BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

বিহার নির্বাচন: বাম গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষরা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২

খগেন্দ্রনাথ অধিকারী

আরও পড়ুন:

বিহার বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচন এদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের উপর এক বড় আঘাত। তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই অনিবার্য ছিল। কারণ, ইতিহাস আমাদেরকে এটাই চিরকাল শিক্ষা দেয় যে, ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী এবং গণতন্ত্রী মানুষরা নিজেদের মধ্যে ছোটখাটে মতভেদ মিটিয়ে না নিতে পারলে তার মাশুল সাধারণ মানুষকে দিতে হয়। উদাহরণ হিসাবে বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের ইউরোপের কথা ধরা যাক। এই সময়কালে পুঁজিবাদী অর্থনীতি ভীষণ সংকটে পড়ে। শুরু হয় বিশ্বজুড়ে মন্দা। বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি পর্বতপ্রমাণ আকার নেয়। উদার গণতন্ত্রী ব্যবস্থায় অর্থাৎ বুর্জোয়া সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রবল ধস নামে। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও ইউরোপে একমত হতে পারল না।

আরও পড়ুন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি সংকট মোচনে একমত হতে পারেনি। তবে সে দেশের গণতন্ত্রী দলের নেতা প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট খুব কড়া পদক্ষেপ নেন। বৃহৎ পুঁজিপতিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে তিনি “New Deal” কর্মসূচি নেন শ্রমজীবী মানুষকে কিছু সুরাহা দেবার জন্য। কিন্তু এখানেও চরম দ্বন্দ্ব হয়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করে আমেরিকার অভিজাত শ্রেণি এই কর্মসূচি রূপায়ণে অন্তরায় সৃষ্টি করে। নাছোড় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট জাতির উদ্দেশ্যে বেতার ভাষণ দিয়ে প্রবল জনমত গড়ে তোলেন তাঁর উক্ত কর্মসূচির সমর্থনে। ধনীরা পিছিয়ে যায় জনমতের চাপে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইউরোপের অবস্থা ছিল ভিন্ন। কী পূর্ব ইউরোপ, কী পশ্চিম ইউরোপ, বুর্জোয়া গণতন্ত্রীরা ছিল পরস্পর বিরোধী অবস্থানে অনড়। কমিউনিস্টরাও পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করে সময়োচিত উদ্যোগ নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে বামপন্থী ও উদার গণতন্ত্রীদের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে কোন বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বামপন্থী তথা কমিউনিস্টদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে জার্মানি-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসী শক্তির জয়জয়কার ঘটে। ১৯৩৩ সালের জার্মানিতে সংসদীয় নির্বাচনে ঠিক এই কারণে নাৎসীরা একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে জোর জবরদস্তি করে হিটলার ক্ষমতায় যান নাৎসীদের পতাকা উড়িয়ে।

আরও পড়ুন:

আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক অনুরূপ ঘটনাই ঘটেছে। ভারতবর্ষ এক বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। এদেশ অশোক, আকবর, হর্ষবর্ধন, দারাশিকো, শেরশাহ, চৈতন্য, হুশেন শাহ, সিরাজউদ্দৌলা, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের দেশ। এদেশ বহু ধর্মের, বহু জাতের, বহু ভাষাভাষী মানুষের দেশ। Unity in diversity বা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই হল এদেশের সংস্কৃতির মূলমন্ত্র। কবি অতুলপ্রসাদ সেনের কথায়–
“নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান,
বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।”
এটাই আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরম্পরা। কিন্তু এহেন একটি দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্র জাতপাতের রাজনীতি সমগ্র জাতীয় জীবনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। ধর্ম-বর্ণের দোহাই দিয়ে আজ এদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতির বেসাতি চলছে রমরমিয়ে ।

আরও পড়ুন:

মধ্যযুগে দু-একজন চিন্তাবিদ বা শাসক যেমন মনু, জিয়াউদ্দিন বারণী, শিবাজী প্রমুখ ধর্ম ও রাজনীতিকে একাকার করেছিলেন বটে। কিন্তু আকবর, দারাশিকো, শেরশাহ, লক্ষ্মণ সেন, হুশেন শাহরা উদার ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণে শাসন করেছেন। এঁরা কেউই জাতপাত বা ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেননি।

আরও পড়ুন:

আধুনিক যুগে জ্যোতিরাও ফুলে, সাবিত্রী বাঈ ফুলে, ফতেমা শেখরা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্বে জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে সবার জন্য সমান অধিকারের দাবিতে লড়াই করেছেন। কোন রকম ধর্ম-বর্ণভিত্তিক বিশেষ সুবিধাকে তারা গুরুত্ব দেননি। অথচ বিংশ শতাব্দীতে এসে জিন্না, আম্বেদকর, জনসংঘ (অধুনা সংঘ পরিবার) জাতপাতভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়েছেন। গান্ধীজী, সীমান্তগান্ধী খান আব্দুল গফফর খান, ভি.ভি গিরি, ড. রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উদার গণতন্ত্রী এবং সোমনাথ লাহিড়ী, পি. সি. যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে প্রমুখ কমিউনিস্ট নেতা দ্ব্যর্থহীনভাবে এদের ধর্মকেন্দ্রিক ও বর্ণকেন্দ্রিক অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার পৌনে আশি বছর পরেও আজ আমরা লক্ষ্য করছি, প্রাক-স্বাধীনতার সময়েও আমাদের দেশে জাতপাত ও ধর্মান্ধতার যে রাজনীতি বিরাজ করছিল, সেই একই জিনিস ফিরে এসেছে। জাতের নামে বজ্জাতি, ধর্মের নামে অধর্মের প্লাবন বইছে। সেই প্রবাহেই সম্পন্ন হয়েছে বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত এনডিএ জোট ব্যাপক গরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতায় ফিরেছে। এতে ওই রাজ্য তথা গোটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষরা খুবই হতাশ। কারণ, অনেকেরই আশা ছিল সাম্প্রদায়িক বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বিহারে এবার পরাজিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ- (১) মহাজোটের শরির দলগুলির মধ্যে খেয়োখেয়ি, (২) বিরোধী জোটে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস ও সহনশীলতার অভাব, (৩)শরিক দলগুলির তরফে সুবিধাবাদী নীতি গ্রহণ, (৪) সরকারের অর্থনৈতিক উপঢৌকনের প্রভাব, (৫) জাতপাত ও ধর্মের জটিল অংক, (৬) বাম ও গণতন্ত্রীদের দেউলিয়াপনা, (৭) ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের গয়ংগচ্ছ মনোভাব, (৮) SIR-এর বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:

বলাবাহুল্য যে মহাজোট হয়েছে, কিন্তু শরিকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বহু আসনে লড়েছে। সিপিআইকে দেওয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে এবং সেখানে আবার সিপিআই, সিপিএম, সিপিআই (এমএল) মুখে বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথা বললেও বামেরাই বামফ্রন্টের শরিক দল সিপিআই প্রার্থীকে হারাতে অকমিউনিস্ট দলের প্রার্থীকে মদত করেছে প্রকাশ্যে। আর তেজস্বী যাবদেব দল তো তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে সব বুদ্ধি বিবেচনা হারিয়ে ভুল বকে গেছে। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর দল? সেও কম যায় না, কম যায়নি বিহারে। যেমন হাঁড়ি তেমনি সরা। সে তো ক্ষমতার মোহে বাস্তব ভুলে মত্ত হাতির মতো যা খুশি তাই করেছে, যা খুশি তাই বলেছে। জনগণ, এসব ভালভাবে নেয়নি। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ সচেতন মানুষরা।

আরও পড়ুন:

বিহার এক সময় সিপিআই-এর দুর্গ ছিল শ্রেণি সংগ্রামের পথ ধরে সুনীল মুখার্জী, জগন্নাথ সরকার, টিকারাম মাঝি প্রমুখের নেতৃত্বে। সেই বিহার থেকে এই পার্টির বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শ্রেণি সংগ্রামের পথ ছেড়ে গরীব মানুষের ঐক্যনাশা জাতপাতের রাজনীতির সঙ্গে আপসের পথ নেওয়ায় এই নির্বাচনে শূন্য হয়ে গেছে তারা বিহারে। কমিউনিস্টদের কী চিন্তার দৈন্য! এরা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী, পি.সি যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে, জেড.এ আহমেদ, এম ফারুকীদের জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে ও শ্রেণি রাজনীতির পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কথা জানেন না।

আরও পড়ুন:

বম্বেতে ১৯৪৬ এবং ১৯৫২ সালের নির্বাচনে, বিদর্ভে ১৯৫৩ সালের নির্বাচনে আম্বেদকরের পরাজয়ের পিছনে কমিউনিস্টদের কী ভূমিকা ছিল, লোকসভা ও রাজ্যসভায় অধ্যাপক হীরেণ মুখার্জী, রেণু চক্রবর্তী, কংসারী হালদার, ভূপেশ গুপ্ত প্রমুখ কমিউনিস্ট সাংসদ, কিংবা জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে ভি.ভি গিরি, রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদরা আম্বেদকরকে তাঁর জাতপাত কেন্দ্রিক সংরক্ষণ নীতির জন্য, কিংবা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আজাদ আইনমন্ত্রী আম্বেদকরকে তাঁর ঐ রাজনীতির জন্য তাঁকে কীভাবে দেখতেন, কিংবা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক বিষয়ে আম্বেদকরের অনৈতিহাসিক মন্তব্যের জন্য (হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক আম্বেদকরের মতে সোনার পাথর বাটি) গোটা জাতীয় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি তথা দলমত নির্বিশেষে এদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা আম্বেদকরকে কোন চোখে দেখেন, সেই পাঠ তাঁদের নেই।

আরও পড়ুন:

এককথায়, মনসা মঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর মন থেকে নয়, দায়ে পড়ে বাম হাত দিয়ে মনসাকে ফুল দিয়েছিল। বিহারের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা ভালেবেসে নয়, কংগ্রেস-কমিউনিস্ট ও আরজেডি-র কীর্তিকলাপ দেখে নেতিবাচক ভোট দিয়েছে বিজেপি-নীতীশ কুমারের জোটকে। এইসব ধর্মনিরপেক্ষ বাম ও গণতান্ত্রিক মানুষরা চেয়ে আছেন জাতীয় কংগ্রেসের দিকে, যে জাতীয় কংগ্রেস গান্ধীজী থেকে শুরু করে সীমান্তগান্ধী, জহরলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ, রাধাকৃষ্ণান, জাকীর হোসেন, ভি.ভি গিরি, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখের নেতৃত্বে কিংবা কমিউনিস্টদের দিকে, যাঁরা ডাঙ্গে থেকে শুরু করে লাহিড়ী, যোশী, রাজেশ্বর রাও, সুধাকর রেড্ডি, নাম্বুদ্রিপাদ, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, চারু মজুমদার, কানু সান্যালদের নেতৃত্বে ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং শ্রেণি সংগ্রামের রাজপথে অটল থেকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার বহুত্ববাদী চরিত্রকে অক্ষুণ্ণ রাখতে অনন্য অবদান রেখেছিলেন, তাঁদের দিকে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় যে, অদূর ভবিষ্যতে এই মানুষদের মুখে হাসি ফুটবেই ফুটবে।

আরও পড়ুন:

(লেখক: কলকাতা সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder