BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

জাতীয় শিক্ষানীতি: ফুটোপাত্রে সুপেয় পানীয়

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮

স্নিগ্ধদীপ চক্রবর্তী

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম:

আরও পড়ুন:

২০২০-তে করোনার আবির্ভাব এবং মিশ্রপাঠ-পদ্ধতি (Choice-based Credit System বা CBCS)-র তিরোভাব প্রায় একইসঙ্গে। অথচ ‘রজনীকান্ত আয়া’-র মতো প্রবল ঢাকবাড়িতে এর জন্ম হয়েছিল। অকাল মরণের মধ্য দিয়ে মহাপ্রাণ সিবিসিএস আমাদের জন্য যা দান রেখে গেল, তারই নাম জাতীয় শিক্ষানীতি (New Education Policy বা NEP)। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ইতিহাস ঘাঁটলে অবশ্য National Policy of Education বা NPE (১ম খসড়া: ১৯৮৬, পরিমার্জিত ২য় খসড়া: ১৯৯২)-তে এর বংশ-বীজ খুঁজে পাওয়া যাবে।
আমরা, যারা ‘জুরাসিক যুগ’-এর শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করেছি, যাদের সামনে অনার্স-পাসের সুস্পষ্ট ও সুসংগত বিভাজন ছিল, আমরা যারা বার্ষিক পরীক্ষায় বসতাম, গৌরবোজ্জ্বল প্রাচীন ভারতের শেষ ছটার মতো আমরা যারা পেয়েছিলাম কিছু প্রণম্য গুরুকে — তারা ঈশ্বর গুপ্ত-র মতো যুগসন্ধিতে পড়ে গেলাম। যে ভারত একদিন চিরন্তন জ্ঞান, নিত্যনব ধারণা ও নাড়া দেওয়া দর্শনের জন্ম দিয়েছিল; যেখানে জ্ঞান (Knowledge), প্রজ্ঞা (Wisdom) এবং সত্য (Truth)-এর ত্রিবেণি সংগমকে জীবনের পালনীয় পথ, ঈর্ষনীয় সঞ্চয় ও রক্ষণীয় স্তম্ভ বলে মনে করা হত — সিবিসিএস তাতে প্রথম ধাক্কাটা দিল। ‘জ্যাক অব অল ট্রেড্স’ বানানোর রাষ্ট্রীয় খেলা কাউকে ‘মাস্টার’ হতে দিল না। গণহারে অ্যারিস্টট্ল বানানোর কল শিক্ষানীতি হিসেবে ব্যর্থ হলেও গো-পাঁঠা তৈরির রাজনীতি হিসেবে সফলতা পেল। আর শিক্ষার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতল এনইপি। কেন একথা বলছি, তার জন্য এনইপি-র কাঠামোটুকু অন্তত বুঝে নেওয়া দরকার।
স্থায়ী উন্নয়ন বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘ যে ২০৩০ পরিকল্পনা নিয়েছিল, তার চতুর্থ লক্ষ্য (SDG4) ছিল বিশ্বব্যাপী শিক্ষার অগ্রগতি, ভারত যা ২০১৫-য় পরিগ্রহণ করে। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্র নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমদর্শিতা প্রদর্শন শতাব্দীর প্রথম শিক্ষানীতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উন্নতিসমূহ ও দেশের মূলগত চেতনার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) ও মনাঙ্ক (EQ) উভয়ের জোড়-কলম নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে নতুন শিক্ষানীতিতে।
শিক্ষকদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিয়ে তার শিক্ষণশৈলীকে শীর্ষ নিতে সহায়তা দান — নতুন নীতির এও এক কথা। এই নব্য ও সংশোধিত শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য হল প্রকৃত শিক্ষকের ধী ও শাশ্বত শিক্ষার আলোকে সর্বত্র সঞ্চারী করে তোলা। উন্নততর শিক্ষাপ্রদান যেন শিক্ষার্থীর ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বের ব্যাপার হতে পারে। বিশেষত, শিক্ষা বিস্তারের দ্বারা এ-যাবৎ অবহেলিত এবং একেবারে প্রান্তিক স্তরে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের জীবনের মানোন্নয়নের কথা বারংবার বলা হয়েছে। বাস্তবতা ও মানবতার যুগ্মফোঁড় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথাযোগ্য মানুষ করে তুলবে — এহেন আশাবাদ এই নতুন শিক্ষানীতির সবথেকে স্পর্শপ্রবণ জায়গা।
রচনা হিসেবে জাতীয় শিক্ষানীতি অত্যন্ত সুপাঠ্য স্বীকার করতেই হয়। একে বুকে রাখলে আমরা একটি আদর্শ রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে পারতাম। কিন্তু সময় ও যুগের সঙ্গে-সঙ্গে, স্থান-কাল-প্রসঙ্গ ও প্রেক্ষিতের কারণে সত্যের আদর্শ বদলে যেতে পারে, বদলে যায়। যা আমেরিকায় সত্য, তা সোমালিয়ায় সত্য নয়। যা কলকাতায় সত্য, তা পুরুলিয়ায় সত্য নয়। এরাজ্যের সরকারপোষিত একটি প্রত্যন্ত কলেজের আর্টসের সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুবাদে আমি (অন্তত উচ্চশিক্ষায়) এনইপি-কে যা দেখেছি, তা নেহাতই প্রপঞ্চময়।
প্রথমত, উচ্চশিক্ষা এখন পূর্ণদৈর্ঘ্যের নাটক। ভর্তির নিদর্শপূরণ, ভাতা (শুনতে খারাপ লাগলে পড়ুন স্কলারশিপ)-এর জন্য আবেদন, কতিপয় শ্রেণিপাঠ, অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন, চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ষণ্মাসকাল গেলেই পরের ষণ্মাসে ভর্তির জন্য নিদর্শপূরণ এবং চরৈবেতি। অপিচ, প্রযুক্তির প্রগতিতে অতিরিক্ত আনুগত্য বিশুদ্ধ পাঠদানের সময়কে সংকুচিত করে শিক্ষণ ও অধ্যয়নের আনন্দকে নষ্ট করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মৌল পড়াশোনার চেয়ে আনুষঙ্গিক ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব আরোপ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের প্রতি অনাগ্রহী করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন তো তাদের বাউল আনন্দ — যেন পূর্ণ নম্বর পাওয়া এক সাংবিধানিক অধিকার। শিক্ষকের কাছ থেকে কৌশলে সম্ভাব্য প্রশ্ন জেনে নেওয়ার তাগিদটুকুই চূড়ান্ত মূল্যায়নের আগে কয়েকটা দিন তাদের মহাবিদ্যালয়মুখী করে। ফকিরের কেরামতিতে বক মারাই তাদের লক্ষ্য ও মোক্ষ। এখন আর শতাংশের গল্প নেই — গ্রেড। রেজাল্টের গ্রেড আর শিক্ষার্থীদের গ্রেড ক্রমশ ব্যস্তানুপাতিক হয়ে পড়েছে।
তৃতীয়ত, প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।
চতুর্থত, রাজ্যের অধিকাংশ কলেজই শিক্ষক নিয়োগে ধারাবাহিকতার অভাবে ধুঁকছে। এমন অনেক কলেজ আছে, যেখানে সাবস্ট্যানসিভ পোস্টে কোনও ফুল-টাইম টিচার দীর্ঘদিন ধরেই নেই। স্টেট-এইডেড কলেজ টিচার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন — এমন উদাহরণও রয়েছে। সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে রেকমেন্ডেড হতে হলে চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষার্থীর ডক্টরাল ডিগ্রি থাকবার বাধ্যবাধকতার কথা ইউজিসি-র নির্দেশিকায় নেই। তর্কের খাতিরে এনইপি-র চার বছরের ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি ব্যাচেলর’র প্রোগ্রাম উইথ রিসার্চ’-এর অনির্বচনীয়ত্ব যদি স্বীকার করেও নিই, তাকে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিতে গেলে যত সংখ্যক ডক্টরেট ডিগ্রিধারী স্থায়ী অধ্যাপক কলেজগুলোয় থাকা প্রয়োজন, তা নেই।
পঞ্চমত, স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী পার করার পরে মানুষে-মানুষে সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষ্যম্যের অবসান ঘটেনি। ই-লার্নিং-এর ওপর যে জোর এনইপি-তে দেওয়া হয়েছে, আসলেই তা মুষ্টিমেয়ভোগ্য হয়ে রয়েছে আজও। ক্ষুধার গদ্যময় পৃথিবীতে পাগলা হাওয়া ইন্টারনেটের স্বপ্ন অন্ধের জ্যোৎস্নাবিলাসের মতোই দুঃখকর। এমনকি, রাজধানী শহর বা অন্যান্য বড় শহরের কুলীন কলেজগুলির সাপেক্ষে আমাদের মতো অজ জঙ্গলের কলেজগুলির পরিকাঠামো কহতব্য নয়। এনইপি মডেল সেখানে নাটকের টেক্সট বুক হিসেবে পড়তে খুবই ভাল লাগে, কিন্তু তা মঞ্চস্থ করা যায় না।
ষষ্ঠত, খুব স্বাভাবিক কারণেই আমাদের পূর্ব-প্রজন্মের বেশিরভাগ অধ্যাপক নেট বা টেক-স্যাভি নন। তা যুগকারণ — দোষবহ নয়। এনইপি-তে এমন কোনও পথরেখার উল্লেখ নেই, যাতে তাঁরা প্রযুক্তি-ব্যবহারে দড় হয়ে উঠতে পারেন। কেন্দ্র ও রাজ্য কোনও সরকারকেই এনইপি-র বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ে কোনও কর্মশালার আয়োজন করতে অদ্যাবধি দ্যাখা যায়নি, যা থেকে অধ্যাপকেরা তাঁদের পেশাকে নিখুঁত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করতে শিখতে পারেন। অতএব, পাহাড়ের সেই ইঁদুর পাড়ার গল্পই শেষমেষ দাঁড়াল। ঘোড়াশালে ঘোড়া ছিল, কিন্তু জুতসই লাগামের অভাব তাতে অশ্বগতি দিতে পারল না।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।

আরও পড়ুন:

(লেখক:পুরুলিয়া বিজিএম কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder