BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানবিক অধিকারের নীরব প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ এই শব্দ বন্ধনীর উচ্চারণে যেন এক অদৃশ্য দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকে। সমাজের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো অগণিত পরিবার তাদের সন্তানদের হাত ধরে প্রতিদিন যে অন্তহীন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে হাঁটে, সেই সংগ্রামের শব্দ বাইরের বিশ্ব খুব কমই শোনে। অথচ এই শিশুরাই মানবজাতির এমন এক আয়না, যেখানে সভ্যতা তার প্রকৃত মানবিকতার পরিচয় পরীক্ষা করতে পারে। তারা দুর্বল নয়, তারা অক্ষম নয়; বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিই তাদের দুর্বলতার অভিধানে ঠেলে দেয়। আমরা কি তাদের চোখে চোখ রেখে বলতে পারি — ‘তুমিও আমাদের মতোই নাগরিক, তোমারও সমান অধিকার আছে, সমান মর্যাদা আছে’?

আরও পড়ুন:

সভ্যতার মূল ভিত্তি করুণা নয়, ন্যায়। করুণা মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি করে; ন্যায় মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই সত্য আরও প্রকট। তারা অনুগ্রহের পাত্র নয় যে, আমরা চাইলে তাদের সুযোগ দেব, না চাইলে সরিয়ে রাখব। তারা অধিকারবঞ্চিত সেই শিশুর দল, যারা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই সমাজের বৈষম্য ও অযত্নের আঁধারের মুখোমুখি হয়। কিন্তু আমরা ভাবি কি? তারা নীরবে বেঁচে থাকে, তারা সমাজের বোঝা — এমন ধারণা আমাদের মধ্যে এখনও রয়ে গেছে। অথচ এই ধারণাই সবচেয়ে বড় অমানবিকতা।
ঈশোপনিষদের দ্বিতীয় মন্ত্রে বলা হয়েছে, মানুষ যেন শতবর্ষ বাঁচে এবং কর্ম করে বাঁচে। জীবনকে শুধু টিকে থাকা নয়, অর্থপূর্ণ হওয়ার মধ্যেই তার পূর্ণতা। কিন্তু যারা জন্মসূত্রে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্মজীবনের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তারা কি তবে অপূর্ণ? তাদের জীবনের মানে কি শুধু দীর্ঘায়ু? নিশ্চয়ই নয়। কারণ, কর্ম মানে কেবল চাকরি বা আয়-রোজগার নয়; কর্ম মানে নিজস্ব সম্ভাবনার পূর্ণতা অর্জন, নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা, নিজের আনন্দ-দুঃখকে অনুভব করার ক্ষমতা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও এই আনন্দ ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে পৃথিবীতে আসে। সমাজ সেই অধিকারকে স্বীকৃতি না দিলে দোষ কার?

আরও পড়ুন:

দোষ সেই সমাজের, যা এই শিশুদের দুর্বলতার দিকে চোখ রাখে, শক্তির দিকটি অবহেলা করে। দোষ সেই দৃষ্টিভঙ্গির, যা ভাবে দয়া করলেই যেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ দরকার সহানুভূতি নয়, সমানাধিকার। দরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনা নয়, সমান সুযোগ। দরকার দয়া নয়, মানবিক সম্মান।

আরও পড়ুন:

আমাদের রাষ্ট্র কি সেই সম্মানের ভাষা জানে? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি জানে কীভাবে এই শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হয়? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর, না। শহরের বড় বড় স্কুলেও আজ এমন শিক্ষক বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং সেবা নেই, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অপরিহার্য। গ্রামীণ স্কুলগুলোর কথা না বলাই ভাল, সেখানে এই শিশুদের পরিচর্যার কোনও পরিকাঠামোই নেই। তারা পাঠ্যবইয়ের পাতায় যোগ্যতা খোঁজে, বাস্তব জীবনের ক্ষমতা ও প্রতিভাকে উপেক্ষা করে। ফলত, এই শিশুরা অল্প বয়সেই বুঝে ফেলে, সমাজ তাদের মতো করে তৈরি নয়। তারা যেন অনাহুত অতিথি, যাদের জন্য দরজা আছে, কিন্তু প্রবেশাধিকার নেই।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আমরা কি সত্যিই জানি, এদের ভেতরে কত আলোর সঞ্চার লুকিয়ে থাকে? কোনও শিশু জন্মগতভাবে অক্ষম নয়; বরং সমাজের অক্ষমতা তাকে অক্ষম করে তোলে। কেউ দেখতে পায় না, তার আঙুলের আঁচড় দিয়ে কাগজে কীভাবে সে নিজের পৃথিবী রচনা করে। কেউ শোনে না তার ভাঙা শব্দের ভেতর কী গভীর অনুভব লুকিয়ে আছে। কেউ উপলব্ধি করে না, তার নীরবতায় কী অদৃশ্য আকুলতা ভেসে থাকে। আমরা যেন চোখ খোলা রেখেই তাদের অদৃশ্য করে দিই।

আরও পড়ুন:

আজও বহু পরিবার আছে, যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে নিয়ে শান্তিতে রাস্তায় বেরোতে পারে না। সমাজের দৃষ্টিতে যেন অব্যক্ত উপহাসের ছায়া ভাসে, “ওদের জীবনই বা জীবনের মতো কি?” অথচ সত্য হল, এই শিশুদের জীবনই আমাদের শেখায় মানবিকতার সবচেয়ে বড় পাঠ ধৈর্য, নিষ্ঠা, সহানুভূতি এবং ভালবাসার গভীরতম রূপ। তাদের প্রতিটি হাসি জয়ের হাসি, তাদের প্রতিটি অগ্রগতি সংগ্রামের ধ্বনি। তাদের জীবনের প্রতিটি হাঁটা, প্রতিটি উচ্চারণ, মানুষের ইচ্ছাশক্তির শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

আরও পড়ুন:

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাষ্ট্র কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে? সমাজ কি তাদের গ্রহণ করেছে? সরকার কি তাদের জন্য নীতিগতভাবে যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছে? আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশে এখনও সমন্বয়িত শিখন (Inclusive Education) পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হয়নি। স্কুলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, থেরাপি সুবিধা, বিশেষ শিক্ষকের নিয়োগ, পড়াশোনার জন্য আলাদা সহায়ক ব্যবস্থা, এসব এখনও নীতি হিসেবে আছে, বাস্তবে নেই। ফলে শিক্ষাবঞ্চিত হওয়া ছাড়া এই শিশুদের সামনে কোনও রাস্তা খোলা থাকে না।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসা পরিকাঠামোর কথা ভাবলে দেখা যায়, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবা নিয়মিতভাবে দিতে পারে না। রাষ্ট্র যদি তাদের জন্য বিনামূল্যে এবং সহজলভ্য সেবা প্রদান না করে, তবে এই শিশুরা শৈশব থেকেই পিছিয়ে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। সমাজের চোখে তারা তখন আরও “বোঝা”হয়ে উঠবে। অথচ শুরুতেই যদি যথাযথ সাহায্য পায়, তবে এই শিশুরাই পরবর্তীতে সমাজের অন্যতম সক্রিয় নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে নানা উদাহরণ আছে, ডাউন সিনড্রোমের শিশু শিল্পের জগতে দখল তৈরি করেছে, অটিজমের শিশু কম্পিউটার কোডিংয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে, শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণ বিশ্ব সঙ্গীতের মঞ্চ কাঁপিয়েছে, দৃষ্টিহীন লেখক সৃষ্টি করেছেন অমর সাহিত্য। তাহলে আমাদের চোখে প্রতিবন্ধকতা এত বড় হয়ে ওঠে কেন? কারণ, আমরা তাদের সাফল্যের পথ রুদ্ধ করে রেখেছি, সুযোগ না দিয়ে তাদের অযোগ্যতার পাল্লা ভারী করে তুলেছি। সমাজের এই স্থূল মানসিকতাই আজ ভাঙা জরুরি।

আরও পড়ুন:

প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মতো করে অনন্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সেই অনন্যতারই প্রকাশ। তাদের বোঝা যায় না সহজ চোখে; বোঝা যায় হৃদয়ের চোখে। কিন্তু আমরা কি সেই চোখ দিয়ে দেখি? যেদিন আমরা দেখব, সেদিনই সমাজের প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হবে।

আরও পড়ুন:

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বদলাতে হবে। শিক্ষা যেন না হয় বাছাইয়ের হাতিয়ার, শুধু দ্রুত শেখে, বেশি নম্বর পায়, ভাল কথা বলে — এই মানদণ্ডে সবাইকে পরিমাপ করা মানবিকতার পরিপন্থী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আলাদা পাঠক্রম নয়; পাঠক্রমকে এমনভাবে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের মতো করে শেখার সুযোগ পায়। প্রত্যেক স্কুলে বিশেষ শিক্ষক, থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর — এগুলো কেবল সুবিধা নয়, অপরিহার্যতা। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ শিশু-মনোবিদ্যা বিভাগ থাকা উচিত। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সংরক্ষণ থাকা উচিত এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হল সংবেদনশীলতা থাকা উচিত।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আইন ও পরিকাঠামোর বাইরেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র আছে, মানসিকতা। সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কোনও নীতি কার্যকর হবে না। আমরা কি আমাদের সন্তানদের শিখিয়ে দিই, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বন্ধুর পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়? আমরা কি নিজেদের মধ্যে সেই সাহস তৈরি করেছি, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার? আমরা কি এই শিশুদের প্রতিবন্ধকতা নয়, তাদের সম্ভাবনাকে দেখতে শিখেছি?

আরও পড়ুন:

যে সমাজ দুর্বলকে গ্রহণ করতে পারে না, সে সমাজ কখনও শক্তিশালী হয় না। যে রাষ্ট্র নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি অংশকে অবহেলা করে, সে রাষ্ট্র কখনও উন্নত হতে পারে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু আমাদের দায় নয়; তারা আমাদের সত্তার অংশ। তাদের জীবনেই আমাদের মানবিকতার পরীক্ষা। আমরা কি পরীক্ষা দিচ্ছি? নাকি ফেল করছি প্রতিদিন?

আরও পড়ুন:

আমাদের আজ প্রতিজ্ঞা করা উচিত, প্রত্যেক শিশুর হাত ধরে আমরা এমন সমাজ গড়ব, যেখানে কোনও শিশু নিজেকে বোঝা মনে করবে না। বরং ভাববে, “আমি গুরুত্বপূর্ণ, আমি সক্ষম, আমি এই সমাজের গর্ব।”যেদিন আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্কুল, পরিবার — সবাই একসঙ্গে এই ভাষায় কথা বলবে, সেদিনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চোখে আমরা অদৃশ্য এক আলো দেখতে পাব — মানবিকতার আলো, মর্যাদার আলো, সমানাধিকারের আলো।

আরও পড়ুন:

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সহজ, আমরা কি এমন এক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই সমান? যদি চাই, তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো কোনও দয়া নয়, কোনও উপকার নয়, এটি আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। কারণ, তারা বাঁচতে চায়, হাসতে চায়, শিখতে চায়, এগোতে চায় অন্য সবার মতো। আমরা শুধু তাদের হাতটা ধরে রাখব — সেই হাতই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, আমাদের চেয়েও অনেক দূরে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder