BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

জাতীয় শিক্ষানীতি: ফুটোপাত্রে সুপেয় পানীয়

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮

স্নিগ্ধদীপ চক্রবর্তী

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম:

আরও পড়ুন:

২০২০-তে করোনার আবির্ভাব এবং মিশ্রপাঠ-পদ্ধতি (Choice-based Credit System বা CBCS)-র তিরোভাব প্রায় একইসঙ্গে। অথচ ‘রজনীকান্ত আয়া’-র মতো প্রবল ঢাকবাড়িতে এর জন্ম হয়েছিল। অকাল মরণের মধ্য দিয়ে মহাপ্রাণ সিবিসিএস আমাদের জন্য যা দান রেখে গেল, তারই নাম জাতীয় শিক্ষানীতি (New Education Policy বা NEP)। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ইতিহাস ঘাঁটলে অবশ্য National Policy of Education বা NPE (১ম খসড়া: ১৯৮৬, পরিমার্জিত ২য় খসড়া: ১৯৯২)-তে এর বংশ-বীজ খুঁজে পাওয়া যাবে।
আমরা, যারা ‘জুরাসিক যুগ’-এর শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করেছি, যাদের সামনে অনার্স-পাসের সুস্পষ্ট ও সুসংগত বিভাজন ছিল, আমরা যারা বার্ষিক পরীক্ষায় বসতাম, গৌরবোজ্জ্বল প্রাচীন ভারতের শেষ ছটার মতো আমরা যারা পেয়েছিলাম কিছু প্রণম্য গুরুকে — তারা ঈশ্বর গুপ্ত-র মতো যুগসন্ধিতে পড়ে গেলাম। যে ভারত একদিন চিরন্তন জ্ঞান, নিত্যনব ধারণা ও নাড়া দেওয়া দর্শনের জন্ম দিয়েছিল; যেখানে জ্ঞান (Knowledge), প্রজ্ঞা (Wisdom) এবং সত্য (Truth)-এর ত্রিবেণি সংগমকে জীবনের পালনীয় পথ, ঈর্ষনীয় সঞ্চয় ও রক্ষণীয় স্তম্ভ বলে মনে করা হত — সিবিসিএস তাতে প্রথম ধাক্কাটা দিল। ‘জ্যাক অব অল ট্রেড্স’ বানানোর রাষ্ট্রীয় খেলা কাউকে ‘মাস্টার’ হতে দিল না। গণহারে অ্যারিস্টট্ল বানানোর কল শিক্ষানীতি হিসেবে ব্যর্থ হলেও গো-পাঁঠা তৈরির রাজনীতি হিসেবে সফলতা পেল। আর শিক্ষার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতল এনইপি। কেন একথা বলছি, তার জন্য এনইপি-র কাঠামোটুকু অন্তত বুঝে নেওয়া দরকার।
স্থায়ী উন্নয়ন বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘ যে ২০৩০ পরিকল্পনা নিয়েছিল, তার চতুর্থ লক্ষ্য (SDG4) ছিল বিশ্বব্যাপী শিক্ষার অগ্রগতি, ভারত যা ২০১৫-য় পরিগ্রহণ করে। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্র নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমদর্শিতা প্রদর্শন শতাব্দীর প্রথম শিক্ষানীতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উন্নতিসমূহ ও দেশের মূলগত চেতনার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) ও মনাঙ্ক (EQ) উভয়ের জোড়-কলম নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে নতুন শিক্ষানীতিতে।
শিক্ষকদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিয়ে তার শিক্ষণশৈলীকে শীর্ষ নিতে সহায়তা দান — নতুন নীতির এও এক কথা। এই নব্য ও সংশোধিত শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য হল প্রকৃত শিক্ষকের ধী ও শাশ্বত শিক্ষার আলোকে সর্বত্র সঞ্চারী করে তোলা। উন্নততর শিক্ষাপ্রদান যেন শিক্ষার্থীর ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বের ব্যাপার হতে পারে। বিশেষত, শিক্ষা বিস্তারের দ্বারা এ-যাবৎ অবহেলিত এবং একেবারে প্রান্তিক স্তরে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের জীবনের মানোন্নয়নের কথা বারংবার বলা হয়েছে। বাস্তবতা ও মানবতার যুগ্মফোঁড় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথাযোগ্য মানুষ করে তুলবে — এহেন আশাবাদ এই নতুন শিক্ষানীতির সবথেকে স্পর্শপ্রবণ জায়গা।
রচনা হিসেবে জাতীয় শিক্ষানীতি অত্যন্ত সুপাঠ্য স্বীকার করতেই হয়। একে বুকে রাখলে আমরা একটি আদর্শ রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে পারতাম। কিন্তু সময় ও যুগের সঙ্গে-সঙ্গে, স্থান-কাল-প্রসঙ্গ ও প্রেক্ষিতের কারণে সত্যের আদর্শ বদলে যেতে পারে, বদলে যায়। যা আমেরিকায় সত্য, তা সোমালিয়ায় সত্য নয়। যা কলকাতায় সত্য, তা পুরুলিয়ায় সত্য নয়। এরাজ্যের সরকারপোষিত একটি প্রত্যন্ত কলেজের আর্টসের সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুবাদে আমি (অন্তত উচ্চশিক্ষায়) এনইপি-কে যা দেখেছি, তা নেহাতই প্রপঞ্চময়।
প্রথমত, উচ্চশিক্ষা এখন পূর্ণদৈর্ঘ্যের নাটক। ভর্তির নিদর্শপূরণ, ভাতা (শুনতে খারাপ লাগলে পড়ুন স্কলারশিপ)-এর জন্য আবেদন, কতিপয় শ্রেণিপাঠ, অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন, চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ষণ্মাসকাল গেলেই পরের ষণ্মাসে ভর্তির জন্য নিদর্শপূরণ এবং চরৈবেতি। অপিচ, প্রযুক্তির প্রগতিতে অতিরিক্ত আনুগত্য বিশুদ্ধ পাঠদানের সময়কে সংকুচিত করে শিক্ষণ ও অধ্যয়নের আনন্দকে নষ্ট করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মৌল পড়াশোনার চেয়ে আনুষঙ্গিক ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব আরোপ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের প্রতি অনাগ্রহী করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন তো তাদের বাউল আনন্দ — যেন পূর্ণ নম্বর পাওয়া এক সাংবিধানিক অধিকার। শিক্ষকের কাছ থেকে কৌশলে সম্ভাব্য প্রশ্ন জেনে নেওয়ার তাগিদটুকুই চূড়ান্ত মূল্যায়নের আগে কয়েকটা দিন তাদের মহাবিদ্যালয়মুখী করে। ফকিরের কেরামতিতে বক মারাই তাদের লক্ষ্য ও মোক্ষ। এখন আর শতাংশের গল্প নেই — গ্রেড। রেজাল্টের গ্রেড আর শিক্ষার্থীদের গ্রেড ক্রমশ ব্যস্তানুপাতিক হয়ে পড়েছে।
তৃতীয়ত, প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।
চতুর্থত, রাজ্যের অধিকাংশ কলেজই শিক্ষক নিয়োগে ধারাবাহিকতার অভাবে ধুঁকছে। এমন অনেক কলেজ আছে, যেখানে সাবস্ট্যানসিভ পোস্টে কোনও ফুল-টাইম টিচার দীর্ঘদিন ধরেই নেই। স্টেট-এইডেড কলেজ টিচার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন — এমন উদাহরণও রয়েছে। সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে রেকমেন্ডেড হতে হলে চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষার্থীর ডক্টরাল ডিগ্রি থাকবার বাধ্যবাধকতার কথা ইউজিসি-র নির্দেশিকায় নেই। তর্কের খাতিরে এনইপি-র চার বছরের ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি ব্যাচেলর’র প্রোগ্রাম উইথ রিসার্চ’-এর অনির্বচনীয়ত্ব যদি স্বীকার করেও নিই, তাকে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিতে গেলে যত সংখ্যক ডক্টরেট ডিগ্রিধারী স্থায়ী অধ্যাপক কলেজগুলোয় থাকা প্রয়োজন, তা নেই।
পঞ্চমত, স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী পার করার পরে মানুষে-মানুষে সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষ্যম্যের অবসান ঘটেনি। ই-লার্নিং-এর ওপর যে জোর এনইপি-তে দেওয়া হয়েছে, আসলেই তা মুষ্টিমেয়ভোগ্য হয়ে রয়েছে আজও। ক্ষুধার গদ্যময় পৃথিবীতে পাগলা হাওয়া ইন্টারনেটের স্বপ্ন অন্ধের জ্যোৎস্নাবিলাসের মতোই দুঃখকর। এমনকি, রাজধানী শহর বা অন্যান্য বড় শহরের কুলীন কলেজগুলির সাপেক্ষে আমাদের মতো অজ জঙ্গলের কলেজগুলির পরিকাঠামো কহতব্য নয়। এনইপি মডেল সেখানে নাটকের টেক্সট বুক হিসেবে পড়তে খুবই ভাল লাগে, কিন্তু তা মঞ্চস্থ করা যায় না।
ষষ্ঠত, খুব স্বাভাবিক কারণেই আমাদের পূর্ব-প্রজন্মের বেশিরভাগ অধ্যাপক নেট বা টেক-স্যাভি নন। তা যুগকারণ — দোষবহ নয়। এনইপি-তে এমন কোনও পথরেখার উল্লেখ নেই, যাতে তাঁরা প্রযুক্তি-ব্যবহারে দড় হয়ে উঠতে পারেন। কেন্দ্র ও রাজ্য কোনও সরকারকেই এনইপি-র বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ে কোনও কর্মশালার আয়োজন করতে অদ্যাবধি দ্যাখা যায়নি, যা থেকে অধ্যাপকেরা তাঁদের পেশাকে নিখুঁত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করতে শিখতে পারেন। অতএব, পাহাড়ের সেই ইঁদুর পাড়ার গল্পই শেষমেষ দাঁড়াল। ঘোড়াশালে ঘোড়া ছিল, কিন্তু জুতসই লাগামের অভাব তাতে অশ্বগতি দিতে পারল না।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।

আরও পড়ুন:

(লেখক:পুরুলিয়া বিজিএম কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder