BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

শিক্ষার ভবিষ্যৎ কি চায়ের কাপে?

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:১২ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:১২

মাফিকুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কল্পনা করুন, যেখানে একজন শিক্ষক পাঁচটি শ্রেণির পড়াশোনা সামলান, ক্লাস টু-এর গণিত বোঝাতে বোঝাতে ক্লাস ফোর-এর বাংলা খাতা খতিয়ে দেখছেন, আর ক্লাস ফাইভ-এর পড়ুয়াদের পরীক্ষার খাতা হাতে তুলে দিচ্ছেন। আরও ভয়াবহ হল, এর থেকেও শতগুণ ভয়ংকর বাস্তব, একজনও শিক্ষক নেই, এমন হাজার হাজার স্কুল! শিক্ষা ভবনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২১,২১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য বা মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, লক্ষ লক্ষ শিশু আজ প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ ২০০৯ সালের রাইট টু এডুকেশন (আরটিই) আইন স্পষ্টভাবে বলছে, প্রতিটি স্কুলে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত মেনে অন্তত দুই থেকে তিনজন শিক্ষক থাকা আবশ্যক। বাস্তব চিত্রটি শুধু এই আইনের লঙ্ঘন নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার এক নির্মম উদাহরণ।

আরও পড়ুন:

এমন এক সময়ে যখন হাজার হাজার টেট-উত্তীর্ণ দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায়, তখন সরকার আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সবকিছু আটকে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সংকট নিরসনে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের বদলে শিক্ষিত যুবকদের চা, তেলেভাজা, ঘুগনি ইত্যাদির দোকান খোলার পরামর্শ দিয়ে বিতর্ক উসকে দেন। প্রশ্ন জাগে যখন বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, তখন যুবকদের চায়ের দোকানে পাঠিয়ে আসলে কাকে শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ কি চায়ের কাপে ডুবে যাবে?

আরও পড়ুন:

শুধু শিক্ষক সংকট নয়, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা আজ বহুস্তরে ভাঙনের মুখে। একদিকে কয়েক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ, অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭০ হাজার ছাত্র স্কুলছুট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কন্যাশ্রী প্রকল্পের রাজনৈতিক অপব্যবহার, স্থানীয় শিল্পের পতন এবং চাকরির বাজারে ভয়াবহ মন্দা। ফলত, শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান, সবকিছুতেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন:

সংকট কতটা তীব্র, সরকারের প্রতিক্রিয়া কতটা অপ্রতুল এবং ব্যবহারিকভাবে এসব সমস্যার সমাধান কী হতে পারে। কারণ, প্রশ্নটা কেবল ২১ হাজার স্কুলের নয়, প্রশ্নটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অজ্ঞতা ও বেকারত্বের ফাঁদ থেকে রক্ষা করার।

আরও পড়ুন:

আইন অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক স্কুলে ৩০ জন ছাত্র পড়াশোনা করলে অন্তত এক জন শিক্ষক থাকা আবশ্যক। কিন্তু, সেই প্রয়োজনের সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধান অনেকটাই বেড়েছে। শিক্ষা ভবনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে ২১,২১৫টি প্রাথমিক স্কুলে শূন্য বা মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে ২২৭, বাঁকুড়ায় ৩৭১, বীরভূমে ১৫৫, পুরুলিয়ায় ৩৭২, প্রতিটি জেলার পরিসংখ্যানই এক একটি ধাক্কা। বাস্তবে এর মানে দাঁড়াচ্ছে, লক্ষাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক অধিকার হারাচ্ছে, যা আরটিই আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

আরও পড়ুন:

সমস্যার মূল জড়িয়ে আছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। বহু বছর ধরে টেট পরীক্ষা, আদালতের মামলা আর প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে কয়েক হাজার টেট উত্তীর্ণ বেকার হয়ে বসে আছেন। অথচ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, ক্লাসরুম ফাঁকা। শিক্ষক শূন্যপদ আজ শুধু প্রাথমিক স্তরেই নয়, সার্বিকভাবে রাজ্যে ১,১০,০০০-এরও বেশি পদ খালি। ফলে শিক্ষা কার্যত ভেঙে পড়ছে।

আরও পড়ুন:

এই সংকট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও সমান ভয়াবহ। একদিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রার্থীর সংখ্যা লক্ষাধিক কম। অন্যদিকে সার্বিকভাবে স্কুলছুট প্রবণতা চোখে পড়ার মতো। গত দুই বছরে শুধু মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৭০ হাজার ছাত্র স্কুলছুট হয়েছে। আরও ভয়াবহ তথ্য হল, রাজ্যের ৩,২৪৫টি স্কুলে একজনও পড়ুয়া নেই।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার চিত্রটা আরও হতাশাজনক। ২০১২ সালে রাজ্যে যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৭৪,৭১৭টি; চলতি ২০২৫ সালে হয়েছে মাত্র ৪৯,৩৭৫। অর্থাৎ এক দশকে ২৫ হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একই সময়ে প্রতি বছর অজস্র মদের দোকান খোলা হয়েছে রাজ্যে। মদের দোকান বাড়ছে, স্কুল কমছে, এ যেন এক ভয়াবহ রাষ্ট্রনীতির নির্মম প্রতিচ্ছবি, যেখানে ভবিষ্যতের নাগরিক তৈরির চেয়ে রাজস্ব বাড়ানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:

শিক্ষাক্ষেত্রের এই ভয়াবহ সংকট শুধু সংখ্যার খেলা নয়; বরং একটি প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। শিক্ষকহীন ক্লাসরুম, খালি স্কুল-ঘর, আর হতাশ যুবকদের দীর্ঘ বেকারত্ব, এই ছবি শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার ভাঙন নয়, গোটা সমাজের পতনের ইঙ্গিত।

আরও পড়ুন:

রাজ্যের শিক্ষিত যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে চা, তেলেভাজা কিংবা মুড়ি-ঘুগনির দোকান খোলার পরামর্শ দিয়েছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে যেন কল্পনার এক নির্মম তফাতকে ফুটিয়ে তোলে। অথচ রাজ্যের শিল্প ক্ষেত্রগুলো একে একে ধসে পড়ছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্প, দিনাজপুরের ভুট্টা চাষ, দক্ষিণবঙ্গের পোশাক শিল্পের পতন এই বাস্তবতার দৃশ্য। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রাজ্যে ২১,৫২১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যার মধ্যে ২৭১টি ছিল বড় শিল্প। এ সবের মধ্যে গ্লোবাল বিজনেস সামিটে জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনীর চমক মানুষকে প্রতি বছর মায়াজালে ফেলে, কিন্তু বাস্তবে রাজ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। আর সরকারি ঋণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১১ সালে ১.৯৭ লক্ষ কোটি থেকে ২০২৪-এ পৌঁছেছে ৬.৫ লক্ষ কোটিতে, যা প্রমাণ করে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সরকারের ব্যর্থতা কেবল রূপকথার গল্প নয়, বাস্তবতাই প্রতিফলিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের দেড় দশকের ব্যর্থতা এবার স্পষ্টভাবে সমাজে তার ক্ষতিকর প্রভাব দেখাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশায় হতাশা, আশাহীনতা আর শূন্য সম্ভাবনার মধ্যে পড়ে বহু ছাত্রছাত্রী ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমাচ্ছে, সেই সাথে শিশু শ্রমের ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকার মদ বিক্রির আয় দিয়ে রাজস্ব সংগ্রহের চেষ্টা করলেও, তা শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে না। ফলে শিক্ষিত, কর্মক্ষম যুবসমাজ হতাশ, সমাজে সামগ্রিক অস্থিরতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যত উন্নয়নের সম্ভাবনাকে স্তিমিত করছে।
২১,২১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অভাব এবং ২৫,৩৪২টি স্কুলের বন্ধ থাকা একটিমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এটি রাজ্যের শিক্ষার অন্ধকার ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। যে রাজ্যে শিক্ষার আলো নিভে যাচ্ছে, সেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ কে উজ্জ্বল করবে? এ প্রশ্ন আজ সবার মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সমাধান আছে, কিন্তু তা গ্রহণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা, ছোট ও মাঝারি শিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফুড প্রসেসিং, টেক্সটাইল ও কৃষি-ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা এবং শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে স্কুল তথা শিক্ষায় পরিকাঠামো পুনর্গঠন – এসব পদক্ষেপই শিক্ষার আলো ফিরিয়ে আনতে পারে। শিক্ষার্থীর চোখে নতুন আশা জাগাতে এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎকে সত্যিকারের সমৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করতে এখনই সময়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder