BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

বিহার নির্বাচন: বাম গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষরা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২

খগেন্দ্রনাথ অধিকারী

আরও পড়ুন:

বিহার বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচন এদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের উপর এক বড় আঘাত। তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই অনিবার্য ছিল। কারণ, ইতিহাস আমাদেরকে এটাই চিরকাল শিক্ষা দেয় যে, ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী এবং গণতন্ত্রী মানুষরা নিজেদের মধ্যে ছোটখাটে মতভেদ মিটিয়ে না নিতে পারলে তার মাশুল সাধারণ মানুষকে দিতে হয়। উদাহরণ হিসাবে বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের ইউরোপের কথা ধরা যাক। এই সময়কালে পুঁজিবাদী অর্থনীতি ভীষণ সংকটে পড়ে। শুরু হয় বিশ্বজুড়ে মন্দা। বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি পর্বতপ্রমাণ আকার নেয়। উদার গণতন্ত্রী ব্যবস্থায় অর্থাৎ বুর্জোয়া সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রবল ধস নামে। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও ইউরোপে একমত হতে পারল না।

আরও পড়ুন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি সংকট মোচনে একমত হতে পারেনি। তবে সে দেশের গণতন্ত্রী দলের নেতা প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট খুব কড়া পদক্ষেপ নেন। বৃহৎ পুঁজিপতিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে তিনি “New Deal” কর্মসূচি নেন শ্রমজীবী মানুষকে কিছু সুরাহা দেবার জন্য। কিন্তু এখানেও চরম দ্বন্দ্ব হয়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করে আমেরিকার অভিজাত শ্রেণি এই কর্মসূচি রূপায়ণে অন্তরায় সৃষ্টি করে। নাছোড় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট জাতির উদ্দেশ্যে বেতার ভাষণ দিয়ে প্রবল জনমত গড়ে তোলেন তাঁর উক্ত কর্মসূচির সমর্থনে। ধনীরা পিছিয়ে যায় জনমতের চাপে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইউরোপের অবস্থা ছিল ভিন্ন। কী পূর্ব ইউরোপ, কী পশ্চিম ইউরোপ, বুর্জোয়া গণতন্ত্রীরা ছিল পরস্পর বিরোধী অবস্থানে অনড়। কমিউনিস্টরাও পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করে সময়োচিত উদ্যোগ নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে বামপন্থী ও উদার গণতন্ত্রীদের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে কোন বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বামপন্থী তথা কমিউনিস্টদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে জার্মানি-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসী শক্তির জয়জয়কার ঘটে। ১৯৩৩ সালের জার্মানিতে সংসদীয় নির্বাচনে ঠিক এই কারণে নাৎসীরা একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে জোর জবরদস্তি করে হিটলার ক্ষমতায় যান নাৎসীদের পতাকা উড়িয়ে।

আরও পড়ুন:

আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক অনুরূপ ঘটনাই ঘটেছে। ভারতবর্ষ এক বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। এদেশ অশোক, আকবর, হর্ষবর্ধন, দারাশিকো, শেরশাহ, চৈতন্য, হুশেন শাহ, সিরাজউদ্দৌলা, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের দেশ। এদেশ বহু ধর্মের, বহু জাতের, বহু ভাষাভাষী মানুষের দেশ। Unity in diversity বা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই হল এদেশের সংস্কৃতির মূলমন্ত্র। কবি অতুলপ্রসাদ সেনের কথায়–
“নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান,
বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।”
এটাই আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরম্পরা। কিন্তু এহেন একটি দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্র জাতপাতের রাজনীতি সমগ্র জাতীয় জীবনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। ধর্ম-বর্ণের দোহাই দিয়ে আজ এদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতির বেসাতি চলছে রমরমিয়ে ।

আরও পড়ুন:

মধ্যযুগে দু-একজন চিন্তাবিদ বা শাসক যেমন মনু, জিয়াউদ্দিন বারণী, শিবাজী প্রমুখ ধর্ম ও রাজনীতিকে একাকার করেছিলেন বটে। কিন্তু আকবর, দারাশিকো, শেরশাহ, লক্ষ্মণ সেন, হুশেন শাহরা উদার ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণে শাসন করেছেন। এঁরা কেউই জাতপাত বা ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেননি।

আরও পড়ুন:

আধুনিক যুগে জ্যোতিরাও ফুলে, সাবিত্রী বাঈ ফুলে, ফতেমা শেখরা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্বে জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে সবার জন্য সমান অধিকারের দাবিতে লড়াই করেছেন। কোন রকম ধর্ম-বর্ণভিত্তিক বিশেষ সুবিধাকে তারা গুরুত্ব দেননি। অথচ বিংশ শতাব্দীতে এসে জিন্না, আম্বেদকর, জনসংঘ (অধুনা সংঘ পরিবার) জাতপাতভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়েছেন। গান্ধীজী, সীমান্তগান্ধী খান আব্দুল গফফর খান, ভি.ভি গিরি, ড. রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উদার গণতন্ত্রী এবং সোমনাথ লাহিড়ী, পি. সি. যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে প্রমুখ কমিউনিস্ট নেতা দ্ব্যর্থহীনভাবে এদের ধর্মকেন্দ্রিক ও বর্ণকেন্দ্রিক অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার পৌনে আশি বছর পরেও আজ আমরা লক্ষ্য করছি, প্রাক-স্বাধীনতার সময়েও আমাদের দেশে জাতপাত ও ধর্মান্ধতার যে রাজনীতি বিরাজ করছিল, সেই একই জিনিস ফিরে এসেছে। জাতের নামে বজ্জাতি, ধর্মের নামে অধর্মের প্লাবন বইছে। সেই প্রবাহেই সম্পন্ন হয়েছে বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত এনডিএ জোট ব্যাপক গরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতায় ফিরেছে। এতে ওই রাজ্য তথা গোটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষরা খুবই হতাশ। কারণ, অনেকেরই আশা ছিল সাম্প্রদায়িক বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বিহারে এবার পরাজিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ- (১) মহাজোটের শরির দলগুলির মধ্যে খেয়োখেয়ি, (২) বিরোধী জোটে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস ও সহনশীলতার অভাব, (৩)শরিক দলগুলির তরফে সুবিধাবাদী নীতি গ্রহণ, (৪) সরকারের অর্থনৈতিক উপঢৌকনের প্রভাব, (৫) জাতপাত ও ধর্মের জটিল অংক, (৬) বাম ও গণতন্ত্রীদের দেউলিয়াপনা, (৭) ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের গয়ংগচ্ছ মনোভাব, (৮) SIR-এর বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:

বলাবাহুল্য যে মহাজোট হয়েছে, কিন্তু শরিকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বহু আসনে লড়েছে। সিপিআইকে দেওয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে এবং সেখানে আবার সিপিআই, সিপিএম, সিপিআই (এমএল) মুখে বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথা বললেও বামেরাই বামফ্রন্টের শরিক দল সিপিআই প্রার্থীকে হারাতে অকমিউনিস্ট দলের প্রার্থীকে মদত করেছে প্রকাশ্যে। আর তেজস্বী যাবদেব দল তো তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে সব বুদ্ধি বিবেচনা হারিয়ে ভুল বকে গেছে। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর দল? সেও কম যায় না, কম যায়নি বিহারে। যেমন হাঁড়ি তেমনি সরা। সে তো ক্ষমতার মোহে বাস্তব ভুলে মত্ত হাতির মতো যা খুশি তাই করেছে, যা খুশি তাই বলেছে। জনগণ, এসব ভালভাবে নেয়নি। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ সচেতন মানুষরা।

আরও পড়ুন:

বিহার এক সময় সিপিআই-এর দুর্গ ছিল শ্রেণি সংগ্রামের পথ ধরে সুনীল মুখার্জী, জগন্নাথ সরকার, টিকারাম মাঝি প্রমুখের নেতৃত্বে। সেই বিহার থেকে এই পার্টির বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শ্রেণি সংগ্রামের পথ ছেড়ে গরীব মানুষের ঐক্যনাশা জাতপাতের রাজনীতির সঙ্গে আপসের পথ নেওয়ায় এই নির্বাচনে শূন্য হয়ে গেছে তারা বিহারে। কমিউনিস্টদের কী চিন্তার দৈন্য! এরা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী, পি.সি যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে, জেড.এ আহমেদ, এম ফারুকীদের জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে ও শ্রেণি রাজনীতির পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কথা জানেন না।

আরও পড়ুন:

বম্বেতে ১৯৪৬ এবং ১৯৫২ সালের নির্বাচনে, বিদর্ভে ১৯৫৩ সালের নির্বাচনে আম্বেদকরের পরাজয়ের পিছনে কমিউনিস্টদের কী ভূমিকা ছিল, লোকসভা ও রাজ্যসভায় অধ্যাপক হীরেণ মুখার্জী, রেণু চক্রবর্তী, কংসারী হালদার, ভূপেশ গুপ্ত প্রমুখ কমিউনিস্ট সাংসদ, কিংবা জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে ভি.ভি গিরি, রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদরা আম্বেদকরকে তাঁর জাতপাত কেন্দ্রিক সংরক্ষণ নীতির জন্য, কিংবা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আজাদ আইনমন্ত্রী আম্বেদকরকে তাঁর ঐ রাজনীতির জন্য তাঁকে কীভাবে দেখতেন, কিংবা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক বিষয়ে আম্বেদকরের অনৈতিহাসিক মন্তব্যের জন্য (হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক আম্বেদকরের মতে সোনার পাথর বাটি) গোটা জাতীয় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি তথা দলমত নির্বিশেষে এদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা আম্বেদকরকে কোন চোখে দেখেন, সেই পাঠ তাঁদের নেই।

আরও পড়ুন:

এককথায়, মনসা মঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর মন থেকে নয়, দায়ে পড়ে বাম হাত দিয়ে মনসাকে ফুল দিয়েছিল। বিহারের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা ভালেবেসে নয়, কংগ্রেস-কমিউনিস্ট ও আরজেডি-র কীর্তিকলাপ দেখে নেতিবাচক ভোট দিয়েছে বিজেপি-নীতীশ কুমারের জোটকে। এইসব ধর্মনিরপেক্ষ বাম ও গণতান্ত্রিক মানুষরা চেয়ে আছেন জাতীয় কংগ্রেসের দিকে, যে জাতীয় কংগ্রেস গান্ধীজী থেকে শুরু করে সীমান্তগান্ধী, জহরলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ, রাধাকৃষ্ণান, জাকীর হোসেন, ভি.ভি গিরি, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখের নেতৃত্বে কিংবা কমিউনিস্টদের দিকে, যাঁরা ডাঙ্গে থেকে শুরু করে লাহিড়ী, যোশী, রাজেশ্বর রাও, সুধাকর রেড্ডি, নাম্বুদ্রিপাদ, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, চারু মজুমদার, কানু সান্যালদের নেতৃত্বে ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং শ্রেণি সংগ্রামের রাজপথে অটল থেকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার বহুত্ববাদী চরিত্রকে অক্ষুণ্ণ রাখতে অনন্য অবদান রেখেছিলেন, তাঁদের দিকে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় যে, অদূর ভবিষ্যতে এই মানুষদের মুখে হাসি ফুটবেই ফুটবে।

আরও পড়ুন:

(লেখক: কলকাতা সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder