BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

সিনেমা সমাজের আয়না, নাকি বিনোদনের বাজার?

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২

বিশ্বজিৎ বৈদ্য

আরও পড়ুন:

বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে শিল্পের প্রতিটি রূপই সমাজকে বোঝার এক বিশেষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, সংগীত কিংবা সাহিত্য — সবই এক অর্থে সময়ের মানসিকতা, বিশ্বাস ও দ্বন্দ্বকে ধারণ করে। বিংশ শতাব্দীর সূচনায় আবির্ভূত সিনেমা বা চলচ্চিত্রও সেই একই ধারার উত্তরসূরি, তবে একে আধুনিকতার পরম প্রতীক বলা চলে। কারণ, সাহিত্য বা চিত্রকলার তুলনায় সিনেমা অনেক দ্রুত ও বহুমাত্রিক উপায়ে বৃহত্তর জনমানসে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। জন্মলগ্ন থেকেই সিনেমাকে ঘিরে একটি দ্বন্দ্ব প্রবল হয়ে উঠেছে — এটি কি কেবলই বিনোদনের এক মোহময় দুনিয়া, নাকি সমাজের অন্তর্লীন স্রোতকে প্রতিফলিত করার আয়না? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সিনেমার ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে সমান্তরালে দৃষ্টি দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

চলচ্চিত্রের জন্ম ১৮৯৫ সালে, যখন লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ফ্রান্সে তাঁদের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। শুরুর সেই সময় সিনেমা ছিল নিছক চমকপ্রদ দৃশ্যাবলী প্রদর্শনের একটি প্রযুক্তি, যেখানে ট্রেনের আগমন বা কারখানার শ্রমিকদের বেরোনোই ছিল দর্শকের বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু অচিরেই চলচ্চিত্রকারেরা উপলব্ধি করেন, ক্যামেরার এই যন্ত্র কেবল চিত্রধারণে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতার দলিল রচনাতেও সক্ষম। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সিনেমা হয়ে ওঠে গল্প বলার, বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এবং সমাজের অন্তর্লীন অস্থিরতাকে প্রকাশ করার এক অন্যতম মাধ্যম।

আরও পড়ুন:

ভারতে সিনেমার আগমন ১৯১৩ সালে দাদাসাহেব ফালকের রাজা হরিশচন্দ্র চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তখনকার দিনে ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপট ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি ও জাতীয়তাবাদের উত্থানের সংমিশ্রণে পূর্ণ। ফলে সিনেমাও ক্রমশ জাতীয় চেতনার এক বাহন হয়ে উঠতে শুরু করে। ফালকের পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র দর্শককে কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং একদিকে ঐতিহ্যের প্রতি আস্থা জাগিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আত্মপরিচয়ের বোধকে উসকে দিয়েছে। এই ধারা পরবর্তী কালে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন প্রমথেশ বড়ুয়া, হিমাংশু রায়, ঋত্বিক ঘটক কিংবা সত্যজিৎ রায় তাঁদের সিনেমার মাধ্যমে সমকালীন সমাজের সংকটকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।

আরও পড়ুন:

আসলে সিনেমাকে সমাজের আয়না বলার প্রমাণ খুঁজতে গেলে আমাদের দেখতে হবে কিভাবে চলচ্চিত্র সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বকে আত্মস্থ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৫০–৬০-এর দশকে ভারতীয় সমাজ ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, বিভাজনের যন্ত্রণা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বন্দ্বে ভরপুর। এই সময়ের সিনেমা যেমন রাজ কাপুরের আওয়ারা বা শ্রী ৪২০—শহুরে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। অন্যদিকে সত্যজিৎ রায়ের অপু ত্রয়ী (পথের পাঁচালি, অপরাজিত, অপুর সংসার) গ্রামীণ দারিদ্র্য, স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘাতকে অসামান্য সংবেদনশীলতায় পর্দায় রূপ দিয়েছে। এইসব সিনেমা প্রমাণ করে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং সমাজতাত্ত্বিক দলিল হিসেবেও কাজ করে।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়—সিনেমা কি সর্বদা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেছে? নাকি বাজারের চাপ, দর্শকের রুচি ও বিনোদনের চাহিদা তাকে এক ‘পণ্য’তে পরিণত করেছে? বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বিশেষত বলিউড বা হলিউডে সিনেমা হয়ে ওঠে এক বিশাল শিল্প, যেখানে প্রযোজনা সংস্থা, তারকা সংস্কৃতি ও বিপুল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রধান চালিকাশক্তি। এই প্রেক্ষাপটে বহু চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রধান লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন। ফলে বিষয়বস্তু নির্বাচনে সমাজের সমস্যার পরিবর্তে অগ্রাধিকার পায় রোমান্স, অ্যাকশন, কমেডি বা কল্পনার জগৎ। দর্শককে অস্থায়ী স্বস্তি প্রদান করাই হয়ে ওঠে উদ্দেশ্য। এই বাজারকেন্দ্রিক মানসিকতা সিনেমাকে প্রায়শই বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই সিনেমার দ্বৈত চরিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে এটি নিছক বিনোদনের বাজার, অন্যদিকে সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। উদাহরণস্বরূপ, হলিউডের চলচ্চিত্র মডার্ন টাইমস (চার্লি চ্যাপলিন) শিল্পায়নের যুগে শ্রমিকের যন্ত্রনির্ভর জীবনের কাহিনী শোনায়, যা ছিল স্পষ্ট সামাজিক সমালোচনা। আবার একই সঙ্গে হলিউডই তৈরি করেছে অ্যাভেঞ্জারস বা স্পাইডার-ম্যান সিরিজের মতো চলচ্চিত্র, যেখানে মূলত ফ্যান্টাসি ও বাজারজাতকরণই মুখ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও আমরা একদিকে পাই ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা বা মৃণাল সেনের ভুবন সোম — যেখানে সমাজের বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হয়, অন্যদিকে সমসাময়িক বলিউডে পাই আইটেম গান, অতিরঞ্জিত অ্যাকশন দৃশ্য আর পণ্যায়িত নায়কতন্ত্র।

আরও পড়ুন:

এখন প্রশ্ন আসে, গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমাকে কোন খোপে ফেলা যায়? সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব বলছে, সিনেমা হলো ‘কালচারাল টেক্সট’ — যেখানে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, দ্বন্দ্ব, লিঙ্গবিন্যাস, শ্রেণি বৈষম্য ও রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিফলিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭০-এর দশকের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর ভূমিকায় অমিতাভ বচ্চন আসলে ভারতীয় সমাজে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুবকের ক্ষোভকে প্রকাশ করেছিলেন। একইভাবে দক্ষিণ ভারতের সিনেমায় ভক্তিমূলক ধারার প্রাবল্য স্থানীয় সামাজিক-ধর্মীয় কাঠামোকে প্রতিফলিত করে। আবার নারীবাদী সিনেমা যেমন দীপা মেহতার ফায়ার বা ওয়াটার ভারতীয় সমাজে নারীর অধিকার ও যৌনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

আরও পড়ুন:

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমা নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী শিল্প। ফিকি (FICCI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে আরও দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা। এই বিপুল অর্থনৈতিক কাঠামো সিনেমাকে কেবল সমাজচিত্রের দলিল হতে দেয় না, বরং তাকে ভোগ্যপণ্য বানিয়ে ফেলে। একদিকে যেমন স্বাধীন চলচ্চিত্রকারেরা সীমিত বাজেটে বাস্তব সমস্যার সিনেমা নির্মাণ করছেন, অন্যদিকে বড় প্রযোজনা সংস্থা বাজারমুখী ‘মসালা’ ছবিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ফলে সিনেমার ভেতরে সমাজের প্রতিফলন ও বিনোদনের বাজার—দুটি প্রবণতাই পাশাপাশি বিদ্যমান।

আরও পড়ুন:

ডিজিটাল যুগে এসে সিনেমার চরিত্র আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যেমন নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম বা হটস্টার দর্শকের সামনে নতুন ধারা খুলে দিয়েছে। এখানে যেমন সমাজমুখী কনটেন্ট (দ্য কাশ্মীর ফাইলস, আর্টিকেল ১৫, পঞ্চায়েত) তৈরি হচ্ছে, তেমনই বাজারকেন্দ্রিক ওয়েব সিরিজও আসছে যেখানে চটকদার কাহিনী, সহিংসতা ও যৌনতার প্রদর্শনই প্রধান। ফলে প্রশ্ন জটিলতর হয়েছে — সিনেমা আসলে সমাজের আয়না নাকি কেবল বিনোদনের বাজার?

আরও পড়ুন:

এই দ্বন্দ্বের সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের হয়তো স্বীকার করতে হবে যে সিনেমা একযোগে দুটো ভূমিকা পালন করে। এটি কখনো আয়না, যেখানে সমাজের সুখ-দুঃখ, বৈষম্য, সংগ্রাম ও স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়। আবার কখনো এটি এক বিশাল বাজার, যেখানে দর্শকের আবেগকে পুঁজি করে মুনাফা অর্জনই মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই সিনেমার আসল শক্তি নিহিত। কারণ একে কেবল সমাজের আয়না বললে বিনোদনের প্রভাবকে অস্বীকার করা হবে, আর কেবল বাজার বললে সামাজিক প্রতিফলনের শক্তিকে খাটো করা হবে।

আরও পড়ুন:

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনেমার বাজারমুখী চরিত্রকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ বিনোদনের মাধ্যম দিয়েই অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। যেমন আমির খানের ‘তারে জমিন পার’ সিনেমাটি ছিল বাণিজ্যিক সাফল্য, কিন্তু একইসঙ্গে এটি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও ডিসলেক্সিয়া আক্রান্ত শিশুদের সমস্যা নিয়ে সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবার ‘পিঙ্ক’ বা ‘কাহানির’ মতো ছবিও বিনোদনের পাশাপাশি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোড়ন তুলেছিল। সুতরাং সিনেমার বাজারকেন্দ্রিক দিকও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।

আরও পড়ুন:

অবশেষে বলা যায়, সিনেমাকে একমাত্রিকভাবে বিচার করা যায় না। এটি একদিকে প্রযুক্তির বিস্ময়, অন্যদিকে শিল্পের পরম রূপ। এর ভেতরেই জড়িয়ে আছে সমাজের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সিনেমা যেমন আমাদের হাসায়, কাঁদায়, স্বপ্ন দেখায়, তেমনি প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ গড়ে তোলে, ন্যায়ের দাবি জানায়। তাই সিনেমা কখনো নিছক বিনোদনের বাজার, আবার কখনো সমাজের নির্লজ্জ আয়না। এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই সিনেমার প্রকৃত শক্তি নিহিত।

আরও পড়ুন:

(লেখক: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder