BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

জ্যোতি বসু: কিছু অজানা কথা (৮ জুলাই ১৯১৪–১৭ জানুয়ারি ২০১০)

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:১৫ | আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:২২
জ্যোতি বসু আর তাঁর ঠিক আগে যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল তীব্র। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ছিল বেশ সখ্যতা। সেই নৈকট্য শব্দে বর্ণনা করা কঠিন। সেই সময়ে জ্যোতি বসু ছিলেন বিধানসভার এক সাধারণ সদস্য। বেতন পেতেন মাসে ২৫০ টাকা। সেটারও বেশিরভাগ তিনি পার্টির কাজে দিয়ে দিতেন।
জ্যোতি বসু: (৮ জুলাই ১৯১৪--১৭ জানুয়ারি ২০১০)

রেহান ফজল:জ্যোতি বসু আর তাঁর ঠিক আগে যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল তীব্র। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ছিল বেশ সখ্যতা। সেই নৈকট্য শব্দে বর্ণনা করা কঠিন। সেই সময়ে জ্যোতি বসু ছিলেন বিধানসভার এক সাধারণ সদস্য। বেতন পেতেন মাসে ২৫০ টাকা। সেটারও বেশিরভাগ তিনি পার্টির কাজে দিয়ে দিতেন।

আরও পড়ুন:

সিদ্ধার্থশঙ্কর যখন জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, তখন মাঝে মাঝেই উঁকি মেরে আসতেন তাঁর রান্নাঘরের দিকে। সেদিন কী রান্না হয়েছে, সেটা এক নজরে দেখে নিতেন।
একেবারেই সাধারণ রান্নাবান্না হত — ডাল, ভাত আর বেগুন ভাজা। পরে, যখন জ্যোতি বসু বিরোধী দলনেতা হলেন, তখন অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছিল। তাঁর বেতন বেড়ে হয়েছিল মাসে ৭৫০ টাকা। সেই সময় জ্যোতি বসুর স্ত্রী কমলা বসু মাঝে মাঝেই সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের কাছে অনুযোগ করতেন যে, তিনি যেন তাঁর বন্ধুকে একটু বোঝান, সংসারটা কীভাবে চলছে!
সেই সময়েও মাসিক বেতনের প্রায় পুরো অংশটাই পার্টিকে দিয়ে দিতেন জ্যোতি বসু। মিসেস বসু বলতেন, “দুবেলা রান্নাবান্না করাই কঠিন হয়ে পড়ছে।”

আরও পড়ুন:

একবার চন্দননগর থেকে কলকাতায় আসার সময়ে জ্যোতি বসু আর সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়কে কয়েকজন অল্পবয়সী মেয়ে ঘিরে ধরেছিল। জ্যোতি বাবু সেই সময়ে রীতিমতো স্টার নেতা। তাই অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওই মেয়েরা জ্যোতি বাবুর হাতের লেখায় ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তারা চাইছিল সইয়ের সঙ্গেই তিনি যদি কয়েকটা লাইনও লিখে দেন। জ্যোতি বসু আর কিছু লিখতে চান নি, শুধু সই করে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:

গাড়িতে ফিরে আসার পরে সিদ্ধার্থশঙ্কর মজা করে বলেছিলেন, “এত সুন্দরী মেয়েগুলোকে তুমি এক কথায় মানা করে দিলে? রবীন্দ্রনাথের কোনও লেখা থেকে একটা দুটো লাইন লিখে দিতে পারতে।” জ্যোতি বসু জবাব দিয়েছিলেন, “জানলে তো লিখব।”

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশ যুদ্ধের কিছুদিন আগে সিদ্ধার্থ শঙ্কর ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে জ্যোতি বসুর একটা গোপন বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন। কেউ যাতে জানতে না পারে, সেই জন্য রাত এগারোটায় বৈঠকের সময় ঠিক হয়েছিল। নজর এড়াতে নিজের স্ত্রী মালা রায়ের ফিয়াট গাড়িতে জ্যোতি বসুকে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর বাড়ি ১ নম্বর সফদরজং রোডে নিয়ে গিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়। ঘন্টাখানেকের ওই বৈঠকের পরে বাইরে বেরিয়ে রাস্তা গুলিয়ে ফেলেন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। অনেকক্ষণ ধরে দিল্লির রাস্তায় চক্কর কাটার পরে তিনি ঠিক করেন কোনও একটা থানায় গিয়ে সাহায্য চাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:

জ্যোতি বসু বলেছিলেন, “তুমি কি বোকা নাকি! গোটা দুনিয়াকে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে জানাতে চাও যে আমি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম?” ঘটনাচক্রে মি. রায় ঠিক রাস্তা খুঁজে পেয়েছিলেন কিছুক্ষণ পরে, তাই আর সে যাত্রায় থানায় যাওয়ার দরকার পড়েনি। রাজনৈতিক বিরোধ থাকার স্বত্ত্বেও জ্যোতি বসু কংগ্রেসের আরেক বড় নেতা এবিএ গণি খান চৌধুরীকে নিজের পরিবারের সদস্য বলেই মনে করতেন। সবাই যখন মি. খান চৌধুরীকে ‘বরকতদা’ বলে ডাকত, জ্যোতি বাবু তাঁকে ‘সাহেব’ বলেই সম্বোধন করতেন। খান চৌধুরীর বোন প্রতি দু-সপ্তাহে একবার বিরিয়ানি রান্না করে পাঠাতেন জ্যোতি বাবুকে। নিয়মের ব্যতিক্রম হলে জ্যোতি বসু ফোন করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন, “কী পাঠাওনি কেন?”

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান সাংবাদিক তরুণ গাঙ্গুলি একটা মজার ঘটনা শোনালেন। একবার জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে ডেকে বললেন, “বিধানসভার ভেতরে কিছু ইস্যু তুলে ধরতে পার না যাতে সরকার একটু বিব্রত হয়? একটু কড়া কড়া ভাষায় বলবে ইস্যুগুলো।”
এই কথা বলে তিনি কাগজ কলমে লিখে দিলেন যে পরের দিন বিধানসভায় কোন কোন ইস্যুতে সরকারকে আক্রমণ করতে পারে কংগ্রেস। সীতারাম ইয়েচুরি বলছিলেন, ১৯৯৩ সালে জ্যোতি বসুকে কিউবায় যান। একদিন রাতে যখন ঘুমোতে যাবেন, সেই সময়ে খবর আসে যে ফিদেল কাস্ত্রো দেখা করতে চান জ্যোতি বসুর সঙ্গে। সীতারাম ইয়েচুরি বর্তমানে সি পি আই এম দলের সাধারণ সম্পাদক।

আরও পড়ুন:

ইয়েচুরিকে সঙ্গে নিয়ে জ্যোতিবাবু মাঝ রাতে ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছলেন।
“প্রায় দেড় ঘন্টা চলেছিল ওই বৈঠক। জ্যোতিবাবুকে ফিদেল একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছিলেন। যেমন ভারতে কয়লার উৎপাদন কত, কোথায় কীরকম লোহা পাওয়া যায়, ইত্যাদি। একটা সময়ে জ্যোতিবাবু বাংলায় আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কি আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছে না কি?”

আরও পড়ুন:

পরের দিন জ্যোতি বসু যখন হাভানা বিমানবন্দরে পৌঁছিয়েছেন ফেরার বিমান ধরার জন্য, তখন জানা গেল ফিদেল কাস্ত্রো তাঁকে বিদায় জানাতে সেখানে এসেছেন। সীতারাম ইয়েচুরি জ্যোতি বসুর সঙ্গে প্রথম বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন ১৯৮৯ সালে, নেপালে। তিনি নেপাল সরকারের রাষ্ট্রীয় অতিথি ছিলেন। তাই জ্যোতি বসুর সফরসূচীতে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনও রাখা হয়েছিল। ইয়েচুরি জ্যোতি বসুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যে মন্দিরে যাওয়ার ব্যাপারে মানা করে দিলেন না কেন?

আরও পড়ুন:

তিনি জবাব দিয়েছিলেন, “ভারতে আসা প্রত্যেক বিদেশী অতিথিকে রাজঘাটে (গান্ধীজির স্মারকস্থল) নিয়ে যাওয়া হয় – সেই অতিথির গান্ধীর মতাদর্শে বিশ্বাস থাক বা না থাক। সেই একই ভাবে নাস্তিক হওয়া স্বত্ত্বেও আমাদের পশুপতিনাথ মন্দিরে যাওয়া উচিত।”
জ্যোতি বসুর পুত্রবধূ ডলি বসু বলছিলেন, “আমার বিয়ের একদিন পরেই আমি জ্বরে পড়ি। পরের দিন আমি তখনও বিছানায় শুয়ে আছি, রান্নাঘর থেকে কয়েকটা বাসনপত্রের আওয়াজ পেলাম। আমার শ্বশুরমশাই একটা বাসনে জল গরম করছিলেন। আমাকে বলেছিলেন, “তোমার গরম জল লাগবে, না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে।”

আরও পড়ুন:

অসুস্থ পুত্রবধূর জন্য নিজেই চা বানিয়ে এনেছিলেন। ডলি বসু বলছিলেন, “ওই ঘটনার পর থেকে আমার সঙ্গে উনার এমন একটা সম্পর্ক হয়ে গেল যেটা উনার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল।”
এটা হয়তো অনেকেই জানেন না যে জ্যোতি বসু ২১ বছর বয়সে জীবনে প্রথমবার চা খেয়েছিলেন। তাঁর বাবা চা খেতে মানা করেছিলেন। একবার চেন্নাইয়ের লায়োলা কলেজের একটা অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে মি. বসু একটা মজার ঘটনা বলেছিলেন।
কলকাতার ধর্মতলার লরেটো স্কুলে যখন পড়তেন তিনি, সেই সময়ে গোটা ক্লাসভর্তি মেয়েদের মধ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন ছেলে। এই কথা শুনে লায়োলা কলেজের অনুষ্ঠানে খুব হাততালি পড়েছিল। কয়েকজন সিটিও বাজিয়েছিল এটা শুনে। অনেক সাহস করে একটি ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, “স্যার, ক্লাসের এতগুলো মেয়ের সঙ্গে আপনি কী করেছিলেন?”
জ্যোতি বসুর মুখে হাসি দেখতে পাওয়াটা খুবই দুর্লভ ছিল। লায়োলা কলেজের অনুষ্ঠানে ওই প্রশ্ন শুনে সেই দুর্লভ হাসিটা মুখে খেলে গিয়েছিল তাঁর। বলেছিলেন, “ওই বয়সে কী-ই বা করতে পারে কেউ!”

আরও পড়ুন:

জ্যোতি বসুর সুরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন এম.কে সিং। একটা মজার ঘটনা বলেছিলেন তিনি।
জ্যোতি বসু যখনই হিন্দী বলতেন তার মধ্যে প্রায় সবসময়েই কয়েকটা উর্দু শব্দও ব্যবহার করতেন। যার মধ্যে ‘নুমায়েন্দা’ তাঁর বেশ প্রিয় শব্দ ছিল। বামফ্রন্টের বাকি সব মন্ত্রীদের মিলিত হিন্দি জ্ঞানের থেকেও জ্যোতি বসুর হিন্দি অনেক ভাল ছিল। কিন্তু তাঁর ভাষণের বৈশিষ্ট্য ছিল অসম্পূর্ণ বাক্য। আর যে কোনও বৈঠক – তা সে জনাপাঁচেক লোকের বৈঠক হোক বা বিধানসভায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ – একটা কাগজে বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো লেখা থাকত, যাতে কোনও পয়েন্ট ভুলে না যান। কিন্তু সেই সব পয়েন্টগুলো ইংরেজীতে লেখা থাকত।

আরও পড়ুন:

জ্যোতি বসুর সরকারে অর্থমন্ত্রী ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্র। নিজের আত্মকথায়, ড. মিত্র লিখেছেন “একবার আমি জ্যোতি বাবুর কাছে জানতে চেয়েছিলাম বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ইংরেজীতে কেন লেখেন? তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘কী করব? আমি শুধু ইংরেজীতেই লিখতে পারি। তোমার মতো আমার শিক্ষা তো সম্পূর্ণ হয়নি।”
(বিবিসি হিন্দির বিশিষ্ট সাংবাদিক রেহান ফজলের এই প্রতিবেদনটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অমিতাভ ভট্টশালী)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder