BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

তপন সিংহ: মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ চলচ্চিত্র পরিচালক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১১ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১১

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন:

(পোস্ট এডিটোরিয়াল)

আরও পড়ুন:

তপন সিংহ: মানুষ-সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ পরিচালক

আরও পড়ুন:

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন:

(পোস্ট এডিটোরিয়াল)

আরও পড়ুন:

তপন সিংহ: মানুষ-সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ পরিচালক

আরও পড়ুন:

পাভেল আখতার

আরও পড়ুন:

‘মহাভারতের লঘু-গুরু’ গ্রন্থে বিশিষ্ট পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ‘পাণ্ডু’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তামাম পৃথিবীর ‘মধ্যম ভ্রাতা’দের উদ্দেশে যে বিষাদ ব্যক্ত করেছেন, তা খুব সঙ্গত। রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী পূর্বা দাম সম্পর্কেও অনুরূপ কথা মনে হয়। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেন — তিনি যেন এই বিখ্যাত ‘ত্রয়ী’র ছায়াবৃতা! অথচ, রবীন্দ্রনাথের গানের স্বর্ণময় ইতিহাসে তাঁরও ‘আসন পাতা’ সমানভাবে! চলচ্চিত্রেও কিন্তু একজন ‘মধ্যম’ আছেন। তপন সিংহ। এক্ষেত্রে নিশ্চয় ‘ত্রয়ী’র কথা বলে দিতে হবে না !

আরও পড়ুন:

সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক — স্বনামধন্য তিন চলচ্চিত্র পরিচালকের সমসাময়িক চলচ্চিত্রকার তপন সিংহ-এর জন্ম ১৯২৪ সালের ২ অক্টোবর। মৃত্যু: ১৫ জানুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে বলা যায়, সাহিত্যধর্মী চলচ্চিত্র-নির্মাণে পথিকৃৎ। সাহিত্যের নন্দনবনে তিনি আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং স্বাদু ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তপন সিংহের ‘ধারা’ অনুসরণ করেছিলেন আরেক বিশিষ্ট পরিচালক তরুণ মজুমদার। তাঁদের অনুসৃত ধারা এখন অতীত ! সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে বর্তমান পরিচালকদের সদিচ্ছার অভাব প্রকট। এর নেপথ্যে কি রয়েছে সাহিত্যপাঠে তাঁদের অনভ্যাস, না কি অবক্ষয়িত দর্শক-রুচির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রবণতা? ‘ত্রয়ী’ পরিচালক, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার রীতিমতো সাহিত্যের পাঠক ছিলেন বলেই কিন্তু তাঁরা সাহিত্যনির্ভর বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা। কাবুলিওয়ালা, অতিথি, ক্ষুধিত পাষাণ, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, লৌহকপাট, আঁধার পেরিয়ে, গল্প হলেও সত্যি, জতুগৃহ, ঝিন্দের বন্দী, নির্জন সৈকতে, হাটেবাজারে, আপনজন, হুইল চেয়ার, অন্তর্ধান, আতঙ্ক ইত্যাদি বহু বাংলা সিনেমা যেমন তাঁর অসামান্য সৃষ্টি, তেমনই এক ডক্টর কি মউত, সাগিনা মাহাতো, আদমি আউর ঔরত, সফেদ হাতি প্রভৃতি হিন্দি সিনেমাও তাঁর অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক আবেদনসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তিনি যেন বারবার নিজের ‘দায়বদ্ধতা’ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। রূপক বা সাংকেতিকতার দুর্ভেদ্য কুয়াশায় দর্শককে তিনি ক্লিষ্ট করতে চাননি। তাঁর সিনেমা সরলরৈখিক পথ ধরে এগিয়ে চলে এবং পরিশেষে এক নিরুচ্চার তৃপ্তি দর্শকের হৃদয়কে শান্ত-স্নিগ্ধ ও অনুভবে ঋদ্ধ করে তোলে। অপূর্ব আবহসঙ্গীতও তাঁর চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আজকের চটুল ও বিকৃত পছন্দের যুগে তপন সিংহের চিরকালীন আবেদন-ঔজ্জ্বল্যে অম্লান সিনেমাগুলি ব্রাত্য হয়ে যেন লজ্জাবনতা কিশোরীর মতো কোনও এক কোণে পড়ে আছে একথা ভাবতেই কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় শিশু-কিশোরদের জন্য একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। গুপী গাইন ও বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশে, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ ইত্যাদি। তপন সিংহ পরিচালিত ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’, ‘সফেদ হাতি’ কিংবা ঋত্বিক ঘটকের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ইত্যাদিও উৎকৃষ্ট শিশু বা কিশোর চলচ্চিত্রের নিদর্শন। সন্দীপ রায় ‘ফটিকচাঁদ’, ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ছাড়াও ফেলুদাকে নিয়ে একগুচ্ছ দৃষ্টিনন্দন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বলাই বাহুল্য, এই সিনেমাগুলি শিশুদের মতো বড়দেরও সমান প্রিয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘পিকু’ কিংবা তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ শিশুর সঙ্গে পরিণত, বড় মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের রসায়ন ও শুদ্ধতা অনুসন্ধানে শৈল্পিক নির্মাণ তো বটেই। মোটকথা, এক সময় শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভাবার মতো, তাদের মনোজগতের খোঁজ নেওয়ার মতো এবং তাদের বিশুদ্ধ আনন্দরসে সিক্ত করার মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের অভাব ছিল না। আজ তাদের জন্য নান্দনিক চলচ্চিত্র-নির্মাণে পরিচালকদের নিদারুণ অনাগ্রহ! জীবন ও জগৎ ক্রমশ জটিল এবং নির্মম হয়ে উঠছে, তার সুকঠিন অভিঘাত থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। এমন সময়ে শিশুদের নির্মল আনন্দ দান করা এবং তাদের ‘সুন্দর মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘চলচ্চিত্র’ নামক সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকা কাম্য ছিল ! শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মনে বাণিজ্যিক স্বার্থচিন্তা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি দুটোই ক্রিয়াশীল না থাকলে হয় না। শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে বিরোধের ধারণাটি বহুল কথিত ও বিতর্কিত। এখন বাণিজ্যের লক্ষ্যটাই উচ্চকিত, আর শিল্পসৌন্দর্য ও দায়বদ্ধতা প্রায় অস্তাচলগামী ! সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ প্রমুখ রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ঊর্ধ্বে ‘বাণিজ্য চিন্তা’-কে কখনও স্থান দেননি ! জানি না, এই হতাশাজনক অবস্থা আর কতদিন বজায় থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণ হবে!

আরও পড়ুন:

কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র সখেদে একটি ‘ঘোষণা’ করেছিলেন ! তাঁর পিতার যাবতীয় সৃষ্টিসম্ভার তিনি তুলে দেবেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভে। কতটা অভিমান, কতটা যন্ত্রণা থাকলে কেউ এমন একটা ঘোষণা করতে পারেন! সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, তপন সিংহের সিনেমাগুলির সংরক্ষণ নিয়েও যে অশেষ অবহেলা দৃশ্যমান, তাতে একই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা ক্রমবর্ধমান ! ‘ধ্রুপদী সৃষ্টি’ খুব কঠিন কাজ, কিন্তু সেসবের সযত্ন সংরক্ষণ কঠিন নয়! শুধু ‘ভালবাসা ও মমত্ব’ প্রয়োজন! সেটাও কি বিলুপ্ত হতে বসেছে? বাঙালি যে আত্মঘাতী, তাতে এরপরও কি সন্দেহ পোষণ করা যায়?

আরও পড়ুন:

হাইলাইট

আরও পড়ুন:

তপন সিংহের সিনেমাগুলিতে একটি শুদ্ধ, পরিশীলিত ‘রাবীন্দ্রিকতা’ লক্ষ্য করা যায়। প্রখ্যাত শিল্পকলারসিক, শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তপন সিংহ একবার কবুল করেছিলেন, ব্যক্তির একক জীবন-সংগ্রামের মহিমা উচ্চকিত করে তোলাই তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্রের মূল সুর। জটিল, যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি হল ‘হৃদয়’ নামক বস্তুটির ক্রমবিলুপ্তি, কিন্তু তপন সিংহের একের পর এক সিনেমায় পুষ্পিত হৃদয়ের বর্ণময় উন্মোচন বিরল দৃশ্যসুখের সূচনা করে ! প্রতিভাধর পরিচালকরা যখন দর্শকের মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে প্রবেশ করতে চেয়েছেন, তখন তিনি অন্তর্লোক থেকে যাত্রা শুরু করতেন মস্তিষ্ক অভিমুখে। মানুষ ও সমাজের প্রতি তাঁর ছিল অসীম দায়বদ্ধতা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder