BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

অনুপ্রবেশ যখন হাতিয়ার

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:০৬ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:০৬

মুহাম্মাদ আবদুল মোমেন

আরও পড়ুন:

উইপোকা ভারতবর্ষকে বিনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপ্রবেশ তত্ত্বের এই ক্রোনোলজি থেকেই প্রশ্ন করতে হয়, অনুপ্রবেশ ঘটলে তার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের এবং বিশেষত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। সুতরাং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ অমিত শাহ। ভারতবর্ষের মতো বৃহত্তর শক্তিশালী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় দেশটাকে উইপোকায় কুরে কুরে খোকলা করে দিচ্ছে! অথচ তার ভাষ্যে, ভারতবর্ষ লঙ্গরখানা নয়, আবার ধরমশালাও নয়। তাই অনুপ্রবেশকারী মুসলমানরা এখানে এসে বসবাস করবে কেন?

আরও পড়ুন:

মোদী-শাহরা দেশকে ধরমশালা হতে দেবেন না। তবে কি আইন করে আশ্রম বানাবেন? কারণ, মুসলমান ছাড়া অন্য সকলকে নাগরিকত্ব দিতেই তো তৈরি হয়েছে সিএএ আইন। সুতরাং অন্যদের নাগরিকত্ব বা আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে দরাজ বা উদার, কিন্তু মুসলিম প্রসঙ্গে এলেই ধরমশালা বা লঙ্গরখানার কথা উঠবে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রণয়ন ও কৌশলে তা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি বিহার থেকে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা, তারপরও কমিশনের এই প্রক্রিয়াকে সরকারি কর্মসূচি বলতে দ্বিধা করছেন না বিরোধীরা। কারণ, কমিশন সরকারের ভাষা ও ইচ্ছায় কথা বলছে এবং কাজ করে যাচ্ছে। কমিশন যার দ্বারা (নরেন্দ্র মোদী) নিয়োজিত তার প্রতিই দায়বদ্ধতা দেখাচ্ছে। অর্থাৎ কমিশন বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। তাই বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির বি-টিম বলে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন:

নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম থেকে চলন বলন সবেতেই শাসকদলের অনুকরণ। দেশের বিরোধী দলের প্রতি কমিশনের আচরণ শাসকদলের নেতার ন্যায়। শাসকদল যা বলছে, কমিশন তাই করছে। আবার কমিশন যেটাই করছে, বিজেপি সেটাকেই উদ্বাহু সমর্থন করছে। বিজেপি আরএসএস-এর দীর্ঘকালের অভিযোগ হল, দেশে লাগামছাড়া ও অনিয়ন্ত্রিত হারে মুসলিম জনসংখ্যা নাকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংঘীরা বহুকাল ধরে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, মুসলিমরা সচেতনভাবে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে। উদ্দেশ্য, এখানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে হিন্দুদের দেশান্তরিত অথবা ধর্মান্তরিত করা। তাই একাধিক বিবাহ এবং গণ্ডা গণ্ডা বাচ্চা পয়দার পরিকল্পনা নিয়ে চলেছে মুসলিমরা।

আরও পড়ুন:

এছাড়াও রয়েছে লাভ জিহাদ, ব্লাড জিহাদ, অনুপ্রবেশ ইত্যাদি। গত মাসে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে অনুপ্রবেশ শব্দ ফের নতুন করে ধ্বনিত হয়েছে। যদিও এই বক্তব্যের দ্বারা নিজেকেই কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। কারণ, অনুপ্রবেশ রোখার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। সুতরাং অনুপ্রবেশ হলে তার দায় মোদি-শাহদেরই। কিন্তু তারা সরকারের ব্যর্থতাকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে ভোট ভিক্ষায় অভ্যস্ত।

আরও পড়ুন:

জনগণের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা ঢাকতে সুচতুরভাবে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত ও দিকভ্রান্ত করাই ওদের সহজাত প্রবৃত্তি। এ বিষয়ে এখন আলোচনার অর্থ হল আচ্ছে দিন নিয়ে চায়ে পে চর্চা করা। এসআইআর-এর পক্ষে সাফাই দিতে বস্তাপচা সেই মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধি ও তার নেপথ্য রহস্য অনুপ্রবেশের তত্ত্ব আমদানি করা ছাড়া গতি নেই। দিল্লির সুরে তাল মিলিয়ে এ রাজ্যের কিছু লোক বলছে, বাংলায় দু’কোটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী মুসলিম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এই যে নির্লজ্জ মিথ্যা কথন বা ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো সাধারণ নাগরিক কীভাবে নিচ্ছেন, তা কি মহামান্যরা একবারও ভেবেছেন? বাংলার বীরপুঙ্গবরা সজ্ঞানেই এসব মিথ্যাচার করছেন। কারণ, তারা ভাল করেই জানে, বাংলায় অনুপ্রবেশকারী (মুসলিম) নেই বললেই চলে। তার প্রমাণ পেতে সেন্সাসের শরণাপন্ন হতে হয়।

আরও পড়ুন:

সেন্সাস রিপোর্ট বলছে, বিগত চার দশকে বাংলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় বৃদ্ধির তুলনায় যথেষ্ট কম। ১৯৮১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক জনসংখ্যা ও ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার হার — ১৯৯১: ২৪.৭%, ২০০১: ১৭.৮%, ২০১১: ১৩.৮%। তুলনামূলক বিগত তিনটি সেন্সাসে সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে। ধর্ম ভিত্তিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ও হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ২১.১%, ২০০১: ১৪. ২%, ২০১১: ১০.৮%। দেখা গেল গত তিনটে শুমারিতে হিন্দু সংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে।

আরও পড়ুন:

এবার দেখা যাক মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ৩৬. ৯%, ২০০১: ২৫.৯%,
২০১১: ২১.৮%। দেখা যাচ্ছে মুসলিমদের সংখ্যাও স্বাভাবিক নিয়মে কমছে। পশ্চিম বাংলার সাথে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুল্যমূল্য বিচারে দেখা যাচ্ছে, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ২২.৭%, ২০০১: ১৯.৯%, ২০১১: ১৬.৮%। সারা দেশে মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার — ১৯৯১: ৩২.৯%, ২০০১: ২৯. ৫%, ২০১১: ২২.৬%। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও বাংলার মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের থেকে কম।

আরও পড়ুন:

সংঘী ও তাদের পোষ্য গদি মিডিয়া যতই অপপ্রচার চালাক, আসল ঘটনা হল, বিগত তিন দশক ধরে দেশের সার্বিক জনসংখ্যা এবং তার সাথে সঙ্গতি রেখে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নগামী। বাংলায় হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের থেকে কম। অথচ নিরন্তর বলা হচ্ছে, দু’কোটি বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী নাকি অবৈধভাবে এই বাংলায় রয়েছে এবং তারাই রাজ্য তথা দেশের অর্থনীতির অধোগতির জন্য দায়ী। এদের জন্যই বেকারত্ব বেড়েছে, কর্মসংস্থানে এরাই থাবা বসিয়েছে! প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এরাজ্যে সাকুল্যে মুসলমানের সংখ্যা আড়াই কোটি। তার মধ্যে দু-কোটি বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা হলে এদেশীয় বা পশ্চিমবঙ্গীয় মুসলিম মাত্র ৫০ লক্ষ? ভুলে গেলে চলবে না, অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম ছিল ৫৭ শতাংশ। তাহলে তারা কোন গ্রহে চলে গেল!

আরও পড়ুন:

এপার বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের মরুদ্যান হলে আদমশুমারীর সংখ্যাতত্ত্বে তার ছাপ নেই কেন? তাহলে কীভাবে আপনারা ‘চুন চুন কর ঘুসপেটিয়োঁ কো দেশ সে বাহার নিকালেঙ্গে’? এমন আগমার্কা মন্তব্য করে হাততালি কুড়োলেও প্রশ্ন এখানেই। ২০১১-র পূর্বের সেন্সাস রিপোর্ট থেকে ঘুসপেটিয়া বাছাই তো সহজতর হবে। করোনার অজুহাতে ২০২১ সালে সেন্সাস না করার উদ্দেশ্য কি ঘুসপেটিয়া খেলার জন্য? সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ তো কেন্দ্রের অধীন। তাহলে পরোক্ষে সীমান্ত রক্ষার ব্যর্থতাকে আলোকিত করলেন মোদি-শাহরা! বাংলায় দু’কোটি অনুপ্রবেশের ভাঁওতা দিয়ে ভোট ভিক্ষা করতে এলে প্রশ্নের মুখে তো পড়তেই হবে যে, বিগত এগারো বছর দেশের প্রহরীদের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে এত অনুপ্রবেশ ঘটল? চৌকিদার তাহলে কী করছেন? ২০১৪ সালে কেন্দ্রে সরকার গড়ার আগে তো মোদি বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত পেরিয়ে একটা ইঁদুরও গলতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন:

(লেখক সাতুলিয়া মাদ্রাসার ধর্মতত্ত্ব বিষয়ের শিক্ষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder