BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

বিহার নির্বাচন: বাম গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষরা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২

খগেন্দ্রনাথ অধিকারী

আরও পড়ুন:

বিহার বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচন এদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের উপর এক বড় আঘাত। তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই অনিবার্য ছিল। কারণ, ইতিহাস আমাদেরকে এটাই চিরকাল শিক্ষা দেয় যে, ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী এবং গণতন্ত্রী মানুষরা নিজেদের মধ্যে ছোটখাটে মতভেদ মিটিয়ে না নিতে পারলে তার মাশুল সাধারণ মানুষকে দিতে হয়। উদাহরণ হিসাবে বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের ইউরোপের কথা ধরা যাক। এই সময়কালে পুঁজিবাদী অর্থনীতি ভীষণ সংকটে পড়ে। শুরু হয় বিশ্বজুড়ে মন্দা। বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি পর্বতপ্রমাণ আকার নেয়। উদার গণতন্ত্রী ব্যবস্থায় অর্থাৎ বুর্জোয়া সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রবল ধস নামে। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও ইউরোপে একমত হতে পারল না।

আরও পড়ুন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি সংকট মোচনে একমত হতে পারেনি। তবে সে দেশের গণতন্ত্রী দলের নেতা প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট খুব কড়া পদক্ষেপ নেন। বৃহৎ পুঁজিপতিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে তিনি “New Deal” কর্মসূচি নেন শ্রমজীবী মানুষকে কিছু সুরাহা দেবার জন্য। কিন্তু এখানেও চরম দ্বন্দ্ব হয়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করে আমেরিকার অভিজাত শ্রেণি এই কর্মসূচি রূপায়ণে অন্তরায় সৃষ্টি করে। নাছোড় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট জাতির উদ্দেশ্যে বেতার ভাষণ দিয়ে প্রবল জনমত গড়ে তোলেন তাঁর উক্ত কর্মসূচির সমর্থনে। ধনীরা পিছিয়ে যায় জনমতের চাপে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইউরোপের অবস্থা ছিল ভিন্ন। কী পূর্ব ইউরোপ, কী পশ্চিম ইউরোপ, বুর্জোয়া গণতন্ত্রীরা ছিল পরস্পর বিরোধী অবস্থানে অনড়। কমিউনিস্টরাও পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করে সময়োচিত উদ্যোগ নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে বামপন্থী ও উদার গণতন্ত্রীদের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে কোন বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বামপন্থী তথা কমিউনিস্টদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে জার্মানি-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসী শক্তির জয়জয়কার ঘটে। ১৯৩৩ সালের জার্মানিতে সংসদীয় নির্বাচনে ঠিক এই কারণে নাৎসীরা একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে জোর জবরদস্তি করে হিটলার ক্ষমতায় যান নাৎসীদের পতাকা উড়িয়ে।

আরও পড়ুন:

আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক অনুরূপ ঘটনাই ঘটেছে। ভারতবর্ষ এক বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। এদেশ অশোক, আকবর, হর্ষবর্ধন, দারাশিকো, শেরশাহ, চৈতন্য, হুশেন শাহ, সিরাজউদ্দৌলা, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের দেশ। এদেশ বহু ধর্মের, বহু জাতের, বহু ভাষাভাষী মানুষের দেশ। Unity in diversity বা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই হল এদেশের সংস্কৃতির মূলমন্ত্র। কবি অতুলপ্রসাদ সেনের কথায়–
“নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান,
বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।”
এটাই আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরম্পরা। কিন্তু এহেন একটি দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্র জাতপাতের রাজনীতি সমগ্র জাতীয় জীবনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। ধর্ম-বর্ণের দোহাই দিয়ে আজ এদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতির বেসাতি চলছে রমরমিয়ে ।

আরও পড়ুন:

মধ্যযুগে দু-একজন চিন্তাবিদ বা শাসক যেমন মনু, জিয়াউদ্দিন বারণী, শিবাজী প্রমুখ ধর্ম ও রাজনীতিকে একাকার করেছিলেন বটে। কিন্তু আকবর, দারাশিকো, শেরশাহ, লক্ষ্মণ সেন, হুশেন শাহরা উদার ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণে শাসন করেছেন। এঁরা কেউই জাতপাত বা ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেননি।

আরও পড়ুন:

আধুনিক যুগে জ্যোতিরাও ফুলে, সাবিত্রী বাঈ ফুলে, ফতেমা শেখরা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্বে জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে সবার জন্য সমান অধিকারের দাবিতে লড়াই করেছেন। কোন রকম ধর্ম-বর্ণভিত্তিক বিশেষ সুবিধাকে তারা গুরুত্ব দেননি। অথচ বিংশ শতাব্দীতে এসে জিন্না, আম্বেদকর, জনসংঘ (অধুনা সংঘ পরিবার) জাতপাতভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়েছেন। গান্ধীজী, সীমান্তগান্ধী খান আব্দুল গফফর খান, ভি.ভি গিরি, ড. রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উদার গণতন্ত্রী এবং সোমনাথ লাহিড়ী, পি. সি. যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে প্রমুখ কমিউনিস্ট নেতা দ্ব্যর্থহীনভাবে এদের ধর্মকেন্দ্রিক ও বর্ণকেন্দ্রিক অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার পৌনে আশি বছর পরেও আজ আমরা লক্ষ্য করছি, প্রাক-স্বাধীনতার সময়েও আমাদের দেশে জাতপাত ও ধর্মান্ধতার যে রাজনীতি বিরাজ করছিল, সেই একই জিনিস ফিরে এসেছে। জাতের নামে বজ্জাতি, ধর্মের নামে অধর্মের প্লাবন বইছে। সেই প্রবাহেই সম্পন্ন হয়েছে বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত এনডিএ জোট ব্যাপক গরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতায় ফিরেছে। এতে ওই রাজ্য তথা গোটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষরা খুবই হতাশ। কারণ, অনেকেরই আশা ছিল সাম্প্রদায়িক বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বিহারে এবার পরাজিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ- (১) মহাজোটের শরির দলগুলির মধ্যে খেয়োখেয়ি, (২) বিরোধী জোটে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস ও সহনশীলতার অভাব, (৩)শরিক দলগুলির তরফে সুবিধাবাদী নীতি গ্রহণ, (৪) সরকারের অর্থনৈতিক উপঢৌকনের প্রভাব, (৫) জাতপাত ও ধর্মের জটিল অংক, (৬) বাম ও গণতন্ত্রীদের দেউলিয়াপনা, (৭) ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের গয়ংগচ্ছ মনোভাব, (৮) SIR-এর বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:

বলাবাহুল্য যে মহাজোট হয়েছে, কিন্তু শরিকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বহু আসনে লড়েছে। সিপিআইকে দেওয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে এবং সেখানে আবার সিপিআই, সিপিএম, সিপিআই (এমএল) মুখে বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথা বললেও বামেরাই বামফ্রন্টের শরিক দল সিপিআই প্রার্থীকে হারাতে অকমিউনিস্ট দলের প্রার্থীকে মদত করেছে প্রকাশ্যে। আর তেজস্বী যাবদেব দল তো তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে সব বুদ্ধি বিবেচনা হারিয়ে ভুল বকে গেছে। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর দল? সেও কম যায় না, কম যায়নি বিহারে। যেমন হাঁড়ি তেমনি সরা। সে তো ক্ষমতার মোহে বাস্তব ভুলে মত্ত হাতির মতো যা খুশি তাই করেছে, যা খুশি তাই বলেছে। জনগণ, এসব ভালভাবে নেয়নি। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ সচেতন মানুষরা।

আরও পড়ুন:

বিহার এক সময় সিপিআই-এর দুর্গ ছিল শ্রেণি সংগ্রামের পথ ধরে সুনীল মুখার্জী, জগন্নাথ সরকার, টিকারাম মাঝি প্রমুখের নেতৃত্বে। সেই বিহার থেকে এই পার্টির বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শ্রেণি সংগ্রামের পথ ছেড়ে গরীব মানুষের ঐক্যনাশা জাতপাতের রাজনীতির সঙ্গে আপসের পথ নেওয়ায় এই নির্বাচনে শূন্য হয়ে গেছে তারা বিহারে। কমিউনিস্টদের কী চিন্তার দৈন্য! এরা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী, পি.সি যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে, জেড.এ আহমেদ, এম ফারুকীদের জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে ও শ্রেণি রাজনীতির পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কথা জানেন না।

আরও পড়ুন:

বম্বেতে ১৯৪৬ এবং ১৯৫২ সালের নির্বাচনে, বিদর্ভে ১৯৫৩ সালের নির্বাচনে আম্বেদকরের পরাজয়ের পিছনে কমিউনিস্টদের কী ভূমিকা ছিল, লোকসভা ও রাজ্যসভায় অধ্যাপক হীরেণ মুখার্জী, রেণু চক্রবর্তী, কংসারী হালদার, ভূপেশ গুপ্ত প্রমুখ কমিউনিস্ট সাংসদ, কিংবা জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে ভি.ভি গিরি, রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদরা আম্বেদকরকে তাঁর জাতপাত কেন্দ্রিক সংরক্ষণ নীতির জন্য, কিংবা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আজাদ আইনমন্ত্রী আম্বেদকরকে তাঁর ঐ রাজনীতির জন্য তাঁকে কীভাবে দেখতেন, কিংবা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক বিষয়ে আম্বেদকরের অনৈতিহাসিক মন্তব্যের জন্য (হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক আম্বেদকরের মতে সোনার পাথর বাটি) গোটা জাতীয় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি তথা দলমত নির্বিশেষে এদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা আম্বেদকরকে কোন চোখে দেখেন, সেই পাঠ তাঁদের নেই।

আরও পড়ুন:

এককথায়, মনসা মঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর মন থেকে নয়, দায়ে পড়ে বাম হাত দিয়ে মনসাকে ফুল দিয়েছিল। বিহারের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা ভালেবেসে নয়, কংগ্রেস-কমিউনিস্ট ও আরজেডি-র কীর্তিকলাপ দেখে নেতিবাচক ভোট দিয়েছে বিজেপি-নীতীশ কুমারের জোটকে। এইসব ধর্মনিরপেক্ষ বাম ও গণতান্ত্রিক মানুষরা চেয়ে আছেন জাতীয় কংগ্রেসের দিকে, যে জাতীয় কংগ্রেস গান্ধীজী থেকে শুরু করে সীমান্তগান্ধী, জহরলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ, রাধাকৃষ্ণান, জাকীর হোসেন, ভি.ভি গিরি, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখের নেতৃত্বে কিংবা কমিউনিস্টদের দিকে, যাঁরা ডাঙ্গে থেকে শুরু করে লাহিড়ী, যোশী, রাজেশ্বর রাও, সুধাকর রেড্ডি, নাম্বুদ্রিপাদ, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, চারু মজুমদার, কানু সান্যালদের নেতৃত্বে ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং শ্রেণি সংগ্রামের রাজপথে অটল থেকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার বহুত্ববাদী চরিত্রকে অক্ষুণ্ণ রাখতে অনন্য অবদান রেখেছিলেন, তাঁদের দিকে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় যে, অদূর ভবিষ্যতে এই মানুষদের মুখে হাসি ফুটবেই ফুটবে।

আরও পড়ুন:

(লেখক: কলকাতা সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder