BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

শিক্ষার ভবিষ্যৎ কি চায়ের কাপে?

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:১২ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫:১২

মাফিকুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কল্পনা করুন, যেখানে একজন শিক্ষক পাঁচটি শ্রেণির পড়াশোনা সামলান, ক্লাস টু-এর গণিত বোঝাতে বোঝাতে ক্লাস ফোর-এর বাংলা খাতা খতিয়ে দেখছেন, আর ক্লাস ফাইভ-এর পড়ুয়াদের পরীক্ষার খাতা হাতে তুলে দিচ্ছেন। আরও ভয়াবহ হল, এর থেকেও শতগুণ ভয়ংকর বাস্তব, একজনও শিক্ষক নেই, এমন হাজার হাজার স্কুল! শিক্ষা ভবনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২১,২১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য বা মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, লক্ষ লক্ষ শিশু আজ প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ ২০০৯ সালের রাইট টু এডুকেশন (আরটিই) আইন স্পষ্টভাবে বলছে, প্রতিটি স্কুলে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত মেনে অন্তত দুই থেকে তিনজন শিক্ষক থাকা আবশ্যক। বাস্তব চিত্রটি শুধু এই আইনের লঙ্ঘন নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার এক নির্মম উদাহরণ।

আরও পড়ুন:

এমন এক সময়ে যখন হাজার হাজার টেট-উত্তীর্ণ দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায়, তখন সরকার আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সবকিছু আটকে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সংকট নিরসনে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের বদলে শিক্ষিত যুবকদের চা, তেলেভাজা, ঘুগনি ইত্যাদির দোকান খোলার পরামর্শ দিয়ে বিতর্ক উসকে দেন। প্রশ্ন জাগে যখন বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, তখন যুবকদের চায়ের দোকানে পাঠিয়ে আসলে কাকে শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ কি চায়ের কাপে ডুবে যাবে?

আরও পড়ুন:

শুধু শিক্ষক সংকট নয়, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা আজ বহুস্তরে ভাঙনের মুখে। একদিকে কয়েক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ, অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭০ হাজার ছাত্র স্কুলছুট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কন্যাশ্রী প্রকল্পের রাজনৈতিক অপব্যবহার, স্থানীয় শিল্পের পতন এবং চাকরির বাজারে ভয়াবহ মন্দা। ফলত, শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান, সবকিছুতেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন:

সংকট কতটা তীব্র, সরকারের প্রতিক্রিয়া কতটা অপ্রতুল এবং ব্যবহারিকভাবে এসব সমস্যার সমাধান কী হতে পারে। কারণ, প্রশ্নটা কেবল ২১ হাজার স্কুলের নয়, প্রশ্নটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অজ্ঞতা ও বেকারত্বের ফাঁদ থেকে রক্ষা করার।

আরও পড়ুন:

আইন অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক স্কুলে ৩০ জন ছাত্র পড়াশোনা করলে অন্তত এক জন শিক্ষক থাকা আবশ্যক। কিন্তু, সেই প্রয়োজনের সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধান অনেকটাই বেড়েছে। শিক্ষা ভবনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে ২১,২১৫টি প্রাথমিক স্কুলে শূন্য বা মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে ২২৭, বাঁকুড়ায় ৩৭১, বীরভূমে ১৫৫, পুরুলিয়ায় ৩৭২, প্রতিটি জেলার পরিসংখ্যানই এক একটি ধাক্কা। বাস্তবে এর মানে দাঁড়াচ্ছে, লক্ষাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক অধিকার হারাচ্ছে, যা আরটিই আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

আরও পড়ুন:

সমস্যার মূল জড়িয়ে আছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। বহু বছর ধরে টেট পরীক্ষা, আদালতের মামলা আর প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে কয়েক হাজার টেট উত্তীর্ণ বেকার হয়ে বসে আছেন। অথচ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, ক্লাসরুম ফাঁকা। শিক্ষক শূন্যপদ আজ শুধু প্রাথমিক স্তরেই নয়, সার্বিকভাবে রাজ্যে ১,১০,০০০-এরও বেশি পদ খালি। ফলে শিক্ষা কার্যত ভেঙে পড়ছে।

আরও পড়ুন:

এই সংকট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও সমান ভয়াবহ। একদিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রার্থীর সংখ্যা লক্ষাধিক কম। অন্যদিকে সার্বিকভাবে স্কুলছুট প্রবণতা চোখে পড়ার মতো। গত দুই বছরে শুধু মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৭০ হাজার ছাত্র স্কুলছুট হয়েছে। আরও ভয়াবহ তথ্য হল, রাজ্যের ৩,২৪৫টি স্কুলে একজনও পড়ুয়া নেই।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার চিত্রটা আরও হতাশাজনক। ২০১২ সালে রাজ্যে যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৭৪,৭১৭টি; চলতি ২০২৫ সালে হয়েছে মাত্র ৪৯,৩৭৫। অর্থাৎ এক দশকে ২৫ হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একই সময়ে প্রতি বছর অজস্র মদের দোকান খোলা হয়েছে রাজ্যে। মদের দোকান বাড়ছে, স্কুল কমছে, এ যেন এক ভয়াবহ রাষ্ট্রনীতির নির্মম প্রতিচ্ছবি, যেখানে ভবিষ্যতের নাগরিক তৈরির চেয়ে রাজস্ব বাড়ানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:

শিক্ষাক্ষেত্রের এই ভয়াবহ সংকট শুধু সংখ্যার খেলা নয়; বরং একটি প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। শিক্ষকহীন ক্লাসরুম, খালি স্কুল-ঘর, আর হতাশ যুবকদের দীর্ঘ বেকারত্ব, এই ছবি শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার ভাঙন নয়, গোটা সমাজের পতনের ইঙ্গিত।

আরও পড়ুন:

রাজ্যের শিক্ষিত যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে চা, তেলেভাজা কিংবা মুড়ি-ঘুগনির দোকান খোলার পরামর্শ দিয়েছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে যেন কল্পনার এক নির্মম তফাতকে ফুটিয়ে তোলে। অথচ রাজ্যের শিল্প ক্ষেত্রগুলো একে একে ধসে পড়ছে, মালদা ও মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্প, দিনাজপুরের ভুট্টা চাষ, দক্ষিণবঙ্গের পোশাক শিল্পের পতন এই বাস্তবতার দৃশ্য। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রাজ্যে ২১,৫২১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যার মধ্যে ২৭১টি ছিল বড় শিল্প। এ সবের মধ্যে গ্লোবাল বিজনেস সামিটে জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনীর চমক মানুষকে প্রতি বছর মায়াজালে ফেলে, কিন্তু বাস্তবে রাজ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। আর সরকারি ঋণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১১ সালে ১.৯৭ লক্ষ কোটি থেকে ২০২৪-এ পৌঁছেছে ৬.৫ লক্ষ কোটিতে, যা প্রমাণ করে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সরকারের ব্যর্থতা কেবল রূপকথার গল্প নয়, বাস্তবতাই প্রতিফলিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের দেড় দশকের ব্যর্থতা এবার স্পষ্টভাবে সমাজে তার ক্ষতিকর প্রভাব দেখাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশায় হতাশা, আশাহীনতা আর শূন্য সম্ভাবনার মধ্যে পড়ে বহু ছাত্রছাত্রী ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমাচ্ছে, সেই সাথে শিশু শ্রমের ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকার মদ বিক্রির আয় দিয়ে রাজস্ব সংগ্রহের চেষ্টা করলেও, তা শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে না। ফলে শিক্ষিত, কর্মক্ষম যুবসমাজ হতাশ, সমাজে সামগ্রিক অস্থিরতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যত উন্নয়নের সম্ভাবনাকে স্তিমিত করছে।
২১,২১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অভাব এবং ২৫,৩৪২টি স্কুলের বন্ধ থাকা একটিমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এটি রাজ্যের শিক্ষার অন্ধকার ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। যে রাজ্যে শিক্ষার আলো নিভে যাচ্ছে, সেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ কে উজ্জ্বল করবে? এ প্রশ্ন আজ সবার মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সমাধান আছে, কিন্তু তা গ্রহণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা, ছোট ও মাঝারি শিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফুড প্রসেসিং, টেক্সটাইল ও কৃষি-ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা এবং শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে স্কুল তথা শিক্ষায় পরিকাঠামো পুনর্গঠন – এসব পদক্ষেপই শিক্ষার আলো ফিরিয়ে আনতে পারে। শিক্ষার্থীর চোখে নতুন আশা জাগাতে এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎকে সত্যিকারের সমৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করতে এখনই সময়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder