BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৫০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৫০

স্বপন সেন ও দেবব্রত মন্ডল

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ২২ অক্টোবর ২০২৫ 

আরও পড়ুন:

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এর নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই! মধ্য কলকাতার একটি রাস্তার নাম। এখানেই রয়েছে সিপিএম-এর রাজ্য কার্যালয়। কিন্তু কে ছিলেন এই আলিমুদ্দিন সাহেব? স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন বহু মানুষের অবদান রয়েছে, যারা এই আন্দোলনের নেপথ্যে থেকেও অনবদ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁরা যদি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এভাবে সহযোগিতা না করতেন তবে ভারতবর্ষ স্বাধীন হতে হয়ত আরো অনেক বছর পিছিয়ে যেত। সেইসব নেপথ্যচারী বাঙলার মানুষদের নিয়ে আমার নিবেদন।

আরও পড়ুন:

১৯১০ সালের এক অমাবস্যার রাত। বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে ঢাকার ওপারে জিঞ্জিরা গঞ্জের ঘাটে নিঃশব্দে এসে ভিড়লো দুটি ছিপ নৌকা। জনা দশেক যুবক নেমে এলো, তারপর কিছুক্ষণ হেঁটে পৌঁছাল শুভাড্যা গ্রামে এক ধনী মহাজনের বাড়ির সামনে। এদের মধ্যে দু’জনকে চেনেন আপনারা। একজনকে দেখেছেন সারপেন্টাইন লেনে ইন্সপেক্টর নন্দলাল ব্যানার্জীকে গুলি করে হত্যা করতে। আর অন্যজনকে ডালহৌসি পাড়ায় রডা কোম্পানির পিস্তল বোঝাই গরুর গাড়ির পাশে হাঁটতে… শ্রীষচন্দ্র পাল ও হরিদাস দত্ত।

আরও পড়ুন:

চারদিকে তাকিয়ে পাঁচিল টপকে ভেতরে নেমে গেলেন শ্রীষবাবু। আর একটু পরেই খুলে দিলেন সদর দরজা। দলপতির নির্দেশে এবার বাকিরা বন্দুক উঁচিয়ে বাড়ির সবাইকে বাধ্য করল সোনা-দানা, টাকা-পয়সা সবকিছু তাদের হাতে তুলে দিতে। বিনা প্রতিরোধে সবাই গায়ের গয়না খুলে দিলেও কোলে শিশুপুত্র নিয়ে উপস্থিত এক তরুণী বধূ কিছুতেই তার অলঙ্কার দিতে রাজি নয়। ধমক-ধামকেও কাজ হল না, এদিকে দলপতির কড়া হুঁশিয়ারি মহিলাদের গায়ে হাত দেয়া যাবে না। হঠাৎ হরিদাস দত্ত কোল থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিয়ে বললেন, এবার গয়না না খুলে দিলে কেটে ফেলা হবে একে!

আরও পড়ুন:

নির্বিকার তরুণী শুধু জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে রইল দলপতির দিকে। শরীরের কোথাও স্পর্শ না করে অলঙ্কার কীভাবে কেড়ে নেয়া যায়, সে বিদ্যা তাদের জানা ছিল না। বাধ্য হয়ে সর্দার ইশারা করলেন বাচ্চাটি ফিরিয়ে দিতে। নিজের গর্ভজাত শিশু সন্তানকে কোলে ফিরে পেয়ে মেয়েটি বলে উঠল, আমি জানি আপনারা কে। বাপের বাড়ি এসে নিরাপদে থাকার জন্য রাত কাটাতে এসেছি এই বাড়িতে। গয়না খুলে দিতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই, কিন্তু সেজন্য আমার বিধবা মা’কে শ্বশুরবাড়ি থেকে আজীবন গঞ্জনা শুনতে হবে। তারা ধরেই নেবে যে, এটা আমার অভাবী মায়ের একটা সাজানো গল্প। দোহাই, আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। একথা শুনে দলপতি মেয়েটির মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন, তারপর দলবল নিয়ে নিমেষে মিলিয়ে গেলেন অন্ধকারে।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার জন্য স্বদেশী এই ডাকাত দলের দলপতিকে চেনেন? আমজনতার কাছে অপরিচিত সৈয়দ আলিমুদ্দিন আহমেদ। ১৮৮৪ সালে জন্ম ঢাকার আশক জমাদার লেনে। প্রতিবেশী ও সহপাঠী ছিলেন বিভি’র প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষ। ১৯০৬ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। তবে হঠাৎ বাবার মৃত্যু হওয়ায় আর্থিক কারণে এফ.এ পরীক্ষা দিতে পারেননি। পড়াশোনা বন্ধ করে ঢাকা কালেক্টরেটে চাকরি নেন। অবসর সময়ে বাড়িতে কিছু ছাত্র পড়াতেন, আর সেই থেকে এলাকার মানুষের কাছে ‘মাষ্টার সাহেব’ নামে পরিচিত হন।

আরও পড়ুন:

কুস্তি লড়ায় তাঁর ছিল অসম্ভব আগ্রহ। তাই নিজের বাড়িতেই খুলেছিলেন কুস্তির আখড়া। সেখানে লাঠি, তরোয়াল, বল্লম ও ছুরি খেলাও শেখানো হত। আদতে এই আখড়াই ছিল বিপ্লবী দলের রিক্রুটিং সেন্টার এবং সেই কাজটি করতেন মাস্টার সাহেব স্বয়ং। ১৯০৫ সালে হেমচন্দ্র মুষ্টিমেয় যে কয়েকজনকে নিয়ে ‘মুক্তিসংঘ’ স্থাপন করেছিলেন, ইনি ছিলেন তার অন্যতম। দুরদর্শী মানুষটি বুঝেছিলেন, পুলিশের হাত থেকে দলকে বাঁচাতে একজনকে অন্তত আড়াল নিতে হবে বা আত্মগোপন করে থাকতে হবে। ফলে কুস্তিপ্রিয় ও পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া মানুষটি ছিলেন বরাবরই সন্দেহের ঊর্ধ্বে।

আরও পড়ুন:

এই সুযোগে তিনি অস্ত্রশস্ত্র, পুস্তিকা ও পলাতক বিপ্লবীদের শেল্টারের ব্যবস্থা করতেন। ১৯১৫ থেকে ১৯২০ এই পাঁচ বছর অধিকাংশ বিপ্লবী কারান্তরালে গেলেও যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন দলের ভরকেন্দ্রটিকে। তাঁরই অনুপ্রেরণায় ঢাকা ও মানিকগঞ্জের অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের যুবক নেপথ্য থেকে এগিয়ে এসেছিলেন বিপ্লবী কর্মকান্ডে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আইনজীবী নইমুদ্দিন আহমেদ, যার বাবা ছিলেন আসাম সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। দলগঠন এবং আর্থিক সাহায্য ছাড়াও ইনি বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন। আরেকজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন ঢাকা কলেজের আব্দুল জব্বার। দুঃখের বিষয়, অকালে মারা যান তিনি। হেমচন্দ্র শেষ বয়সে তার স্মৃতিচারণে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছিলেন, “জব্বারের মতো ছেলে আরো ক’টা জন্মালে স্বাধীনতা যুদ্ধ আরো অনায়াস, সাবলীল ও সহজ সুন্দর হত। সব ভেদাভেদ ভুলে হিন্দু-মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের মুক্তি সংগ্রামে আত্মদান করতে পারত। বিধাতা অকালে জব্বারকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে তা হতে দিলেন না।”

আরও পড়ুন:

১৯৩০ সালে বিভি’র কর্মকাণ্ড চূড়ান্ত পরিণতি নেওয়ার আগেই দুরারোগ্য গ্যালপিং থাইসিস রোগে হঠাৎ চলে গেলেন মাস্টার সাহেব। দেখে যেতে পারলেন না সেই বছরেরই আগস্ট মাসে মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজে তাঁর আখড়ার এক ছাত্রের অসামান্য বাহাদুরি। তাঁর কীর্তির কথা শুনে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র বলেছিলেন, ধন্যি ছেলে, বুঝিয়ে দিল প্রয়োজন হলে আমরাও জবাব দিতে জানি !

আরও পড়ুন:

আলিমুদ্দিন সাহেবের কথা আজ আর কারও মনে নেই। মধ্য কলকাতার এন্টালি অঞ্চলে তাঁর নামাঙ্কিত একটি রাস্তা শুধু বহন করছে আজন্ম বিপ্লবী, নাম-যশ ও প্রচার বিমুখ সেই মানুষটিকে। প্রণাম ! ‌

আরও পড়ুন:

(২)

আরও পড়ুন:

এখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট মধ্য কলকাতার এক ঘিঞ্জি এলাকার ব্যস্ত রাস্তা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে পশ্চিমবঙ্গ চিনেছে অন্যভাবে। ৩১-নং আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই রয়েছে রাজ্য সিপিএমের সদর দপ্তর। যেখানে বসে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর রাজ্য-রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেছেন বামফ্রন্ট নেতৃবর্গ। কিন্তু আদতে কে ছিলেন এই আলিমুদ্দিন? কার নামাঙ্কিত এই রাস্তা? সে প্রশ্নের উত্তর পেতে পিছিয়ে যেতে হবে ঊনিশ শতকে।
ঢাকার জমাদার লেন। একটা সরু অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে গলি। দিনের বেলায় কতটুকু সময় সে রোদের মুখ দেখে, তা বোঝা দায়। এখানেই ১৮৮৪ সালের এক বর্ষণমুখর দিনে জন্ম নিলেন স্বাধীনতা যুগের এক অগ্নিপুরুষ, সৈয়দ আলিমুদ্দিন আহম্মদ। বাবা আমিরুদ্দিনের ছিল সামান্য এক দর্জির দোকান। সংসার-সীমান্তে যুদ্ধরত বাবাই ছিলেন আলিমুদ্দিনের অনুপ্রেরণা। তখন খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছিল মানুষের জীবন যাপন। স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন তখন পুরোদমে জ্বলছে। বাতাসে বারুদের গন্ধ তখনও টাটকা। স্বাভাবিক ভাবেই পাল্টে যাওয়া সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছিল সমাজ, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির মানচিত্র। কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হল জাতীয় কংগ্রেস। শুরু হল বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন। ফলে প্রতিদিনই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল দেশীয় রাজনীতি। পরিবর্তিত সময়ও নিজের মতো করে গড়েপিটে নিয়েছিল যুবক আলিমদ্দিনকে। যদিও তার বহু পূর্বেই সময় তার দাগ রেখে গেছে আলিমুদ্দিনের ব্যক্তিগত জীবনে। ঘটে গেছে এক অনাকাঙ্খিত বিপর্যয়। মারা গেছেন আলিমুদ্দিনের বাবা। গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য আলিমুদ্দিনকে নিতে হয়েছে প্রাইভেট টিউটরের জীবিকা।
জীবনের এই সমস্ত ভাঙা-গড়ার খেলাকে পাথেয় করেই পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিলেন তরুণ-তুর্কি আলিমুদ্দিন। ঘটনাচক্রে হেমচন্দ্র ঘোষ ছিলেন আলিমুদ্দিনের বন্ধু। এই বন্ধুই স্বাধীনতার বীজমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন আলিমুদ্দিনকে।
সাল ১৯০৫। ইতিহাসের পাতা বলছে সময়টা উত্তাল। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন তখন পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। ইংরেজ সরকারের দমননীতির গ্রাফ প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী। এমন সময় বিপ্লবী হেমচন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেন এক গুপ্তসমিতি। যার অন্যতম সভ্য ছিলেন আলিমুদ্দিন ওরফে মাস্টার সাহেব। তাঁর নেতৃত্বে যুবকদের শারীরিক কসরতের জন্য প্রতিষ্ঠিত হল বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মাধ্যমেই চলত বিভিন্ন বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড, এমনকি স্বদেশি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করার প্রাথমিক পাঠও দেওয়া হত এই প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমেই। না এখানেই থেমে থাকেননি মাস্টার সাহেব আলিমুদ্দিন। একের পর এক বিপ্লবীকে প্রয়োজনীয় শেল্টার দিয়েছেন। সাহায্য করেছেন অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে। বিপ্লবের কাজে প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য করার জন্য আলিমুদ্দিন গঠন করেছেন স্বদেশি ডাকাতদল। সেই যুগে পুঁজিপতিদের ত্রাস হয়ে উঠেছিল তারা, আলিমুদ্দিনের হাতে গড়া এই ডাকাতদল আদতে ছিল রবিনহুড। কুবেরদের অর্থ-সম্পদ লুট করে গরিব মানুষদেরকে অকাতরে বিলিয়ে দিতেন। ব্রিটিশের দমন নীতির ফলে হেমচন্দ্র-সহ একাধিক স্বদেশী নেতা যখন জেলে, তখনও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রায় একাই অক্সিজেন জুগিয়েছেন আলিমুদ্দিন। নিজে ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। সেই সূত্রেই সাম্প্রয়িকতাকে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি। ছদ্মবেশে একের পর এক বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। এমনকি পুলিশি ধরপাকড়ের কারণে আত্মগোপন করেও চালিয়ে গেছেন ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপ। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশ কোনোদিন তার টিকিও স্পর্শ করতে পারেনি।
সাল ১৯২০। যক্ষ্মা রোগে বেশ কিছুদিন ভোগার পর চলে গেলেন মাস্টার সাহেব। পরবর্তীকালে তার নামানুসারে মধ্য কলকাতার একটি রাস্তার নামকরণ করা হল ‘আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।’ তাঁর ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক বর্ণময় অধ্যায়। এমন কতশত বিপ্লবী আমাদের চোখের আড়ালে কাজ করে গেছেন। ইতিহাস তাদের মনে রাখেন

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder