের বিভিন্ন কলকারখানা এবং মদ তৈরির কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় অর্থাৎ তোলাবাজির অভিযোগ আসছিল। এই মর্মে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এরপরেই শনিবার রাতে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
যদিও এই গ্রেপ্তারির পিছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন ধৃত তৃণমূল নেতা। এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সরজিৎবাবু বলেন, “আমায় কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে আমি নিজেই জানি না। শনিবার রাতে হঠাৎ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়। আমি দীর্ঘ সময় পঞ্চায়েত প্রধান ছিলাম, বর্তমানে কৃষি কর্মাধ্যক্ষ। আমার বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। কারও থেকে কোনও দিন একটা টাকাও নিইনি। স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই কাজ করা হচ্ছে।” ধৃত নেতার এই দাবিকে অবশ্য বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। এই বিষয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, “তৃণমূলের ওই কৃষি কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের থেকে নিয়মিত তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি সরকার আসার পর শ্রমিকরা সাহস করে অভিযোগ জানানোর জায়গায় পৌঁছেছেন এবং তার ভিত্তিতেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। এতদিন তৃণমূলের জমানায় পুলিশের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল। রাজ্যে মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই পুলিশ নিজের স্বাভাবিক রূপে ফিরে এসে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।”








