BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

শেরে বাংলা ফজলুল হক ও বাংলার রাজনীতি

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৩১ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৩১

ওয়াহেদ মির্জা

আরও পড়ুন:

সিপাহী বিদ্রোহের ১৬ বছর পর ও জাতীয় কংগ্রেস পার্টি তৈরির ১২ বছর পর বাংলা ও বাঙালি জাতির জননায়ক শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এর জন্ম ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালের সাতুরিয়া গ্ৰামে মামার বাড়িতে। তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামে। পিতা খ‍্যাতনামা উকিল কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং মাতা সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র পুত্র তিনি। শেরে বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা মাদ্রাসায়৷ পরে তিনি বরিশাল জেলা স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৮৮৯ সালে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রাস পাস করেন৷ প্রথম বিভাগে আই.এ পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৮৯৩ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে বি.এ অনার্স পাস করেন৷ ১৮৯৫ সালে গণিতশাস্ত্রে এম.এ করেন৷ প্রসঙ্গত আজও যেমন পশ্চিমবঙ্গে শোনা যায়, মুসলমানদের মেধা নেই, তাই চাকরি হয় না৷ তখনকার যুগে এ.কে ফজলুল হক সাহেবকেও এই রকম কথা শুনতে হয়েছিল৷ মুসলমান ছাত্ররা গণিত, বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে না। কারণ, তারা মেধাবি নয়। একথা শুনে ফজলুল হকের প্রবল জিদ চেপে যায়। তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, গণিতশাস্ত্রেই পরীক্ষা দেবেন। এরপর মাত্র ছয় মাস গণিত নিয়ে পড়েই ফার্স্ট ক্লাস পান। পিতার পরামর্শে তিনি আইন কলেজে পড়েন এবং ১৮৯৯ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন৷ এর পর ১৯০৬ সালে বাংলায় ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম‍্যাজিস্ট্রেটের চাকরি পান৷ ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেস৷ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ কংগ্রেসের মধ্যেও শুরু থেকেই লালিত পালিত হতে থাকে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ধীরে ধীরে বিনষ্ট হতে থাকে। এরই মাঝে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ নিয়ে বাংলার জনগণ বিভক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিপরীতে গড়ে ওঠে মুসলিম জাতীয়তাবাদ৷ পরিণতিতে ১৯০৬ সালে তৈরি হয় মুসলিম লীগ৷ ফজলুল হক ১৯১১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে আইন ব‍্যবসা শুরু করেন। ওই বছরই বঙ্গ বিভাগ রদ হয়৷ এই সময় লর্ড হার্ডিংয়ের শাসনামলে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।

আরও পড়ুন:

Meet A.K. Fazlul Haq: One of the best-loved leaders of Bengal | ummid.com

এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলার ভাগ্যাকাশে রাজনৈতিক দিশারি হিসেবে আবির্ভূত হলেন এ.কে ফজলুল হক৷ ১৯১২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন তিনি কলকাতায় কেন্দ্রীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি গঠন করেন৷ ১৯১৩ সালে সর্বপ্রথম ঢাকা বিভাগ হতে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৪ থেকেই জমিদার ও মহাজন শ্রেণির বিরুদ্ধে প্রথম সংগ্ৰামের সূচনা করেন৷ ১৭৯৩ সালে যখন বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন হয়, ফলে এদেশে ইংরেজের একদল অনুগত জমিদার গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়৷ এই জমিদারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কলকাতার ভদ্রলোকেরা ১৮৩৮ সালে গড়ে তোলে ল‍্যান্ডহোল্ডার’স সোসাইটি নামে এক রাজনৈতিক সংগঠন৷ অনুকম্পায়ী ফজলুল হক বুঝেছিলেন, যদিও কৃষককুলের অধিকাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত এবং জমিদারদের অধিকাংশ উচ্চবর্গীয় হিন্দু, তবুও সমস্যাটা কিন্তু সম্প্রদায়-ভিত্তিক নয়, শ্রেণিগত। তাই তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের উচ্চবর্ণ ও অভিজাত শ্রেণির এলিটিজম বা অভিজাত গোষ্ঠীর রাজনীতি ভেঙে বাংলার রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর ও জমিদারী অত্যাচার নির্মূলের পথিকৃৎ হয়ে উঠেছিলেন৷ এই সময় ১৯২৯ সালে স‍্যার আবদুর রহিম “নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি” গঠন করেন৷ ১৯৩৫ সালে এ.কে ফজলুল হক এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন৷ ১৯৩৬ সালে প্রজা সমিতির নতুন নামকরণ হয় “কৃষক প্রজা পার্টি”৷ এই পার্টি গঠনের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্দোলনের গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসে৷ এছাড়া তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠান করেছেন৷ তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), বাংলার শিক্ষামন্ত্রী (১৯৪২), পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮) ইত্যাদি অন্যতম।

আরও পড়ুন:

File:AK Fazlul Huq Cabinet 1937.jpg - Wikimedia Commons
আমরা জানি ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ‍্যবাদী বাংলায় জমিদার, মজুতদার ও মহাজন শ্রেণি সৃষ্টি করে এবং ১৮৩৫ সালে ভারতের রাষ্ট্রভাষা ফার্সির পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা প্রবর্তিত হয়। তখন একদিকে যেমন হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম চলতে থাকে, অন্যদিকে তেমন ইংরেজের অনুগত দলও তৈরি হয়৷ এই অনুগত দলের নব‍্য শিক্ষিত হিন্দুরা সিপাহী বিদ্রোহকে সমর্থন না করায় এরা ব্রিটিশের বেশি আস্থাভাজন হয়ে ওঠে৷ সরকারি চাকরি দখল করে৷ এই সময় মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও চাকরি ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল৷ ইতিপূর্বে মুসলমানদের শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হত না৷ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের উদ‍্যোগে ব্রিটিশ আমলে বাংলায় সাম্প্রদায়িক বিভেদ নিরসনের লক্ষ্যে ১৯২৩ সালে বেঙ্গল প‍্যাক্ট চুক্তি হয়।

আরও পড়ুন:

AK Fazlul Huq | Bangladesh on Record
এদিকে ফজলুল হক মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বেকার হস্টেল, কারমাইকেল হস্টেল এবং আজকের মাওলানা আজাদ কলেজ-সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করেন৷ প্রাদেশিক সরকারে ৫৪ শতাংশ চাকরির সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ করেন৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রদের জন্য আসন সংরক্ষণ, বাংলায় মাদ্রাসা শিক্ষার পুনর্গঠন এবং গ্রামীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষাগত ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করেন। তাছাড়া তখন মুসলমান ছাত্রদের সংস্কৃত পড়তে হত৷ তিনি মুসলমানদের শিক্ষার প্রতি আগ্ৰহ বাড়াতে আরবি শিক্ষা চালু করেন এবং সরকারি স্কুলে মুসলমান শিক্ষক ও একজন মৌলভী রাখতে হবে – এই নিয়ম লাগু করেন৷ তিনি কিন্তু মোটেই হিন্দু-বিদ্বেষী ছিলেন না৷ শিক্ষাক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম সাম্য প্রতিষ্ঠার্থে পরীক্ষার খাতায় নামের পরিবর্তে ক্রমিক নম্বর লেখার নিয়ম প্রবর্তন করেন৷ ফলে মুসলমান ছাত্রদের পাসের হার বাড়তে লাগল৷ কিন্তু বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে আবার পরীক্ষার খাতায় নাম লেখা ও ইন্টারভিউতে বৈষম্য করা হচ্ছে৷ মাদ্রাসার সিলেবাসে আরবি ভাষা শিক্ষা থাকলেও উচ্চ শিক্ষার জন্য জেলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ডিপার্টমেন্ট নেই, আরবি শিক্ষক নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে বঞ্চনা ও অবহেলার ছবি স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে৷

আরও পড়ুন:

A.K. Fazlul Huq - New World Encyclopedia
আজকের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক অংশিদারিত্বে মুসলমানদের ক্ষমতাহীন করে রাখার প্রয়াস চলমান৷ স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলমানরা কেন দুর্দশাগ্রস্ত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার — এ বিষয়ে আওয়াজ ওঠে না তথাকথিত সেক্যুলার রাজনৈতিক দলগুলো থেকে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের এলিটিজম রাজনীতির শিকার হচ্ছে বাঙালি মুসলমান ও নিম্নবর্ণীয় হিন্দুরা৷ তাই এই উচ্চবর্ণ নিয়ন্ত্রিত ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে বাঙালি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের ন্যায় নেতার শূন্যতা আজও বাংলার রাজনীতিতে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder