BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

ঘৃণা-ভাষণ যখন স্বাভাবিক হয়ে ওঠে

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৭ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

এই সময়টা এমন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ, যেখানে শব্দের ওজন আর তার দায়িত্বের মধ্যে বিপজ্জনক ফাঁক তৈরি হয়েছে। রাজনীতির মঞ্চে উচ্চারিত কথাবার্তা ক্রমশ হালকা হয়ে যাচ্ছে, অথচ তার অভিঘাত সমাজে ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের এক বিজেপি বিধায়কের মুখ থেকে ইসলাম ধর্মগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য শোনা গেছে, তা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভাবাবেগে আঘাত করেনি; বরং আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নৈতিক ভিতকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, এতদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
দেশের সংবিধান নাগরিককে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু সেই স্বাধীনতা কখনোই অবাধ নয়। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলে, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও অন্যের অধিকারের স্বার্থে এই স্বাধীনতার উপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে অপমান করা কিংবা কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে হেয় প্রতিপন্ন করা — এই সবই সেই সীমারেখা অতিক্রম করে। প্রশ্ন উঠছে, যখন এই সীমালঙ্ঘন প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে ঘটে, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে থাকে?
ঘৃণা ভাষণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথমে শব্দের মাধ্যমে অবমাননা, তারপর সেই অবমাননার স্বাভাবিকীকরণ, এবং শেষপর্যন্ত সামাজিক বিভাজনের স্থায়ী রূপ। ইতিহাস আমাদের বারবার দেখিয়েছে, বড় কোনও সহিংসতার আগে ভাষাই সবচেয়ে নিষ্ঠুর অস্ত্র হয়ে ওঠে। আজ যা ‘মন্তব্য’বলে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কাল তা-ই রাস্তায় ঘৃণার আগুন জ্বালাতে পারে। তাই এই ধরনের বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য বলে এড়িয়ে যাওয়া মানে ভবিষ্যতের বিপদের বীজ বপন করা।

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গ বহুদিন ধরেই ধর্মীয় সহাবস্থানের এক জটিল কিন্তু তুলনামূলক শান্ত পরিসর হিসেবে পরিচিত। এখানে মতাদর্শের সংঘাত হয়েছে, রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় বিদ্বেষকে রাষ্ট্রক্ষমতার ভাষায় প্রকাশ করার প্রবণতা তুলনামূলক সীমিত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে অবমাননাকর ভাষণ শুধু মুসলিম সমাজকেই আহত করে না, এরাজ্যের সামাজিক ঐতিহ্যকেও আঘাত করে। জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সাধারণ নাগরিকের বক্তব্যের মতো নয়; তার কথার ওজন বেশি, প্রভাব গভীর, এবং দায়িত্ব বহুগুণ।
আইন কিন্তু নীরব নয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩-এ ধারা স্পষ্টভাবে ধর্মের ভিত্তিতে শত্রুতা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। ২৯৫-এ ধারা ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত হানাকে শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য করে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায় — আইন থাকলে তার প্রয়োগ কোথায়? কেন ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যেন অদৃশ্য ঢাল হয়ে দাঁড়ায়? কেন শাস্তির প্রশ্নে এত দ্বিধা, এত বিলম্ব?

আরও পড়ুন:

সমাধান কী? প্রথমত, ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতা’নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগ উঠলেই রাজনৈতিক চাপমুক্ত, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি কার্যকর করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সরাসরি সাংবিধানিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না; প্রশ্ন তুলতে হবে, ধারাবাহিকভাবে, যুক্তি দিয়ে।
এই নীরবতার সামাজিক মূল্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। যখন রাষ্ট্র বা প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন ঘৃণা-ভাষণ আরও সাহস পায়। যারা সংখ্যালঘু, তারা নিজেদের আরও অসুরক্ষিত মনে করে। যারা সংখ্যাগুরু, তাদের একাংশের মনে জন্ম নেয় এক ধরনের অনুমোদনের অনুভূতি — যেন এই ভাষা বলাই যায়, কোনও পরিণতি নেই। এভাবেই গণতন্ত্রের ভেতরে ধীরে ধীরে বিষ ঢুকে পড়ে।
ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিশানা করা নয়, বরং সংবিধানকে রক্ষা করা। এখানে প্রশ্নটা মতাদর্শের নয়, মানবিক মর্যাদার। আজ যদি ইসলাম ধর্মগ্রন্থ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের পরও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, কাল অন্য কোনও ধর্ম, অন্য কোনও গোষ্ঠী একই পরিণতির মুখে পড়বে। এই অশুভ চক্র থামানো না গেলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সামগ্রিক সামাজিক বিশ্বাস।
সমাধান কী? প্রথমত, ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতা’নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগ উঠলেই রাজনৈতিক চাপমুক্ত, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি কার্যকর করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সরাসরি সাংবিধানিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না; প্রশ্ন তুলতে হবে, ধারাবাহিকভাবে, যুক্তি দিয়ে।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কোন ধরনের সমাজে বাঁচতে চাই। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে অপমান করা রাজনৈতিক কৌশল হয়ে ওঠে, নাকি যেখানে ভিন্ন বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে। ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া মানে কারও ধর্মীয় আবেগকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়; মানে মানবিক সহাবস্থানের ন্যূনতম শর্ত রক্ষা করা।
আজ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব শুধু একটি ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে আমাদের নৈতিক সাহসকেও। ঘৃণার ভাষণ যদি শাস্তিহীন থেকে যায়, তবে সেই নীরবতাই একদিন আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত হবে।

আরও পড়ুন:

 

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder