BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

ভগিনী নিবেদিতা ও বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথমযুগ

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:২১ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:২১

গৌতম রায়

আরও পড়ুন:

ভগিনী নিবেদিতা ভারতবর্ষে আসার আগেই নিজ দেশে একটা রাজনৈতিক পরিমন্ডলের ভিতরে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পরিবারে একটা বিপ্লবী ঐতিহ্য ছিল। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর পিতামহ জন নোবেলের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি নিবেদিতার বাবা স্যামুয়েল নোবেলের বিশেষ রকমের সহানুভূতি ছিল। নিবেদিতা প্রথম জীবনে আইরিশ হোমরুলের জন্য লড়াই করেছিলেন ‘দি আয়ারল্যান্ড’ দলে যোগ দিয়ে।
স্বামী বিবেকানন্দর সঙ্গে তাঁর যখন প্রথম যোগাযোগ হয়, তখনই বিবেকানন্দর ভিতরে তীব্র ভাবে ব্রিটিশ-বিরোধী মনোভাব তৈরী হয়ে গিয়েছে। যদিও এই পর্বে ইংরেজদের ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে একটা মুগ্ধতা নিবেদিতার ভিতরে ছিল। প্রথম অবস্থায় তাঁর এই ধারণাও ছিল যে, ইংরেজদের সঙ্গে একটা সম্মানজনক মীমাংসার চেষ্টা করলেও করা যেতে পারে। ইংরেজদের ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে নিবেদিতার মুগ্ধতা প্রথম থমকে গেল বিবেকানন্দর পিছনে ব্রিটিশের গোয়েন্দা লেগেছে – এটা জানার পর। ২২ মে ১৮৯৮ এক চিঠিতে নিবেদিতা লিখছেন, “নির্ঘাত মাথায় গোলমাল হয়ে গিয়েছে। যদি স্বামীজীকে কোনভাবে বাধা দেওয়া হয় তাহলে সত্যিই সরকার প্রমাণ করে দেবে যে তাঁদের মাথায় গোলমাল দেখা দিয়েছে। ফলে যে আগুন জ্বলবে, অচিরেই তার উত্তাপে গোটা দেশ জ্বলবে। আমি? এই দেশের মাটিতে নিঃশ্বাস নিয়েছে এমন একজন সবথেকে বেশি রাজানুগত্যসম্পন্ন রমণী হিসেবেও যদি আমাকে দেখা হয়, তাহলে বলব, ভারতবর্ষে আসার আগে আমি সত্যিই হয়ত বুঝিনি রাজানুগত্যের গভীরতা। সেই আমিই প্রথম জ্বলে উঠব।”
সেই চিঠিতেই এই পরিচিত মানুষকে নিবেদিতা লিখছেন, “ইংলন্ডে থেকে তুমি বুঝতেই পারবে না, জাতিবিদ্বেষ কাকে বলে। তিনজন শ্বেতাঙ্গিনীর সঙ্গে স্বামীজী ও অন্য নেটিভরা যখন কোথাও যান, তখন তাঁদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়, কেমন অপমান তাঁদের সহ্য করতে হয় — তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।”

আরও পড়ুন:

Remembering Sister Nivedita on her 150th birth anniversary - The offered  one | The Economic Times
অল্প সময়ের ভিতরেই নিবেদিতার উপলব্ধ হয়, সন্ন্যাসীর অহিংসাকে একজন গৃহস্থের জীবনে স্থাপন করাকে বিবেকানন্দ কোনো অবস্থাতেই অবশ্য পালনীয় কর্তব্য মনে করেননি। বৌদ্ধদের অহিংসা নিয়ে বেশি রকমের মাতামাতিই ভারতবর্ষের পরবর্তীকালের ভীরুতার উৎসভূমি –নিবেদিতার বোধে এটাই ছিল স্বামীজীর অভিমত (স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি: ভগিনী নিবেদিতা। উদ্বোধন। পৃ-২৪)।
নিবেদিতা ভারতে আসার অল্প কিছুদিনের মাথায় কলকাতায় ভয়াবহ প্লেগ হয়। প্লেগের টিকা নিয়ে কলকাতাবাসীর ভিতরে প্রবল সরকার বিরোধী মনোভাব জেগে ওঠে। পরিস্থিতি এতই জটিল হয় যে, ইংরেজদের বিমাতৃসুলভ আচরণে কলকাতার মানুষদের ক্রোধ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ইংরেজরা সেই সময়ে কলকাতার রাজপথে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল।
নিবেদিতা এই সময়ে ‘অ্যান ইংলিস লেডি’ ছদ্মনামে প্রত্যক্ষদর্শীর এক বিবরণ পর্যন্ত একটি বিদেশি কাগজে পাঠান ১৮৯৮ সালের ৪ মে। এই পর্যায়ে স্বামীজীর কথার ভিতর থেকেই নিবেদিতার চেতনা ঋদ্ধ হয়েছিল এই ভাবনায় যে, ঈশ্বর শুভের মতোই অশুভের ভিতরেও বিকশিত হন। হিন্দুরাই কেবলমাত্র তাঁকে অশুভ রূপে উপাসনা করতে সাহস পায় না (স্বামীজীর সহিত হিমালয়ে: ভগিনী নিবেদিতা, পৃ-২৯৩)।
এই সময়কালেই ইংরেজ সম্পর্কে নিবেদিতার মনে খুব তাড়াতাড়ি অদল-বদল হতে শুরু করেছিল। বিশ শতকের শুরুতেই প্রিন্স ক্রপটকিনের ভাবনা নিবেদিতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাঁকে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও জানতেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধীর চিন্তাধারাতেও ক্রপটকিন বড় প্রভাব ফেলেছিলেন। ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের মতে, ১৯০০ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি ক্রপটকিনের সঙ্গে নিবেদিতার প্রথম পরিচয় হয় (পেট্রিয়ট প্রফেট: ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, পৃ-৩৩৯)। প্যারিস ইন্টারন্যাশানাল এক্সিবিশনে বিবেকানন্দের সঙ্গেও ক্রপটকিনের দেখা ও দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে ক্রপটকিনের দ্বারা স্বামীজী কখনোই প্রভাবিত হননি বলে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত অভিমত প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন:

Sister Nivedita: The foreign woman who devoted her life to India!
অধ্যাপক শঙ্করীপ্রসাদ বসুর মতে, ‘অ্যানার্কিস্ট ক্রপটকিনের মতবাদকে ভারতীয় পটভূমিকায় প্রয়োগের ইচ্ছা করে নিবেদিতা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন, ভারতীয় রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে তার বিশেষ মূল্য আছে’। (নিবেদিতা লোকমাতা: শঙ্করীপ্রসাদ বসু, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ-৫৭)।
একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ইংরেজদের অধীনস্ত হয়ে থাকা ভারতের মানুষদের কোন পর্যায়ে আত্মশক্তির ওপর ভর করে সেই ইংরেজদেরই বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, তার পরিকল্পনা রচনায় নিবেদিতার জীবনে ক্রপটকিনের ভাবনা অনেকখানি প্রভাব ফেলেছিল। সেটা ছিল লড়াইয়ের প্রাথমিক স্তর। তাই সেই অবস্থায় ভারতের সামাজিক সংগঠনগুলির শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন নিবেদিতা। কারণ, যে শাসন কাঠামো ইংরেজ ভারতীয়দের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, তাকে দেশের সামাজিক সংগঠনগুলোই পারবে অকেজো করতে — এটাই ছিল নিবেদিতার বিশ্বাস। তাঁর বিশ শতকের সূচনা পর্বের ও চার বছর পরে রবীন্দ্রনাথ এভাবেই স্বদেশি সমাজের ভাবনা ভেবেছিলেন। সেদিক থেকে স্বদেশি সমাজ ভাবনায় নিবেদিতাকে রবীন্দ্র ভাবনার পূর্বসূরী বলা যেতে পারে। এমন কি অরবিন্দ ঘোষ, বিপিনচন্দ্র পাল বা পরবর্তী কালে মহাত্মা গান্ধীও নিবেদিতার স্বদেশি সমাজ ভাবনার মূল নির্যাসটুকু নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশি সমাজের চিন্তায় রাজনীতির কোনো ঠাঁই ছিল না। রাজনীতি ব্যতিরেকে নিরুপদ্রব সামাজিক চিন্তা সম্ভব কিনা — সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুতর প্রশ্ন। নিবেদিতার স্বদেশি সমাজের ভাবনা রাজনীতি বাদ দিয়ে ছিল না।

আরও পড়ুন:

Sister Nivedita Heritage Museum & Knowledge Centre
১৯০০ খৃষ্টাব্দের ১ নভেম্বর নিবেদিতা লিখছেন, “ভারতের ভরসা ভারতেরই হাতে, ইংলন্ডের হাতে নয়।” ইংরেজদের সম্পর্কে ১৯০১ সালের ১১ জানুয়ারি লিখছেন, “আমার সম্পূর্ণ আশাভঙ্গ হয়েছে, মন চিরতরে তিক্ত হয়ে গেছে।” সাম্রাজ্যকে অভিশাপ হিসেবে বর্ণনা করলেন ২৯ মার্চে লেখা চিঠিতে। স্ত্রী শিক্ষা বিস্তার প্রসঙ্গে লিখলেন, “আমি কিন্তু একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রয়োজনকেও স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।” (১০ জুনের চিঠি)।
সেই বছরেরই ১৯ জুলাই মিস ম্যাকলাউডকে এক দীর্ঘ চিঠি লেখেন নিবেদিতা। সেখানেই তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এই পর্যায়ে নিবেদিতা সংশ্লিষ্ট চিঠিতে যে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, তেমন কথা প্রকাশ্যে সমসাময়িক রাজনৈতিক নেতারাও বলতে পারেননি। বিবেকানন্দ এই সময়েই মেরী হেলকে লেখা এক চিঠিতে এ সম্পর্কে তাঁর অভিমত জানান।
নিবেদিতা লিখছেন, “বুয়োর যুদ্ধ ইংরেজদের ব্যক্তিগত ও জাতিগত অধঃপতন সূচিত করেছে। …ইংলন্ডের মধ্যে যা কিছু মহৎ ছিল, সবই যেন মরে গেছে।” বিশ শতকের সূচনা পর্বে ইংলন্ডের মাটিতে ভারতবর্ষের পরিস্থিতি নিয়ে নিবেদিতা বেশ কয়েকটি বক্তৃতা করেন। ব্রিটিশ শাসনের মঙ্গলকর বিষয়গুলি নিয়ে যে প্রচার করা হয়, তা অন্তঃসারশূন্যতা — ইংলন্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে একথা নিবেদিতা প্রকাশ্যে বলেন (১৯০১ সালের ১৫ নভেম্বর এই বক্তৃতার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়)।
১৯০২ সালের মার্চ মাসে নিবেদিতার সঙ্গে ওকাকুরার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। কলকাতার রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ওকাকুরার যোগাযোগ তৈরী হয় নিবেদিতার মাধ্যমে। সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পর্বের এক মূল্যবান স্মৃতিচারণ করে গিয়েছেন (বিশ্বভারতী পত্রিকা: আগষ্ট ১৯৩৬)।
বাংলায় বিপ্লব প্রচেষ্টার সূচনা পর্ব সম্পর্কে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত লিখছেন, “মৃত্যুর এক বৎসর পূর্বে তাঁর (বিবেকানন্দ) দু’জন বিদেশি অনুরাগী (তন্মধ্যে একজন ছিলেন তাঁর শিষ্যা) কলকাতায় কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের সহায়তায় একটি জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। এই দলটিই পরে বিপ্লববাদী আন্দোলনের সৃষ্টি করেছিল।” (স্বামী বিবেকানন্দ-ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, পৃ-২,৩)।

আরও পড়ুন:

Discover 90 Sister Nivedita and swami vivekananda ideas | swami vivekananda  quotes, swami vivekananda wallpapers, great philosophers and more
বিবেকানন্দের দেহত্যাগ নিবেদিতার কাছে ছিল তাঁর গুরুর চিরবিদায় নয়, ছিল “বিজয়ীর প্রত্যাবর্তন” (১৯০২ সালের ২১ জুলাইয়ের চিঠি)। নিবেদিতার সংস্পর্শে আসা বিপ্লবীরা সারদাদেবীর পদস্পর্শ করে বিপ্লবী আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করতেন। ব্রক্ষবান্ধব উপাধ্যায় ‘স্বরাজ’ পত্রিকায় লিখেছেন, “যদি তোমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হইয়া থাকে, তো একদিন সেই রামকৃষ্ণ পূজিত লক্ষ্মীর চরণপ্রান্তে গিয়া বসিও, আর তাঁহার প্রসাদ-কৌমুদিতে বিধৌত হইয়া রামকৃষ্ণ শশীসুধা পান করিও-তোমার সকল পিপাসা মিটিয়া যাইবে।” (বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ: শঙ্করী প্রসাদ বসু, ১ম খন্ড, পৃ-৩৪৯)।
সারদা দেবীর চরণ স্পর্শ করে বিপ্লবী কাজে আত্মনিয়োগের কাজটি যে সমসাময়িক বহু বিপ্লবীই করতেন, তা নিবেদিতার একাধিক চিঠি থেকে জানা যায় (৫-৮-১৯০৯)। সেই সময়ে রামকৃষ্ণ মিশন যে ব্রিটিশের গোয়েন্দা দৃষ্টিতে রয়েছে, তা টেগার্টের রিপোর্ট থেকে জানা যায়। তা সত্ত্বেও সারদা দেবীর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা স্বামী সারদানন্দ বিপ্লবীদের কোনো বাধা দেননি।
সারদা দেবী একবার স্বামীজীর দেহাবসানের পর বলেছিলেন, আমার নরেন বেঁচে থাকলে ইংরেজ কি আর ওকে বাইরে রাখত? ফটকে পুরে রাখত। এটি শ্রীশ্রী মায়ের নিছক সন্তান প্রতীম নরেনের প্রতি স্নেহ সম্ভাষণ ছিল না। স্বামীজী যেভাবে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠছিলেন, সারদা দেবী নিশ্চয়ই তার আঁচ পেয়েছিলেন। তাই তাঁর ওই ঐতিহাসিক উক্তি। গুরুর লীলাবসানের পর শ্রীগুরু মহারাজের সেবার উপকরণ হিসেবে শ্রীশ্রী মায়ের স্নেহের খুকী তাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন দেশের মানুষের সঙ্গে। এভাবেই ভারতের জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়লেন ভগিনী নিবেদিতা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder