BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

মানবতার অবক্ষয় ও ভোগবাদের উত্থান

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:২৭ | আপডেট: ২ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:২৭

মুহাম্মদ সামিউল গাজী

আরও পড়ুন:

“মানুষ মানুষকে পণ্য করে, মানুষ মানুষকে জীবিকা করে” — এই বহুল উচ্চারিত গানের পঙক্তির ভিতর লুকিয়ে আছে সভ্যতার দীর্ঘশ্বাস, অন্তহীন আর্তি এবং অব্যক্ত প্রতিবাদ। আধুনিক পৃথিবীতে মানবিকতা যেন এক অদৃশ্য নিলামে বিকিয়ে গেছে; আর সেই নিলামের দাম পরিশোধ করছে দরিদ্র, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষজন।

আরও পড়ুন:

পুঁজিবাদের অদৃশ্য জাল, মানুষের ওপর মানুষের আধিপত্য: আজকের বিশ্বে পুঁজিবাদ এমন এক যান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে, যেখানে মানুষ পরিণত হয়েছে পণ্য, আর মানবিকতা পরিণত হয়েছে বিলাসী এক শব্দে। উচ্চবিত্তের ঝকঝকে অট্টালিকায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভার বহন করে গ্রামের কৃষক, শহরের দিনমজুর, কিংবা ফুটপাতে দিন কাটানো অসহায় পরিবার। রাজনীতি, অর্থনীতি ও ক্ষমতার অদৃশ্য চক্রব্যূহে সাধারণ মানুষের জীবন দাঁড়িয়ে আছে এক নির্মম অসমতায়, যেখানে সুযোগ কেবল প্রিভিলেজড শ্রেণির, আর বঞ্চনা নিত্যসঙ্গী গরিবের।

আরও পড়ুন:

চাকরি, শ্রম ও লক্ষ্য; এক নতুন দাসত্বের নাম: মানবসভ্যতা বহুদিন আগে দাসপ্রথাকে বিদায় দিয়েছে, কিন্তু আজকের কর্পোরেট দুনিয়া তৈরি করেছে দাসত্বের নতুন রূপ। চাকরি, বেতন, টার্গেট, ইনসেনটিভ — সবই এখন আধুনিক শোষণের শিকল। শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম, এমনকি শিশুর স্বপ্নও বাজারে মুনাফার হিসাবের অঙ্কে পরিণত হয়েছে। এক শ্রেণি দিনরাত কাজ করে বাঁচে, আরেক শ্রেণি সেই পরিশ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে অহংকারের প্রাসাদ তৈরি করে।

আরও পড়ুন:

রাজনীতি, যেখানে মানুষ হয়ে যায় ভোটের পণ্য: রাজনীতি একসময় ছিল মানুষের সেবার ক্ষেত্র, আজ তা পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়। ভোটের বাজারে মানুষ এখন ‘সংখ্যা’, বর্ণ, ধর্ম ও জাতপাত ‘অস্ত্র’, আর দারিদ্র্য — সবই এখন ভোটের ‘কৌশল’ ও বিভাজনের হাতিয়ার। যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা জনগণকে বিভক্ত করে, ভয় দেখায়, শোষণ করে, আর শেষে সেই জনগণেরই মুখ দিয়েই তাদের নামে স্লোগান তুলিয়ে নেয়। সচেতন জনগণের চোখে আজ রাজনীতি মানে চাকরি নয়, ব্যবসা; নেতৃত্ব নয়, প্রভাব; আর সেবা নয়, স্বার্থ। মানুষের কষ্ট, ক্ষুধা ও অশ্রুকে ব্যবহার করা হয় ভোটের মঞ্চে; এমন লজ্জাজনক সময়ে আমরা কীভাবে নিজেদের সভ্য বলি?

আরও পড়ুন:

ধর্মের নামে স্বার্থের ব্যবসা: সমাজের আরেকটি গভীরতম ক্ষত হল ধর্মের নাম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের বাণিজ্য। কিছু ধর্মগুরু, মুফতি, পুরোহিত, আচার্য — যাঁরা মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলেন — তাঁরা ধর্মকে নয়, বরং ধর্মের প্রভাবকে ব্যবহার করেন স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে। যেখানে ধর্মের উদ্দেশ্য হল, মানুষকে মানবতার পথে আনা, ন্যায়ের বোধ তৈরি করা, চেতনার উন্মেষ ঘটানো, সমাজকে সৎ পথে পরিচালিত করা, সবক্ষেত্রে মানবতার মৌলিক নীতিমালা মেনে চলা, ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণ হওয়া, সবার হক বা অধিকার যথাযথ আদায় করা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে জীবন গঠন করা, সেখানে কিছু ব্যক্তি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে অনুদান, শিক্ষা কেন্দ্র, ধর্ম রক্ষার নামে রাজনীতির মঞ্চ থেকে কিংবা সামাজিক সংগঠনের আড়ালে তৈরি করেছেন ব্যক্তিগত লাভের সাম্রাজ্য।

আরও পড়ুন:

যে রাসূল (সা.) করুণা ও ন্যায়ের পথ দেখিয়েছেন, গুরু নানক মানবতার বাণী দিয়েছেন, বিবেকানন্দ বলেছেন “জীবসেবাই ঈশ্বরের সেবা” — তাঁদের আদর্শ পাশে সরিয়ে রেখে কেউ কেউ নিজেদের মতো করে ‘ফতোয়া’ ও ‘ব্যাখ্যা’ তৈরি করছেন। এই ভণ্ডামি মানুষের অন্তরে ধর্মের প্রতি ভয়, বিভ্রান্তি এবং বিরক্তি তৈরি করছে, যা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ক্ষয় করছে।

আরও পড়ুন:

বাড়িঘর ভাঙার রাজনীতি, গরিবদের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া: আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে, দরিদ্র মানুষের শেষ সম্বল একটি ছোট্ট আশ্রয়, সেটিকেও ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বুলডোজার দিয়ে ‘অবৈধ’ তকমা লাগিয়ে। বছরের পর বছর শ্রমে গড়া একচিলতে ঘর, যেখানে প্রতিবেশীর ভালবাসা আর জীবনের স্মৃতি মিলেমিশে আছে — সবকিছু এক নির্দেশে ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রশ্ন জাগে, এই ভাঙা ঘরের জায়গায় কোন উন্নয়ন হবে? কার স্বার্থ রক্ষা পাবে? সরকারি নীতির নামে অসহায় মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার অতল গহ্বরে ঠেলে দেওয়া কি উন্নয়ন? এই কি তবে বিকশিত ভারতের মডেল?

আরও পড়ুন:

হিন্দু-মুসলিম বৈরিতা; কৃত্রিম বিভাজনে ক্ষতবিক্ষত সমাজ: এই উপমহাদেশ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মহাত্মা গান্ধী, আম্বেদকর, রামপ্রসাদ বিসমিল, স্বামী বিবেকানন্দ, গুরু নানক, ভগৎ সিং, আসফাকউল্লা খান, রাজা রামমোহন রায় এবং খান আবদুল গফ্ফার খান প্রমুখ — এই সকল আলোকিত ব্যক্তিত্বের শিক্ষা, ত্যাগ, মানবিকতা, অহিংসা, সাম্যচেতনা, সহমর্মিতা ও যৌথ সমাজদর্শনের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে। কিন্তু আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে হিন্দু-মুসলমান বিভাজনকে পরিকল্পিতভাবে উসকে দেওয়া হচ্ছে। যে দেশ শত দুর্যোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে, সেখানে এখন ধর্মীয় ভেদাভেদকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বিভাজন কেবল ধর্মের সীমায় আটকে নেই — এটি জাতিগত এবং আর্থ-সামাজিক স্তরেও গভীর ক্ষত তৈরি করছে; যার ফলে গরিব ও প্রান্তিক মানুষের অবস্থান ক্রমেই আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

বৈশ্বিক অমানবিকতা, এক মুখোশধারী সভ্যতা: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, হত্যা ও নির্যাতনের খবর আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, মানুষ এখনো নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মানুষকেই হত্যা করছে। ইজরাইল-গাজা সীমান্ত, রাশিয়া-ইউক্রেন, আমেরিকা বনাম লাতিন আমেরিকা, সুদান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল — সবখানেই রক্তের বাজার চলছে স্বার্থের নামধারী নির্বাচনী অঙ্কে।
সভ্যতার অগ্রগতি যত দ্রুত হচ্ছে, মানবিকতার পতনও ততই ত্বরান্বিত হচ্ছে। তবু মানবতার আলো নিভে যায়নি। এই অন্ধকারের মধ্যেও কিছু মানুষ আছেন, যাদের জন্য পৃথিবীতে এখনো মানবতা বেঁচে আছে। কেউ নিজের অঙ্গদান করে অপরিচিতকে জীবন দেন; কোনো শিক্ষক নিঃস্ব ছাত্রের পাশে দাঁড়ান; কোনো পথিক ক্ষুধার্তকে খাবার দেন; কোনো তরুণ রক্ত দান করেন অচেনা রোগীর জন্য। বিপদের মুহূর্তে, দুর্ঘটনাস্থলে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কত মানুষকে দেখা যায় ধর্ম, জাত, বর্ণ ইত্যাদি না দেখে এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান পরিচয় ছাপিয়ে যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে তুলে ধরে, তার মধ্যেই মানবতার প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায়। ইতিহাসের প্রত্যেক যুগেই এমন উদাহরণ অসংখ্যবার প্রমাণ করেছে,
মানুষ এখনো পুরোপুরি পণ্য হয়নি। মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে, ক্ষীণ হলেও দীপ্তিমান।

আরও পড়ুন:

মানুষকে আবার মানুষ হতে হবে: ইতিহাস একদিন যখন এই সময়কে বিচার করবে, আমরা কি লজ্জা পাব না? যেখানে মানুষকে মানুষ নয়, ‘দল’, ‘ধর্ম’, ‘বর্ণ’, ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে দেখা হয় — সেই সমাজ কি সত্যিকারের সভ্য? আমরা কি পারব না মানুষকে আশ্রয় দিতে? একজন অসহায় মানুষ তোমার হাত ধরে দাঁড়ালে তোমার কি কমে যাবে? না, বরং সমাজটা আরও সুন্দর হবে। আমাদের দরকার এমন এক পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে ব্যবহার করবে না, বরং পাশে দাঁড়াবে; যেখানে ভালবাসা বিক্রয়যোগ্য পণ্য হবে না; যেখানে ন্যায়বিচার ক্ষমতার মুদ্রায় কেনা-বেচা হবে না; যেখানে নাগরিক পরিচয়ের নিচে থাকবে একটাই পরিচয় — আমি মানুষ।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder