BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস ইন্দিরা যাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, সেই মতুয়ারাই আজ বিজেপির ভক্ত

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:০৬ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:০৬

ঝুমুর রায়

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার পর পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের নাম না জানা হাজার হাজার নির্যাতিত নিম্নবর্ণ হিন্দু, বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায় ভারতে আশ্রয়ের জন্য পাড়ি জমায়। এই আশ্রয়দানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর। তিনি রাজনৈতিক মানবিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ নীতির ভিত্তিতে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হল, আজ সেই মতুয়া সমাজের একটি বড় অংশ বিজেপির শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কে পরিণত হয়েছে; এমনকি অনেক মতুয়া নেতা আজ বিজেপির প্রার্থী বা সাংসদ। প্রশ্ন জাগে, যে দল তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিল, তাঁদের সন্তানরা কেন আজ সেই দলের বিরোধী এক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছে?

আরও পড়ুন:

মতুয়া আন্দোলনের পটভূমি:

আরও পড়ুন:

মতুয়া ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুর (১৮১২–১৮৭৮) ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যা মূলত ছিল নিম্নবর্ণ হিন্দুদের আত্মমর্যাদার লড়াই। তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত চেতনায় রূপ দেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গের (পূর্ব পাকিস্তান) মতুয়ারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় তীব্র নিপীড়নের শিকার হন। তখন তাঁদের বৃহৎ অংশ ভারতে চলে আসেন। বিশেষত নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বসিরহাট, বনগাঁ, রানাঘাট প্রভৃতি অঞ্চলে।

আরও পড়ুন:

ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

১৯৬০ ও ৭০–এর দশকে মতুয়াদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। আশ্রয়শিবির, খাদ্যের অভাব, নাগরিকত্বহীনতা — সব মিলিয়ে এক ভয়ানক বাস্তবতা। এই সময়েই ইন্দিরা গান্ধীর সরকার তাঁদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। তৎকালীন নাগরিকত্ব আইন (১৯৫৫)–এর আওতায় একাধিক প্রবিধান পরিবর্তন করে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদানের পথ সহজ করেন ইন্দিরা। তাদের চাষের জমি, আবাসন, রেশন কার্ড, ভোটার আইডি ইত্যাদি সব কিছুই ধীরে ধীরে নিশ্চিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে তৎকালীন রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন স্কিম চালু হয়, যার সর্বাধিক সুবিধাভোগী ছিলেন মতুয়ারা। এই মানবিক সহানুভূতির কারণে তখন মতুয়ারা কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ঠাকুরবাড়ির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও কংগ্রেসপন্থী ছিল।

আরও পড়ুন:

২০১১ পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা:

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মতুয়া রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে।

আরও পড়ুন:

তৃণমূল সরকার মতুয়াদের ঠাকুরনগরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে, হরিচাঁদ–গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন এবং মতুয়া উৎসবগুলিতে সরকারি অনুদান চালু করেন। কিন্তু একই সময়ে বিজেপি ‘নাগরিকত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়’ইস্যুতে এই সম্প্রদায়কে নিজেদের দিকে টানতে শুরু করে।

আরও পড়ুন:

বিজেপির কৌশল, নাগরিকত্বের রাজনীতি:

আরও পড়ুন:

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁরা মতুয়া ভোটকে লক্ষ্য করে সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রচার করে। এই আইনটি মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান করবে বলে ঘোষণা দেয়। বিজেপি দাবি করে, ইন্দিরা গান্ধী আপনাদের থাকতে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা আপনাদের নাগরিকত্ব দেব। এই বাগ্মিতায় অনেক মতুয়া ভাবতে শুরু করেন, তাঁদের প্রকৃত নাগরিকত্ব কেবল বিজেপিই দিতে পারে। যদিও বাস্তবে সিএএ এখনো পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি, তবুও এই প্রতিশ্রুতি মতুয়াদের মধ্যে এক মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন:

মতুয়ারা কেন বিজেপির দিকে গেলেন?

আরও পড়ুন:

নিরাপত্তা ও পরিচয়ের রাজনীতি: সিএএ–এর মাধ্যমে বিজেপি তাদের মনে “আমরা হিন্দু, তাই আমাদের জায়গা আছে”এই বোধ তৈরি করে দেয়। ধর্মীয় পরিচয়ের এই রাজনীতি অনেক মতুয়ার মনে আত্মরক্ষার তাগিদ জাগায়।
ঠাকুরবাড়ির বিভাজন: ঠাকুরবাড়ির দুই শাখা—শান্তনু ঠাকুর ও মমতা বালা ঠাকুর রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েন। শান্তনু ঠাকুর বিজেপিতে যোগ দেন এবং এখন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফলে ঠাকুরবাড়ির একটি প্রভাবশালী অংশ বিজেপির পক্ষে সক্রিয় হয়।

আরও পড়ুন:

কংগ্রেস ও তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা: মতুয়াদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন বা তৃণমূল স্তরে ধারাবাহিক যোগাযোগের অভাব কংগ্রেস ও তৃণমূলের ক্ষতি করেছে। কিন্তু বিজেপি সেখানে সংগঠিতভাবে কাজ করেছে।
মনস্তাত্ত্বিক প্রতিদানবোধ: অনেক মতুয়া মনে করেন, তাঁরা কংগ্রেসকে অনেক দিয়েছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস তাঁদের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ছাড়া কিছুই ভাবেনি। বিজেপি অন্তত তাঁদের পরিচয় ও নাগরিকত্বের কথা বলছে।

আরও পড়ুন:

ইতিহাসের বিপরীত গতি:

আরও পড়ুন:

বাস্তবে বিজেপির মতাদর্শ এবং মতুয়া দর্শন একেবারেই ভিন্ন। মতুয়া ধর্মের মূল কথা ছিল মানবধর্ম, বর্ণবৈষম্য বিরোধিতা এবং সমতা। অথচ বিজেপির মূল মতাদর্শ মনুস্মৃতি-নির্ভর হিন্দুত্ববাদ, যা আসলে বর্ণবৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে। অতএব, আজ মতুয়ারা যে দলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, সেটিই একসময় তাঁদের মতো নিম্নবর্ণ হিন্দুদের ‘অশুদ্ধ’বলে দূরে ঠেলে রেখেছিল, এ এক ইতিহাসের নির্মম রসিকতা।

আরও পড়ুন:

ইন্দিরা গান্ধী একসময় যাদের মানবতার ভিত্তিতে আশ্রয় দিয়েছিলেন, আজ তাঁদের উত্তরসুরীরা এক ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফাঁদে পড়েছেন। কংগ্রেসের ভুল ছিল তাঁদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ না রাখা, আর বিজেপির সাফল্য হল পরিচয়ের রাজনীতিকে আবেগে রূপান্তরিত করা।
কিন্তু মতুয়া সমাজ যদি নিজেদের ইতিহাস মনে রাখে, তবে তারা বুঝবে, তাদের অস্তিত্বের ভিত্তি কোনো দলীয় ধর্মনীতি নয়, বরং মানবিক সহাবস্থান ও সমতার আদর্শ। যে আদর্শের সূচনা হয়েছিল হরিচাঁদ ঠাকুরের কণ্ঠে — “সব মানুষ এক, কেউ বড় কেউ ছোট নয়।”

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder