BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

মেরুকরণ কি সব সমীকরণ পাল্টে দেবে?

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৫ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৫

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

ভারতীয় সভ্যতা বহু যুগ ধরে বহতা এসেছে নানা নদীর স্রোতের মতো — বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য, বহুত্বের শক্তি, মতের ভিন্নতার মাঝেও সহাবস্থানের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্যই দেশটিকে এক অনন্য সুরে বেঁধেছে, যেখানে ধর্ম কেবল আচার নয়, মানুষের অন্তরের নৈতিক বোধ, মানবিকতার ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধর্মই রাজনৈতিক ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। ভোটের সমীকরণ বদলাতে, সামাজিক শক্তির মেরুদণ্ড নাড়িয়ে দিতে, ব্যক্তির পরিচয়কে সংকীর্ণ কোষে বন্দি করতে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রবণতা আজ যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মহল্লার মোড়ে, সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রলে, এমনকি সংসদের বিতর্কেও ধর্মের ব্যাখ্যা এখন মানুষের নয়, রাজনীতির ভাষায় লেখা হচ্ছে। অথচ মানুষের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস রাজনীতির পথে নয় — সত্য, সহনশীলতা, উদারতার পথে হাঁটে। সেই পথেই কোথাও যেন আলো কমে আসছে।

আরও পড়ুন:

কেন এই মেরুকরণ? কারণ সহজ — ভয় এবং অবিশ্বাস রাজনীতির সবচেয়ে ফলদায়ক মুদ্রা। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা মানুষের মনকে করে তুলেছে ভঙ্গুর। এই ভঙ্গুরতার উপর দাঁড়িয়ে ধর্মের ভিত্তিতে পরিচয়কে তীক্ষ্ণ করা আরও সহজ। মানুষ যখন তার সব থেকে প্রাচীন পরিচয় ধর্ম, ভাষা, গোত্র — এসবের ভরসা খোঁজে, তখন রাজনীতি তাকে সেই পরিচয়কেই অস্ত্র বানাতে শেখায়। ফলে একদিকে যেমন মানুষ ক্রমে নিজের পরিচয়কে আঁকড়ে ধরতে থাকে, অন্যদিকে সেই পরিচয়কে অন্যের বিরুদ্ধে খাড়া করা হয়। এতে যে ক্ষত তৈরি হয়, তার রং লাল; কিন্তু শিকড় থাকে অদৃশ্য। মানুষের মনেই।

আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতীয় সমাজে ধর্মীয় মেরুকরণ বৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক বিশ্বাসের হ্রাস গভীরভাবে যুক্ত। প্রতিবেশীকে সন্দেহ করা, ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে রাখা, নিজেদের সংস্কৃতি বিপন্ন ভাবা — এই আশঙ্কাগুলি বাস্তবের তুলনায় কল্পনার বেশি, তবে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর। সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রেও এ প্রভাব স্পষ্ট। বিয়েতে, পাড়ার উৎসবে, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা সম্প্রদায়ের মিলন ক্রমে কমছে। বহু পরিবারে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক মতভেদ এখন ধর্মীয় মনোভাবের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে সম্পর্ক ভাঙছে। অথচ ভারতীয় সমাজের মুখ্য শক্তি ছিল এমন বন্ধনই, যেখানে সাংস্কৃতিক ভিন্নতাই ছিল সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন:

শহরে যেমন জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন বাড়ছে, তেমনই গ্রামে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন সংকট –গুজব, ভুল তথ্য ও হঠাৎ উত্তেজনার বিষাক্ত বিস্তার। ডিজিটাল মাধ্যম এই মেরুকরণকে আরও গভীর করে তুলেছে। একদল অর্ধসত্যকে ‘সত্য’ বলে প্রচার করছে, আরেক দল সেই ‘সত্য’-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এর মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে নীরব আতঙ্ক — আমরা কি সত্যিই নিরাপদ? এই প্রশ্নটাই রাজনীতির কাছে নিখুঁত মাটি। ফলে বাস্তবের সমস্যা — খরা, কৃষকের ঋণ, স্থানীয় অর্থনীতির ধস, শিক্ষার অবনতি — এ সবই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়। আলো পড়ে শুধুই ভাবাবেগে। মানুষ ভেবে নিতে থাকে, ধর্মই যেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান ঢাল।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইতিহাস কি সত্যিই এই পথকে সমর্থন করে? বরং ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে যে রাজনৈতিক লাভ ক্ষণস্থায়ী, তার মাশুল সামাজিকভাবে বহুকাল ধরে দিতে হয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগের ক্ষতই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতির ঢেউ, বৈশ্বিক নিন্দা — এসবই ইতিহাস জানে। পরে বিভিন্ন দাঙ্গা, ক্ষুদ্র সংঘর্ষ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা — সবই সেই একই ছন্দের পুনরাবৃত্তি। মানুষ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু ইতিহাস ভোলে না। আজও সেই ইতিহাস সতর্ক করে, মেরুকরণ শুরু হয় ভাঙা বিশ্বাসের ইট দিয়ে, আর শেষ হয় ভাঙা সমাজের প্রাচীর হয়ে।

আরও পড়ুন:

বর্তমান পরিস্থিতিতে এক গভীর পরিবর্তন লক্ষণীয় — রাজনীতি আর মানুষের ধর্মীয় আবেগকে আলাদা রাখছে না, বরং সেই আবেগকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ফলে ধর্ম আর ব্যক্তির অন্তর্গত অনুভব নয়; তা হয়ে উঠছে বহিরঙ্গ রাজনৈতিক প্রচারের ভাষা। এই পরিবর্তনের ফলে তরুণ প্রজন্মও প্রভাবিত হচ্ছে। শিক্ষার পরিসরে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান ও নাগরিক চেতনার চর্চা যত কমছে, ততই ধর্মীয় পরিচয় তাদের কাছে হয়ে উঠছে প্রধান আলোচ্য। প্রতিটি নির্বাচনে মেরুকরণের মাত্রা বাড়ছে — কেউ সংখ্যাগুরু পরিচয়কে সামনে আনছে, কেউ সংখ্যালঘু নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছে। এরই মাঝে প্রশ্ন হারিয়ে যায়, নাগরিক অধিকার কি কেবল সংখ্যার ওপর দাঁড়াতে পারে? মানুষের মর্যাদা কি কেবল তার ধর্মের ওপর নির্ভরশীল?

আরও পড়ুন:

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি সমস্যা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে — ধর্মীয় মেরুকরণের কারণে ‘মধ্যম পথ’ বা ‘যুক্তিবাদী অবস্থান’ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সামাজিক আলোচনাগুলি হয়ে উঠছে তীব্রভাবে দুই মেরুর — এ বা ও। ফলে যে অংশটি নিরপেক্ষ, যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক পথ অনুসরণ করতে চায়, তার কণ্ঠস্বর প্রায় শোনা যায় না। অথচ গণতন্ত্রের মূল শক্তিই তো এই বিবেকী নাগরিক সমাজ। যাঁরা প্রশ্ন করেন, মতভিন্নতা মেনে নেন, অন্যের দৃষ্টিকোণকে সম্মান করেন — এই মানুষগুলিই সমাজকে সুস্থ রাখেন। কিন্তু মেরুকরণের রাজনীতিতে এরা ‘অপ্রয়োজনীয়’ হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কি সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব, যদি সমাজের তিনটি স্তর একত্রে কাজ করে: রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন:

রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলার দৃঢ়তা, সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা — এই তিনটি পদক্ষেপই মেরুকরণের আগুনকে ঠান্ডা করতে পারে। আইনসম্মত শাস্তির নিশ্চয়তা মানুষকে নিরাপদ করে তোলে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার জরুরি — যেখানে ইতিহাস সত্যনিষ্ঠভাবে শেখানো হবে, ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ সামনে আনা হবে, যুক্তিবাদী চিন্তা বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন:

গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। আজ সংবাদমাধ্যম সমাজের ভরসা; কিন্তু একই সঙ্গে উদ্বেগের কারণও। উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তোলা, ক্লিক বাড়ানোর জন্য চাঞ্চল্য তৈরি করা, ভুয়ো তথ্য যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া — এগুলিই এখন মেরুকরণের অক্সিজেন। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকে তথ্যের বিশুদ্ধতা, সংযত ভাষা এবং সংহতির বার্তা বহন করতে হবে। ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত যাচাই করে সংশোধন করা এবং কুসংস্কার বা উত্তেজনা মোকাবিলায় যুক্তি, প্রমাণ ও বিজ্ঞানের আলোয় ব্যাখ্যা তুলে ধরা — এগুলোই হতে পারে প্রকৃত সাংবাদিকতার আসল শক্তি।

আরও পড়ুন:

সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্য মানুষ নিজেই। ধর্মীয় শ্রদ্ধা মানুষের জীবনের মূল অংশ; কিন্তু সেই শ্রদ্ধাই যখন অন্যকে ঘৃণার চোখে দেখতে শেখায়, তখন ভেবে দেখা জরুরি; ধর্মের আসল শিক্ষা কি তা-ই? সমস্ত ধর্ম এক জিনিস শেখায় — মানবিকতা। তাই সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠন, সম্প্রদায়ভিত্তিক মিলনমেলা, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে যৌথ উদ্যোগ — এগুলো মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে পারে। আলোচনা, বিতর্ক, মতের অমিল — এসব সামাজিক সুস্থতারই চিহ্ন। ঘৃণা নয়, সহনশীলতাই এগিয়ে যাওয়ার পথ।

আরও পড়ুন:

অবশেষে একটি প্রশ্নই বারবার ফিরে আসে — ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি কি সত্যিই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? নাকি এর প্রতিরোধেই তৈরি হবে নতুন সামাজিক শক্তি? ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, বহু ধর্ম ও ভাষার বহমান ঐতিহ্য, সাধারণ মানুষের সহিষ্ণুতা — এসবই বলে আমাদের সমাজ এখনও সম্পূর্ণভাবে মেরুকৃত নয়। মানুষের অভিজ্ঞতা, পরিবার, কর্মক্ষেত্র, উৎসব — এইসবের নিত্য অভ্যাসই বলে দেয়, মানুষ এখনো পাশে দাঁড়াতে জানে। রাজনীতি তাকে বিভক্ত করতে চায়; কিন্তু মানুষের অভ্যন্তরীণ মানবিক শক্তি তাকে আবারও একত্রিত করতে পারে। এই বিশ্বাসই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে।

আরও পড়ুন:

ধর্মীয় মেরুকরণ তাই কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি একটি সামাজিক পরীক্ষাও। এই পরীক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিক সবাইকেই নিজেদের সেরা সংস্করণটি সামনে আনতে হবে। মানুষের মাঝে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, পরস্পরের অভিজ্ঞতা বোঝা, ভয়কে ভাঙা, তথ্যকে সত্যের আলোয় প্রকাশ করা — এই পথেই আসবে পরিবর্তন। সমাজে ভারসাম্য তখনই ফিরে আসবে, যখন আমরা বুঝতে পারব ধর্মের ভিত্তি বিভাজন নয়; সংহতি। এবং গণতন্ত্রের শক্তি মানুষের সংখ্যায় নয়; মানবিকতায়।

আরও পড়ুন:

এই উপলব্ধিই আমাদের বলবে — রাজনীতি যতই বিভাজনের রং মাখুক, মানুষের অন্তরের রং একটাই — সহাবস্থান। মেরুকরণের রাজনীতি হয়ত সমীকরণ সাময়িক পাল্টে দিতে পারে; কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত শান্তি, ন্যায় এবং মর্যাদার দিকেই ফিরে যায়। সেখানেই ভবিষ্যতের আলো।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder