BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

পুশব্যাক এক অশনি সংকেত!

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৬ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৬

ড. নূরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এই ভাষণে তিনি সাধারণত সরকারের নীতি ও কৌশল ঘোষণা করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি এবছরের ভাষণে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই ভাষণে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অনুপ্রবেশের ফলে দেশের জনবিন্যাস পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে! দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে! দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে! সত্যিই তো, পৃথিবীর কোন দেশই বিদেশিদের অনুপ্রবেশ মানতে পারে না।

আরও পড়ুন:

অতঃপর প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি দলের নেতা-কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে কথিত অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে সোচ্চার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু প্রচার নয়, সরকার ইতিমধ্যে বহু বিদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং সেই সঙ্গে এদেশের বহু বৈধ নাগরিককে জোরপূর্বক দেশের বাইরে তাড়িয়ে দিচ্ছে! পুশ ব্যাক করে চলেছে! অনেকটা চুপিসারে। কারণ, সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও বিধি অনুসরণ না করে একাজ করে চলেছে। এজন্য এনিয়ে সরকার প্রকাশ্য ঘোষণা না দিয়ে এবং গণমাধ্যমকে এড়িয়ে একাজ করে চলেছে। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র। এজন্য ভারত সরকার মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, এটাই স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন:

বস্তুত, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক এবং আধুনিক রাজতন্ত্রে প্রজার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা আছে। পৃথিবীর সকল দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং পরিত্যাগ করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। কারা নাগরিক এবং কারা অবৈধ অভিবাসী – তাও সবিস্তারে বলা হয়েছে। অবৈধভাবে কোন দেশে অনুপ্রবেশ করলে তাকে বলা হয় অনুপ্রবেশকারী। অবৈধ অভিবাসীও বলা হয়। আবার পাসপোর্ট ও ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদেশে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৈধভাবে বসবাস করা যায়। এ ধরনের মানুষ বিদেশি। কিন্তু বৈধ অভিবাসী।

আরও পড়ুন:

অনুপ্রবেশ ও রাজনীতি:

আরও পড়ুন:

অনেকেই বিশ্বাস করেন, দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও সংগঠন গড়ে উঠেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গৃহীত বিশেষ এক ধরনের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে। আধুনিক সকল রাজনৈতিক দলের মতো বিজেপিরও নিজস্ব আদর্শ ও নীতিমালা আছে। তারাও পশ্চিমাদের অর্থনীতি ও রাজনীতি অনুসরণ করে। এসব নীতিমালা মানুষের মনে তেমন ছাপ ফেলে না। অন্য সব রাজনৈতিক দল থেকে তারা আলাদা। এটা তারা প্রমাণ করতে চায়। এজন্য তারা মসজিদ-মন্দির, অনুপ্রবেশ, ইউনিফর্ম সিভিল কোড, সংবিধানের ৩৭০ ধারা, মুসলিমদের জব্দ করা ইত্যাদি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে। এগুলো তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই বিশ্বাস, এজেন্ডা ও নীতিমালা এক শ্রেণির হিন্দুদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। বস্তুত এসব ইস্যু তাদের জীবনরেখা। তাদের প্রাসঙ্গিকতা। আর বর্তমান সরকার এই নীতি ও কৌশল বিশ্বস্ততার সঙ্গে অনুসরণ করে চলেছে।

আরও পড়ুন:

বর্তমান অনুপ্রবেশ নিয়ে দেশে যে হইচই হচ্ছে তা এই নীতির বহিঃপ্রকাশ। যতদূর জানা গেছে, সম্প্রতি সরকার যত লোক নিয়ম মেনে বা না মেনে পুশব্যাক করেছে, তারা সকলেই মুসলিম। সত্য বলতে কী, এদেশের জনবিন্যাস পরিবর্তন করতে বিদেশি কোন চক্রান্ত কাজ করে চলেছে – এমন কথা কেউ বিশ্বাস করেন না। আবার একথাও সত্য যে, অনেক মানুষ প্রতিবেশি অনেক দেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এদেশে এসে চলেছে। বাংলাদেশ, নেপাল, তিব্বত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান থেকে এসেছে। তবে আরব থেকে আসছে কিনা বলতে পারব না। আমরা বিশ্বাস করি, কোন দেশ এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশিদের গ্রহণ করতে পারে না। যেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যা এদেশের একটি বড় সমস্যা। অনুপ্রবেশ এখন গোদের উপর ফোড়া। কিন্তু বিজেপি ও এনডিএ সরকার উদ্বিগ্ন শুধুমাত্র বাংলাদেশী মুসলিমদের নিয়ে। তাদের ছাড়া আর কাউকে বিদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মনে করে না।

আরও পড়ুন:

বস্তুত বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের কোন পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে মাঝে মাঝে সরকারি আমলা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা কয়েক কোটি। অ্যাবসার্ড! এই পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিশেষ করে তারা যাদের বিদেশি বলে চিহ্নিত করে চলেছে, সেই বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা কোনমতেই এত হতে পারে না। তারা কোন দুঃখে এদেশে আসবে? আচ্ছা, এদেশে তাদের কে আশ্রয় দেবে? এদেশের স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় চিরস্থায়ী নিরাপত্তাহীনতার শিকার। বিদ্বেষ ও বৈষম্যের শিকার। অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের শিকার। দাঙ্গা ও মব লিঞ্চিং এর শিকার। সেখানে তারা নিজেদের সংখ্যা বাড়াতে বিদেশি মুসলিমদের ডেকে নিয়ে আসবে! একথা শুনে গাধাও হাসবে! ভারত আমেরিকা নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস ভারতে। এদেশে আসলেই লোভনীয় চাকরি পাবে নাকি! কীসের প্রলোভনে বিদেশিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করবে!

আরও পড়ুন:

তবে একথা সত্য। এদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছে। কারা এসেছে? কোথা থেকে এসেছে? সরকার জানে। দলের নেতাকর্মীরা জানে। সকল ভারতীয় জানে। কিন্তু সে কথা সহজ ও সরলভাবে বললে পলিটিক্স হবে না। মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানুষ তাতানো যাবে না। মনে রাখতে হবে, যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় ও নেপালে জন্ম গ্রহণ করে ভারতকে পিতৃভূমি জ্ঞান করে। তারাই এদেশকে ভালবেসে আপন করতে এদেশে চলে আসছে। এদেশের হাজার হাজার সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের স্বাগত জানাচ্ছে। হৃদয় থেকে না পয়সার বিনিময়ে – সে কথা হলফ করে বলতে পারব না। তারা তো সীমান্ত পার হয়ে আসছে। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি পাখিও এদেশে প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ কোটি কোটি মানুষ! এসব ভন্ডামি বুঝতে গবেষক হতে হবে না।

আরও পড়ুন:

মুসলিমদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ:

আরও পড়ুন:

গত কয়েক মাসে মুসলিমদের টার্গেট করে সরকার যেভাবে হয়রানি শুরু করেছে, তা খুব বিপজ্জনক! এই কথিত অভিযান ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে চলেছে। যেকোন বাহানায় সরকার তাদের উপর নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে, আধার কার্ড করতে গিয়ে, পাসপোর্ট করতে গিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে কাজ করতে গিয়ে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে তাদের অগ্নি পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তাছাড়াও, এক শ্রেণির তথাকথিত উগ্র রাষ্ট্রবাদী হিন্দু মুসলিমদের দেশছাড়া করার হুমকি দিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে চলেছে। সেই সঙ্গে সরকার সিএএ, এনআরসি এবং এসআইআর ইত্যাদি অভিযান চালিয়ে মুসলিমদের নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ী অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে চলেছে। সরকার নিরপেক্ষ ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার ধর্মনিরপেক্ষ নয়। একটি ধর্মের পক্ষে এবং একটি ধর্মের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে।
অবাক লাগে, এমত অবস্থায় এদেশের দারিদ্র্য ক্লিষ্ট ও অশিক্ষিত মুসলিমরা নির্বিকার! তাদের বিরুদ্ধে এত বড় চ্যালেঞ্জ! কিন্তু এথেকে তাদের পরিত্রাণের উপায় ও পন্থা উদ্ভাবন করার কোন পরিকল্পনা নেই। কোন প্রচেষ্টা নেই।

আরও পড়ুন:

পরিস্থিতি অনিশ্চিত:

আরও পড়ুন:

যাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ভয়ানক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে তারা নির্বিকার! পরিস্থিতির গভীরতা ও স্পর্শকাতরতা উপলব্ধি ও বিবেচনা করে, একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এই মুহূর্তে দেশের প্রতিটি মুসলমানকে খেয়ে না খেয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি জোগাড় করতে হবে। কিন্তু এই দরিদ্র ও অশিক্ষিত মানুষ কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে! কখন, কোথায়, কে এই অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হবে, কেউ জানি না। বিচ্ছিন্নভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। পরিকল্পিত এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে! প্রতিটি মহল্লা, পাড়ায় কমিটি করে এক অপরকে সাহায্য করুন। নথি জোগাড় করতে সহযোগিতা করুন।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder