BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

সাম্রাজ্যবাদ, সমাজতন্ত্র ও আজকের বিশ্ব

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২২ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৭
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসান হয় এবং তার মধ্য দিয়েই আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই বৃহৎ শক্তির আবির্ভাব হয়। এই মহাযুদ্ধের অব্যবহিত পরে, ১৯৪৭ সালে তুরস্ক সংকট হয়। সেখানে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে শিয়া, সুন্নি, খৃস্টান, ইহুদি -- এককথায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সর্বস্তরের শোষিত মানুষ চলমান সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্ব উত্তাল হয়ে ওঠে। বিশ্ববন্দিত কবি নাজিম হিকমতের সম্মোহনী নেতৃত্বে আঙ্কারার রাজপথ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।

খগেন্দ্রনাথ অধিকারী:সাম্রাজ্যবাদ মানবতার শত্রু। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের নেতা ছিল ব্রিটেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই শিবিরের নেতৃত্বে উন্নীত হয় আমেরিকা। তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, দুনিয়াব্যাপী সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের প্রসারকে প্রতিহত করা এবং সমাজতান্ত্রিক শিবিরের নেতা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবকে খর্ব করা। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসান হয় এবং তার মধ্য দিয়েই আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই বৃহৎ শক্তির আবির্ভাব হয়। এই মহাযুদ্ধের অব্যবহিত পরে, ১৯৪৭ সালে তুরস্ক সংকট হয়। সেখানে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে শিয়া, সুন্নি, খৃস্টান, ইহুদি — এককথায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সর্বস্তরের শোষিত মানুষ চলমান সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্ব উত্তাল হয়ে ওঠে। বিশ্ববন্দিত কবি নাজিম হিকমতের সম্মোহনী নেতৃত্বে আঙ্কারার রাজপথ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।
হ্যারী ট্রুম্যান তখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। ভূমধ্যসাগরের তরঙ্গ বিধৌত তুরস্ক-গ্রীস-সাইপ্রাসে যাতে কমিউনিস্টদের সংগ্রাম ফলপ্রসূ না হয়, সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে এবং অগণিত মানুষের রক্তে সাগরের জল ও রাজপথ লালে লাল হয়ে ওঠে। অত্যাচারের মুখে নাজিম হিকমৎ ও তাঁর কিছু সহযোদ্ধা সোভিয়েত ইউনিয়নে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচান। এতে উল্লসিত হয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রদত্ত ওই ভাষণে ট্রুম্যান ঘোষণা করেন, “মুক্ত জাতিরা যারা সকলে সংখ্যালঘু বা বাইরের চাপ দ্বারা অধীনতার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করছে, তাদেরকে আমেরিকা সাহায্য দেবে।” এই ঘোষণা ‘ট্রুম্যান নীতি’ নামে পরিচিত।
এর দ্বারা, তুরস্ক ও গ্রীসে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সাময়িক সাফল্যে উল্লসিত হয়ে ট্রুম্যান বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে সংগ্রামশীল শোষিত জনতাকে রক্তচক্ষু দেখান এবং সেইসঙ্গে তাঁদের সংগ্রামে অকুতোভয় প্রেরণাদাতা ক্রেমলিনকে শাসান। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, ক্রেমনিল তথা তার তৎকালীন কর্ণধার কমরেড যোশেফ স্টালিন বা তাঁর উত্তরসূরী নিকিতা ক্রুশ্চেভ, লিওনিড ব্রেজনেভ কেউই হোয়াইট হাউসের এই হুমকিতে ভীত হননি। তাঁরা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বব্যাপী সামন্ততন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তথা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামকে মদত দিয়ে গেছেন অকুণ্ঠচিত্তে। অর্থাৎ কমরেড স্টালিন-মলোটভ-ম্যালেনকভরা, কিংবা ক্রুশ্চেভ-বুলগালিনরা, ব্রেজনেভ-কোসিগিন-গ্রোমিকোরা ট্রুম্যান মার্শাল, আইসেন হাওয়ার-ডালেস, কিংবা কেনেডি, জনসন — কোন মার্কিন কর্তার কথায় আমল দেননি। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে নির্ভীকভাবে সিংহ বিক্রমে সহায়তা করে গেছেন।
তৃতীয় বিশ্বে, অর্থাৎ এশিয়া-আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকার যে দেশ থেকে এবং যে নেতার কাছ থেকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে খোদ চল্লিশের দশক থেকেই আমেরিকা ধাক্কা খেতে শুরু করে, সেই দেশটির নাম হেল মিশর, এবং সেই নেতার নাম ছিল আব্দেল নাসের। ১৫ জানুয়ারী ১৯১৮ সালে তাঁর জন্ম এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭০ সালে ৫২ বছর বয়সে মারা যান নাসের। তাঁর নেতৃত্বে আরব জাতীয়তাবাদের উদ্ভব হয়। উল্লেখ্য, মিশর ছিল ওই সময় এক মরুময় দেশ। তাকে বলা হেত নীলনদের দান। অর্থাৎ নীলনদের বন্যায় প্লাবিত হবার কারণে, মিশরের বালুকাময় মাটি উর্বর হত, ফসল ফলত। বন্যা না হলে দেখা দিত ব্যাপক খরা। ফসল হত না। দেখা দিত খাদ্যের জন্য হাহাকার। অর্থাৎ সেবার মিশরে কৃষি উৎপন্ন পণ্য কার্যত মিলত না বললেই চলে।
কিন্তু, এই প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মিশরের জনগণের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারী, অপুষ্টি, অনুন্নয়ন, অশিক্ষা — এসব অভিশাপে বিপন্ন হবার কথা ছিল না। কারণ, মিশরের বালুময় মাটির নীচে ছিল এবং আজও রয়েছে বিপুল খনিজ তেলের ভাণ্ডার, যা শিল্প চালানোর জন্য একান্তভাবে প্রয়োজনীয়। অথচ, এই মূল্যবান সম্পদের উপর মিশরের জনগণের কোন নিয়ন্ত্রণই ছিল না। ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকার মতো দেশগুলি এই তেল সম্পদকে নিজেদের ইচ্ছামত ব্যবহার করত। উল্লিখিত দেশগুলির দ্বৈত লক্ষ্য ছিল মিশর-সহ গোটা আরব দুনিয়াকে ঘিরে তারা একদিকে এই দেশগুলিকে কাঁচামাল অর্থাৎ কলকারখানা, যানবাহন চালানোর মূল চাবিকাঠি হল যে তৈল সম্পদ, সেই কাঁচামাল বা তৈল সম্পদ সরবরাহের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করতে চাইত, এবং সেই সঙ্গে তাদের কলকারখানা অর্থাৎ লন্ডন, ম্যাঞ্চেস্টার, প্যারিস ইত্যাদি শহরের কারখানায় উৎপন্ন শিল্প সামগ্রীর বাজার হিসাবে মিশর-সহ গোটা আরব দুনিয়াকে ব্যবহার করতে চাইত।
স্বভাবতই, দু-দিক দিয়েই আরব দুনিয়ার জনগণ শোষিত হত। একদিকে তারা খনিজ তেলের ন্যায্য দাম পেত না। অনেক কম দাম পেত তারা। অন্যদিকে, উল্লিখিত শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলির উৎপন্ন পণ্য সামগ্রী তাদেরকে অনেক বেশি দামে কিনতে হত। ফলে কোন রকমের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মিশর-সহ আরব দুনিয়ার জনগণের ছিল না। তার উপর আরব দুনিয়ার তৈল ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই এইসব শোষক দেশগুলির বণিকদের জোগান দেওয়া “ম-কারান্ত” পণ্যে অর্থাৎ “মদ-মাংস-মেয়েমানুষ” পেয়ে মশগুল থাকত। বলাবাহুল্য, সৌদি আরবের “তেল কুবের” শেখরা ছিল এই তালিকার শীর্ষে। যে সৌদি আরবের মাটিতে পবিত্র ইসলামের জন্ম, সেখানে পবিত্র মক্কা-মদিনা নগরী বিরাজমান, যে দেশে পুণ্য অর্জনের জন্য সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনরা পবিত্র হজ এবং উমরাহ করতে যান, সেই দেশের শাসক গোষ্ঠী শেখ-শায়খদের এই ছিল মতিচ্ছন্ন দশা। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, আত্মমর্যাদাবোধ বলে কিছুই এদের ছিল না। ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা প্রমুখ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি এর সুযোগ নিত এবং গোটা আরব দুনিয়ার উপর তারা খবরদারী করত।
আব্দেল নাসের কার্যত আরব দুনিয়ার ঘুম ভাঙান। তিনি কমিউনিস্ট ছিলেন না ঠিকই, কিন্তু কমিউনিস্ট আদর্শের প্রতি, সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ছিলেন গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। জাতীয় মুক্তি আন্দোলন তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অকুতোভয় সহযোগী সোভিয়েত সরকার, সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি, সোভিয়েত জনগণের উচ্চ মানবিক মূল্যবোধ তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সোভিয়েত লালফৌজ তথা তার ত্রয়ী নেতা কমরেড স্ট্যালিন-মলোটভ-ম্যালেকভরা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসীদেরকে কবর দিয়ে গোটা পৃথিবীকে বাঁচিয়েছিলেন, এবং যেভাবে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বেকারি-অপুষ্টি ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করে মানুষকে উন্নততর জীবনযাত্রায় স্বাদ দিয়েছিলেন, তাতে তিনি অভিভূত হন।
ফলে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা নেহেরু-টিটো-নত্রুমা-বন্দরনায়েক-সুকর্ণো-প্যাট্রিস লুমুম্বা-ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ বিশ্বের প্রগতিশীল রাষ্ট্রনেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। তুরস্কের গণ আন্দোলনের নেতা ও কবি নাজিম হিকমতের প্রভাব ছিল তাঁর উপর অসামান্য। এইসব ব্যক্তিগত ও ভাবগত উপাদানাবলীর ক্রিয়া-প্রক্রিয়া তাঁকে আরব জাতীয়তাবাদের মুখ্য মুখে তথা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাঁকে আরব দুনিয়া তথা গোটা বিশ্বের এক অবিসংবাদী নেতায় পরিণত করেছিল। এককথায়, তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ত্রাসে পরিণত হয়েছিলেন।
এই ত্রাসের হাত থেকে মুক্তির জন্য ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে তার তাঁবেদার সৌদি আরবের ধনকুবের শেখদের সহায়তায় উগ্রবাদী সংগঠন মিশর-সহ আরব দুনিয়ায় তৈরি করে, এবং নাসের ইসলামের শত্রু, কমিউনিস্ট কাফেরদের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে মিশরকে বিধর্মীর দেশে পরিণত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে, অতএব তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে — এই দৃষ্টিকোণ থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় বক্তৃতারত অবস্থায় নাসেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মানুষের আশীর্বাদের উপর ভরসা রেখে সাম্রাজ্যবাদীদের বিষ নজরের তীব্রতা তাঁর উপর আরো বাড়বে জেনেও তিনি সুয়েজ কোম্পানিকে জাতীয়করণ করেন ১৯৫৬ সালে। এতে ইংল্যাণ্ড-ফ্রান্স-আমেরিকা ক্ষিপ্ত হয়ে মিশর আক্রমণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির অকুণ্ঠ সমর্থনে নাসের ১৯৫৬ সালের সেই সংকট থেকে মিশরকে বাঁচান।
উন্মাদ হয়ে পশ্চিমী দুনিয়া নাসের শাসিত মিশরকে হাতে না মারতে পেরে পাতে মারার চেষ্টা করে। এই উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ)-কে তারা প্রভাবিত করে মিশরকে ঋণ না দিতে। আসলে নাসের চেয়েছিলেন, ঋণ নিয়ে তিনি মিশরের সেচ ব্যবস্থাকে উন্নত করে দেশটিকে শস্যশ্যামলা করে খাদ্য সংকট থেকে মিশরবাসীকে মুক্তি দেবেন। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীরা নাসেরের সেই পরিকল্পনা বানচাল করতে বিশ্ব অর্থভাণ্ডারকে শাসায়। এই বিপদে নাসেরের পাশে এগিয়ে আসে ক্রেমনিল। তার অর্থ সাহায্যে নাসের আসোয়ান বাঁধ দিয়েসুদূর সাইবেরিয়া থেকে বরফগলা জল পাইপলাইনের মাধ্যমে আনিয়ে, মিশরবাসীর দুঃখ দূর করেন। তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে। এই জনপ্রিয়তা এবং সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার বন্ধুত্বকে পাথেয় করে তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে লড়ে গেছেন। ইন্দোনেশিয়ার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী তথা উগ্রবাদবিরোধী রাষ্ট্রপতি সুকর্ণর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে সিআইএ সুহার্তোকে যেভাবে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে, কিংবা কঙ্গোর লুমুম্বার হত্যার বিরুদ্ধে নাসের ও নেহরু যে বিশ্বজোড়া প্রতিবাদ সংগঠিত করেছিলেন, কিংবা ১৯৬২ সালের কিউবা সংকট বা ভিয়েতনাম মুক্তি আন্দোলনে নাসেরের নেতৃত্বে মিশর বা নেহেরু ও ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত যে ভূমিকা নিয়েছিল, বিশ্ববাসী তা কখনোই ভুলবে না।
সিআইএ-র চক্রান্তে ১৯৭০ সালে তাঁকে বিষ প্রয়োগে ৫২ বছর বয়সে হত্যা করা হয়। যদিও এই কুখ্যাত মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা রটিয়ে দেয়স নাসের হৃদরোগে মারা যান। কি মিশরবাসী, কি বিশ্ববাসী, কেউই সেকথা বিশ্বাস করেননি। তাঁর শেষকৃত্যে ৬০ লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন। তাঁর মৃত্যুর ৫৬ বছর পরে বিশ্বজুড়ে আজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ মত্ত হাতির মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তার মদতে ইসরাইলের হাতে অসংখ্য মানুষের রক্তে জর্ডানের তীর, গাজার প্রান্তর, প্রতিদিন লালে লাল হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ বিপন্ন। সর্বোপরি তেলের রাজনীতির হিসেব কষে সে মিথ্যা মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে রাতের অন্ধকারে মানুষের রক্তে কারাকাসের রাজপথ রাঙিয়ে দিয়ে অপহরণ করে আমেরিকায় তুলে নিয়ে গেছে। সারা পৃথিবীর শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এই মার্কিন বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। আমাদের দেশের মানুষকেও সেই পথের যাত্রী হতে হবে।

আরও পড়ুন:

(লেখক: কলকাতার সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ)।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder