BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানবিক অধিকারের নীরব প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ এই শব্দ বন্ধনীর উচ্চারণে যেন এক অদৃশ্য দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকে। সমাজের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো অগণিত পরিবার তাদের সন্তানদের হাত ধরে প্রতিদিন যে অন্তহীন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে হাঁটে, সেই সংগ্রামের শব্দ বাইরের বিশ্ব খুব কমই শোনে। অথচ এই শিশুরাই মানবজাতির এমন এক আয়না, যেখানে সভ্যতা তার প্রকৃত মানবিকতার পরিচয় পরীক্ষা করতে পারে। তারা দুর্বল নয়, তারা অক্ষম নয়; বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিই তাদের দুর্বলতার অভিধানে ঠেলে দেয়। আমরা কি তাদের চোখে চোখ রেখে বলতে পারি — ‘তুমিও আমাদের মতোই নাগরিক, তোমারও সমান অধিকার আছে, সমান মর্যাদা আছে’?

আরও পড়ুন:

সভ্যতার মূল ভিত্তি করুণা নয়, ন্যায়। করুণা মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি করে; ন্যায় মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই সত্য আরও প্রকট। তারা অনুগ্রহের পাত্র নয় যে, আমরা চাইলে তাদের সুযোগ দেব, না চাইলে সরিয়ে রাখব। তারা অধিকারবঞ্চিত সেই শিশুর দল, যারা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই সমাজের বৈষম্য ও অযত্নের আঁধারের মুখোমুখি হয়। কিন্তু আমরা ভাবি কি? তারা নীরবে বেঁচে থাকে, তারা সমাজের বোঝা — এমন ধারণা আমাদের মধ্যে এখনও রয়ে গেছে। অথচ এই ধারণাই সবচেয়ে বড় অমানবিকতা।
ঈশোপনিষদের দ্বিতীয় মন্ত্রে বলা হয়েছে, মানুষ যেন শতবর্ষ বাঁচে এবং কর্ম করে বাঁচে। জীবনকে শুধু টিকে থাকা নয়, অর্থপূর্ণ হওয়ার মধ্যেই তার পূর্ণতা। কিন্তু যারা জন্মসূত্রে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্মজীবনের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তারা কি তবে অপূর্ণ? তাদের জীবনের মানে কি শুধু দীর্ঘায়ু? নিশ্চয়ই নয়। কারণ, কর্ম মানে কেবল চাকরি বা আয়-রোজগার নয়; কর্ম মানে নিজস্ব সম্ভাবনার পূর্ণতা অর্জন, নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা, নিজের আনন্দ-দুঃখকে অনুভব করার ক্ষমতা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও এই আনন্দ ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে পৃথিবীতে আসে। সমাজ সেই অধিকারকে স্বীকৃতি না দিলে দোষ কার?

আরও পড়ুন:

দোষ সেই সমাজের, যা এই শিশুদের দুর্বলতার দিকে চোখ রাখে, শক্তির দিকটি অবহেলা করে। দোষ সেই দৃষ্টিভঙ্গির, যা ভাবে দয়া করলেই যেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ দরকার সহানুভূতি নয়, সমানাধিকার। দরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনা নয়, সমান সুযোগ। দরকার দয়া নয়, মানবিক সম্মান।

আরও পড়ুন:

আমাদের রাষ্ট্র কি সেই সম্মানের ভাষা জানে? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি জানে কীভাবে এই শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হয়? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর, না। শহরের বড় বড় স্কুলেও আজ এমন শিক্ষক বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং সেবা নেই, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অপরিহার্য। গ্রামীণ স্কুলগুলোর কথা না বলাই ভাল, সেখানে এই শিশুদের পরিচর্যার কোনও পরিকাঠামোই নেই। তারা পাঠ্যবইয়ের পাতায় যোগ্যতা খোঁজে, বাস্তব জীবনের ক্ষমতা ও প্রতিভাকে উপেক্ষা করে। ফলত, এই শিশুরা অল্প বয়সেই বুঝে ফেলে, সমাজ তাদের মতো করে তৈরি নয়। তারা যেন অনাহুত অতিথি, যাদের জন্য দরজা আছে, কিন্তু প্রবেশাধিকার নেই।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আমরা কি সত্যিই জানি, এদের ভেতরে কত আলোর সঞ্চার লুকিয়ে থাকে? কোনও শিশু জন্মগতভাবে অক্ষম নয়; বরং সমাজের অক্ষমতা তাকে অক্ষম করে তোলে। কেউ দেখতে পায় না, তার আঙুলের আঁচড় দিয়ে কাগজে কীভাবে সে নিজের পৃথিবী রচনা করে। কেউ শোনে না তার ভাঙা শব্দের ভেতর কী গভীর অনুভব লুকিয়ে আছে। কেউ উপলব্ধি করে না, তার নীরবতায় কী অদৃশ্য আকুলতা ভেসে থাকে। আমরা যেন চোখ খোলা রেখেই তাদের অদৃশ্য করে দিই।

আরও পড়ুন:

আজও বহু পরিবার আছে, যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে নিয়ে শান্তিতে রাস্তায় বেরোতে পারে না। সমাজের দৃষ্টিতে যেন অব্যক্ত উপহাসের ছায়া ভাসে, “ওদের জীবনই বা জীবনের মতো কি?” অথচ সত্য হল, এই শিশুদের জীবনই আমাদের শেখায় মানবিকতার সবচেয়ে বড় পাঠ ধৈর্য, নিষ্ঠা, সহানুভূতি এবং ভালবাসার গভীরতম রূপ। তাদের প্রতিটি হাসি জয়ের হাসি, তাদের প্রতিটি অগ্রগতি সংগ্রামের ধ্বনি। তাদের জীবনের প্রতিটি হাঁটা, প্রতিটি উচ্চারণ, মানুষের ইচ্ছাশক্তির শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

আরও পড়ুন:

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাষ্ট্র কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে? সমাজ কি তাদের গ্রহণ করেছে? সরকার কি তাদের জন্য নীতিগতভাবে যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছে? আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশে এখনও সমন্বয়িত শিখন (Inclusive Education) পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হয়নি। স্কুলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, থেরাপি সুবিধা, বিশেষ শিক্ষকের নিয়োগ, পড়াশোনার জন্য আলাদা সহায়ক ব্যবস্থা, এসব এখনও নীতি হিসেবে আছে, বাস্তবে নেই। ফলে শিক্ষাবঞ্চিত হওয়া ছাড়া এই শিশুদের সামনে কোনও রাস্তা খোলা থাকে না।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসা পরিকাঠামোর কথা ভাবলে দেখা যায়, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবা নিয়মিতভাবে দিতে পারে না। রাষ্ট্র যদি তাদের জন্য বিনামূল্যে এবং সহজলভ্য সেবা প্রদান না করে, তবে এই শিশুরা শৈশব থেকেই পিছিয়ে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। সমাজের চোখে তারা তখন আরও “বোঝা”হয়ে উঠবে। অথচ শুরুতেই যদি যথাযথ সাহায্য পায়, তবে এই শিশুরাই পরবর্তীতে সমাজের অন্যতম সক্রিয় নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে নানা উদাহরণ আছে, ডাউন সিনড্রোমের শিশু শিল্পের জগতে দখল তৈরি করেছে, অটিজমের শিশু কম্পিউটার কোডিংয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে, শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণ বিশ্ব সঙ্গীতের মঞ্চ কাঁপিয়েছে, দৃষ্টিহীন লেখক সৃষ্টি করেছেন অমর সাহিত্য। তাহলে আমাদের চোখে প্রতিবন্ধকতা এত বড় হয়ে ওঠে কেন? কারণ, আমরা তাদের সাফল্যের পথ রুদ্ধ করে রেখেছি, সুযোগ না দিয়ে তাদের অযোগ্যতার পাল্লা ভারী করে তুলেছি। সমাজের এই স্থূল মানসিকতাই আজ ভাঙা জরুরি।

আরও পড়ুন:

প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মতো করে অনন্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সেই অনন্যতারই প্রকাশ। তাদের বোঝা যায় না সহজ চোখে; বোঝা যায় হৃদয়ের চোখে। কিন্তু আমরা কি সেই চোখ দিয়ে দেখি? যেদিন আমরা দেখব, সেদিনই সমাজের প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হবে।

আরও পড়ুন:

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বদলাতে হবে। শিক্ষা যেন না হয় বাছাইয়ের হাতিয়ার, শুধু দ্রুত শেখে, বেশি নম্বর পায়, ভাল কথা বলে — এই মানদণ্ডে সবাইকে পরিমাপ করা মানবিকতার পরিপন্থী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আলাদা পাঠক্রম নয়; পাঠক্রমকে এমনভাবে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের মতো করে শেখার সুযোগ পায়। প্রত্যেক স্কুলে বিশেষ শিক্ষক, থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর — এগুলো কেবল সুবিধা নয়, অপরিহার্যতা। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ শিশু-মনোবিদ্যা বিভাগ থাকা উচিত। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সংরক্ষণ থাকা উচিত এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হল সংবেদনশীলতা থাকা উচিত।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আইন ও পরিকাঠামোর বাইরেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র আছে, মানসিকতা। সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কোনও নীতি কার্যকর হবে না। আমরা কি আমাদের সন্তানদের শিখিয়ে দিই, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বন্ধুর পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়? আমরা কি নিজেদের মধ্যে সেই সাহস তৈরি করেছি, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার? আমরা কি এই শিশুদের প্রতিবন্ধকতা নয়, তাদের সম্ভাবনাকে দেখতে শিখেছি?

আরও পড়ুন:

যে সমাজ দুর্বলকে গ্রহণ করতে পারে না, সে সমাজ কখনও শক্তিশালী হয় না। যে রাষ্ট্র নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি অংশকে অবহেলা করে, সে রাষ্ট্র কখনও উন্নত হতে পারে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু আমাদের দায় নয়; তারা আমাদের সত্তার অংশ। তাদের জীবনেই আমাদের মানবিকতার পরীক্ষা। আমরা কি পরীক্ষা দিচ্ছি? নাকি ফেল করছি প্রতিদিন?

আরও পড়ুন:

আমাদের আজ প্রতিজ্ঞা করা উচিত, প্রত্যেক শিশুর হাত ধরে আমরা এমন সমাজ গড়ব, যেখানে কোনও শিশু নিজেকে বোঝা মনে করবে না। বরং ভাববে, “আমি গুরুত্বপূর্ণ, আমি সক্ষম, আমি এই সমাজের গর্ব।”যেদিন আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্কুল, পরিবার — সবাই একসঙ্গে এই ভাষায় কথা বলবে, সেদিনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চোখে আমরা অদৃশ্য এক আলো দেখতে পাব — মানবিকতার আলো, মর্যাদার আলো, সমানাধিকারের আলো।

আরও পড়ুন:

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সহজ, আমরা কি এমন এক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই সমান? যদি চাই, তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো কোনও দয়া নয়, কোনও উপকার নয়, এটি আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। কারণ, তারা বাঁচতে চায়, হাসতে চায়, শিখতে চায়, এগোতে চায় অন্য সবার মতো। আমরা শুধু তাদের হাতটা ধরে রাখব — সেই হাতই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, আমাদের চেয়েও অনেক দূরে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder