BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন সম্ভাবনা?

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১৬ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১৬

পাশারুল আলম

আরও পড়ুন:

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটগুলোর একটি। বিগত এক শতাব্দী ধরে এই সংকটের সমাধানে একের পর এক আন্তর্জাতিক চুক্তি, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধান আজও অধরা। ১৯১৬ সালের সাইকস–পিকট চুক্তি থেকে শুরু করে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি এবং সম্প্রতি মিশরে শুরু হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি আলোচনার উদ্যোগ — ইতিহাস এক ধরনের পুনরাবৃত্তির সাক্ষী।

আরও পড়ুন:

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: সাইকস-পিকট থেকে অসলো

আরও পড়ুন:

ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নের উৎপত্তি এক অর্থে ঔপনিবেশিক রাজনীতির পরিণতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯১৬ সালে সাইকস-পিকট চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে অটোমান সাম্রাজ্যের আরব অঞ্চলগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এই চুক্তিতে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বা ভূখণ্ডগত অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল আরব বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সূচনা বিন্দু।
কয়েক দশক পরে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি শান্তির এক নতুন আশা জাগায়। ইসরাইল ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি স্বশাসনের পথ প্রশস্ত করা ও ইসরাইলি দখল হ্রাস করা। কিন্তু বাস্তবে জেরুজালেমের মর্যাদা, ইহুদি বসতি স্থাপন, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। ইয়াসিন আরাফতের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ: পুরনো চেহারায় নতুন মুখোশ?

আরও পড়ুন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মিশরে শুরু হওয়া নতুন শান্তি আলোচনা অনেকের কাছে আবারও এক ধরনের শীর্ষ-নিম্নগামী প্রয়াস ও পুরনো চুক্তিগুলির মতন মনে হচ্ছে। এই আলোচনায় হামাস ও ইসরাইল সরাসরি উপস্থিত না থাকায় এটি মূলত বহিরাগত শক্তির দ্বারা পরিচালিত এক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে সমস্ত মুসলিম বিশ্বকে যেমন যুক্ত করা হয়নি, তেমনি যেসব দেশ দুই বছরের যুদ্ধ বলুন বা জন-সংহার তাতে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে, তাদের উপস্থিতি অনেকেই সন্দেহ করেছেন।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের পরিকল্পনার কয়েকটি মূল দিক:
১) গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি, যার প্রথম পর্যায় শুরু হয়ে গেছে। কুড়িজন জীবিত জিম্মি মুক্তি পেয়েছে, অন্যদিকে বেশ কিছু আটক ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছে। পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের কথা ঘোষণা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় দশ বিলিয়ন ডলার, যার বৃহদাংশ মুসলিম দুনিয়ার। যদিও পশ্চিমা দেশের অর্থ থাকবে।
২) হামাসকে ভবিষ্যৎ শাসন থেকে বাদ দেওয়া সমস্যার সৃষ্টি করবে। গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতে রাখা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে ভিতরের কোনো রহস্য জড়িয়ে আছে কিনা, সংশয় রয়েছে।
এই প্রস্তাবের মধ্যেই অতীতের চুক্তিগুলোর সঙ্গে মৌলিক সাদৃশ্য লুকিয়ে আছে। ফিলিস্তিনিদের সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অভাব এবং শক্তির অমিলকে অক্ষত রাখা। যে ভাবে ইসরাইলের শক্তিকে বহাল রেখে এই চুক্তি করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যত শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:

মৌলিক ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত:

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে, ফিলিস্তিন প্রশ্নের মূল রাজনৈতিক ও সার্বভৌম ইস্যুগুলোর স্পষ্ট সমাধানের অনুপস্থিতি। শুধুমাত্র সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে শান্তি স্থাপন করা কঠিন ব্যাপার হবে। জেরুজালেমের মর্যাদা এখনো ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিতর্কের বিষয়। অথচ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকা মূল বিবাদকে এড়িয়ে যাওয়ার সামিল। এছাড়া ইহুদি বসতি স্থাপন ও দখলদারিত্ব ইস্যুতে কোনো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নেই। একদিকে শান্তি চুক্তি, অন্যদিকে পশ্চিম তীরের চারশ সেটেলার বসতি বিষয়ে নীরব সমর্থন অশান্তির কারণ হিসাবে জিইয়ে রাখা হল।
শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের অধিকার প্রসঙ্গে পরিকল্পনাটি প্রায় নীরব। ১৯৪৮ সাল থেকে যেসব শরণার্থী ফিলিস্তিন ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিষয়ে কোনো ভূমিকা গ্রহণ না করা পুরনো সমস্যাকে বাঁচিয়ে রাখার নামান্তর। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে স্পষ্ট রূপরেখা অনুপস্থিত। আমেরিকা ও ছোট ছোট কয়েকটি দেশ ছাড়া প্রায় ১৬০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে, অথচ চুক্তিতে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়া আর যাই হোক, এটি স্থায়ী শান্তি আনতে পারবে বলে মনে হয় না। এই অবস্থায় আমেরিকার চাপে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলেও তা এক ‘দীর্ঘমেয়াদি অস্থির শান্তি’ তৈরি করবে, যা প্রকৃত ন্যায়ভিত্তিক শান্তি নয়।

আরও পড়ুন:

শক্তির ভারসাম্যের অভাব:

আরও পড়ুন:

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই ফিলিস্তিনিরা সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে টরম অসাম্যের বাস্তবতায় বসবাস করছে। ইসরাইলের কাছে উন্নত সামরিক শক্তি, আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং আঞ্চলিক প্রভাব রয়েছে; অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র পর্যন্ত নেই। ট্রাম্প পরিকল্পনায় ইসরাইলকে নিরাপত্তা রক্ষার নামে গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার অনুমতি দেওয়া এই অসমতাকেই স্থায়ী করে তুলছে। যদিও আগামী দিনে বাফার জোনের ওপারে থাকবে — একথা বলা হলেও আগামীদিনে তা কোন দিকে যাবে বলা মুশকিল।

আরও পড়ুন:

ভবিষ্যতের দিগন্ত: জটিল সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

আরও পড়ুন:

এই পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর নির্ভর করবে —
১) হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা: হামাসকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে কোনো স্থায়ী শান্তি টেকসই হবে কি? এবিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। হামাস এবিষয়ে আগামী দিনে কী করবে, সে ব্যাপারেও সন্দেহ রয়েছে।
২) ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য: গাজা ও পশ্চিম তীরের রাজনৈতিক বিভক্তি দূর না হলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। শান্তি চুক্তি হচ্ছে, কিন্তু ফিলিস্তিনি জাতিসত্তাকে অস্বীকার করে চুক্তিতে অস্থায়ী শান্তি স্থাপন হলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব কিনা, এবিষয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকে যায়।
৩) নিরাপত্তা বনাম স্বাধীনতা: ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার বা নিয়ন্ত্রণ হ্রাসের মাত্রা নির্ধারণেই আসল দ্বন্দ্ব নিহিত। বন্দী দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যে বিবাদ, সে ব্যাপারে কোনো পথ নির্দেশিকা নেই।
৪) আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা: বহিরাগত শক্তিগুলোর বাস্তবিক লক্ষ্য কি শান্তি, নাকি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার? এই চুক্তির মধ্যে কি ১৯১৬ সালের গোপন চুক্তির মতো কোনো গোপন পরিকল্পনা রয়েছে। তাই যদি হয়, তাহলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন আধুরা থেকে যাবে। ফিলিস্তিন যদি ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য আরো অশান্ত হয়ে উঠবে।
পরিশেষে বলা যায়, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে — যখন ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ বহিরাগত শক্তি নির্ধারণ করে, তখনই সেই উদ্যোগ ব্যর্থতার পথে হাঁটে। সাইকস-পিকট চুক্তি এবং অসলো চুক্তির মতোই ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাও ফিলিস্তিনি জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না করলে স্থায়ী শান্তি আনতে পারবে না।
এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তির একমাত্র ভিত্তি হতে পারে ইসরাইলি দখলদার নীতি বন্ধ করা। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার যে সমর্থন বিশ্ব দিয়েছে, তাকে যথার্থভাবে কার্যকর না করলে মূলে না গিয়ে ভুলের মধ্যে শান্তি খোঁজার আর একটি ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। এর সঙ্গে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও সম্মানের ভিত্তিতে সহাবস্থানের জন্য একটি উপযুক্ত প্রস্তাব এই চুক্তির মধ্যে অন্যতম খামতি বলে মনে হয়। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও তার সার্বভৌম অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব কার্যকর হলে শান্তির আশা করা যেতে পারে। আজকের এই শান্তি চুক্তিতে যা কোনো আলোচনার বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এতে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ আশা অপেক্ষা অধিক হতাশ হবেন। তবে সব কিছুর উপরে এই মুহূর্তে নর-সংহার বন্ধ হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder