BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

পড়লে পড়ো, না হয় গাছে চড়ো

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৭ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:৩৬
স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত।

সুরাজ পাল:স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত। এই বুঝি বেত নেমে আসবে পিঠে! বাবা ভাবতেন, শাসন ছাড়া মানুষ হয় না। বেত না মারলে বখে যাবে ছেলে। নীলের পিঠে সেই বেতের দাগ শুধু চামড়ায় নয়, মনের গভীরেও বসে গিয়েছিল। তিনি দেখেছিলেন, ভয় দেখিয়ে অঙ্ক শেখানো যায়, ব্যাকরণ গেলানো যায়, কিন্তু মানুষ তৈরি করা যায় না। ভয় শুধু ভণ্ডামি শেখায়। শিশু তখন মিথ্যা কথা বলে বাঁচার জন্য। মনে মনে নীল পণ করলেন, বড় হয়ে আমি আর যা-ই হই, বাবার মতো মাস্টার হব না।
অথচ, পেটের দায়ে সেই শিক্ষকতাতেই আসতে হল। প্রথম জীবনে নীলও সাধারণ মাস্টার মশাইদের মতোই ছিলেন। হাতে বেত নিতেন। ধমক দিতেন। যদিও মনটা খচখচ করত। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপরাধী লাগত। তারপর এল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯১৪ সাল। ইউরোপ জুড়ে মড়ক। হাজার হাজার তরুণ মারা যাচ্ছে ট্রেঞ্চে। নীল ভাবলেন, এই যে এত সুশিক্ষিত মানুষ, যারা স্কুলে ফার্স্ট হয়েছে, তারা কেন যুদ্ধ থামাল না? কেন তারা একে অপরকে মারতে ছুটল? বুঝলেন, এই প্রচলিত শিক্ষা পচে গেছে। এই শিক্ষা শুধু আজ্ঞাবহ দাস তৈরি করে। ওপরওয়ালা হুকুম দেবে, আর নিচে সব ‘ইয়েস স্যার’ বলে মানুষ মারবে। যুদ্ধ শেষে নীল ঠিক করলেন, ‘অনেক হয়েছে। এবার নতুন কিছু করতে হবে। এমন স্কুল চাই, যেখানে বাচ্চারা যুদ্ধ করতে শিখবে না, ভালবাসতে শিখবে।’
১৯২১ সাল। প্রথমে জার্মানি, তারপর অস্ট্রিয়া, শেষে ইংল্যান্ডের নির্জন গ্রাম লেইস্টন। সেখানেই তৈরি হল সামারহিল। চারদিকে জঙ্গল। মাঝখানে একটা লাল ইটের বাড়ি। নীল বললেন, ‘এটা স্কুল নয়, এটা জীবন। এখানে বই পড়ার চেয়ে জীবন পড়া বেশি জরুরি।’ স্কুলের নিয়ম শুনে সবাই আকাশ থেকে পড়ল। ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। সকালবেলা ঘণ্টা বাজে। কিন্তু সেটা ক্লাসে ঢোকার জন্য নয়, ঘুম থেকে ওঠার জন্য। তারপর তোমার ইচ্ছে। তুমি অঙ্ক ক্লাসে যেতে পারো। লাইব্রেরিতে গল্প পড়তে পারো। মাঠে ফুটবল খেলতে পারো। পুকুরধারে বসে মাছ ধরতে পারো। কেউ তোমাকে জিজ্ঞেস করবে না, ‘খোকন, তুমি কেন ক্লাসে আসোনি?’ নীল বিশ্বাস করতেন, ‘জোর করে শেখানো আর ধর্ষণের মধ্যে কোনো তফাত নেই।’ শিখতে হবে ভেতর থেকে। খিদে পেলে মানুষ যেমন খায়, জানার খিদে পেলে তবেই সে পড়বে।
বাইরে থেকে যারা আসত, তারা তো অবাক! এ কী! বাচ্চারা সারাদিন হুল্লোড় করছে! গাছে চড়ছে! সাইকেল চালাচ্ছে! এরা শিখবে কবে? বড় হয়ে তো সব মূর্খ হবে। নীল হাসতেন। পাইপে টান দিয়ে বলতেন, ‘আপনারা শুধু বইটাকেই পড়া ভাবেন, এই যে ছেলেটা সাইকেলের চেন সারাচ্ছে, ও পদার্থবিজ্ঞান শিখছে না? এই যে ওরা দল বেঁধে নাটক করছে, সাহিত্য শিখছে না?’ সামারহিলে একটা ছেলে ছিল। নাম টম। সে কিছুতেই ক্লাসে যেত না। টানা দশ বছর সে শুধু ওয়ার্কশপে কাজ করল। কাঠ কাটল, লোহা পিটল। এক বর্ণও শিখল না। সবাই বলল, ‘গেল ছেলেটা। বখে গেল।’ সতের বছর বয়সে হঠাৎ টম এসে নীলকে বলল, ‘নীল, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।’ নীল বললেন, ‘বেশ তো। কিন্তু তার জন্য তো অঙ্ক আর ফিজিক্স লাগবে। পড়তে হবে।’ টম বলল, ‘আমি রাজি।’ বিশ্বাস করবেন না, যে ছেলে দশ বছরে বই ছোঁয়নি, সে মাত্র দু-বছরে সব পড়া শেষ করে ফেলল। কারণ, এবার সে ‘চাইছে’। তার লক্ষ্য ঠিক হয়ে গেছে। নীল বলতেন, ‘যে শিশু খেলতে জানে না, সে বাঁচতেও জানে না।’
সামারহিলের সবচেয়ে বড় জাদুর নাম শনিবারের মিটিং। সপ্তাহে একদিন সন্ধেবেলা সবাই হলঘরে জড়ো হয়। সেখানে নীলও বসেন। রাঁধুনিও বসেন। ছ-বছরের বাচ্চাটাও বসে। স্কুল কীভাবে চলবে, তা ঠিক হয় এখানে। মজার ব্যাপার, ভোটের দাম সবার সমান। হেডমাস্টার নীলের ভোটের দাম ‘এক’। ওই ছ’বছরের বাচ্চাটার ভোটের দামও ‘এক’। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সব সিদ্ধান্ত হয়। একবার ভোটাভুটি হল স্কুলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে কি না? নীল ধূমপান পছন্দ করতেন। কিন্তু বাচ্চারা ভোট দিয়ে তাঁকে হারিয়ে দিল। নীল হাসিমুখে মেনেও নিলেন। শিশু যখন দেখে তার মতের দাম হেডমাস্টারের সমান, তখন তার আত্মবিশ্বাস কোথায় গিয়ে পৌঁছায়! এটাই আসল গণতন্ত্র। বইয়ে পড়া ‘সিভিকস’ নয়, এ হল যাপনের গণতন্ত্র। এখানে বাচ্চারা শেখে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। আমি ততক্ষণই স্বাধীন, যতক্ষণ না আমার কাজ অন্যের ক্ষতি করছে।
নীল বলতেন, ‘শিশুরা দুষ্টু হয়ে জন্মায় না। ওরা অ-সুখী হলেই দুষ্টুমি করে।’ যেসব বাচ্চাকে অন্য স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, বাবা-মায়েরা হাল ছেড়ে দিয়েছে, তারা আসত সামারহিলে। চোর, মিথ্যেবাদী, মারকুটে বাচ্চারা। নীল তাদের কোনদিন বকতেন না। উপদেশ দিতেন না। তিনি ব্যবহার করতেন অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। একবার এক ছেলে বারবার পয়সা চুরি করত। নীল তাকে ডাকলেন। বকলেন না। উল্টে পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দিলেন। বললেন, ‘তোমার টাকার দরকার? এই নাও।’ ছেলেটা হাঁ হয়ে গেল! যে চুরির জন্য মার খাওয়ার কথা, সেখানে পুরস্কার, তার চুরির নেশাটাই কেটে গেল। সে বুঝল, এই লোকটা তো আমার শত্রু নয়, আমাকে ভালবাসে। নীলের ভাষায়, ‘সমস্যাগ্রস্ত শিশু বলে কিছু নেই; আছে শুধু সমস্যাগ্রস্ত অভিভাবক আর সমস্যাগ্রস্ত মানবসমাজ।’ তিনি ওদের মনের জট খুলতেন। তাঁর ঘরটা ছিল সবসময় খোলা। বাচ্চারা যখন খুশি ঢুকে পড়ত। তাঁকে নাম ধরে ডাকত, স্যার নয়, হুজুর নয়। শুধুই নীল।
সেকালের সমাজ ছিল ভিক্টোরিয়ান সংস্কারে আচ্ছন্ন। শরীর ও যৌনতা নিয়ে কথা বলা পাপ। নীল সেই দেওয়াল ভেঙে চুরমার করে দিলেন। তিনি বললেন, ‘শরীরটা লজ্জার নয়। শরীরটা স্বাভাবিক।’ শিশুরা যদি কৌতুহলবশত নিজেদের শরীর দেখে বা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাহলে সেটাকে পাপ বলা যায় না। বরং, যৌনতাকে গোপন করলেই মনের অসুখ বাড়ে। তাই সর্বোত্তম শিক্ষা হল, যৌনতা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং সাবধান-সতর্ক করা, সংযমের পাঠ দেওয়া। নীল বললেন, ‘মানবপ্রেম অনেক বড় ধর্ম।’ চার্চ গেল ক্ষেপে। সমাজ ছি-ছি করল। পত্রিকায় লেখা হল ‘সামারহিল শয়তানের আখড়া। ওখানে বাচ্চারা বুনো হয়ে যাচ্ছে।’ নীল গ্রাহ্য করলেন না। তিনি জানতেন, তিনি সত্যের পথে আছেন। তিনি চেয়েছিলেন ‘সুখী’ মানুষ গড়তে, ‘ভদ্র’ মুখোশধারী মানুষ নয়।
ব্রিটিশ সরকার বারবার চোখ রাঙিয়েছে। একবার সরকারি ইনস্পেক্টর এলেন স্কুল পরিদর্শনে। ভেবেছিলেন, দেখবেন নরক গুলজার। বাচ্চারা মারামারি করছে, পড়াশোনার বালাই নেই। গিয়ে দেখলেন উল্টো ছবি। হ্যাঁ, বাচ্চারা ইউনিফর্ম পরে নেই, ধুলোমাখা। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে অদ্ভুত দীপ্তি। ইনস্পেক্টর ক্লাসে ঢুকে অবাক। বাচ্চারা শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক করছে। নির্ভয়ে প্রশ্ন করছে। অন্য স্কুলে ইন্সপেক্টর দেখলে বাচ্চারা ভয়ে চুপ করে যায়। এখানে বাচ্চারা এসে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে? তোমার হ্যাটটা তো বেশ মজার!’ ইন্সপেক্টর রিপোর্টে লিখলেন, ‘এদের পুঁথিগত বিদ্যা হয়ত কম, কিন্তু এদের ব্যক্তিত্ব, সাহস আর সততা যেকোন পাবলিক স্কুলের ছেলের চেয়ে বেশি।’ বন্ধ করা গেল না সামারহিল। সত্যের জোর বড় বেশি।
অনেকে নীলকে প্রশ্ন করত, ‘আপনার ছাত্ররা বড় হয়ে কী হয়েছে? কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে?’ নীল বিরক্ত হয়ে বলতেন, জীবন মানে কি শুধু ক্যারিয়ার? জীবন কি শুধুই টাকা? তাঁর বিখ্যাত উক্তি, ‘একজন মানসিক রোগগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী তৈরি করার চেয়ে, আমার স্কুল থেকে একজন সুখী ঝাড়ুদার বের হোক।’ তিনি বলতেন, ডাক্তার হওয়া সহজ, সুখী হওয়া কঠিন। সামারহিল সেই কঠিন কাজটাই করত। সেখান থেকে বেরিয়ে কেউ হয়েছে বিজ্ঞানী, কেউ শিল্পী, কেউ হয়ত সাধারণ মিস্ত্রি। কিন্তু তারা সবাই একটা জিনিস শিখেছে, কীভাবে বুক ফুলিয়ে বাঁচতে হয়। কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়।
বয়স বাড়ল নীলের। চুল পেকে সাদা। মনের তেজ কমল না। ১৯৭৩ সাল। নব্বই বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন। যদিও সামারহিল থামল না। হাল ধরলেন নীলের মেয়ে জো। আজও সেই স্কুল আছে। ঠিক একই নিয়মে চলছে। আজও সেখানে ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আজও সেখানে ছ-বছরের বাচ্চার ভোটের দামে হেডমিস্ট্রেসের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
ফ্রয়েবেল দিয়েছিলেন বাগান। মন্তেসরি দিয়েছিলেন গুছিয়ে কাজ করার আনন্দ। নীল দিলেন মুক্তি। তিনি বললেন, শিশুর ওপর বিশ্বাস রাখো। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বোঝে। আমরা বড়রা নিজেদের ভয়, নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিই। আর বলি ‘তোমার ভালর জন্যই করছি।’ তিনি শেখালেন, শিক্ষা মানে বই গেলা নয়, শিক্ষা মানে নিজেকে চেনা। আজকের দিনে, যখন বাচ্চাদের পিঠে ইয়া বড় বইয়ের ব্যাগ, যখন নম্বরের ইঁদুর দৌড়ে শৈশব পিষে মরছে, তখন এ.এস. নীল বড় প্রাসঙ্গিক। তিনি দূর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে হয়ত মিটিমিটি হাসছেন আর বলছেন, ‘ভয় পেয়ো না। ওদের ডানাটা কেটে ফেলো না। উড়তে দাও। আকাশটা অনেক বড়।’ সামারহিল শুধু স্কুল নয়। বিদ্রোহ। স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বলে, মানুষ জন্মায় স্বাধীন হওয়ার জন্য, শেকলে বাঁধা পড়ার জন্য নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder