BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

স্যার’ নিয়ে শোরগোলের প্রেক্ষাপটে দু’চার কথা

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:১৩ | আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:১৩

মজিবুর রহমান

আরও পড়ুন:

এসআইআর বা ‘স্যার’ নিয়ে জোরদার শোরগোল শুরু হয়েছে। কেউ এটাকে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটা সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখছেন, কেউ এর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির মতো গুরুতর বিষয়ের সংযোগ আছে বলে মনে করছেন। এবছরের জুন মাসে প্রথম দফায় বিহারে স্যার-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা আরও ঘনীভূত হয়েছে ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য স্যার-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর। বিতর্কের সঙ্গী হিসেবে, বিশেষ করে আমাদের বঙ্গে, বিরাজ করছে ভয়ভীতি আর আতঙ্ক, ছড়াচ্ছে গুজব ও বিভ্রান্তি। এই আবহে স্যার সম্পর্কে সঠিক তথ্য অনুসন্ধান অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:

দেশজুড়ে প্রায় প্রতি বছরই ভোটার তালিকা সংশোধন বা রিভিশন করা হয়। পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় সাধারণত নতুন ভোটারদের নাম সংযোজন ও মৃত ভোটারদের নাম বিয়োজন করা হয়। এই গতানুগতিক সংশোধন প্রক্রিয়া ছাড়াও নির্বাচন কমিশন মাঝেমধ্যেই বৃহৎ আকারে ভোটার তালিকা পরিমার্জনের আয়োজন করে থাকে, যাকে বলা হয় ‘নিবিড় সংশোধন’ বা ইনটেনসিভ রিভিশন (আইআর)। ১৯৫২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ৮ বার নিবিড় সংশোধন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শেষ বার হয়েছিল ২০০২ সালে। নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালে ‘বিশেষ’ বা স্পেশাল শব্দটি যুক্ত করে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাই ‘আইআর’ এবার হয়েছে ‘এসআইআর’ বা ‘স্যার’। গতানুগতিক সংশোধনের সময় যাঁদের প্রয়োজন হয় তাঁরাই দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে অথবা অফিসে আবেদন নিয়ে হাজির হন। কিন্তু ‘আই আর’ অথবা ‘এস আই আর’-এর সময় আধিকারিকরাই মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যান। এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষিত লক্ষ্য হল সকল বৈধ ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা, তালিকা থেকে সকল মৃত, অবৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং কোনো ভোটারের নাম যাতে একাধিক জায়গায় না থাকে তা নিশ্চিত করা, সবমিলিয়ে একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা।

আরও পড়ুন:

বিহারের সাম্প্রতিক স্যার-এর হিসাবটা ভালভাবে বুঝলে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বুঝতে সুবিধা হবে। বিহারে এসআইআর শুরুর আগে ভোটার সংখ্যা ছিল ৭.৮৯ কোটি। ১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম ওঠে ৭.২৪ কোটি। অর্থাৎ নাম কাটা যায় ৬৫ লাখ। দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্বে ১৬ লক্ষ নাম সংযুক্ত হয় এবং ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭.৪০ কোটি। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত ভোটার সংখ্যা কমেছে ৪৯ লাখ। বর্তমানে বিহারের জনসংখ্যা আনুমানিক ১৩ কোটি। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৫৭ শতাংশ ভোটার। এখন পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১০.৫০ কোটি এবং জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ ভোটার ধরা হলে ভোটার সংখ্যা হতে পারে ৬.৮২ কোটি। কিন্তু ২৭.১০.২০২৫ তারিখ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ভোটার সংখ্যা হল ৭.৬৫ কোটি। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় ৮৩ লাখ অতিরিক্ত নাম রয়েছে। এই অতিরিক্ত নামগুলোর একটি বড় অংশ মারা গেছে, একটি অংশ রাজ্যের অভ্যন্তরে একাধিক জায়গায় নাম রেখেছে, একটি অংশ রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে অথবা বিদেশে চলে গেছে এবং একটি অংশ অস্তিত্ববিহীন। পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালে শেষ বারের মতো যখন নিবিড় সংশোধন হয়েছিল তখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ৪.৫৮ কোটি ভোটার এবং কাটা গিয়েছিল ২৮ লক্ষ নাম। তবে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ ওঠেনি।

আরও পড়ুন:

ভোটার হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে ভারতের নাগরিক, ন্যূনতম ১৮ বছর বয়সী এবং কোনো একটি কেন্দ্রের (কনস্টিটুয়েন্সি) বাসিন্দা হতে হয়। কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি একটু গোলমেলে। কারণ, নাগরিকত্বের পরিচয়বাহী কোনো সুনির্দিষ্ট নথি চিহ্নিত অথবা চালু করা হয়নি। এজন্য কোটি কোটি ভারতীয়কে মাঝেমধ্যেই নাগরিকত্ব প্রমাণের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। নানান ধরনের নথি দেখাতে হয়। স্যার-এর জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ১২টি নথি হল: (১) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র, (২) ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, ডাকঘর, ভারতীয় জীবন বীমা নিগম প্রভৃতি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা প্রদান করেছে এমন নথি, (৩) জন্মের শংসাপত্র, (৪) পাসপোর্ট, (৫) মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, (৬) রাজ্যের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র, (৭) বনভূমি অধিকার শংসাপত্র, (৮) এসসি, এসটি, ওবিসি প্রভৃতি জাতিগত শংসাপত্র, (৯) জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এন আর সি), (১০) রাজ্য বা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারা তৈরী করা পরিবার পঞ্জী (ফ্যামিলি রেজিস্টার), (১১) জমি বা বাড়ির দলিল এবং (১২) আধার কার্ড।

আরও পড়ুন:

এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি ডকুমেন্ট দেখাতে হবে। দুই-এক শতাংশ নিরক্ষর, হতদরিদ্র, ভবঘুরে, ঠিকানাবিহীন মানুষ ছাড়া বাকি সকলেরই এগুলোর মধ্যে অন্তত একটি নথি রয়েছে বলেই মনে হয়। উল্লেখ্য, প্রথমে নথির সংখ্যা ছিল ১১টি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধার কার্ডকে ১২তম নথি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কাজে বহুল ব্যবহৃত ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড ও রেশন কার্ড আশ্চর্যজনকভাবে ব্রাত্যই রয়ে গেছে। আধার কার্ডের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এটা পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে এর কোনো মান্যতা থাকবে না। এখানে আধার কার্ডের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে নাগরিকত্বের প্রশ্ন টেনে এনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ অবশ্য আধার কার্ডকে নথি হিসেবে দেখিয়েই স্যার-এ নাম তুলবেন।

আরও পড়ুন:

২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে, এমন সকলের জন্যই এনুমারেশন (গণনা) ফর্ম তৈরি হয়েছে। এসআইআর-এ নাম তুলতে আগ্রহী সকলকেই সেই ফর্ম পূরণ করতে হবে। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণনা পর্বে (এনুমারেশন ফেজ) বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও সেই ফর্ম নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। বিএলও-রা হবেন স্থানীয় সরকারি কর্মী। তাঁদের কাজে সহযোগিতা করতে থাকবেন স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ। এই পর্বে কোনো নথি জমা দিতে হবে না। শুধু নতুন ভোটার কার্ডের জন্য পাসপোর্ট সাইজের ফটো লাগবে। অনলাইনেও এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করা যাবে। অফলাইনেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ফর্ম পূরণ ও স্বাক্ষর করতে পারবেন। এজন্য ভিন রাজ্য অথবা বিদেশ থেকে তাড়াহুড়ো করে কারো বাড়ি আসার দরকার হবে না।

আরও পড়ুন:

২০০২ ও ২০২৫ সালের দুটি ভোটার তালিকাতেই যাঁদের নাম আছে অর্থাৎ যাঁরা ‘ম্যাপিং’-এর আওতায় এসেছেন তাঁরা পুরোপুরি ‘সেফ জোন’-এ থাকবেন, তাঁদের কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না। শুধু নতুন ভোটার কার্ডের জন্য পাসপোর্ট সাইজের ফটো লাগবে। ভারতে জন্মগ্ৰহণ করেছেন এবং ২০২৫ সালের তালিকায় নাম আছে কিন্তু ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই এমন ব্যক্তিরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা বাবা, মা অথবা অন্য কোনো আত্মীয়ের নাম দেখিয়ে স্যার-এ নাম তুলে নিতে পারবেন। ভারতের বাইরে যাঁদের জন্ম, তাঁদের ভারতীয় মিশন কর্তৃক প্রদত্ত বার্থ সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। যাঁরা ভারতের বাইরে থেকে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্ব নিবন্ধনকরণ শংসাপত্র দেখাতে হবে। শেষোক্ত শর্তটি উদ্বাস্তু, অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। এটাতে মতুয়া সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের জন্য এনুমারেশন ফর্ম তৈরি হয়নি। এমন ব্যক্তিদের ১.১.২০২৬ তারিখের ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বিএলও ৬ নম্বর ফর্ম সরবরাহ করবেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ সেই ফর্ম পূরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:

এক মাস ধরে ইনুমারেশন ফর্ম ও নতুন ভোটার ফর্ম পূরণ পর্ব শেষ হবার পর ৯ ডিসেম্বর’ ২০২৫ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের সংযোগ (লিঙ্ক) নির্ধারণ করা যাবে না, তাঁদের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না এবং তাঁদেরকে ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এক মাস ধরে নোটিশ পাঠিয়ে নথি দেখাতে বলা হবে। আবার ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার দাবি ও অভিযোগ জানানোর জন্য ৫০ দিনের বেশি সময় রাখা হয়েছে। অবশেষে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন:

বিহারের স্যার-এর অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান করা যায়, পশ্চিমবঙ্গেও বিরাট সংখ্যক নাম খসড়া তালিকার বাইরে থাকবে। কিন্তু তাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাবে।

আরও পড়ুন:

কোনো ব্যক্তি এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ না নিলে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিতব্য ভোটার তালিকায় তার নাম থাকবে না। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পরেও ভুলবশত কিছু মানুষের নাম ভোটার তালিকায় নাও উঠতে পারে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে তাঁরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে অথবা প্রার্থী হতে পারবেন না। আপাতত এছাড়া অন্য কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ভোটার লিস্টে নাম না থাকা ব্যক্তিদের সকল নাগরিক অধিকার ও সুযোগ সুবিধা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
আগামী বছরগুলোতে যখন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হবে তখন তাঁরা আবার নাম তোলার সুযোগ পাবেন — এমনটাই জানিয়েছেন দেশের নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন:

(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder