BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

ভগিনী নিবেদিতা ও বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথমযুগ

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:২১ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:২১

গৌতম রায়

আরও পড়ুন:

ভগিনী নিবেদিতা ভারতবর্ষে আসার আগেই নিজ দেশে একটা রাজনৈতিক পরিমন্ডলের ভিতরে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পরিবারে একটা বিপ্লবী ঐতিহ্য ছিল। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর পিতামহ জন নোবেলের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি নিবেদিতার বাবা স্যামুয়েল নোবেলের বিশেষ রকমের সহানুভূতি ছিল। নিবেদিতা প্রথম জীবনে আইরিশ হোমরুলের জন্য লড়াই করেছিলেন ‘দি আয়ারল্যান্ড’ দলে যোগ দিয়ে।
স্বামী বিবেকানন্দর সঙ্গে তাঁর যখন প্রথম যোগাযোগ হয়, তখনই বিবেকানন্দর ভিতরে তীব্র ভাবে ব্রিটিশ-বিরোধী মনোভাব তৈরী হয়ে গিয়েছে। যদিও এই পর্বে ইংরেজদের ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে একটা মুগ্ধতা নিবেদিতার ভিতরে ছিল। প্রথম অবস্থায় তাঁর এই ধারণাও ছিল যে, ইংরেজদের সঙ্গে একটা সম্মানজনক মীমাংসার চেষ্টা করলেও করা যেতে পারে। ইংরেজদের ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে নিবেদিতার মুগ্ধতা প্রথম থমকে গেল বিবেকানন্দর পিছনে ব্রিটিশের গোয়েন্দা লেগেছে – এটা জানার পর। ২২ মে ১৮৯৮ এক চিঠিতে নিবেদিতা লিখছেন, “নির্ঘাত মাথায় গোলমাল হয়ে গিয়েছে। যদি স্বামীজীকে কোনভাবে বাধা দেওয়া হয় তাহলে সত্যিই সরকার প্রমাণ করে দেবে যে তাঁদের মাথায় গোলমাল দেখা দিয়েছে। ফলে যে আগুন জ্বলবে, অচিরেই তার উত্তাপে গোটা দেশ জ্বলবে। আমি? এই দেশের মাটিতে নিঃশ্বাস নিয়েছে এমন একজন সবথেকে বেশি রাজানুগত্যসম্পন্ন রমণী হিসেবেও যদি আমাকে দেখা হয়, তাহলে বলব, ভারতবর্ষে আসার আগে আমি সত্যিই হয়ত বুঝিনি রাজানুগত্যের গভীরতা। সেই আমিই প্রথম জ্বলে উঠব।”
সেই চিঠিতেই এই পরিচিত মানুষকে নিবেদিতা লিখছেন, “ইংলন্ডে থেকে তুমি বুঝতেই পারবে না, জাতিবিদ্বেষ কাকে বলে। তিনজন শ্বেতাঙ্গিনীর সঙ্গে স্বামীজী ও অন্য নেটিভরা যখন কোথাও যান, তখন তাঁদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়, কেমন অপমান তাঁদের সহ্য করতে হয় — তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।”

আরও পড়ুন:

Remembering Sister Nivedita on her 150th birth anniversary - The offered  one | The Economic Times
অল্প সময়ের ভিতরেই নিবেদিতার উপলব্ধ হয়, সন্ন্যাসীর অহিংসাকে একজন গৃহস্থের জীবনে স্থাপন করাকে বিবেকানন্দ কোনো অবস্থাতেই অবশ্য পালনীয় কর্তব্য মনে করেননি। বৌদ্ধদের অহিংসা নিয়ে বেশি রকমের মাতামাতিই ভারতবর্ষের পরবর্তীকালের ভীরুতার উৎসভূমি –নিবেদিতার বোধে এটাই ছিল স্বামীজীর অভিমত (স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি: ভগিনী নিবেদিতা। উদ্বোধন। পৃ-২৪)।
নিবেদিতা ভারতে আসার অল্প কিছুদিনের মাথায় কলকাতায় ভয়াবহ প্লেগ হয়। প্লেগের টিকা নিয়ে কলকাতাবাসীর ভিতরে প্রবল সরকার বিরোধী মনোভাব জেগে ওঠে। পরিস্থিতি এতই জটিল হয় যে, ইংরেজদের বিমাতৃসুলভ আচরণে কলকাতার মানুষদের ক্রোধ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ইংরেজরা সেই সময়ে কলকাতার রাজপথে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল।
নিবেদিতা এই সময়ে ‘অ্যান ইংলিস লেডি’ ছদ্মনামে প্রত্যক্ষদর্শীর এক বিবরণ পর্যন্ত একটি বিদেশি কাগজে পাঠান ১৮৯৮ সালের ৪ মে। এই পর্যায়ে স্বামীজীর কথার ভিতর থেকেই নিবেদিতার চেতনা ঋদ্ধ হয়েছিল এই ভাবনায় যে, ঈশ্বর শুভের মতোই অশুভের ভিতরেও বিকশিত হন। হিন্দুরাই কেবলমাত্র তাঁকে অশুভ রূপে উপাসনা করতে সাহস পায় না (স্বামীজীর সহিত হিমালয়ে: ভগিনী নিবেদিতা, পৃ-২৯৩)।
এই সময়কালেই ইংরেজ সম্পর্কে নিবেদিতার মনে খুব তাড়াতাড়ি অদল-বদল হতে শুরু করেছিল। বিশ শতকের শুরুতেই প্রিন্স ক্রপটকিনের ভাবনা নিবেদিতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁকে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও জানতেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধীর চিন্তাধারাতেও ক্রপটকিন বড় প্রভাব ফেলেছিলেন। ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের মতে, ১৯০০ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি ক্রপটকিনের সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম পরিচয় হয় (পেট্রিয়ট প্রফেট: ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, পৃ-৩৩৯)। প্যারিস ইন্টারন্যাশানাল এক্সিবিশনে বিবেকানন্দের সঙ্গেও ক্রপটকিনের দেখা ও দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে ক্রপটকিনের দ্বারা স্বামীজী কখনোই প্রভাবিত হননি বলে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত অভিমত প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন:

Sister Nivedita: The foreign woman who devoted her life to India!
অধ্যাপক শঙ্করীপ্রসাদ বসুর মতে, ‘অ্যানার্কিস্ট ক্রপটকিনের মতবাদকে ভারতীয় পটভূমিকায় প্রয়োগের ইচ্ছা করে নিবেদিতা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন, ভারতীয় রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে তার বিশেষ মূল্য আছে’। (নিবেদিতা লোকমাতা: শঙ্করীপ্রসাদ বসু, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ-৫৭)।
একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ইংরেজদের অধীনস্ত হয়ে থাকা ভারতের মানুষদের কোন পর্যায়ে আত্মশক্তির ওপর ভর করে সেই ইংরেজদেরই বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, তার পরিকল্পনা রচনায় নিবেদিতার জীবনে ক্রপটকিনের ভাবনা অনেকখানি প্রভাব ফেলেছিল। সেটা ছিল লড়াইয়ের প্রাথমিক স্তর। তাই সেই অবস্থায় ভারতের সামাজিক সংগঠনগুলির শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন নিবেদিতা। কারণ, যে শাসন কাঠামো ইংরেজ ভারতীয়দের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, তাকে দেশের সামাজিক সংগঠনগুলোই পারবে অকেজো করতে — এটাই ছিল নিবেদিতার বিশ্বাস। তাঁর বিশ শতকের সূচনা পর্বের ও চার বছর পরে রবীন্দ্রনাথ এভাবেই স্বদেশি সমাজের ভাবনা ভেবেছিলেন। সেদিক থেকে স্বদেশি সমাজ ভাবনায় নিবেদিতাকে রবীন্দ্র ভাবনার পূর্বসূরী বলা যেতে পারে। এমন কি অরবিন্দ ঘোষ, বিপিনচন্দ্র পাল বা পরবর্তী কালে মহাত্মা গান্ধীও নিবেদিতার স্বদেশি সমাজ ভাবনার মূল নির্যাসটুকু নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশি সমাজের চিন্তায় রাজনীতির কোনো ঠাঁই ছিল না। রাজনীতি ব্যতিরেকে নিরুপদ্রব সামাজিক চিন্তা সম্ভব কিনা — সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুতর প্রশ্ন। নিবেদিতার স্বদেশি সমাজের ভাবনা রাজনীতি বাদ দিয়ে ছিল না।

আরও পড়ুন:

Sister Nivedita Heritage Museum & Knowledge Centre
১৯০০ খৃষ্টাব্দের ১ নভেম্বর নিবেদিতা লিখছেন, “ভারতের ভরসা ভারতেরই হাতে, ইংলন্ডের হাতে নয়।” ইংরেজদের সম্পর্কে ১৯০১ সালের ১১ জানুয়ারি লিখছেন, “আমার সম্পূর্ণ আশাভঙ্গ হয়েছে, মন চিরতরে তিক্ত হয়ে গেছে।” সাম্রাজ্যকে অভিশাপ হিসেবে বর্ণনা করলেন ২৯ মার্চে লেখা চিঠিতে। স্ত্রী শিক্ষা বিস্তার প্রসঙ্গে লিখলেন, “আমি কিন্তু একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রয়োজনকেও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।” (১০ জুনের চিঠি)।
সেই বছরেরই ১৯ জুলাই মিস ম্যাকলাউডকে এক দীর্ঘ চিঠি লেখেন নিবেদিতা। সেখানেই তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এই পর্যায়ে নিবেদিতা সংশ্লিষ্ট চিঠিতে যে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, তেমন কথা প্রকাশ্যে সমসাময়িক রাজনৈতিক নেতারাও বলতে পারেননি। বিবেকানন্দ এই সময়েই মেরী হেলকে লেখা এক চিঠিতে এ সম্পর্কে তাঁর অভিমত জানান।
নিবেদিতা লিখছেন, “বুয়োর যুদ্ধ ইংরেজদের ব্যক্তিগত ও জাতিগত অধঃপতন সূচিত করেছে। …ইংলন্ডের মধ্যে যা কিছু মহৎ ছিল, সবই যেন মরে গেছে।” বিশ শতকের সূচনা পর্বে ইংলন্ডের মাটিতে ভারতবর্ষের পরিস্থিতি নিয়ে নিবেদিতা বেশ কয়েকটি বক্তৃতা করেন। ব্রিটিশ শাসনের মঙ্গলকর বিষয়গুলি নিয়ে যে প্রচার করা হয়, তা অন্তঃসারশূন্যতা — ইংলন্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে একথা নিবেদিতা প্রকাশ্যে বলেন (১৯০১ সালের ১৫ নভেম্বর এই বক্তৃতার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়)।
১৯০২ সালের মার্চ মাসে নিবেদিতার সঙ্গে ওকাকুরার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। কলকাতার রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ওকাকুরার যোগাযোগ তৈরী হয় নিবেদিতার মাধ্যমে। সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পর্বের এক মূল্যবান স্মৃতিচারণ করে গিয়েছেন (বিশ্বভারতী পত্রিকা: আগষ্ট ১৯৩৬)।
বাংলায় বিপ্লব প্রচেষ্টার সূচনা পর্ব সম্পর্কে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত লিখছেন, “মৃত্যুর এক বৎসর পূর্বে তাঁর (বিবেকানন্দ) দু’জন বিদেশি অনুরাগী (তন্মধ্যে একজন ছিলেন তাঁর শিষ্যা) কলকাতায় কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের সহায়তায় একটি জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। এই দলটিই পরে বিপ্লববাদী আন্দোলনের সৃষ্টি করেছিল।” (স্বামী বিবেকানন্দ-ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, পৃ-২,৩)।

আরও পড়ুন:

Discover 90 Sister Nivedita and swami vivekananda ideas | swami vivekananda  quotes, swami vivekananda wallpapers, great philosophers and more
বিবেকানন্দের দেহত্যাগ নিবেদিতার কাছে ছিল তাঁর গুরুর চিরবিদায় নয়, ছিল “বিজয়ীর প্রত্যাবর্তন” (১৯০২ সালের ২১ জুলাইয়ের চিঠি)। নিবেদিতার সংস্পর্শে আসা বিপ্লবীরা সারদাদেবীর পদস্পর্শ করে বিপ্লবী আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করতেন। ব্রক্ষবান্ধব উপাধ্যায় ‘স্বরাজ’ পত্রিকায় লিখেছেন, “যদি তোমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হইয়া থাকে, তো একদিন সেই রামকৃষ্ণ পূজিত লক্ষ্মীর চরণপ্রান্তে গিয়া বসিও, আর তাঁহার প্রসাদ-কৌমুদিতে বিধৌত হইয়া রামকৃষ্ণ শশীসুধা পান করিও-তোমার সকল পিপাসা মিটিয়া যাইবে।” (বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ: শঙ্করী প্রসাদ বসু, ১ম খন্ড, পৃ-৩৪৯)।
সারদা দেবীর চরণ স্পর্শ করে বিপ্লবী কাজে আত্মনিয়োগের কাজটি যে সমসাময়িক বহু বিপ্লবীই করতেন, তা নিবেদিতার একাধিক চিঠি থেকে জানা যায় (৫-৮-১৯০৯)। সেই সময়ে রামকৃষ্ণ মিশন যে ব্রিটিশের গোয়েন্দা দৃষ্টিতে রয়েছে, তা টেগার্টের রিপোর্ট থেকে জানা যায়। তা সত্ত্বেও সারদা দেবীর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্বামী সারদানন্দ বিপ্লবীদের কোনো বাধা দেননি।
সারদা দেবী একবার স্বামীজীর দেহাবসানের পর বলেছিলেন, আমার নরেন বেঁচে থাকলে ইংরেজ কি আর ওকে বাইরে রাখত? ফটকে পুরে রাখত। এটি শ্রীশ্রী মায়ের নিছক সন্তান প্রতীম নরেনের প্রতি স্নেহ সম্ভাষণ ছিল না। স্বামীজী যেভাবে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠছিলেন, সারদা দেবী নিশ্চয়ই তার আঁচ পেয়েছিলেন। তাই তাঁর ওই ঐতিহাসিক উক্তি। গুরুর লীলাবসানের পর শ্রীগুরু মহারাজের সেবার উপকরণ হিসেবে শ্রীশ্রী মায়ের স্নেহের খুকী তাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন দেশের মানুষের সঙ্গে। এভাবেই ভারতের জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়লেন ভগিনী নিবেদিতা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder