BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

অনুপ্রবেশ যখন হাতিয়ার

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:০৬ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:০৬

মুহাম্মাদ আবদুল মোমেন

আরও পড়ুন:

উইপোকা ভারতবর্ষকে বিনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপ্রবেশ তত্ত্বের এই ক্রোনোলজি থেকেই প্রশ্ন করতে হয়, অনুপ্রবেশ ঘটলে তার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের এবং বিশেষত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। সুতরাং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ অমিত শাহ। ভারতবর্ষের মতো বৃহত্তর শক্তিশালী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় দেশটাকে উইপোকায় কুরে কুরে খোকলা করে দিচ্ছে! অথচ তার ভাষ্যে, ভারতবর্ষ লঙ্গরখানা নয়, আবার ধরমশালাও নয়। তাই অনুপ্রবেশকারী মুসলমানরা এখানে এসে বসবাস করবে কেন?

আরও পড়ুন:

মোদী-শাহরা দেশকে ধরমশালা হতে দেবেন না। তবে কি আইন করে আশ্রম বানাবেন? কারণ, মুসলমান ছাড়া অন্য সকলকে নাগরিকত্ব দিতেই তো তৈরি হয়েছে সিএএ আইন। সুতরাং অন্যদের নাগরিকত্ব বা আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে দরাজ বা উদার, কিন্তু মুসলিম প্রসঙ্গে এলেই ধরমশালা বা লঙ্গরখানার কথা উঠবে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রণয়ন ও কৌশলে তা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বিহার থেকে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা, তারপরও কমিশনের এই প্রক্রিয়াকে সরকারি কর্মসূচি বলতে দ্বিধা করছেন না বিরোধীরা। কারণ, কমিশন সরকারের ভাষা ও ইচ্ছায় কথা বলছে এবং কাজ করে যাচ্ছে। কমিশন যার দ্বারা (নরেন্দ্র মোদী) নিয়োজিত তার প্রতিই দায়বদ্ধতা দেখাচ্ছে। অর্থাৎ কমিশন বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। তাই বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির বি-টিম বলে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন:

নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম থেকে চলন বলন সবেতেই শাসকদলের অনুকরণ। দেশের বিরোধী দলের প্রতি কমিশনের আচরণ শাসকদলের নেতার ন্যায়। শাসকদল যা বলছে, কমিশন তাই করছে। আবার কমিশন যেটাই করছে, বিজেপি সেটাকেই উদ্বাহু সমর্থন করছে। বিজেপি আরএসএস-এর দীর্ঘকালের অভিযোগ হল, দেশে লাগামছাড়া ও অনিয়ন্ত্রিত হারে মুসলিম জনসংখ্যা নাকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংঘীরা বহুকাল ধরে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, মুসলিমরা সচেতনভাবে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে। উদ্দেশ্য, এখানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে হিন্দুদের দেশান্তরিত অথবা ধর্মান্তরিত করা। তাই একাধিক বিবাহ এবং গণ্ডা গণ্ডা বাচ্চা পয়দার পরিকল্পনা নিয়ে চলেছে মুসলিমরা।

আরও পড়ুন:

এছাড়াও রয়েছে লাভ জিহাদ, ব্লাড জিহাদ, অনুপ্রবেশ ইত্যাদি। গত মাসে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে অনুপ্রবেশ শব্দ ফের নতুন করে ধ্বনিত হয়েছে। যদিও এই বক্তব্যের দ্বারা নিজেকেই কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। কারণ, অনুপ্রবেশ রোখার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। সুতরাং অনুপ্রবেশ হলে তার দায় মোদি-শাহদেরই। কিন্তু তারা সরকারের ব্যর্থতাকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে ভোট ভিক্ষায় অভ্যস্ত।

আরও পড়ুন:

জনগণের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা ঢাকতে সুচতুরভাবে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত ও দিকভ্রান্ত করাই ওদের সহজাত প্রবৃত্তি। এ বিষয়ে এখন আলোচনার অর্থ হল আচ্ছে দিন নিয়ে চায়ে পে চর্চা করা। এসআইআর-এর পক্ষে সাফাই দিতে বস্তাপচা সেই মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধি ও তার নেপথ্য রহস্য অনুপ্রবেশের তত্ত্ব আমদানি করা ছাড়া গতি নেই। দিল্লির সুরে তাল মিলিয়ে এ রাজ্যের কিছু লোক বলছে, বাংলায় দু’কোটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী মুসলিম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এই যে নির্লজ্জ মিথ্যা কথন বা ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো সাধারণ নাগরিক কীভাবে নিচ্ছেন, তা কি মহামান্যরা একবারও ভেবেছেন? বাংলার বীরপুঙ্গবরা সজ্ঞানেই এসব মিথ্যাচার করছেন। কারণ, তারা ভাল করেই জানে, বাংলায় অনুপ্রবেশকারী (মুসলিম) নেই বললেই চলে। তার প্রমাণ পেতে সেন্সাসের শরণাপন্ন হতে হয়।

আরও পড়ুন:

সেন্সাস রিপোর্ট বলছে, বিগত চার দশকে বাংলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় বৃদ্ধির তুলনায় যথেষ্ট কম। ১৯৮১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক জনসংখ্যা ও ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার হার — ১৯৯১: ২৪.৭%, ২০০১: ১৭.৮%, ২০১১: ১৩.৮%। তুলনামূলক বিগত তিনটি সেন্সাসে সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে। ধর্ম ভিত্তিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ও হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ২১.১%, ২০০১: ১৪. ২%, ২০১১: ১০.৮%। দেখা গেল গত তিনটে শুমারিতে হিন্দু সংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে।

আরও পড়ুন:

এবার দেখা যাক মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ৩৬. ৯%, ২০০১: ২৫.৯%,
২০১১: ২১.৮%। দেখা যাচ্ছে মুসলিমদের সংখ্যাও স্বাভাবিক নিয়মে কমছে। পশ্চিম বাংলার সাথে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুল্যমূল্য বিচারে দেখা যাচ্ছে, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ২২.৭%, ২০০১: ১৯.৯%, ২০১১: ১৬.৮%। সারা দেশে মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ৩২.৯%, ২০০১: ২৯. ৫%, ২০১১: ২২.৬%। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও বাংলার মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের থেকে কম।

আরও পড়ুন:

সংঘী ও তাদের পোষ্য গদি মিডিয়া যতই অপপ্রচার চালাক, আসল ঘটনা হল, বিগত তিন দশক ধরে দেশের সার্বিক জনসংখ্যা এবং তার সাথে সঙ্গতি রেখে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নগামী। বাংলায় হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের থেকে কম। অথচ নিরন্তর বলা হচ্ছে, দু’কোটি বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী নাকি অবৈধভাবে এই বাংলায় রয়েছে এবং তারাই রাজ্য তথা দেশের অর্থনীতির অধোগতির জন্য দায়ী। এদের জন্যই বেকারত্ব বেড়েছে, কর্মসংস্থানে এরাই থাবা বসিয়েছে! প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এরাজ্যে সাকুল্যে মুসলমানের সংখ্যা আড়াই কোটি। তার মধ্যে দু-কোটি বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা হলে এদেশীয় বা পশ্চিমবঙ্গীয় মুসলিম মাত্র ৫০ লক্ষ? ভুলে গেলে চলবে না, অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম ছিল ৫৭ শতাংশ। তাহলে তারা কোন গ্রহে চলে গেল!

আরও পড়ুন:

এপার বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের মরুদ্যান হলে আদমশুমারীর সংখ্যাতত্ত্বে তার ছাপ নেই কেন? তাহলে কীভাবে আপনারা ‘চুন চুন কর ঘুসপেটিয়োঁ কো দেশ সে বাহার নিকালেঙ্গে’? এমন আগমার্কা মন্তব্য করে হাততালি কুড়োলেও প্রশ্ন এখানেই। ২০১১-র পূর্বের সেন্সাস রিপোর্ট থেকে ঘুসপেটিয়া বাছাই তো সহজতর হবে। করোনার অজুহাতে ২০২১ সালে সেন্সাস না করার উদ্দেশ্য কি ঘুসপেটিয়া খেলার জন্য? সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ তো কেন্দ্রের অধীন। তাহলে পরোক্ষে সীমান্ত রক্ষার ব্যর্থতাকে আলোকিত করলেন মোদি-শাহরা! বাংলায় দু’কোটি অনুপ্রবেশের ভাঁওতা দিয়ে ভোট ভিক্ষা করতে এলে প্রশ্নের মুখে তো পড়তেই হবে যে, বিগত এগারো বছর দেশের প্রহরীদের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে এত অনুপ্রবেশ ঘটল? চৌকিদার তাহলে কী করছেন? ২০১৪ সালে কেন্দ্রে সরকার গড়ার আগে তো মোদি বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত পেরিয়ে একটা ইঁদুরও গলতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন:

(লেখক সাতুলিয়া মাদ্রাসার ধর্মতত্ত্ব বিষয়ের শিক্ষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder