BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

ইএমআই-এর করাল গ্রাস

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১

আবীর হাসান মণ্ডল

আরও পড়ুন:

একবিংশ শতকে মানুষ এমন এক দৌড়ে শামিল হয়েছে, যেখানে থামার অবকাশ নেই। বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, টেলিভিশন কিংবা মোবাইল স্ক্রিন – সবখানেই একটাই স্লোগান শোনা যায় ‘এখনই কিনুন, পরে শোধ করুন’। সহজলভ্য ইএমআই (Equated Monthly Installment) ও সুদের ফাঁদে পড়ে মানুষ ভাবছে, তারা যেন স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছে। মোবাইল, গাড়ি, ফ্রিজ, এমনকি শখের জিনিসও মাসে মাসিক কিস্তিতে কেনা যাচ্ছে, এটাই আধুনিক জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা, ইএমআই ও সুদ আসলে ধীরে ধীরে ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করছে, সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়াচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলছে। ধরুন একজন মধ্যবিত্ত কর্মচারী একটি নতুন স্মার্টফোন কিনতে চান। নগদে কিনতে গেলে লাগবে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ইএমআই-এর সুবিধা নিয়ে মাসে মাত্র ২,৫০০ টাকা কিস্তিতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে ব্যাপারটা সহজ মনে হলেও, বাস্তবে যখন পুরো টাকা গোনা হয়, তখন দেখা যায় তাকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা গেল শুধুই সুদের কারণে। এভাবে একটি ছোট মোবাইল ফোনের জন্যই ক্রেতা ২০ শতাংশ বেশি মূল্য দিলেন। কিন্তু তিনি যখন মোবাইলের মালিকানা পাবেন, তখন সেই মোবাইলের মূল্য বাজারে থাকবে হয়ত ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ শুধু নিজের সখ মেটানোর জন্য তার ক্ষতি হল প্রায় ১৬ হাজার টাকা। বড় জিনিস যেমন- গাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই বাড়তি টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় লাখ থেকে কোটি টাকায়। মানুষ ভাবে, সে মালিক হয়েছে, অথচ প্রকৃত মালিকানা থাকে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির হাতে। যতদিন না সব কিস্তি শোধ হচ্ছে, ততদিন জিনিসটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে।

আরও পড়ুন:

দিনের পর দিন এই প্রবণতা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে, তা সরকারি তথ্যই প্রমাণ করে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এনএসও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতের প্রায় ৪৮ শতাংশ শহুরে পরিবার কোন না কোন ঋণের বোঝা বইছে। রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতীয় পরিবারের গড় ঋণ-আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ একজন মানুষ যে টাকা আয় করছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চলে যাচ্ছে ঋণ শোধে। এর মধ্যে ইএমআই ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশন (এনএসএসও)-এর অন্য এক সমীক্ষা বলছে, গ্রামীণ পরিবারগুলির প্রায় ৪২ শতাংশ ঋণের মধ্যে ডুবে আছে, আর শহরে এই হার ৪৭ শতাংশ। সুদ ও ইএমআই ব্যবস্থা সমাজে ধনী-গরীব বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ধনী মানুষ যখন ঋণ নেয়, তখন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকে, কম সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি সময়সীমা, কর ছাড়। অন্যদিকে গরীব মানুষকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, একটু দেরি হলে জরিমানা দিতে হয়। এতে ধনী মানুষ আরও সুযোগ সুবিধা পায়, আর গরীব মানুষ আরও ফেঁসে যায়। ২০১৯ সালে রিজার্ভ ব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষেরা গড়ে ২২ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়, যেখানে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য হার নেমে আসে ১০-১২ শতাংশে। ধরুন একটা মানুষের আয় ১০ হাজার টাকা। সংসারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তার ব্যয় হতে হবে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সুদ কিংবা ইএমআই ব্যবস্থা তাকে বাড়তি চাকচিক্য আর সহজলভ্যতার লোভ দেখিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করাতে বাধ্য করছে। সব সময় মাথায় ঋণের বোঝা চেপে থাকায় উদ্ভাবনী শক্তি কমে যাচ্ছে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় Debt trap বা ঋণের ফাঁদ। একবার কেউ এই ফাঁদে পড়লে বের হওয়া খুব কঠিন।
ইএমআই শোধ করতে করতে তাদের হাতে সঞ্চয় বা নতুন করে বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে না, জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা বা শিক্ষার খরচ মেটাতেও তারা হিমশিম খায়। মানসিক চাপ বাড়ে, দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়, সন্তানদের শিক্ষা ও বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে ঋণের চাপে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর গড়ে ৮ হাজারেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেন, যার অন্যতম কারণ হল ঋণ ও সুদের বোঝা। এই ঋণভিত্তিক ভোগবাদ বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে। মানুষ নগদের সীমার বাইরে গিয়ে জিনিস কিনছে, উৎপাদকরা সেই অনুযায়ী বাড়াচ্ছে উৎপাদন, ব্যাংক দিচ্ছে আরও বেশি ঋণ। এতে অর্থনীতির ভিত মজবুত না হয়ে বরং দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা ভারতেও তৈরি হতে পারে, যদি নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ সংস্কৃতি অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুন:

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ ছিল ঋণ ও সুদের ভারে সাধারণ মানুষের পিষ্ট হয়ে যাওয়া। মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চ সুদকে পাপ ঘোষণা করেছিল। ইসলামী সভ্যতায় দীর্ঘ সময় ধরে সুদ-মুক্ত অর্থনীতি চালু ছিল এবং সেটি তখনকার সমাজে ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা এনেছিল।
মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, সুদ মানুষের ঘাম ঝরানো শ্রমকে ধ্বংস করে দেয়। এটি অন্যায়ের এক প্রকার বৈধ রূপ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিঠিতে ঋণের দাসত্ব নিয়ে লিখেছিলেন, ঋণ মানুষকে বেঁধে রাখে, সে তার স্বাধীনতা হরণ করে। আম্বেদকরও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হল অসমতা, আর ঋণ, আর সুদের বোঝা এই অসমতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আজ যখন আমরা চারপাশে তাকাই, দেখি ঋণ ও ইএমআই-এর সংস্কৃতি যেন এক মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্ম চাকরি পাওয়ার আগেই ক্রেডিট কার্ডের বিলের নিচে চাপা পড়ছে। নতুন ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার কিস্তির টাকা শোধ করতে করতে সারাজীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। গাড়ি কেনার আনন্দ শুরু হয়, কিন্তু শোধ না হওয়া পর্যন্ত সেই গাড়ির প্রকৃত মালিকানা থাকে না। বাজারে নতুন জিনিস এলে পুরনো জিনিসের দাম কমে যায়, আর তখন বোঝা যায় সুদের চক্রে কতটা ক্ষতি হয়ে গেছে। অতএব, স্পষ্ট যে, ইএমআই ও সুদী ব্যবস্থা আসলে আধুনিক দাসত্বের অদৃশ্য শৃঙ্খল। মানুষ ভাবে সে স্বাধীন, অথচ বাস্তবে সে মাসে মাসে এক অদৃশ্য ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। ইতিহাস, সরকারি পরিসংখ্যান সবই একসাথে প্রমাণ করছে, সুদনির্ভর অর্থনীতি ব্যক্তি ও সমাজ দু’য়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। এখন সময় এসেছে ঋণনির্ভর ভোগবাদ থেকে সরে এসে পরিশ্রম, সঞ্চয় ও সৎ আয়ের উপর ভিত্তি করে জীবনকে সাজানোর। ভারতীয় সমাজ যদি সত্যিই টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, তবে সুদ-মুক্ত বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমবায়ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা হতে পারে এর একটি টেকসই বিকল্প। ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder