BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

তপন সিংহ: মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ চলচ্চিত্র পরিচালক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১১ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১১

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন:

(পোস্ট এডিটোরিয়াল)

আরও পড়ুন:

তপন সিংহ: মানুষ-সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ পরিচালক

আরও পড়ুন:

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন:

(পোস্ট এডিটোরিয়াল)

আরও পড়ুন:

তপন সিংহ: মানুষ-সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ পরিচালক

আরও পড়ুন:

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder