BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

মেরুকরণ কি সব সমীকরণ পাল্টে দেবে?

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৫ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৫

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

ভারতীয় সভ্যতা বহু যুগ ধরে বহতা এসেছে নানা নদীর স্রোতের মতো — বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য, বহুত্বের শক্তি, মতের ভিন্নতার মাঝেও সহাবস্থানের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্যই দেশটিকে এক অনন্য সুরে বেঁধেছে, যেখানে ধর্ম কেবল আচার নয়, মানুষের অন্তরের নৈতিক বোধ, মানবিকতার ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধর্মই রাজনৈতিক ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। ভোটের সমীকরণ বদলাতে, সামাজিক শক্তির মেরুদণ্ড নাড়িয়ে দিতে, ব্যক্তির পরিচয়কে সংকীর্ণ কোষে বন্দি করতে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রবণতা আজ যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মহল্লার মোড়ে, সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রলে, এমনকি সংসদের বিতর্কেও ধর্মের ব্যাখ্যা এখন মানুষের নয়, রাজনীতির ভাষায় লেখা হচ্ছে। অথচ মানুষের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস রাজনীতির পথে নয় — সত্য, সহনশীলতা, উদারতার পথে হাঁটে। সেই পথেই কোথাও যেন আলো কমে আসছে।

আরও পড়ুন:

কেন এই মেরুকরণ? কারণ সহজ — ভয় এবং অবিশ্বাস রাজনীতির সবচেয়ে ফলদায়ক মুদ্রা। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা মানুষের মনকে করে তুলেছে ভঙ্গুর। এই ভঙ্গুরতার উপর দাঁড়িয়ে ধর্মের ভিত্তিতে পরিচয়কে তীক্ষ্ণ করা আরও সহজ। মানুষ যখন তার সব থেকে প্রাচীন পরিচয় ধর্ম, ভাষা, গোত্র — এসবের ভরসা খোঁজে, তখন রাজনীতি তাকে সেই পরিচয়কেই অস্ত্র বানাতে শেখায়। ফলে একদিকে যেমন মানুষ ক্রমে নিজের পরিচয়কে আঁকড়ে ধরতে থাকে, অন্যদিকে সেই পরিচয়কে অন্যের বিরুদ্ধে খাড়া করা হয়। এতে যে ক্ষত তৈরি হয়, তার রং লাল; কিন্তু শিকড় থাকে অদৃশ্য। মানুষের মনেই।

আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতীয় সমাজে ধর্মীয় মেরুকরণ বৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক বিশ্বাসের হ্রাস গভীরভাবে যুক্ত। প্রতিবেশীকে সন্দেহ করা, ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে রাখা, নিজেদের সংস্কৃতি বিপন্ন ভাবা — এই আশঙ্কাগুলি বাস্তবের তুলনায় কল্পনার বেশি, তবে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর। সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রেও এ প্রভাব স্পষ্ট। বিয়েতে, পাড়ার উৎসবে, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা সম্প্রদায়ের মিলন ক্রমে কমছে। বহু পরিবারে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক মতভেদ এখন ধর্মীয় মনোভাবের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে সম্পর্ক ভাঙছে। অথচ ভারতীয় সমাজের মুখ্য শক্তি ছিল এমন বন্ধনই, যেখানে সাংস্কৃতিক ভিন্নতাই ছিল সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন:

শহরে যেমন জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন বাড়ছে, তেমনই গ্রামে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন সংকট –গুজব, ভুল তথ্য ও হঠাৎ উত্তেজনার বিষাক্ত বিস্তার। ডিজিটাল মাধ্যম এই মেরুকরণকে আরও গভীর করে তুলেছে। একদল অর্ধসত্যকে ‘সত্য’ বলে প্রচার করছে, আরেক দল সেই ‘সত্য’-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এর মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে নীরব আতঙ্ক — আমরা কি সত্যিই নিরাপদ? এই প্রশ্নটাই রাজনীতির কাছে নিখুঁত মাটি। ফলে বাস্তবের সমস্যা — খরা, কৃষকের ঋণ, স্থানীয় অর্থনীতির ধস, শিক্ষার অবনতি — এ সবই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়। আলো পড়ে শুধুই ভাবাবেগে। মানুষ ভেবে নিতে থাকে, ধর্মই যেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান ঢাল।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইতিহাস কি সত্যিই এই পথকে সমর্থন করে? বরং ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে যে রাজনৈতিক লাভ ক্ষণস্থায়ী, তার মাশুল সামাজিকভাবে বহুকাল ধরে দিতে হয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগের ক্ষতই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতির ঢেউ, বৈশ্বিক নিন্দা — এসবই ইতিহাস জানে। পরে বিভিন্ন দাঙ্গা, ক্ষুদ্র সংঘর্ষ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা — সবই সেই একই ছন্দের পুনরাবৃত্তি। মানুষ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু ইতিহাস ভোলে না। আজও সেই ইতিহাস সতর্ক করে, মেরুকরণ শুরু হয় ভাঙা বিশ্বাসের ইট দিয়ে, আর শেষ হয় ভাঙা সমাজের প্রাচীর হয়ে।

আরও পড়ুন:

বর্তমান পরিস্থিতিতে এক গভীর পরিবর্তন লক্ষণীয় — রাজনীতি আর মানুষের ধর্মীয় আবেগকে আলাদা রাখছে না, বরং সেই আবেগকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ফলে ধর্ম আর ব্যক্তির অন্তর্গত অনুভব নয়; তা হয়ে উঠছে বহিরঙ্গ রাজনৈতিক প্রচারের ভাষা। এই পরিবর্তনের ফলে তরুণ প্রজন্মও প্রভাবিত হচ্ছে। শিক্ষার পরিসরে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান ও নাগরিক চেতনার চর্চা যত কমছে, ততই ধর্মীয় পরিচয় তাদের কাছে হয়ে উঠছে প্রধান আলোচ্য। প্রতিটি নির্বাচনে মেরুকরণের মাত্রা বাড়ছে — কেউ সংখ্যাগুরু পরিচয়কে সামনে আনছে, কেউ সংখ্যালঘু নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছে। এরই মাঝে প্রশ্ন হারিয়ে যায়, নাগরিক অধিকার কি কেবল সংখ্যার ওপর দাঁড়াতে পারে? মানুষের মর্যাদা কি কেবল তার ধর্মের ওপর নির্ভরশীল?

আরও পড়ুন:

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি সমস্যা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে — ধর্মীয় মেরুকরণের কারণে ‘মধ্যম পথ’ বা ‘যুক্তিবাদী অবস্থান’ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সামাজিক আলোচনাগুলি হয়ে উঠছে তীব্রভাবে দুই মেরুর — এ বা ও। ফলে যে অংশটি নিরপেক্ষ, যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক পথ অনুসরণ করতে চায়, তার কণ্ঠস্বর প্রায় শোনা যায় না। অথচ গণতন্ত্রের মূল শক্তিই তো এই বিবেকী নাগরিক সমাজ। যাঁরা প্রশ্ন করেন, মতভিন্নতা মেনে নেন, অন্যের দৃষ্টিকোণকে সম্মান করেন — এই মানুষগুলিই সমাজকে সুস্থ রাখেন। কিন্তু মেরুকরণের রাজনীতিতে এরা ‘অপ্রয়োজনীয়’ হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কি সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব, যদি সমাজের তিনটি স্তর একত্রে কাজ করে: রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন:

রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলার দৃঢ়তা, সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা — এই তিনটি পদক্ষেপই মেরুকরণের আগুনকে ঠান্ডা করতে পারে। আইনসম্মত শাস্তির নিশ্চয়তা মানুষকে নিরাপদ করে তোলে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার জরুরি — যেখানে ইতিহাস সত্যনিষ্ঠভাবে শেখানো হবে, ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ সামনে আনা হবে, যুক্তিবাদী চিন্তা বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন:

গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। আজ সংবাদমাধ্যম সমাজের ভরসা; কিন্তু একই সঙ্গে উদ্বেগের কারণও। উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তোলা, ক্লিক বাড়ানোর জন্য চাঞ্চল্য তৈরি করা, ভুয়ো তথ্য যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া — এগুলিই এখন মেরুকরণের অক্সিজেন। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকে তথ্যের বিশুদ্ধতা, সংযত ভাষা এবং সংহতির বার্তা বহন করতে হবে। ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত যাচাই করে সংশোধন করা এবং কুসংস্কার বা উত্তেজনা মোকাবিলায় যুক্তি, প্রমাণ ও বিজ্ঞানের আলোয় ব্যাখ্যা তুলে ধরা — এগুলোই হতে পারে প্রকৃত সাংবাদিকতার আসল শক্তি।

আরও পড়ুন:

সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্য মানুষ নিজেই। ধর্মীয় শ্রদ্ধা মানুষের জীবনের মূল অংশ; কিন্তু সেই শ্রদ্ধাই যখন অন্যকে ঘৃণার চোখে দেখতে শেখায়, তখন ভেবে দেখা জরুরি; ধর্মের আসল শিক্ষা কি তা-ই? সমস্ত ধর্ম এক জিনিস শেখায় — মানবিকতা। তাই সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠন, সম্প্রদায়ভিত্তিক মিলনমেলা, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে যৌথ উদ্যোগ — এগুলো মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে পারে। আলোচনা, বিতর্ক, মতের অমিল — এসব সামাজিক সুস্থতারই চিহ্ন। ঘৃণা নয়, সহনশীলতাই এগিয়ে যাওয়ার পথ।

আরও পড়ুন:

অবশেষে একটি প্রশ্নই বারবার ফিরে আসে — ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি কি সত্যিই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? নাকি এর প্রতিরোধেই তৈরি হবে নতুন সামাজিক শক্তি? ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, বহু ধর্ম ও ভাষার বহমান ঐতিহ্য, সাধারণ মানুষের সহিষ্ণুতা — এসবই বলে আমাদের সমাজ এখনও সম্পূর্ণভাবে মেরুকৃত নয়। মানুষের অভিজ্ঞতা, পরিবার, কর্মক্ষেত্র, উৎসব — এইসবের নিত্য অভ্যাসই বলে দেয়, মানুষ এখনো পাশে দাঁড়াতে জানে। রাজনীতি তাকে বিভক্ত করতে চায়; কিন্তু মানুষের অভ্যন্তরীণ মানবিক শক্তি তাকে আবারও একত্রিত করতে পারে। এই বিশ্বাসই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে।

আরও পড়ুন:

ধর্মীয় মেরুকরণ তাই কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি একটি সামাজিক পরীক্ষাও। এই পরীক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিক সবাইকেই নিজেদের সেরা সংস্করণটি সামনে আনতে হবে। মানুষের মাঝে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, পরস্পরের অভিজ্ঞতা বোঝা, ভয়কে ভাঙা, তথ্যকে সত্যের আলোয় প্রকাশ করা — এই পথেই আসবে পরিবর্তন। সমাজে ভারসাম্য তখনই ফিরে আসবে, যখন আমরা বুঝতে পারব ধর্মের ভিত্তি বিভাজন নয়; সংহতি। এবং গণতন্ত্রের শক্তি মানুষের সংখ্যায় নয়; মানবিকতায়।

আরও পড়ুন:

এই উপলব্ধিই আমাদের বলবে — রাজনীতি যতই বিভাজনের রং মাখুক, মানুষের অন্তরের রং একটাই — সহাবস্থান। মেরুকরণের রাজনীতি হয়ত সমীকরণ সাময়িক পাল্টে দিতে পারে; কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত শান্তি, ন্যায় এবং মর্যাদার দিকেই ফিরে যায়। সেখানেই ভবিষ্যতের আলো।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder