BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

সোমালিল্যান্ড: তুরস্ক-ইসরাইল কেন মুখোমুখি?

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৮ | আপডেট: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৮
‘হর্ন অব আফ্রিকায়’ আধিপত্য বিস্তারের লড়াই অনেক পুরনো। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি প্রথম কোনো দেশ হিসেবে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী ভূখণ্ড সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল। এতে আবার সামনে এসেছে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি।

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম:‘হর্ন অব আফ্রিকায়’ আধিপত্য বিস্তারের লড়াই অনেক পুরনো। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি প্রথম কোনো দেশ হিসেবে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী ভূখণ্ড সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল। এতে আবার সামনে এসেছে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি।

আরও পড়ুন:

বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের ইসরাইলি পরিকল্পনার অংশ এটি। আবার কেউ বলছেন, হর্ন অব আফ্রিকায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতি নিশ্চিতের অংশ হিসেবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হল, এই অঞ্চলে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমানো।
হর্ন অব আফ্রিকায় আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াই অনেক পুরনো। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রায় ১৪ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী কনটেইনার নির্ভর বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে আসছে। এতে অঞ্চলটি ইতিমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকায়ন করা একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। হর্ন অব আফ্রিকায় বিশ্বের প্রায় সব কটি প্রভাবশালী দেশের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
‘হর্ন অব আফ্রিকা’ কী:
মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশটি আরব সাগরের দিকে এমনভাবে প্রসারিত হয়েছে, যা দেখতে অনেকটা গন্ডারের শিংয়ের মতো। মূলত এই ভৌগোলিক আকৃতির কারণেই অঞ্চলটিকে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বা ‘আফ্রিকার শিং’ বলা হয়।
ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মানচিত্রকে এক করে দেখলে শিংয়ের আকৃতির মতো দেখায়। প্রায় ২০ লাখ বর্গকিমি. এলাকা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। অবশ্য বৃহৎ পরিসরে কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও সুদানকেও এই অঞ্চলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিরাপত্তার প্রশ্নে হর্ন অব আফ্রিকা সেখানকার দেশগুলোর মতোই বৈচিত্র্যময় ও জটিল। সামগ্রিকভাবে এসব পরিস্থিতি এই অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম অস্থির একটি ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
মূলত ভৌগোলিক আকৃতির কারণেই অঞ্চলটিকে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বা ‘আফ্রিকার শিং’ বলা হয়। জিবুতির মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সুদানের মতো বিশাল রাষ্ট্র, সব দেশই এখানে নিজেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে মনে করে এবং একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। তার ওপর রয়েছে বিদেশি শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব।

আরও পড়ুন:

ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই:
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের তীর ঘেঁষে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে হর্ন অব আফ্রিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। সুয়েজ খালের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, জ্বালানি তেলের রুট এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে।
এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলটি দ্রুত সামরিকীকরণ এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা, ভূমধ্যসাগরে চলমান বিরোধ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সংকট — এই প্রতিটি বিষয়ই এই অঞ্চলে নিজ নিজ প্রভাববলয় তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। এর ফলে এমনিতেই ভঙ্গুর এই অঞ্চল একটি জটিল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
শুধু জিবুতির মতো ২৩ হাজার বর্গকিমি. ছোট্ট একটি দেশে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে আমেরিকা, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের। সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরবও। ইরিত্রিয়ায় সামরিক ঘাঁটি আছে ইসরাইল ও আরব আমিরাতের। ঘাঁটি স্থাপনের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। সোমালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি আছে আমেরিকা, ব্রিটেন, আরব আমিরাত ও তুরস্কের। সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে সামরিক স্থাপনা আছে আরব আমিরাতের। প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে ইসরাইল এই ভূখণ্ডে সামরিক উপস্থিতির পরিকল্পনা নিয়েছে।
এছাড়া কেনিয়ায় সামরিক ঘাঁটি আছে আমেরিকার। সুদানে সমুদ্র বন্দর নির্মাণে চুক্তি করেছে তুরস্ক ও রাশিয়া। সর্বোপরি আরব সাগর ও লোহিত সাগরজুড়ে রয়েছে বিশ্বের সব পরাশক্তির পাশাপাশি প্রভাবশালী দেশগুলোর নৌবাহিনীর উপস্থিতি।
মুখোমুখি তুরস্ক-ইসরাইল:
গত ডিসেম্বরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ভূখণ্ড সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোমালিল্যান্ড স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও ইসরাইল ছাড়া আর কোনো দেশ এখন পর্যন্ত তাদের স্বীকৃতির দাবি মেনে নেয়নি। তুরস্ক-সহ অনেক আঞ্চলিক দেশ ইসরাইলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। ১৩ বছর ধরে সোমালিয়ায় তুরস্কের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাদে অধিকাংশ আরব ও আঞ্চলিক দেশ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে।
ইসরাইলের এই পদক্ষেপের পেছনে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কেউ মনে করছেন, এটি গাজা থেকে ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে স্থানান্তরের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। আবার কেউ কেউ মনে করেন, গাজায় ইসরাইলি অভিযানের জবাবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের (আনসারুল্লাহ) পক্ষ থেকে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলাই এর মূল লক্ষ্য।
সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া–সংক্রান্ত নথিতে সই করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তাঁকে মুঠোফোনে কিছু দেখাচ্ছেন ইসরাইলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার।
হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের বিষয়ে অভিজ্ঞ তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত কানি তোরুন বলেন, ‘সোমালিল্যান্ড সরাসরি ইয়েমেনের বিপরীতে অবস্থিত। এটি ইসরাইলকে সেখানে সামরিক স্থাপনা তৈরির সুযোগ দেবে, যার মাধ্যমে তারা বাবেল মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং পূর্ব আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।’
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪-এর সাংবাদিক আমিচাই স্টেইনও এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হুতিদের মোকাবিলায় ইসরাইল কোনো স্পষ্ট কৌশল তৈরি করতে পারেনি। এই পদক্ষেপ ইসরাইলি সরকারকে এ অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যখন ইসরাইলগামী কার্গো জাহাজের জন্য সুয়েজ খাল অনেকটা অবরুদ্ধ।’
আমিচাই স্টেইন আরও বলেন, ‘এর দ্বিতীয় লক্ষ্য হল আফ্রিকায় তুরস্কের প্রভাবকে প্রতিহত করা। এ অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আঙ্কারা ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটি আছে এবং আরও বেশ কিছু দেশ এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথে নিজেদের প্রভাব ও উপস্থিতি নিশ্চিত করার সুযোগ খুঁজছে।’
আঞ্চলিক স্বার্থ নিয়ে সংঘাত:
২০২৩ সাল থেকে তুরস্ক ও ইসরাইলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটেছে। গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুরস্কের। এর জেরে গত বছর ইসরাইলের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তুরস্ক।
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এই সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। ইসরাইল একটি বিভক্ত সিরিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা তুরস্কের স্বার্থবিরোধী। মূলত সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আঙ্কারার উদ্বেগের কারণেই এই বিরোধ।
কেনিয়াভিত্তিক আফ্রো-এশিয়া ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক আবদি ওয়াহাব শেখ আবদি সামাদ বলেন, ‘সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের এই স্বীকৃতি মূলত হর্ন অব আফ্রিকা এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করবে।’
সোমালিয়ায় তুরস্ক ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। দেশটিতে তুরস্কের বিশ্বের বৃহত্তম দূতাবাস, একটি সামরিক প্রশিক্ষণ একাডেমি ও সমুদ্র বন্দর রয়েছে। এ ছাড়া মোগাদিসু বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপনা এবং মহাকাশ, জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিক্ষা খাতে তুরস্কের বিভিন্ন প্রকল্প চালু আছে।
আবদি সামাদ বলেন, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতির বিষয়ে ইসরাইলের পদক্ষেপ তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এটি ইসরাইলকে বাবেল মান্দেব প্রণালির উভয় পাশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে দেবে এবং তুর্কি প্রভাবকে প্রতিহত করবে।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও সোমালিয়া দীর্ঘদিন ধরে লাস কোরাই এলাকায় আরেকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। লাস কোরাই নবঘোষিত খাতুমো রাজ্যের একটি বন্দর, যেখান থেকে সরাসরি লোহিত সাগরে প্রবেশ করা যায়।
সোমালিল্যান্ড যে অঞ্চলটি নিজেদের বলে দাবি করে, খাতুমো তার প্রায় ৪৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোগাদিসুতে দায়িত্ব পালন করা তুরস্কের রাষ্ট্রদূত কানি তোরুন জানান, ওই এলাকায় একটি ঘাঁটি ও কাছাকাছি ছোট বন্দর স্থাপনের বিষয়ে আঙ্কারার সঙ্গে সোমালিয়া সরকারের একটি মৌখিক চুক্তি হয়েছিল, যদিও প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ইসরাইল ২৬ ডিসেম্বর সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ৩০ ডিসেম্বর আঙ্কারায় সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই স্বীকৃতিকে ‘বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান।
৬ জানুয়ারি সোমালিল্যান্ড সফরে যান ইসরাইলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার। এই প্রথম ইসরাইলের কোনো উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলটি সফরে গেল। রাজধানী হারগেইসায় তিনি প্রেসিডেন্ট আবদির হমান মোহামেদ আবদুল্লাহির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এখন দেখার বিষয়, তুরস্ক ও ইসরাইলের এই কূটনৈতিক লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder